বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রমিজউদ্দীনের পুকুর থেকে অনেক মাছ ই হলো। এই কদিন তার বাড়িতে মাছ খাওয়ার ধুম পড়বে। বড় দেখে কিছু মাছ পাঠিয়ে দিলেন মেয়ের শ্বশুড় বাড়ি।
হালকা বাতাস বইছে। আকাশ পরিষ্কার। মিটিমিটি তারা জ্বলছে। রমিজউদ্দীন উঠোনে চেয়ার নিয়ে বসে হুঁকো টানছেন। একটা মোড়া এনে বাবার পাশে বসল রাজীব। -"আব্বা, এত রাইতে উডানে কি কর? ঠান্ডা লাগবো তো। "
-বাতাসটা ভালা লাগতাসে। খাইছস তুই?
- হ আব্বা। খাইছি।
- "কিছু কইবি? "
- না... মানে । নাহ। কিছু না।
- তাইলে যা। ঘরে যা। ঘুমায় পড়।
- আইচ্ছা।
রাজীব উঠলো ঠিকই। কিন্তু যে জন্য আসছিলো সে কথা ই তো বলা হয় নাই। তার বাবাকে সে সবসময়ই ভয় পায়। ছোটবেলা থেকেই। মনে মনে ঠিক করলো সকাল বেলা নিশ্চয় বলবে।
রমিজউদ্দীন ছেলের চলে যাওয়া দেখলেন। নিজে থেকে না বললে তিনি কোনো কথা খুঁচাই বের করেন না। গম্ভীর স্বভাবের বলা যায়।
পারুল তার ফুফির সাথে ঘুমাতে গেল। ফুফির বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ছেলেটা ভালো ছিল না। কোনো কাজেই নিজেকে স্থির রাখতে পারে না। জুয়া খেলে। মাঝেমাঝে মদও খায়। কাপুরুষের মতো আবার বউকে পিটিয়ে সে শান্তি পেত।
পারুলের ফুফি প্রথমদিকে সহ্য করলেও একসময় নিজের জীবনের তাগিদে সব ছেড়ে চলে এসেছে। একমাত্র ভাইয়ের বাড়িতেই হলো তার আশ্রয়।
পরে তাকে কেউ কেউ বিয়ে করতে চাইলেও সে রাজি হয় নাই।
পারুলের মাথায় বিলি কাটতে কাটতে কত কথাই আজ মনে পড়ছে তার।
পাশে শুয়ে পারুলও হয়তো ভাবছে কদিন পর তার বিয়ে হবে। ছোট্ট সংসার হবে। পরিবার হবে। নতুন একটা জীবন হবে।
.....
আছিয়া ছেলে আমানকে ঘুম পাড়িয়েছে। তার স্বামীও শুয়ে আছে পাশে।
পাশের ঘরে থাকে আসলামের মা। অনেক রাত অব্দি জেগে থেকে নামাজ পড়েন, দোয়া দরূদ পড়েন। জিকির করেন।
আছিয়া আসলামকে বলে- "ঘরে চাল শেষ। চাল আনতে হবে। আনাজপাতিও নাই কিছু। শাকপাতা খাইতে আর ভালা লাগে না। "
আসলাম বলে - দেখি কালকে যামু বাজারে। কিন্তু বাকী পামু না মনে হয়।
- "বাকীতে ক্যান? পুরুষমানুষ তুমি। একটা কাম জোগাড় করতে পারো না। এইভাবে আর কদ্দিন চলব? রোজগার ছাড়া সংসার চলে না। বিয়ে না করলেই পারতা!"
- বেশি কথা কইয়ো না। কাজ আমি খুঁজতাসি না মনে করছো?! বাপ দাদার এই ভিটে মাটি ছাড়া তো আর কিছুই নাই যে কৃষি করবো। আর তোমার বাপেও তো একটা খাট আর আলমারি ছাড়া কিছু দেয় নাই মোরে।
- আমার বাপে কি ট্যাকার গাছ লইয়া বইয়া ছিল নাকি যে তুমি যখন চাইবা তখন টেকা দিবো!"
- আচ্ছা বাদ দেও। ভাবতেসি শহরে যামু। মেলা টাকা ইনকাম করন যাইবো। গেরামে থাইকা তো কিছু হইবো না।
- "তুমি শহরে গেলে আমাগো কি হইব?"
-শোন বউ, শহরে গেলে অনেক ইনকাম করমু। মাসে মাসে যে টেকা পাঠামু.. দিন এমনিতেই চলি যাইবো।
- আছিয়ার একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল ভিতর থেকে। যেন আর কিছুই বলার নেই! -"হাহ! তাই করো। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতি তো হবে। আর ছেলেটারেও মানুষ করা লাগবো।"
দুজনের কেউ আর কথা বলেনা। চুপচাপ শুয়ে থাকে নীরবে।
.....
রাত গভীর থেকে গভীর হয়। প্রভাত নিকটে আসে। বাজারের কাছেই নদীর ঘাট। সেখানেই ছোট্ট একটা ঘরে থাকে কালাম মাঝি। গলা ছেড়ে সে প্রায় সময়ই গান গায় রাতের বেলা।
আজও তার গান শোনা যাচ্ছে- "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়...."
তার গান যেন রাতের নীরবতাকে আরো নি:স্তব্ধ করে তুলেছে।
আকাশে তারাগুলি জ্বলছে। নদীর কলকল ধ্বনি। বিশাল আকাশ যেন নদীর পানিতে নিজেকে দেখছে। গভীর রাত। কেউ কেউ হয়তো না ঘুমিয়ে এপাশ ওপাশ করছে। কেউ বা মন দিয়ে শুনছে মাঝির গান। কেউ বা গভীর ঘুমে নিমগ্ন।
অপেক্ষা আরেকটা আগামীদিনের। অপেক্ষা আরেকটা আগামীদিনের ব্যস্ত মানুষের জীবনের কোলাহলের। আবার শুরু হবে সবার ব্যস্তময় জীবনের হাসি, কান্না, আনন্দ, দু:খ, বেদনা। অপেক্ষা ঊষার আলো ফুটার। এভাবেই চলছে জীবন, জীবনের কোলাহল। ওইতো দেখা যায়... ঊষার আলো ফুটলো বলে।
-- সমাপ্তি --
-রেহনুমা আহমেদ ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now