বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ুড়ো চিটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md.Samiul Alim. (০ পয়েন্ট)

X কারো রুটিনবাঁধা সময় মত চলতেও মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে,কিন্তু সেই রুটিনবাঁধার মানুষটি যে আর ফিরে আসবেনা। . তাইত আজ আমি ছন্নছাড়া,শুধু তোমার শূন্যতায়....তবুও ভালোবাসি সেই ভালোবাসার মতই। . . এতটুকুই রঙিন কাগজে লিখে, সেইটাকে কাগজের প্লেন বানিয়ে উড়িয়ে দিলো নীড়।এইবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে ভার্সিটি কোচিং এর জন্য ঢাকায় এসেছে।তিনতলায় একটা ফ্লাট উঠেছে,একাই থাকে।বাবার তো আর টাকার অভাব নেই এক মাত্র ছেলে বলে কথা।বাবা মা ও ঢাকায় থাকলেও একটু দূরে তাই এই ফ্লাটে উঠেছে। . তিন বেলা কাজের বুয়া এসে রান্না করে দিয়ে যায়।নীড়ের একলা জীবন ই ভালো লাগে,যেদিন থেকে পুষ্প কে হারিয়েছে সেইদিন থেকেই একলাই থাকতে ভালোবাসে।পুষ্পের সাথে নীড়ের পরিচয় এস,এস,সি এর পর থেকেই।কিন্তু যখন ফাস্ট ইয়ারে ছিলো তখন ব্রেন ক্যান্সার ধরা পরে পুষ্পের।আস্তে আস্তে ধুকে ধুকে মারা যায় সে।নীড়ের চোখের সামনে ধুকে ধুকে মারা যায় পুষ্প।কিছুই করার ছিলো না তার।শুধু দেখেই যায়,চোখের সামনের ভালোবাসার মানুষের করুন মৃত্যু। . মায়ের কথা রাখতেই পড়াশুনাতে মন দেয় সে।কিন্তু মন যে আর বইয়ের পাতায় থাকেনা।চোখের জল টপটপ করে গড়িয়ে পড়ে।তবুও প্রতিদিন একটা উড়োচিঠি বিলিয়ে দেয় পুষ্পের উদ্দেশ্যে।হয়ত এতে মনের মাঝে সান্ত্বনার সৃষ্টি হয় কিছুটা।এমনি করে দিন গুলি যায়, কোচিং আর বাসায় ফেরার মাঝেই। . প্রতিদিনের মত একদিন কোচিং থেকে ফিরছিলো নীড়।যেই খোলা মাঠের দিকে কাগজের প্লেন গুলি উড়িয়ে দিত সেদিকের রাস্তা দিয়েই ফিরছিলো।পিছন থেকে একটা মেয়ে ডাক দেয় নীড় কে এইযে শুনছেন?নীড় দাঁড়ায় হাত দিয়ে ইশারা করে জিজ্ঞেস করে আমি?মেয়েটিও হ্যাঁ সূচক উত্তর দেয় মাথা নেড়ে।কাছে আসতেই মেয়েটা বলে আমি নীলা আপনি?নীড় বলে আমি নীড় কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না? . নীলাঃ আমি যদি ভুল না করি আপনিই প্রতিদিন বিকালে কাগজের প্লেনে কিছু ছন্দ লিখে ছুড়ে দেন মাঠের দিকে? . নীড়ঃ হ্যাঁ কিন্তু আপনার উদ্দেশ করে নয়,নিজের মনের কিছু কথা গুলি লিখে পাঠাই আকাশের পানে।কিন্তু ওই আকাশে হয়ত কখনো যাবে না। . নীলাঃ আচ্ছা আমি কি আপনার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে পারি? . নীড়ঃ না আমার একা থাকতেই ভালো লাগে।এই বলেই হন হন করেই হাটা শুরু করে সে। . নীলা পিছন থেকে ডাকলেও ফিরে না।একটু অবাক হয় নীলা।তাকে জানতেই হবে কি সে রহস্য। পরের দিন একই সময় নীড়ের সাথে নীলার রাস্তায় বসে কথা কিন্তু নীড় এড়িয়ে যায়।এমনি করে প্রায় ১সপ্তাহ পার করে দেয়।নীলার পথ আগলে দাঁড়ানো আর নীড়ের এড়িয়ে চলা।একসময় নীড় তার সাথে বন্ধুত্ব করতে রাজি হয়। . নীলা আস্তে আস্তে খুব আপন হতে থাকে নীড়ের।জানতে থাকে তার মনের অজানা কথা গুলি।নীড় ও তাদের ফ্রেন্ডশিপে আস্তে আস্তে আরো আপন হয়ে গেলো।নীলার সাথে সবকিছুই শেয়ার করত কিন্তু কখনো পুষ্পকে ভুলতে পারেনি মনের মাঝে শুধু তার কথাগুলিই থাকত।নীলাও নিজের অজান্তে নীড়ের এই গভীর ভালোবাসা দেখে হারিয়ে যায় নীড়ের মাঝে কিন্তু তাকে মনের কথা বলতে পারেনা ভয়ে।পুষ্পের যায়গা কি সে নিতে পারবে নাকি পুষ্পের মত করে ভালোবাসতে পারবে? . দেখতে দেখতে নীড়ের ভার্সিটি পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। নীলাকে একদিন বলে সে চলে যাবে বাসায়।ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স হয়েছে।বাবা মাকে নিয়ে ওই এলাকায় একটা নতুন ফ্লাট কিনেছে সেখানেই উঠবে।তার সাথে মাঝে মাঝে দেখা করতে আসবে আর দরকার হলে যেন ফোন বা ফেসবুকে নক করে।নীলার খুব কষ্ট হচ্ছিলো নীড় কে বিদায় দিতে।তবুও বলল আচ্ছা যাও,চোখের কোনের পানি মুখের হাসিতে লুকিয়ে। . নীড় যখন চলে যাচ্ছিলো নীলা পিছন থেকে ডাক দেয়,দৌড়ে গিয়ে নীড় কে জড়িয়ে ধরে বলে নীড় আমি তোমাকে ভালোবাসি আমি শুধু একটি বারের জন্য পুষ্প হতে চাই।নীড় কিছুই বলে না,শুধু নীলাকে সরিয়ে দিয়ে বলে পুষ্প একজনই যে নীড়ের জীবনে একবার ই এসেছিলো আর কেউ আসবে না।আমি এই ভয়েই তোমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চাইনি, আমি কখনো পুষ্পের যায়গায় অন্য কাউকে বসাতে পারব না।তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।নীলা কেঁদে যাচ্ছে তবুও নীড় চলে যায়। . নীলা বাসায় গিয়ে অনেক চেষ্টা করে ফোনে কিন্তু নাম্বার বন্ধ।পরের দিন ফ্লাটে গিয়েও দেখে লক করা, খোজ নিয়ে জানতে পারে নীড় চলে গিয়েছে।নীলা এর পরে প্রায় দিন একলা কেঁদে যায় নীড়ের জন্য কিন্তু নীড় ফেসবুক,নাম্বার সব কিছুই অফ করে দিয়েছে।সে চায়না পুষ্পের যায়গায় অন্য কাউকে বসাতে।নীলা ঠিক করে নেয় সে নীড়ের ভার্সিটিতে গিয়েই খুঁজবে তাকে।যদি তার ভালোবাসা সত্যি হয় সে পাবেই। . পরের দিন নীলা দাঁড়িয়ে আছে ভার্সিটিতে আর দুচোখ দিয়ে খুঁজে যাচ্ছে নীড় কে।সে জানেনা তাকে খুঁজে পাবে কিনা,কিন্তু সে তাকে পেতে চায়।নীড় কে যে তার পেতে হবেই যে রোজ বিকালে মৃত মেয়েটাকে মনে করে উড়োচিঠি দিতে পারে,কেউ মরে যাওয়ার পরেও তাকে এত ভালোবাসতে পারে সেই সত্যিকারের ভালোবাসতে জানে।নীলা অস্পষ্ট সেই নীল রঙের শার্ট পড়া ছেলেটা কে দেখতে পায়,যাকে সে প্রথম দিন দেখেই ভেবে নিয়েছিলো এই উড়োচিঠির মালিক হবে আজকে দেখছে কিন্তু সে কি নীড় হবে...?মনের মাঝে উপরওয়ালাকে ডেকে ডেকে সামনে এগিয়ে যায় যেন নীড় হয় আর তাকে না ফিরিয়ে দেয়........। (সমাপ্ত) . . ডেডিকেটেড টু: "লাজুক রাজকন্যা"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ুড়ো চিটি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now