বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপকারী মিথ্যা ও ক্ষমা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আকাশ (০ পয়েন্ট)

X উপকারী মিথ্যা বাদশাহ আদেশ দিলেন, অপরাধীর প্রাণদণ্ড হওয়া উচিত। লােকটিকে শূলে চড়াও। বাদশাহ’র আদেশ অমান্য করে কে! লােকটিকে ধরে-বেঁধে নিয়ে আসা হল শূলে চড়ানাের জন্যে। লােকটা কাতর অনুনয়-বিনয় করল। কিন্তু বাদশাহ অনড়। লােকটা বুঝল, বাঁচবার তার কোনাে আশা নেই । তখন সে বাদশাহ’র উদ্দেশে গালাগালি শুরু করল । হাত-পা ছুড়ে চিৎকার করতে লাগল। বাদশাহ বসে আছেন বেশ দূরে । লােকটির চিল্কার-চেঁচামেচির কোনাে অর্থ তিনি বুঝতে পারলেন না। পাশে-বসা একজন সভাসদকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লােকটি কী বলতে চায়? সভাসদ দেখলেন ভারি বিপদ! সত্য বললে বাদশাহ হয়তাে ভয়ানক রেগে যাবেন। তাই তিনি বললেন—বাদশাহ লােকটি বলছে : যে ব্যক্তি অপরাধীকে ক্ষমা করে সে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করে। আমিও তাে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করতে চাই। বাদশাহ লােকটির কথা শুনে খুব খুশি হলেন। বললেন, ওকে মুক্ত করে দাও। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক সভাসদ। প্রথম সভাসদের ওপর তার ছিল ভারি রাগ। সে তাড়াতাড়ি বললবাদশাহ, ঐ সভাসদ মিথ্যাকথা বলছে । লােকটা আপনাকে গালাগালি দিচ্ছে। একে মুক্ত করা উচিত নয়। এই সভাসদের কথা শুনে বাদশাহ বেশ উত্তেজিত হলেন। রাগ করলেন। তিনি । সভাসদের দিকে তাকিয়ে বললেন—ওর মিথ্যাকথা অনেকগুণে ভালাে । কারণ ও মিথ্যা বলছে একটা লােকের প্রাণরক্ষার জন্যে আর তুমি সত্য কথা বলছ দুটো লােকের ক্ষতি করার জন্যে। তাহলে আমি কার কথা শুনব? ক্ষতিকর সত্যের চেয়ে উপকারী মিথ্যা আমার কাছে অনেক বেশি গ্রহণযােগ্য। বাদশাহ’র কথা শুনে সভাসদরা ধন্য ধন্য করতে লাগল। ক্ষমা বিখ্যাত সম্রাট হারুন-অর-রশিদ। আরবভূমিতে তাঁর নাম ছড়িয়ে আছে। একজন সুশাসক ও প্রজাবৎসল সম্রাট হিসেবে। তিনি গরিবের উপকার করতেন। দুঃখী ও বিপদগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা করতেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ছিলেন ভালাে মানুষদের পক্ষে। মন্দ মানুষদের বিপক্ষে। একদিন। সম্রাট হারুন-অর-রশিদ বসে আছেন সভাকক্ষে। মন্ত্রীদের সঙ্গে গভীর এক বিষয় নিয়ে শলাপরামর্শ করছেন। কী করে প্রজাদের উপকার করা যায়—এই ছিল তার সারাক্ষণ কর্ম ও ধ্যান। | এমন সময় একটি লােক প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করল। প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সােজা প্রবেশ করল সভাকক্ষে। সম্রাটের সামনে দাঁড়িয়ে উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপতে লাগল লােকটি। সম্রাট বললেন—কী হয়েছে তােমার? বাদশাহ নামদার, একজন আপনাকে ও আপনার মাকে নিয়ে যা-তা গালাগালি করছে রাস্তায়। এ আমি সহ্য করতে পরলাম না। তাই ছুটে এলাম । এই লােকের এখনই বিচার হওয়া উচিত। সম্রাট মন দিয়ে সবটুকু শুনলেন। মন্ত্রীদের দিকে তাকিয়ে বললেনলােকটিকে কী করা উচিত বলে আপনারা মনে করেন? মন্ত্রীরা সকলেই ভয়ানক উত্তেজিত । এতবড় দুঃসাহস লােকটির! ওকে ধরে এনে এক্ষুনি ফাঁসিতে চড়াও। একজন সম্রাটকে বললেন—লােকটিকে ধরে এনে সমুচিত সাজা দেয়া উচিত। ওকে শূলে চড়ানাে প্রয়ােজন। -ওকে হত্যা করে ওর মাংস কুকুর-বেড়ালকে দিয়ে খাওয়ানাে দরকার। —ওর জিভ কেটে, চুল ছেটে ওকে শহর থেকে বের করে দেয়া উচিত। | কেউ-বা বলল—বেয়াদবটাকে মাটিতে পুঁতে পাথর ছুড়ে ছুড়ে হত্যা করতে হবে। সম্রাট হারুন-অর-রশিদ সকলের বক্তব্যই শুনলেন। তারপর নীরবে একটু হাসলেন। মৃদু হাসি দিয়ে সকলের উদ্দেশে বললেন—না হে, লােকটিকে ক্ষমা করে দেয়াই উচিত আমাদের। নইলে প্রমাণ হয় না আমরা ঐ লােকটির চেয়ে বড়। লােকটি আমাকে গালাগালি দিয়েছে। ও নীচুমনের পরিচয় দিয়েছে । আমি যদি ওকে গালি দিতে চাই তবে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়? আমিও তাে তবে ওর মতাে হয়ে যাই। ওকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমাই মহত্ত্বের লক্ষণ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উপকারী মিথ্যা ও ক্ষমা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now