বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপহার

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mehedi Hasan Prova (০ পয়েন্ট)

X - টিং টং (স্নেহা) - কে? (আমি) - দুধওয়ালা। - রেখে যান। - টিং টং। - কে? - মুড়িওয়ালা। - লাগবেনা, ওহ সরি সরি! দিয়ে যান। - দাদা, তুমি কিন্তু ইচ্ছে করে বারবার এরকম করছ। - না না। আগেরবার ইচ্ছা করে করছিলাম। এবার ভুল হয়ে গেছে। - ওহহো! তোমার কারনে.... আচ্ছা এবার শেষবার। এরপর আর এরকম হ.... টিং টং, টিং টং - ধুর! মানুষ আসার আর সময় পেল না। কে আসলো এখন? (স্নেহা) - আচ্ছা আমি দেখছি। (আমি) ** পাঠক। আমি মেহেদী। এতক্ষণ খেলছিলাম, টিং টং, ভূত আসবে! আর যার সঙ্গে খেলছিলাম সে হল আমার একমাত্র ছোট বোন স্নেহা। (অনেক রাগী, তবে একমাত্র বোন। বোঝেনতো, অনেক আদরের।) তা নাহলে কলেজে পড়া একটা ছেলে তো মনে হয় এই খেলা এখন আর খেলে না। খেলার মাঝেই কে যেন কলিং বেল বাজালো। খেলায় না, সত্যিই। ** - কে? (আমি) -..... - কে??? -..... - কী হলো দাদা? কে এসেছে? (স্নেহা) - জানি না। কোন সাড়া শব্দ নাই। - তো বোকা লুকিং গ্লাসে দেখ না। - কেউ নাই। - আচ্ছা দরজা খুলে দেখ তো। ** দরজা খোলার পর ** - আরে! (আমি পুরো অবাক হলাম। কারণ একটা ছোটখাটো বাক্স খুব সুন্দরভাবে র্যাপিং করে দরজার সামনে রাখা। মানে একটা গিফট আরকি। কিন্তু কী উপলক্ষে??? হঠাৎ মনে পড়লো আজকে আমার জন্মদিন। কিন্তু এটা কে পাঠালো।) - ওয়াও, একটা গিফট! কে দিয়েছে, কি জন্যে দিয়েছে? (স্নেহা) - তা তো জানি না। (আমি) - দাঁড়াও দাঁড়াও। আজকে না তোমার জন্মদিন। মনে হয় সেই জন্যে এটা কেউ পাঠিয়েছে। - হু। - কিসের হু। কে দিয়েছে এটা? - আমি জানি না। কোন নাম নাই, ঠিকানাও নাই। - মনে হয় তোমার গার্লফ্রেন্ড দিয়েছে। - এই ফাইভের পিচ্চি। পাকনামি করবানা। আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নাই। (রেগে গিয়ে) - আচ্ছা এটা খুলে দেখোতো। - না। - কেন? - আমার ইচ্ছা আমি খুলব না। - প্লিজ। - নাও তুমি খুলে দেখো। - তোমার গিফট। তুমি.... - উঁহু। তুমি না খুললে নাই। আমি খুলব না। - তোমার ডেস্কে নিয়ে রাখলাম। (মন খারাপ করে চলে গেলো।) ************************************************** - উফ। আজকে এতো গরম কেনো। (আমি) আজকে তো বৃষ্টি হওয়ার কথা। ** হঠাৎ গরমে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি শোয়া থেকে উঠে বসলাম। রাত প্রায় আড়াইটা বাজে। ফ্যান চলছে তাও গরম লাগছে। ডাইনিং রুমে গিয়ে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিয়ে রুমে আসলাম। হঠাৎ চোখ গেল আমার পড়ার টেবিলের দিকে। গিফট বক্স। পাঠক ঠিকই ধরেছেন সেই গিফটটা। পানি পান করে গিফটটা হাতে নিলাম। খুব সুন্দরভাবে র্যাপিং করা। বোঝাই যায় কেউ অনেক যত্ন নিয়ে র্যাপিং করেছে। কে হতে পারে? কোটি টাকার প্রশ্ন। স্নেহার কথামতো কোনো মেয়ে। নাকি কোনো ফ্রেন্ড। আমার ধারণা মেয়েরাই এমন যত্ন নিয়ে র্যাপিং করে গিফট দেয়। খুলে দেখা যাক। আমিও খুব যত্ন নিয়ে র্যাপিংটা খুললাম, কারণ আমার কাছে র্যাপিং পেপারটা অনেক ভালো লেগেছে। এটা যত্ন করে রেখে দেব। ছোট একটা বক্স আগেই বলেছি। ঢাকনা খুলে যা দেখলাম তা অবিশ্বাস্য! একটা কাগজ আর একটা ছবি। কাগজে লেখা "একটা পাখি, চারটা পাখি, তিনটা পাখি। - স্নেহা।" আরেহ! তারমানে এই গিফট স্নেহার দেওয়া। ছবিটাও আমাদের দুইজনের একসাথে তোলা একটা ছবি। আমার এস.এস.সির পর যখন সবাই মিলে সাজেকে গেলাম তখনকার। সূর্যোদয়ের সময় তোলা একটা ছবি। এটা এতদিন স্নেহার কাছে ছিল। স্নেহা হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ে এটা আমার কাছে নতুন। রাত পৌনে তিনটা বাজে। আমি আস্তে আস্তে স্নেহার রুমে গেলাম। ডিম লাইটের হালকা আলো জ্বললেও সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ও এখন ঘুমাচ্ছে। ঘুমানোরই কথা। ওর পড়ার টেবিলের কাছে গেলাম। হুমায়ূন আহমেদের একটা বই দেখলাম। "হিমু এবং হার্ভার্ড পি এইচ ডি বল্টু ভাই"। ও মনে হয় এই বইটা এখন পড়ছে। ওর খাতা থেকে এক টুকরো কাগজ ছিঁড়ে নিয়ে লিখলাম "দুপুরের বকার জন্য সরি। তুমি দেখি হুমায়ুন আহমেদের বইও পড়। আর শোন 'একটা পাখি, চারটা পাখি, তিনটা পাখি'। - দাদা।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উপহার
→ সঠিক ব্যক্তি সঠিক উপহার দেয়া অত্যান্ত বুদ্ধিমানের কাজ।
→ সঠিক ব্যক্তি সঠিক উপহার দেয়া
→ ♥ উপহার ♥
→ উপহার
→ একটি দামি উপহার
→ ছোট্ট উপহার একটি চিরকুট
→ ★আমার দেওয়া শেষ উপহার★
→ জিজের উপহার
→ খারাপ কাজ নিজের কাছে থেকে যায় কিন্তু ভাল কাজ উপহার হয়ে ফিরে আসে।
→ গার্লফ্রেন্ড টাই উপহার দেয় যখন.......
→ উপহার
→ উপহার
→ শেষ উপহার
→ গার্লফ্রেন্ডের সেরা উপহার!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now