বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আনন্দ হলের সামনে বাস থেকে নামতেই আবার রিংটোন বেজে ওঠে ফাগুনের। রিতা ফোন দিয়েছে। এই নিয়ে গত বিশ মিনিটে পঞ্চম ফোন।
– আরে এসে গেছি তো। এইত হলের সামনে। তুমি পার্কে থাকো। আমি আসছি।
– গিফট গুলো এনেছ তো?
– হ্যা রে বাবা। বললাম তো এনেছি।
ফোনটা কেটে যায়।
রিতার সাথে সম্পর্ক দুই সপ্তাহের।মাস ছয়েক আগে কাজলের সাথে ব্রেক আপ হবার পর প্রায় দুই মাস ফাগুন সিঙ্গেল ছিল। ব্রেক আপ অবশ্য কাজল করতে চায়নি। কাজল আসলেই অনেক ভালোবাসত ফাগুন কে। কিন্তু ফাগুনের আর মন টিকছিল না। কাজলের পর যে রিতাই প্রথম তা না। এর আগে যথাক্রমে নেহা, ফারজানা আর রাহার সাথে রিলেশনে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনটাই পিজাহাট পেরোতে পারেনি। তারপর একদিন ভার্সিটি লাইব্রেরীতে রিতার সাথে দেখা। তারপর ফার্মগেটের এই পার্ক পর্যন্ত অগ্রগতি।
দূর থেকে রিতা কে দেখে এগিয়ে গেল। সামনে যেয়ে একটা কিউট হাসি দেয়ার চেষ্টা করল। রিতার সে দিকে ওত খেয়াল নেই। প্রথম প্রশ্ন-
– আমার গিফট কই?
ফাগুন পিছনে ধরে রাখা ফুলের তোড়া আর ছোট্ট টেডি বিয়ার টা সামনে ধরল। আর আরো কিউট একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করল। রিতা এক ছোবল দিয়ে সেগুলো হাতে নিল। তারপর ভেনচি কেটে বলে
– এই পচা গোলাপ গুলা আনতে এত দেড়ি!!!
– রিতা পচা কই!!! আমি মাত্র শাহবাগ থেকে কিনলাম।
– হুম সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। আর টেডি বিয়ার টা এত ছোট কেন?
– এর চেয়ে বড় তো এখানে আনা যেত না।
– এই তোমার রুচি!! এখনি গা ছাড়া ভাব। পরে তো আর ফিরেও তাকাবা না।
– কি যে বলছ। আমি তোমাকে ভালবাসি।
– ভালবাসো না ছাই। আর কয়জন কে ভালোবাসবা??
– আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি।
– আর তোমার এক্স গুলা!!
– এক্স!!! আমার কোন এক্স গার্লফ্রেন্ড নাই।
– এই মিথ্যা বলবা না। কাজল,নেহা,ফারজানা না কি জানি…… আমি সব জানি। সব জানতে পারছি।
– সরি বাবু। ওটা তো অতীত। ওখন আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি।
– হুম। কয়েকদিন পর আমিও অতীত হব।
– কি বলছ তুমি?
– আমি সেটা হতে দেব না। তার আগেই আগেই আমি ব্রেক আপ করব তোমার সাথে।
– এসব বলে না বাবু।
– আর কথা বলবা না আমার সাথে। ব্রেক আপ।
রিতা উঠে চলে যায়। ফাগুন আটকাতে চেষ্টা করে। কাজ হয় না। দাঁড়িয়ে রিতাকে যেতে দেখে। তারপর উলটা ঘুরে নিজেও বের হওয়ার রাস্তা খোজে।
এইসময় মেসেজ রিংটোন টা বেজে ওঠে। বিরক্তি নিয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে কাজলের মেসেজ। খানিকটা কৌতুহল নিয়ে মেসেজ ওপেন করে।
লেখা-
” ছয় মাস হয়ে গেল।still miss you.”
হঠাৎ করে মন ভালো হয়ে যায় ফাগুনের। মুখের কোনায় হাসি ফুটে ওঠে।
ছোট ছোট গল্প রচনায় ক্লান্ত। এবার ফাগুন চলল জীবনের উপন্যাস লিখতে।
লেখক: ইশরাক (২০০৮-২০১৪)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now