বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপসংহার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X উপসংহার" . . আবিদ -খুব শান্ত-শিষ্ট, বোকা একটা ছেলে। পড়াশুনা বাইরে, গোধূলী বেলা ছাদে সময় কাঁটানো আর একলা গন্তব্যহীন পথটা ধরে হাঁটা তার খুব পছন্দের। . অবন্তী - ক্লাসের অন্যতম দুষ্টু একটা মেয়ে।তার সাথে দুষ্টু কথাটা মনে হয় বেশিই মানায় তাই যেন সাড়া ক্যাম্পাসের সবার প্রিয় এই একটা মুখ। . কিছু মানুষ আছে, যারা সৃষ্টিকর্তা থেকে এক অদ্ভুত মায়া নিয়ে জন্মায়। ঠিক এমনি ছিল আবিদ। যে কেউ দেখলে তার মনে হবে মায়ায় জড়াতে বাধ্য করে ওই মায়াময় চেহারাটা। . প্রতিদিনের মত, আজও আবিদ ছাদে দাড়িয়ে গোধূলী বেলা এই সময়টাতে। গোধূলী বেলাটা যে তার খুব প্রিয়। পরিসমাপ্তিতে দিনটার অভিমান আর রাতের আগমণি বার্তার উচ্ছ্বাসের নিরপেক্ষ সাক্ষী যেন এই গোধূলী সময়টা। . একটা বিষয় মানুষের তখনি ভালোলাগে , যখন তার জীবনের কিছু কথা বা কল্পনা সেই কল্পিত আবেগটার সাথে সেই বিষয়টির কিছুটা মিল থাকে। . অবন্তী আবিদকে দেখে ছিল প্রচন্ড গরমে জনাকীর্ণ সেই বাসের এক কোণে । অবন্তী খুব ভালোভাবেই লক্ষ্য করেছিল সেই এক কোণে আনমনে বসে থাকা ছেলেটিকে। . আবিদের মায়াময় সেই চেহারাটা যেমন মুগ্ধ করেছিল অবন্তীকে। ঠিক তেমনি প্রচন্ড গরমে শার্টের হাতা কবজি পযর্ন্ত লাগিয়ে রাখা বিষয়টি অবন্তীকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছে বার বার। . পৃথিবীটা যে গোল। তাই আবার দেখা হয়েছিল অবন্তীর সেই ছেলেটির সাথে, নতুন কলেজ ক্যাম্পাসের লাইব্রেরিতে। অবন্তী আড়াল থেকে প্রায় সবকিছুই জেনে নিয়েছিল ওই ছেলেটির সম্পর্কে। . প্রতিদিন দেখে নতুনভাবে আবিষ্কার করে অবন্তী আবিদকে। আর ভাবে এই ছেলেটা এমন কেন? এত বোকা ছেলে এখনো আছে নাকি। একটু চালাক হলে কি এমন ক্ষতি হয় তার? . অবন্তী কবে থেকে যে, এই বোকা ছেলেটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে সেই ব্যাপার টা তার খেয়াল নেই। অবন্তী বুঝেছিল ওই লাজুক ছেলেটাকে সে যতই আকার - ইঙ্গিতে বুঝাক সে কখনোই বুঝবে না। . অবন্তী তাই সব লজ্জার মুখে লাগাম দিয়ে ক্যাম্পাসের জনাকীর্ণ স্থান থেকে একটু আড়ালে আবিদকে ডেকে নিয়ে অবুঝের মত তার মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলে দিয়েছিল সব ভয় তুচ্ছ করে। . সেইদিনই খুব কেঁদে ছিল অবন্তী । হ্যাঁ, আবিদ তার কথাগুলোর প্রতিউওর না দিয়ে চলে গিয়েছিল সেখান থেকে। . মানুষগুলোকে সৃষ্টিকর্তা জানি কেমন করে তৈরী করেছেন। একটা মানুষ যখন জানতে পারে তাকে একজন ভালোবাসে। তখন তার সকল ধারণার বদ্ধমূলে সেই কথাটাই ঘুরপাক খায়। কখন যে সেই ভালোবাসি কথা বলা মানুষটাকে মনের ক্ষুদ্র কুটিরের এক কোণে জায়গা দিয়ে দেয়। সেই ধারণাটুকুর ধারণা আর পাওয়া হয়ে ওঠে না। . হ্যাঁ, লাজুক আর বোকা ছেলেটিও প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়েছিল। অবন্তী তখন থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল পাগলের মত ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের রং এ রাঙাতে। . প্রেম নাকি মানুষকে অন্যরুপে সাজিঁয়ে দেয়। প্রিয় মানুষটির প্রিয় হতে সব থেকে ভালোবাসে এই প্রেমকাতুর মনটা। . যে অবন্তী সাড়া ক্যাম্পাস মাতিঁয়ে রাখত। সে মেয়েটিকে আজ দেখা যায় - হিজাব পড়া, শান্ত আর পড়াশুনার মনোযোগী ছাএী হিসাবে। . ভালোবাসা এমন একটি জিনিস এখানে তৃতীয় একজনের উপস্থিতি অন্য দুজনের সুখের স্মৃতিগুলোকে মুহূর্তেই ধ্বংস স্তূপে পরিণত করে। . দ্বীপ নামের ছেলেটি সাথে জড়িয়ে যায় অবন্তী অনিচ্ছা সত্যেও। দ্বীপ অবন্তীকে দেখেছিল বর্ষামুখর দিনে ছাতা হাতে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে। . শুনেছি প্রথম দেখাতেই নাকি অনেকে ভালোবেসে ফেলে । আমার মনে হয় প্রথম দেখাতে ভালোলাগার সৃষ্টি হয়। আর বার- বার দেখার ফলে সেই ভালো লাগাটা ভালোবাসায় পরিণত হয়। . হ্যাঁ, দ্বিপ সেই শান্ত-শিষ্ট, পড়াশুনার মনোযোগী অবন্তীকে ভালোবেসে ফেলে। যেন মনে মনে এমন একটা মেয়েই দ্বীপ কল্পনায় কল্পিত করে রেখেছিল। . সময় আর স্রোতের টানে সবকিছুই বদলে যায়। ঘটনার পালাক্রমে দ্বীপ আর অবন্তীর বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যায়। . অবন্তী সেদিন চোঁখে লোনা জল নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল আবিদের সামনে। আবিদ কথাগুলো শুনে মুচকি হেসে বলে ছিল- দেখ, পরিবার সমসময় ভালো দিকটাই চায়। দ্বীপ ছেলেটার সাথে তোমাকে মানাবে খুব। ভালো থাকবে তুমি কারণ সে তোমাকে ভালোবাসে। আর টাকা - পয়সারও অভাব হবে না তোমার কারণ সে তো আমার মত পড়াশুনার শেষ প্রান্তে নেই। সে এখন এখন পড়াশুনা শেষ করে বিসিএস কেডার। . অবন্তী কাদঁতে কাদঁতে বলেছিল - তোমার আর কিছু বলার নেই। আবিদ সেই হাসি বজার রেখেই বলেছিল - ভালো থাকো সবসময় এই প্রত্যশা। . অবন্তী ওড়না দিয়ে মুখ ঢেঁকে দৌড়ে চলে এসেছিল সেখান থেকে আর ভেবে ছিল হয়ত আবিদ নামের ছেলেটি তাকে সত্যি করে ভালোবাসেইনি। . আবিদ তার পছন্দের কাজ, গন্তব্যহীন পথ ধরে একাই হাটঁতে লাগল। আটর্সেলের গানের লিরিক গুলো যেন মনের ক্ষুদা নিবারণ করে। আবিদ অদেখা স্বর্গ গানের কথাগুলো উচ্চস্বরেই গেয়ে ওঠল । . আঁধারে আলো ছায়া, আমার সাথে চলে, তোমাকে নিয়ে একা ! অজানা যে, আকাশে ওড়ে। অদেখা কোন স্বর্গ আমার। না পাওয়া তবু -পথ দেখায়, আশাতে --- হতাশা ভোলায়। . অবন্তীর বিয়ের ২য় দিন "বউভাতে" বরের বাড়িতে গিয়েছিল আবিদ, কিছু উপহার নিয়ে | আবিদ সেদিন অবন্তীর সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে, সবার সাথে মুখে হাসি নিয়ে মজা করেই কথা বলেছিল | . অবন্তীর যেন খটকা লাগতেছিল এই ভেবে, কি আছে ওই উপহার বক্সের মধ্যে। আড়ালে গিয়ে তখনি খুলে ফেলেছিল। আর যা দেখেছিল, তা মুহূর্তেই অবন্তীকে ম্নান করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। . দেখতে পেয়েছিল অবন্তী ঘুরতে গিয়ে হারানো সেই পায়েল,তার প্রিয় নীল কাঁচের চুঁড়ি, আবিদের পছন্দের ওই ব্ল্যাক কালারের শাঁড়িটা আর একটা ছোট্ট নীল চিরকুট। তাতে লেখা - . জীবনেএকসাথে পথচলা না হলেও, দূর থেকেই ভাল থাকবো দুজনে, ভাল রাখবো দুজনকে | . কত অশ্রু বিসর্জন দিয়ে দ্বীপকে অবন্তী বিয়ে করেছিল তা যদি সবার সমানে প্রকাশ হয় অবন্তীর গায়ে কলঙ্ক ছিটিয়ে দেয় মানুষগুলো। এই ভেবে , আবিদ আর কখনো অবন্তীর সামনে এসে দাড়ায়নি বলেনি আর কোন কথাও । . অবন্তী বুঝতে পেরেছিল ওই লাজুক আর বোকা ছেলেটার ভালোবাসার কাছে তার ভালোবাসা অনেকটাই ক্ষাত যুক্ত। . হ্যাঁ, আজও গোধূলী সময়টাতে ছাদে দাড়িয়ে আছে আবিদ। অবন্তীর সাথে সুখের স্মৃতিগুলো মনে পড়লে ওই ঘুনে খাওয়া লাল বর্ণের সূর্যটা রক্তিম আভাটা যেন আরও স্তব্ধ করে দেয়। . পৃথিবীটা মানুষগুলো কত আজব তাই না ! ব্যর্থ হওয়া মানুষগুলোর শুধু, ব্যর্থতাটাই প্রকাশিত হবে । হবে না ব্যার্থতার পিছনের কারনগুলো। . পৃথিবীতে কত রকমের শুমারি হয়। কিন্তু ,কারো দুঃখ,কষ্ট, যন্ত্রণার শুমারি হয় না কেন? জীবিত থেকেও মানুষ যে কতবার মরে আর কতবার কাঁদে,তার হিসেব রাখার জন্য হয়না কোন শুমারি। . বিকেটাই তখন ওই মনকে বলে -


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উপসংহার - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ উপসংহারহীন অবতবণিকা
→ উপসংহার
→ উপসংহার
→ তারাবাঈ (উপসংহার)
→ মা-৬৫ —উপসংহার
→ উপসংহার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now