বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক দেশে এক রাজা ছিল। সে তার মেয়ের বিয়েতে ডোল পিঠিয়ে রাজ্যের সমস্ত প্রজাকে বিয়ের দাওয়াত দিল। রাজ্যের এক গরিব প্রজা একথা শুনে ভোর সকালে রাজার বাড়ির দিকে রওনা দিল। পথের মধ্যে একটা ঘন জঙ্গল পেরিয়ে খানিকটা দূরের পথ হেঁটে রাজার রাজ প্রাসাদে যেতে হয়। ঐ গরীব প্রজা হাঁটতে হাঁটতে সেই ঘন জঙ্গলের মধ্যে এসে পড়ল। আর সে মনে মনে ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে লাগল যে, পথের মধ্যে কোন বাঘ,ভাল্লুকের সামনে যাতে পড়তে না হয়। আর বলতে না বলতেই তার সামনে একটা বাঘকে পঁচা ডোবার মধ্যে হাবডুবু খেতে দেখল। আর সে বিড় বিড় করে বলতে লাগল- হায় রে, আজই আমাকে বাঘের সামনে পড়তে হল এই বলে যখন সে পথ অতিক্রম করবে তখনই পঁচা ডোবা থেকে ঐ বাঘ বলে উঠল- ওহে পথিক আমাকে বাঁচাও,আমাকে বাঁচাও, আমি যে ডুবে যাচ্ছি, আমাজে সাহায্য কর, আমাকে এই পঁচা ডোবা থেকে উদ্বার কর। তখন পথিক বলল- আমি তোমাকে ঐ পঁচা ডোবা থেকে উদ্বার করি আর তারপর তুমি আমার ঘাড় মটকে আমাকে খেয়ে ফেলবে। তখন বাঘ বলল- আমি কথা দিচ্ছি, আমি কথা দিচ্ছি, তোমাকে আমি খাব না। আমাকে এই ডোবা থেকে উদ্বার কর। তখন পথিক বলল- সত্যি কথা বলছতো তুমি আমাকে খাবে না। তখন বাঘ বলল- আমি এই তিন সত্যির দিব্যির কাটছি সত্যি, সত্যি, সত্যি। তখন পথিক বলল- দাড়াও আমি একটা শক্তপোক্ত গাছের ডাল নিয়ে আসছি। তখন পথিক একটা শক্তপোক্ত গাছের ডাল নিয়ে ডোবার মধ্যে ডালের একটা দিক বাঘের কাছে দিল শক্ত করে ধরার জন্য, আরেকটা দিক দিয়ে সে ডোবার পাড় থেকে বাঘকে পাড়ে তোলার জন্য টানতে লাগল। টানতে টানতে একসময় বাঘকে ঐ পঁচা ডোবা থেকে বাঘকে উদ্বার করে পাড়ে তুলল। তখন বাঘ একটা শয়তানি হাঁসি দিয়ে বলল- তুমি কোথায় যাচ্ছিলে এই জঙ্গলের পথ ধরে? তখন পথিক বলল- আমাদের রাজার মেয়ের বিয়ের উপলক্ষে রাজ বাড়িতে রাজ্যের সকল প্রজাকে দাওয়াত করেছেন। তাই রাজার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছি। আর বাঘ তখন বলে উঠল- আর রাজার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যেতে হবে না, কারণ এখন আমি তোমাকে ঘাড় মটকে খাব হা হা হা। তখন পথিক কিছুটা চিন্তিতভাবে বলে উঠল- কেন? তুমি আমাকে কথা দিয়েছিল যে, আমি যদি তোমায় সাহায্য করি তাহলে তুমি আমার কোন ক্ষতি করবে না। বাঘ তখন রাগান্বিত হয়ে বলল- আমার কিছু মনে নেয়, আমার এখন পেঠে ক্ষিদে পেয়েছে তাই আমি তোমার ঘাড় মটকে তোমার মাংস খেয়ে আমার পেঠের ক্ষিদের জালা মিঠাব, তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে তাড়াতাড়ি বলে পেল, আমার হাতে বেশি সময় নেই। তখন পথিক বলল- তুমি আমাকে খেতে পার কিন্তু আমার একটা শর্ত পূরণ করলে তাহলেই তুমি আমাকে খেতে পারবে। তখন বাঘ বলে উঠল- কি শর্ত? তখন পথিক বলল- এই জঙ্গলের ৫জন ব্যক্তি যদি তোমার পক্ষে রায় দেয় তাহলেই তুমি আমাকে খেতে পারবে আর তাদের একজনও যদি আমার পক্ষে রায় দেয় তাহলে তুমি আমাকে খেতে পারবে না। তখন বাঘ বলল- এটাই যদি তোমার শেষ ইচ্ছা হয়ে থাকে তাহলে আমি তোমার শর্তে রাজি আছে, বল এখন আমরা কি করব? তখন পথিক বলল- আমরা জঙ্গলের ভিতরে এক এক করে যে পাঁচজনের সাথে আমদের দেখা হবে, সেই ৫জনের কাছেই আমরা এর সমাধান চাইব।
তখন বাঘ আর ঐ পথিক জঙ্গলের ভিতরে গেল। তারা প্রথমে বহু বছরের পুরো একটা বটগাছকে দেখতে পেল। তখন বাঘ পথিককে বলল- ওহে পথিক ওই যে সামনে একটা পুরনো বটগাছ, চল তাকে গিয়েই জিঙ্গেস করি। তখন পথিক বলে উঠল- ঠিক আছে চল তার কাছে, দেখি সে কি জবাব দেয়?
তখন বাঘ আর পথিক ঐ বটগাছের কাছে গেল। তখন পথিক বটগাছকে ডাক দিয়ে বলে উঠল- বটগাছ ভাই, ওহে বটগাছ ভাই তুমি কি আমার কথা শুনতে পার ছো। তখন বটগাছ বলে - হে শুনছি, আরে আজ কি দেখছি বাঘ আর মানুষ একসাথে, সূর্য কি আজ পশ্চিম দিকে উঠল নাকি! আমি কি চোখে ঠিক দেখছি নাকি আমার চোখে ভুল দেখছি? তখন পথিক বলল- না তুমি চোখে ঠিকই দেখছ? আমরা দু' জন তোমার কাছে একটা কথা জিঙ্গেস করতে এসেছি। বটগাছ বলে উঠল- কি কথা জানতে চাও তোমরা? তখন পথিক বলল- আমি এই বাঘটার জান বাঁচিয়ে তার উপকার করলাম আর সে আমাকে খেতে চাই, আমি তো তার উপকার করেছি তাই আমাকে খাওয়া তো বাঘের উচিত নয়, তাই কি? বটগাছ বলে উঠল- কেন উচিত নয়?, তোমাকে খাওয়া বাঘের অবশ্যই উচিত। পথিক আশ্চর্য হয়ে বলল- একি বটগাছ তুমি এ কি কথা বলছ? আমি তো ওর প্রাণ বাচিয়েছি? বটগাছ বলল- আমি তো মানুষের কত উপকার করে থাকি, আমার নিছে ছায়ায় বসে মানুষ জিরয়, আমি মানষদের বিশুদ্ধ বাতাস দিয়ে থাকি, আমার ডাল থেকে ঝরে যাওয়া পাতা দিয়ে মানুষ তাদের ঘরে রান্না-বান্না করে থাকে, আমি তোমাদের এত উপকার করার পরেও তোমরা মানুষেরা আমার ডালপালা অযথা ছিড়ে আমাকে কষ্ট দিয়ে থাক। তাহলে বাঘ কেন তোমাকে খেতে পারবে না? হুমমম!
তখন বাঘ ঐ পথিককে বলল- কি হে পথিক শুনলে তো বটগাছ কি বলল, "এসো এখন আমি তোমার ঘাড় মটকায়" হা হা হা। তখন পথিক বলল- আরে বাপু তোমার দেখি আর তর সইছে না। আরও চারজন তো আছে তারা কি বলে সেটা শুনে নেয়? তখন বাঘ আর পথিক একটা নদী ধারে গেল তখন তারা একটা ভাঙ্সা কলসি নদীর স্রোতের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল, তখন পথিক ঐ ভাঙ্গা কলসিকে ডেকে বলল- ও কলসি ভাই, ও কলসি ভাই তুমি কি আমার কথা শুনতে পারছ? তখন কলসি বলল- হে শুনছি, বলতো বাপু তুমি আমাকে কেন ডেকেছ? তখন পথিক ঐ ভাঙ্গা কলসিকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল- তখন পথিক বলল, আচ্ছা কলসি আমি তো বাঘের জান বাঁচিয়েছি, তাই আমাকে খাওয়াতো বাঘের উচিত নয়, তাই কি? তখন কলসি বলল-(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now