বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পারুলকে বর পক্ষ দেখে পছন্দ করে গেলো। পারুলের বাবা মায়ের নতুন ব্যস্ততা শুরু হলো।
দোকানের কাজ সেরে সালাম বাড়ি যায় একটু তাড়াতাড়িই। তার বাড়ি যাবার পথেই সুমুদের বাড়ি।
সুমুকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালো লাগে সালামের। হাতে কিছু বেশি টাকা হলে এটা ওটা কিনে সুমুর জন্য ।
আজকেও সালাম বাড়ি যাবার পথে সুমুর জানালার পাশে গিয়ে দাড়ালো। জানালার পাশেই টেবিলে বসে সুমু পড়ে।
সালামকে দেখে হকচকিয়ে ওঠে সুমু। ফিসফিসিয়ে বলে "তুমি! "
-হুমম। কেমন আছো?
-"ভালো আছি। তুমি? চাচী কেমন আছে?"
-ভালো । তোমার জন্য একটা জিনিস আনছি।
-"কি?!"
-"এই নাও। প্যাকেট খুলে দেখিও।" জানালার ফাঁকে সুমুর হাতে প্যাকেটটা দিল সালাম। "চুড়ি আর এক জোড়া কানের দুল।"
-"এগুলা আনতে গেলা কেন?শুধুশুধু টেকাগুলা খরচা করলা।"
- পছন্দ হইলো। তাই কিনে নিছি।
সুরমা প্যাকেটটা টেবিলের ওপর রাখলো। আস্তে করে বললো - "এখানে দাড়াও একটু চুপ করে। আমি আসতেছি।"
- দাড়াই তো আছি। বসার কথা বলতা। বসতাম। কই যাও?
একটু পর একটা কাগজের ঠোঙা সালামের হাতে দিল সুমু।
- কি আছে এতে?
-"শশশ। আস্তে।"
একটা হাসি দিয়ে সুমু বলল " মা আর আমি বিকালে নারকেলের নাড়ু বানাইছি। এইকটা তোমার জন্য রাখছি আলাদা করে।"
- অ্যা! চাচী কিছু কয় নাই?
- দেখে নাই। হিহি। আর এইগুলা আমার ভাগের ছিল।
-কি!! তোমার ভাগেরগুলা দিয়া দিলা! না নিমু না।
রান্নাঘর থেকে সুমুর মা ডেকে ওঠলেন - "কি হইলো সুমু?!! ঘুমাইয়া গেলি নাকি? পড়ার কোনো আওয়াজ নাই ক্যান?"
সুমু বলল- "না মা। পড়তেসি তো।"
সুমু একটু অভিমানের সুরে বলল দেখো "দেখো এরাম করবা না। নিতে হইবো। মা আইবো এখন। এখন যাও।"
-সালাম আচ্ছা যাই বলে যাবে এমন সময় পিছন ফিরে সুমুকে বললো " মারে নিয়া দুইদিন পরে ঢাকা যামু।"
- "ক্যান?"
- ডাক্তার দেখাইতে। অনেকদিন ধইরা অসুখ।
- " কি হইছে চাচীর! এদ্দিন বলো নাই যে আমারে?"
- এমনি বলি নাই। তুমি তো যাইতে পারো। মা তোমার কথা বলে মাঝেমাঝে । যাইও। ভাল্লাগবো।
সুমুর মা আবার ডেকে ওঠেন- "অই সুমু? পড়স নি? "
সুমু সালামকে বলে "আচ্ছা কালকে আমি যামু তোমাগো বাড়ি। চাচীরে বলা লাগবো না। এখন যাও। মা এমনে চেচামেচি শুরু করসে। একটু পর লাঠি নিয়া আসবো।"
- আইচ্ছা।
জানালা বন্ধ করে দিলো সুমু। রান্নাঘরে গেলো মায়ের কাছে -"কি হইসে। এত চেঁচাও ক্যান। বই টই লইয়া তোমার কানের কাছে পড়তামনি?"
.....
শ্যামলের শরীরটা হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেলো। গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে । হাত পায়েও ব্যথা করছে খুব। কলি শ্যামলের মাথায় পানি ঢালছে।
ওর মা ইচ্ছেমতন বকছেন।"কি দরকার ছিল সন্ধ্যাবেলা গাছে ওঠার? আর কোনোদিন যদি দেখছি তোরে গাছে ওঠেছিস খবর আছে তোর! লাই পেয়ে পেয়ে মাথায় ওঠেছিস। না?! আর তোরেও বলি কলি, ভাইটারে চোখে চোখে রাখতে পারিস না? সারাদিন খালি এ বাড়ি ও বাড়ি টইটই করা!" চোখে জল টলমল করছে। ছেলেকে এমন দেখতে পারছেন না। শ্যামল শুনছেই না মনে হয় কিছু। জ্বরের ঘোরে কি যেন বলছে বিড়বিড় করছে।
... চলবে...
- রেহনুমা আহমেদ ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now