বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উইল রহস্য ১

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মো রাকিবুল হাসিব (০ পয়েন্ট)

X মিস ভায়োলেট মার্শ আমাদের কাছে যে সমস্যাটি নিয়ে এলেন সেটি আমাদের নিত্যদিনের কাজের ধারার মধ্যে মনোরম একটি পরিবর্তন এনে দিল। সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় চেয়ে ভদ্রমহিলা গোয়েন্দা হারকিউল পোয়রোর কাছে একটি মার্জিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন। পোয়রোও সে চিঠির জবাবে তাকে পরদিন বেলা এগারোটায় আসার অনুরোধ করে একটি জবাব লিখলেন। পরদিন যথা সময়ে ভদ্রমহিলা হাজির। লম্বা ও সুদর্শনা এক যুবতী, ছিমছাম অথচ পরিচ্ছন্ন তার পোশাক-পরিচ্ছদ। নিঃসংশয় ও যুৎসই তার আচরণ। মোটকথায় বলতে গেলে বর্তমান পৃথিবীতে চলনসই একজন আধুনিকা নারী তিনি। -আমার সমস্যাটি একটু আলাদা ধরনের মিস্টার পোয়রো, চেয়ারে বসতে বসতেই তিনি বলতে শুরু করলেন- ‘আমি বরং কাহিনীর একবারে শুরু থেকে শুরু করি এবং সম্পূর্ণ কাহিনীটি আপনাকে জানাই।’ -অবশ্যই মাদামোয়াজেল। -আমি একজন এতিম। আমার বাবা ছিলেন ডেভেনশায়ারের ছোটখাটো এক কৃষিনির্ভর জমিদার পরিবারের সন্তান। পরিবারে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাবা ছিলেন কনিষ্ঠ। আমাদের পারিবারিক খামারটি খুবই দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। আমার বড় কাকা অ্যান্ড্রু মার্শ এক সময় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি খুবই সমৃদ্ধি অর্জন করেন। জমিজমার ফটকাবাজি ব্যবসায় সাফল্যের মাধ্যমে তিনি একজন ধনবান ব্যক্তিতে পরিণত হন। ওদিকে কনিষ্ঠ ভাই (আমার বাবা) রজার মার্শের কৃষিকাজের প্রতি তেমন কোনো ঝোঁকই ছিল না। তিনি অল্প বিস্তর লেখাপড়া করেছিলেন এবং সেটুকু বিদ্যের জোরেই একটি প্রতিষ্ঠানে কেরানির চাকরি জুটিয়েছিলেন। আমার মা ছিলেন এক দরিদ্র শিল্পীর কন্যা। আমার বাবা যখন মারা যান তখন আমার বয়স মাত্র ছয় বছর। আর আমার চৌদ্দ বছর বয়সের সময় মা আমাকে ছেড়ে পরলোকে চলে যান। পৃথিবীতে একমাত্র বড় কাকা অ্যান্ড্রু ছাড়া আমার আর কোনো আপনজন জীবিত রইল না। সে সময় বড় কাকা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আসেন এবং তার পৈতৃক বসতির পাশেই ‘ক্র্যাবট্রি ম্যানর’ নামের জমিদার বাড়িটি ক্রয় করেন। তিনি তার ভাইয়ের এতিম কন্যাটির প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি আমাকে তার নিজের কাছে নিয়ে এলেন এবং নিজের মেয়ের মতো আদরে লালন-পালন করতে লাগলেন। ক্র্যাবট্রি জমিদার বাড়িটি ছিল এটার নামের মতোই প্রাচীন একটি খামার বাড়ি। আমার বড় কাকার রক্তের মধ্যে ছিল চাষাবাদের প্রবল নেশা। কৃষিকাজের নতুন ও আধুনিক পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে তার আগ্রহ ছিল অসাধারণ। আমার প্রতি যদিও তার অপরিসীম মায়া ছিল তবুও সমাজে নারীদের উন্নতি সাধনের ব্যাপারে তার অদ্ভুত কতগুলো ধারণা ছিল। তিনি নিজে ছিলেন অতি অল্প শিক্ষিত। অথবা বলা যেতে পারে শিক্ষা-দীক্ষা তার মধ্যে কিছুই ছিল না। তবে তার বুদ্ধি ছিল প্রখর এবং তীক্ষè। প্রথাগত পড়াশুনার জ্ঞানের ওপর তার মোটেই আস্থা ছিল না। নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি ছিলেন ঘোরতর বিরোধী। মেয়েরা শুধু ঘর-গৃহস্থালি ও গবাদি পশুপালনের কাজকর্ম দেখাশুনা করবে- এটাই ছিল তার অভিমত। তিনি ভাবতেন, মেয়েরা যতটা কম পরিমাণে পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করবে তত বেশি ঘরকন্নার কাজ শিখতে পারবে। তার এই মতামত অনুযায়ী তিনি আমাকে বড় করতে চাইলেন। এর ফলে আমি প্রচণ্ড পরিমাণে নিরাশ হওয়ার সাথে সাথে বিরক্তও হলাম। আর তাই স্পষ্টভাবেই আমি বিদ্রোহ করে বসলাম। আমি জানতাম যে আমার পড়াশুনার মেধা ভালোই কিন্তু ঘরকন্নার কাজে আমি অতটা পটু নই। এ বিষয়ে বড় কাকার সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হলো তবে এতে আমাদের সম্পর্কে তেমন কোনো ব্যাঘাত ঘটলো না। আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী চলতে থাকলাম। সৌভাগ্যক্রমে আমি একটি স্কলারশিপ পেয়েছিলাম। আর সে কারণেই একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আমি স্বাধীন পথে বিচরণ করার সাফল্য পেয়ে গেলাম। তবে সংকটটি দেখা দিল তখনই যখন আমি গারটনে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার নিজস্ব অর্থ-কড়ি বলতে স্বল্প পরিমাণ টাকা ছিল। টাকাগুলো আমি আমার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলাম। ঈশ্বর আমাকে যে মেধা দিয়েছেন সেটির সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি তখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বড় কাকার সঙ্গে এ বিষয়ে আমার আবার তর্ক হলো। তিনি আমার কাছে তার নিজের কিছু যুক্তি তুলে ধরলেন। আমি ছাড়া তিনকুলে তার আর কেউ ছিল না। এ কারণেই তিনি তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করে যেতে চান আমাকে। আপনাকে আগেই বলেছি, তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধনী ব্যক্তি। আমি যদি আমার নতুন ভাবনাটিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই, তাহলে সেই বিষয়ে তার কাছ থেকে আমার কোনো কিছুই নেয়ার প্রয়োজন নেই। আমি বিনয়ী ও নম্রভাব দেখালাম তবে আমার দৃঢ়তায় অটুট রইলাম। আমি তাকে বললাম সবসময়ই আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবো কিন্তু আমি অবশ্যই আমার নিজের মতো করে বাঁচতে চাই। এই রকম সিদ্ধান্তের পর আমরা পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। ‘তোমার মগজটাকে কাজে লাগিয়ো বাছা’- এই ছিল তার শেষ কথা। ‘আমার পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলেও যে কোনো দিন আমি তোমার সমকক্ষ হতে পারি। আমরা যা দেখতে চাই তা-ই আমরা দেখতে পাবো।’ আজ থেকে নয় বছর আগেকার কথা। সেই সময়গুলোতে কোনো কোনো সপ্তাহান্তে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। সে সময় আমাদের সম্পর্কটি ছিল খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ তবে তার চিন্তাধারা ছিল বরাবরের মতোই অপরিবর্তিত। আমি যে ম্যাট্রিক পাস করেছিলাম, সে ব্যাপারে তিনি কোনোরকম মন্তব্যই করতেন না। এমনকি আমার বিএসসি পাস করার পরও তিনি নীরবই থেকেছেন। গত তিন বছর থেকে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে এবং মাসখানেক আগে তিনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে যান। এখন আপনার কাছে কেন এসেছি, সে প্রসঙ্গে আসি। আমার বড়কাকা একটি অতি বিস্ময়কর উইল করে যান। সেই উইলের শর্তগুলো এইরকম- তার মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে ক্র্যাবট্রি ম্যানর আর সেখানকার সব কিছু আমার অধিকারে বর্তাবে। ‘যে সময়ে আমার বুদ্ধিমতি ভাইঝি তার বুদ্ধির পরিচয় দিতে সক্ষম হবে’। ঠিক এই কথাগুলোই লেখা আছে তার সেই উইলে। নয়তো এই সময় অতিবাহিত হওয়ার শেষে আমার বড় কাকার বিরাট ঐশ্বর্য বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দান করা হবে। -মাদামোয়াজেল, মিস্টার মার্শের সঙ্গে একমাত্র আপনারই রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। আর এ কারণেই মনে হয় যে, আপনার পক্ষে এ কাজ করাটা খুব একটা কঠিন হবে বলে মনে হয় না। -আমি ওদিকটার কথা ভাবছি না। আমার বড় কাকা মানে অ্যান্ড্রু কাকা বেশ ভালোভাবেই আমাকে সতর্ক করে দিয়েছেন আর আমি আমার নিজস্ব পথ বেছে নিয়েছি। আমি তার ইচ্ছা পূরণ করতে পারব না। তাই তার ইচ্ছে মাফিক যাকে খুশি তার অর্থদান করে যাওয়ার স্বাধীনতা তার আছে। -আচ্ছা এই উইলটা কি কোনো উকিল তৈরি করেছেন? -না , ছাপানো উইল ফর্মে ওটা লেখা হয়েছিল। এক দম্পতি এই উইলের সাক্ষী। তারা বড় কাকার বাড়িতেই থাকতো এবং সংসারের কাজকর্ম দেখাশোনা করতো। -এ ধরনের উইল বদল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। -ওরকম কোনো কাজ আমি করতে যাব না। -তাহলে আপনার বড় কাকার পক্ষে এটি একটি খেলোয়াড়সুলভ চ্যালেঞ্জ বলে আপনি মনে করেন? -হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। আমি এরকমই মনে করি। -অবশ্যই এর অন্যরকম অর্থ আছে বৈকি, চিন্তিতভাবে বলল পোয়রো। ‘মনে হচ্ছে এই পুরনো এলোমেলো জামিদার বাড়িতে একটি গুপ্ত রহস্য রয়েছে। হয়তো কোথাও কিছু নগদ অর্থ অথবা দ্বিতীয় উইলটি আপনার বড় কাকা লুকিয়ে রেখে গেছেন। আপনার নিজের দক্ষতা দিয়ে সেগুলো খুঁজে বের করতে পারেন কিনা সে জন্য তিনি আপনাকে একটি বছর সময় দিয়ে গেছেন।’ -হ্যাঁ, ঠিক তাই মসিঁয়ে পোয়রো। এ বিষয়ে আমি আপনাকে আগে থেকেই প্রশংসা জানিয়ে রাখছি কারণ আমার চাইতে আপনার উদ্ভাবন কুশলতা অনেক বেশি। -আহা! সেটা আপনার অতিশয় বিনয়। যাই হোক, আমার মস্তিষ্ক আপনার সেবায় নিয়োজিত করতে চাই। আচ্ছা বলুনতো, আপনি নিজে, কোনোরকম খোঁজ করে দেখেছেন কি? -সেটা কেবল একবারই, তাও দায়সারা গোছের। তবে আমার বড় কাকার সুনিশ্চিত দক্ষতার ওপর আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা আছে বলেই কাজটা খুব সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। -সেই উইলটি অথবা সেটার কোনো একটি নকল আপনার কাছে আছে? টেবিলের ওপর একটি নথি রাখলেন মিস মার্শ। পোয়রো সেটা পড়লেন, তারপর আপন মনেই ঈষৎ মাথা নাড়লেন তিনি। -তিন বছর আগের তৈরি। তারিখটি ২৫শে মার্চ আর সময়টি লেখা রয়েছে সকাল এগারোটা- সেটাই খুব ব্যঞ্জনাপূর্ণ। এতে করে অনুসন্ধানের কাজটা সহজ হবে। আর একটা উইলের সন্ধান আমাদের করতেই হবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এমনকি আধঘণ্টা পরে তৈরি উইলটাও অনেক কিছু ওলট-পালট করে দিতে পারে। জানেন মাদামোয়াজেল আপনার পেশকৃত সমস্যাটি যতখানি রোমাঞ্চকর ঠিক ততখানি দক্ষতার সঙ্গে তার সমাধানের পথ করতে হবে। আপনার জন্য এই সমস্যাটির একটা সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করতে পারলে আমি কৃতার্থ হব। আমি স্বীকার করছি আপনার বড় কাকা ছিলেন একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি। কিন্তু পাশাপাশি এটাও মনে রাখবেন, তাঁর মগজটি কিন্তু হারকিউল পোয়রোর মতো গুণসম্পন্ন ছিল না। (সত্যিই পোয়রোর এই দম্ভ চোখে পড়ার মতোই বটে!) -সৌভাগ্যক্রমে এই মুহূর্তে আমার অন্য কোনো তাড়া নেই। হেস্টিংস এবং আমি আজ রাতেই ক্র্যাবট্রি জমিদার বাড়ীতে যাব। আমি মনে করি, আপনার বড় কাকার দেখাশোনা করতো যে দম্পতি তারা এখনো সেখানেই আছে, তাই না? -ঠিক ধরেছেন, তাদের নাম বেকার। মিস্টার এবং মিসেস বেকার। পরবর্তী প্রভাতে ক্র্যাবট্রি জমিদার বাড়িতে শুরু হলো আমাদের সত্য-অনুসন্ধান। আগের দিন গভীর রাতে আমরা সেখানে গিয়ে পৌঁছাই। মিস মার্শের পাঠানো একটা টেলিগ্রাম পেয়ে মিস্টার এবং মিসেস বেকার আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন। এক সুখী দম্পতি, বেশ হৃষ্টপুষ্ট গোলগাল দেখতে পুরুষটির মুখাবয়ব এবং তার স্ত্রীকে দেখে মনে হলো ভদ্রমহিলার মুখখানি ডেভনশায়ারের মতো শান্ত-স্নিগ্ধ। ভ্রমণের ক্লান্তি এবং স্টেশন থেকে এখান পর্যন্ত আট মাইল পথ গাড়িতে এসে পথশ্রমে আমরা তখন খুবই ক্লান্ত। চিকেনের রোস্ট, আপেলের পিঠা এবং ডেভনশায়ারের মাখন খেয়েই আমরা বিছানায় নিজেদের সঁপে দিয়েছিলাম। আর এখন তেমনি চমৎকার একটি প্রাতঃরাশ সেরে একটি কক্ষে অপেক্ষা করছিলাম। কক্ষটি পরলোকগত মিস্টার মার্শের স্টাডি এবং বসবাসের ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আমাদের সামনের দেয়াল ঘেষে একটি ঢাকনাওয়ালা ডেস্ক। তার ওপর বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে সাজানো গোছানো কাগজপত্রের স্ত‚প। সামনে একটা বড় আকারের চামড়ার হাতলওয়ালা আরাম কেদারা। চেয়ারটিকে দেখে মনে হচ্ছে এটি তার মালিকের সার্বক্ষণিক বিশ্রাম নেয়ার স্থান ছিল। উল্টোদিকের দেয়ালের জানালা ঘেঁষে একটা রঙচটা সোফা ও পুরনো আমলের গদি-আঁটা আসন। ক্ষুদ্র একটি সিগারেটে আগুন ধরিয়ে পোয়রো বলল, ‘দেখো হেস্টিংস অনুসন্ধানের জন্য আমাদের অবশ্যই একটা ছক কষা উচিত। ইতোমধ্যে আমি বাড়িটা মোটামুটি ঘুরেফিরে দেখে নিয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় এই ঘরের মধ্যেই কোনো ক্লু পেয়ে যেতে পারি। এবার ডেস্কের ওপরের সমস্ত নথিপত্র যারপরনাই সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে হবে। তবে এই সব কাগজপত্রের মধ্যে থেকে তার উইলটা পাওয়ার সম্ভাবনা আমি দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু এমনও হতে পারে যে, এখানে এমন একটা সাধারণ কাগজ রয়েছে যাতে সেই গুপ্তস্থানের একটা সূত্র পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার আগে আমাদের একটু খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নেয়া প্রয়োজন। আমার অনুরোধ, ঘণ্টাটা একটু বাজাও তো।’ পোয়রোর অনুরোধে আমি ঘণ্টা বাজালাম। আমরা যখন উত্তরের অপেক্ষা করছিলাম তখন ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে করতে আপন মনেই ঘাড় নাড়ছিল পোয়রো। দেখে মনে হচ্ছিল যেন নিজেই নিজেকে সায় দিচ্ছিল। -মিস্টার মার্শের প্রতিটি কাজকর্মের একটা পদ্ধতি ছিল। দেখো কাগজের প্যাকেটগুলো কেমন সুন্দর করে সাজানো। তারপর দেখো প্রতিটি ড্রয়ারের চাবিতে হাতির দাতের লেবেল লাগানো। দেয়ালের চায়না ক্যাবিনেটের চাবিটাও অনুরূপ। আর দেখো চায়না ক্যাবিনেটটা কেমন যথাযথভাবে সাজানো। দেখে অন্তর বিগলিত হয়, দৃষ্টিও এখানে বিঘ্নিত হয় না। হঠাৎ নীরব হলো সে। ডেস্কের চাবির ওপর তার চোখ পড়তেই দেখতে পেল যে তাতে একটা খাম আটকানো রয়েছে। সেদিকে তাকিয়েই পোয়রোর কপালে ভাঁজ ফুটে উঠল। সেটা সে তার হাতে তুলে নিল। খামটির ওপর দুর্বোধ্য হাতের লেখায় লেখা আছে ‘ঢাকনাওয়ালা ডেস্কের চাবি’। অন্য চাবিগুলোর ওপরে লেখা নির্দেশিকার সঙ্গে এই লেখাটার ছিল বৈসাদৃশ্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উইল রহস্য ১
→ উইল রহস্য ২
→ হারানো উইল রহস্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now