বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুভ সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায়ও প্রথম হয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে রোল নাম্বার হলো এক। শামীমের দুই। উত্তমের তিন। হেলাল চলে গেল নারায়নগঞ্জের পাগলাতে। স্কুলের নিয়মিত পাঠ কয়েকঘন্টা পড়েই মুখস্ত করে শুভ এবং বাকী সময় পাড়ার ছেলেদের সাথে আড্ডাও ও বিভিন্ন খেলা ধুলায় সময় কাটাত। স্কুলে স্যার জিজ্ঞাসা করতো কে কয়টা পর্যন্ত পড়ো? অনেকেই উত্তর দিতো রাত এগারোটা বা বারোটা পর্যন্ত। শুভ উত্তর দিতো রাত নয়টা বা দশটা। মাগরিব নামাজের পরপরই হারিক্যানের আলোতে পরতে বসতো এবং একটানা পড়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তো। সন্ধ্যার পর গ্রামের অধিকাংশ ঘরে আলো জ্বলতো না। কারণ সূর্য ডোবার পরই পরই অনেকেই রাতের খাবার খেয়ে ফেলে এবং অতঃপর ঘুমিয়ে পড়ে। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে লাঙল মই এবং গরু নিয়ে ক্ষেতে চলে যায় কৃষক। সকালে সূর্য উঠার আগেই কৃষক তাঁর জমির অর্ধেকাংশ লাঙল চাষ করে ফেলতো। শীতকালেও কৃষক কৃষিকাজে সকাল বেলা অলস করে না যদিও সুর্য মামা খুব অলস করে। শীতের দিনে সকাল বেলার ঘুম খুব আরমে হয় কিন্তু গ্রামের কৃষকের এই আরাম সহ্য হতো না যদি জমির কাজ থাকে। শুভ সকালে ঘুম থেকে উঠে ছিপটিন গাছের ঢাল দিতে দাত মাঝতে মাঝতে কৃষকের গোরু সাঁতরানো লক্ষ্য করে। তারপর সকালে পড়তে বসে।
শুভ ঘুমে থেকে দেরিতে উঠলে দেখতো অনেক কৃষক জমির হাল-চাষ শেষ করে বাড়িতে গোরু নিয়ে আসতো। হাল-চাষের পর কৃষক গোরুগুলো গোসল করাতো এবং তারপরে বাড়িতে আনতো। গোরুকে গোসল করানোর পর গোরুকে ঘাস বা খড় খেতে দিতো। গোরু কৃষকের আসল বন্ধু। গোরু ছাড়া কৃষক একদিনও কল্পনা করতে পারে না। আর এইজন্যেই মনে হয় গোরুকে এদেশের হিন্ধুরা দেবতা মাতা মনে করতো। এদেশের হিন্ধুরা গো-হত্যা করে না বা গোরু জবাই করে খায় না। এদেশের হিন্ধুরা গোরু খেতো তাহলে এই উপমহাশে গোরুর আকাল পড়তো। গোরুর সংখ্যা কমে গেলে কৃষির উপর প্রভাব পড়ত। শুভ প্রায়সময় গোরু নিয়ে এইসমস্ত ভাবনায় পরতো। শুভও গোরুকে খুব পছন্দ করে। শুভ একটি গোরু পালে। এটা দিয়ে হালচাষ করে না। তবে পাড়ার ধান মাড়াইয়ে গোরু দরকার হলে শুভদের গোরু নিয়ে যেতো। আবার অনেক সময় হালচাষে একাধিক লাঙল ব্যবহার করলেও শুভিদের গোরু নিয়ে যেতো হালচাষের জন্য। শুভর ওয়াছেক কাকারা লড়ায়ের জন্য ষাড় গোরু পালে। তারা গোরুকে খুব যত্ন করে। ঘাসের পাশাপাশি ভাতের মাড়, আঠা, ঝাউ (আঠা বা ভাতের তৈরি তরল খাবার) লবন ইত্যাদি খেতে দেয়। ইদের সময় গোরুর লড়াই প্রতিযোগিতা হতো। আশে পাশের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার লোক এই গোরুর লড়াই উপভোগ করতো।
শুভদের ক্লাসে উত্তমের চেহেরা কালো ও লম্বা। বন্ধুরা অনেক সময় ঠাট্টা করে দৈত্য বলতো। চেহেরা দৈত্যের মতো হলেও উত্তমের মনটা খুবই কোমল। বন্ধু-বান্ধদের সহায়ক। ছোট খাটো কোন কাজের প্রয়োজনে উত্তমকে সহজে পাওয়া যায়। একদিন পাশের গ্রামের কয়েকজন ছাত্র শুভকে রাস্তায় আটকিয়ে কিছু গালাগাল এবং শাসিয়ে দিলো যেন তাদের গারমের মেয়েদের সাথে কথা না বলে বা প্রেম না করে। শুভ ভয়ে ভয়ে জানাল সে প্রেম করে না। ক্লাসে পড়ার জন্য কথা বলার দরকার হলে কথা বলে, এছাড়া কিছুই নয়। পাশের গ্রামের এই ছাত্রদের সাথে শুভর ক্লাসের আমানও আছে। আমান শুভর ক্লাস-মেট আর বাকীর বড় ক্লাসের ছাত্র। শুভ ঐদিন খুব ভয় পেয়েছে। প্রেম কি সেটা জানে অতচ প্রেমের কথা বলেই শুভকে আজ মারতে আসছে অন্য ছাত্ররা। দু একটা চড় থাপরো খেলো। ছাত্রদের চড়-থাপপোর আর শাসানোর পর যখন শুভ স্কুলে গেল তখন শুভ খুব মন মরা। এরিমধ্যে ক্লাসে সবাই জেনে গেছে শুভকে আমান মেরেছে। উত্তম ও মনির এই ব্যাপারে আমানের সাথে খুবই ঝগড়া শুরু করে দিল। আমানকে আল্টিমেডাম দিলো, চব্বিশঘন্টার মধ্যে যদি শুভর কাছে মাফ না চাস, তাহলে পরের দিন তোকে স্কুলেই আসতে দেবো না আর মাইর তো বোনাস দিবো। পরের দিন সত্যি আমান স্কুলে আসে নাই। শুরু পরের দিন নয় কয়েক মাসই স্কুলে আসে নাই। এই ঘটনার দশ পনেরোদিন পর শুভ জানতে পারলো আসলে শুভর প্রেম-টেম কিছু না। শুভদের ক্লাসে একটি সুন্দরী মেয়ে আছে নাম তাঁর লাভলী। লাভলীর চেয়েরা আসলেই লাভলী সুন্দর তাই পাড়ার ছেলেদের নজর পড়েছে। শুভ ক্লাসে সবার সাথে মিশে তাই ছেলেরা মনে করেছিল শুভ লাভলীর মধ্যে প্রেম ভালবাসা হচ্ছে। যারা কলেজে পড়া তারা তো এই ব্যাপারে একটু আগ্রগামী তাই আমানকে ভুল বুঝিয়েছিল। আমান তাদের কথায় বুঝতে পারেনি। সেজন্য আমান অনুতপ্তও হয়েছে। উত্তম কলো হলেও তাঁর মন সাদা। সাদা মনের মানুষ উত্তম। উত্তমকে হাজারো গালী দিলে মনে কিছু করে না। বন্ধুরা প্রায় সময় উত্তমকে মন্ধচারী কয়। কিন্তু উত্তম এইসবে কর্ণপাত করে না। সে হাসি-খুশীই চলে। একবার উত্তমকে লাভলী জিজ্ঞাসা করল, উত্তম তোমাকে তারা (ক্লাসের সবাই) গালাগাল করে বা তোমাকে হেয়া করে তুমিকিছু বলো না? উত্তম হেসে উত্তর দিলো আমি অধম নই; আমার নামই উত্তম। কাজেই উত্তম হয়ে আমি অধম হতে পারব না। উত্তমের কথায় সবাই হেসে ফেললো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now