বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুমি একজন-ই শুধুই আমার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X গল্প একঃ ব্রেকআপের পর..... -আপনি নাকি গার্লফ্রেন্ড খুজছেন ? মুভি দেখছিলাম পিসিতে । তখনই ফেসবুকের মেসেজ টোন টা বেজে উঠলো ! বুঝলাম কেউ মেসেজ পাঠিয়েছে ! মুভিটা পজ করে মেসেজ উইন্ডোটা চালু করতেই এই মেসেজ টা ! একটা মেয়ের কাছ থেকে এরকম একটা প্রশ্ন শোনা টা ঠিক স্বাভাবিক না ! মেয়েটির ফেসবুক নাম নীল পরী ! জগতে কত পরী আছে তা ফেসবুকে আসলেই টের পাওয়া যায় ! আমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছে ! এতো দিন লক্ষ্যই করি নি ! যাইহোক, নীলুর সাথে কদিন আগে ব্রেক আপ হয়েছে ! অনলাইন কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল ! তাই সেদিন খানিকটা ফান করেই স্টাটাস দিয়েছিলাম যে একজন পার্ট টাইম গার্লফ্রেন্ড দরকার যে আমার সাথে অনলাইনে লাটুপুটু করবে ! আমাকে আই লাবিউ লিখে বারবার স্টাটাস দিবে ! ব্রেক আপের অনেকে অনেক রকম প্রশ্ন করেছে । কেন হল ? কে আগে ব্রেক আপ করলো ? ঠিক করা কি যেত না ইত্যাদি ইত্যাদি ! কিন্তু এই টাইপের প্রশ্ন কেউ করে নি ! আমি খনিকক্ষন ভেবে রিপ্লাই দিলাম -কেন জিজ্ঞেস করছেন ? -প্রশ্ন করেছি জবাব দিবেন ! প্রশ্নের জবানে প্রশ্ন করাটা আমার ঠিক পছন্দ না ! -ও আচ্ছা ! -কি খুজছেন ? -কেন ? আপনি হবেন নাকি ? -আবার প্রশ্নের বিপরীতে প্রশ্ন ? সোজা ভাবে উত্তর দিন ! -খুজছি তো ! কিছুক্ষন কোন কথা নেই ! আমি এই ফাকে মেয়েটির প্রোফাইলে গিয়ে ঘুরে এলাম ! একটু ধাক্কা খেলাম মেয়েটার প্রোফাইল পিচার দেখে ! ভাল করে দেখার জন্য মাউছ টা নিয়ে ক্লিক করলাম ! মেয়েটির বড় ছবি চলে এল ! প্রোফাইল পিকচারে মেয়েটি সাদা রংয়ের একটা কামিজ পরে আছে ! সাথে সাদা ল্যাগিংস ! একটা গাছের সাথে হেলাদ দিয়ে আছে, এমন ভাবে যে হাত দুটো পরিস্কার দেখা যায় ! দুই হাতেই মেহেদির গাঢ় রং স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছ ! ঠোটে লিপস্টিক নেই, চোখে কাজল আছে গাঢ় করে ! সাথে চুল খোলা ! আমি কিছুটা সময় অবাক হয়ে মেয়েটির ছবিটির দিকে তাকিয়ে রইলাম ! আমার পছন্দের প্রত্যেক টা জিনিস মেয়েটির ভিতর বিদ্যমান ! বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি ইচ্ছে করে এমন একটা ছবি লাগিয়েছে ! তার মানে এই অর্থ দাড়ায় অনলাইনে মেয়েটি আমাকে বেশ ভাল করেই লক্ষ্য করেছে ! তা না হলে এমন হত না ! না কি আমি একটু বেশি বেশি কল্পনা করছি ! -হ্যালো ? -জি বলুন ! -দেখা হয়েছে ? আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না মেয়েটি কি বলতে চাইলো ! আমি বললাম -কি বললেন ঠিক ধরতে পারলাম না ! মেয়েটি হাসির ইমো দিল ! তারপর বলল -বললাম আমার প্রোফাইল ঘুরে এলেন না ? দেখা শেষ ? কিছুক্ষন চুপ করে রইলাম ! তারপর বললাম -হুম ! -কেমন লাগলো ? -কেমন লাগা উচিৎ আপনি ভাল করেই জানেন নিশ্চই ! আবারও হাসির ইমো ! কিছু নিরবতার পর মেয়েটি বলল -কি সিদ্ধান্ত নিলেন ? -কি বিষয়ে ? -ঐ যে ! অনলাইন গার্লফ্রেন্ড ? -হুম ! একটা তো দরকারই ! -তা তার কি কি যোগ্যতা থাকা দরকার ? -তেমন কিছুই না ! কেবল আমাকে সহ্য করতে পারলেই হল ! মেয়েরা কিছু দিন পর থেকেই আমাকে সহ্য করতে পারে না ! -তাই ? তারপর আরও কিছুক্ষন নিরবতা ! কিছুক্ষন পর দেখলাম মেয়েটি আমাকে ইন এ রিলেশনশীপ রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে ! আমি একটু হেসে রিকোস্ট টা গ্রহন করে নিলাম ! গল্প দুইঃ তন্বী ক্লাস শেষ করে বের হতেই তন্বী এসে সামনে দাড়ালো ! মুখ টা গম্ভীর ! আমার দিকে তাকিয়ে বলল -আপনার মোবাইল টা দিন ! -কেন ? -দিতে বলছি, দেন ! তন্বীর মুখ টা যেন একটু বেশি গম্ভীর ছিল ! আমি একটু অবাক হলাম ! মেয়েটির কাজ কারবার আমি কিছুই বুঝতে পারি না ! কখন কি যে করে ঠিক বোঝার উপায় নেই ! মেয়েদের বোঝা একটু কষ্টকর তন্বীকে বোঝা মনে হয় আরও একটু বেশি কষ্ট কর ! তন্বী আমার মোবাইল কি যেন টেপাটেপি করলো ! তারপর আমার দিকে মোবাইলে স্ক্রীনটা দেখিয়ে বলল -এটা কে ? তাকিয়ে দেখি তন্বী আমার মোবাইল থেকে আমার ফেসবুক বের করেছে ! সেখানে গত দিনের লাগানোর রোজের সাথে প্রোফাইল পিকচার টা দেখা যাচ্ছে ! আমি শান্ত কন্ঠে বললাম -কেন ? -প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন করবেন না ! বলুন এটা কে ? -আমার পরিচিত একজন ! -শুধুই পরিচিত ? -দেখে কি তাই মনে হচ্ছে না ? -আপনি এখনই এই প্রোফাইল পিকচার বদলে ফেলুন ? -সে কি কেন ? কালকেই তো দিলাম ! -না এইটা বদলে ফেলবেন ! এখনই বদলে ফেলবেন ! এখনই ? -তোমার কথা আমি শুনব কি জন্যে? আমার কথা শুনে তন্বীর মুখটা আরও বেশি গম্ভীর হয়ে গেল ! আমার দিকে তাকিয়ে বলল -আমি বলেছি তাই শুনবেন । -আচ্ছা কাল পরশু বদলে দিব । কয়েকটা দিন থাক ! -কি জন্যে পালটাতে বলছি বুঝতে পারছেন? -উঁহু পারছি না ! তন্বী খানিকটা ব্যাকুল কন্ঠে বলল -জানার ইচ্ছে আছে? -আমার কৌতূহল কম , তবে তুমি চাইলে বলতে পারো। -আমার হিংসে হচ্ছে ! আমি এবার হেসে বললাম -বল কী ! ট্রেইলার দেখেই এই অবস্থা? পুরো গল্প দেখলে তো হার্টফেল করতা । -আপনি একটা ইতর,একট বদমাইশ, একটা, একটা......... তন্বী আমাকে আমার মোবাইল টা না দিয়েই পিছন দিকে হেটে চলে গেল ! আমি যে আমার মোবাইল টা ওর কাছে চাইবো কি মনে হল যেন চাইলাম না ! ওর বাসা আমাদের কমিউনিটিতেই ! কাছাকাছিই বলা চলে ! বাসায় গিয়ে নেওয়া যাবে ! তবে আমার বেশ মজাই লাগছিল তন্বীর রাগ আর ঈর্ষা দেখে । মেয়ে গুলো এতো বোকা হয় কেন ? নিজে মুখ ফুটে কিছু বলবে না আবার কিছু সহ্যও করবে না ! হয় বলতে হবে নয়তো সহ্য করতে হবে ! ইটালীতে আসার পর যে কয়জন বাঙ্গালী ছেলে মেয়েদের সাথে আমার উঠা বসা তার ভিতর তন্বী একজন ! মেয়েটি প্রথম থেকেই একটু অন্য রকম লাগলো আমার কাছে । পরে খোজ খবর করে জানতে পারলাম তন্বী বেশ জেদি ! যা ভাববে তাই করবে ! এরকম মেয়েদের কাছ থেকে দুরে থাকা উচিৎ কিন্তু কেন জানি দুরে থাকা গেল না দুইটা কারনে । প্রথম কারন টা হচ্ছে ওর বাবা মা ! ওর পরিবারের সাথে আমার পরিবারের একটা আলাদার বন্ধুত্ব্য তৈরি হল, যাতায়াত বেড়ে গেল আর অন্য একটা করন হল মেয়েটার মুখে একটা আশ্চার্য রকম মায়া জড়িয়ে ছিল ! একবার তাকালে আবার তাকাতে মন চাইতো ! যাই কোন দুপুরের বাসায় এসে একটা ঘুম দিলাম খেয়ে ! তন্বী তখনও মোবাইল টা দিয়ে যায় নি ! না জানি করছে মোবাইল টা দিয়ে ! বিকেল বেলা যখন বাইরে বের হলাম দেখি আসে পাশের বেশ কয়েক জন আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো ! একজন আমার কাছে বলল -সানি, তলে তলে এতো দুর ? আমি কিছু বুঝতে না পেরে বললাম -মানে কি ? -মামা এখন কিছুই জানো না ? আমি আসলেই কিছু বুঝতে পারছিলাম না ! তখন সে তার মোবাইল বের করে আমার দেখালো ! আমরা এখানে বাঙ্গালীরা যেমন বাস্তবে একে ওপরের সাথে একে ওপরের যুক্ত তেমনি অনলাইনেও ! ফেসবুক বের করে আমাকে এমন একটা জিনিস দেখালো আমি একটু চমকে উঠলাম ! সেখানে দেখা যাচ্ছে আমার আর তন্বীর ইন এ রিলেশনশীপ স্টাটাস ! খাইছে ! বদ মেয়ে করছে কি ? আমার মোবাইল নিয়ে এই আকাম করছে ! এতোক্ষনে তো সবাই জেনে গেছে । বাসায় জেনে গেলে উপায় আছে ? আমি তন্বীকে খুজতে লাগলাম ! পেয়েও গেলাম ! ওদের বাসা থেকে একটু দুরে একটা বড় লেক আছে । বিকেল হলে অনেকেই এখানে আসে বেড়াতে ! আমি ওখানে গিয়ে দেখ তন্বী একটা বেঞ্চের উপর বসে আছে চুপ করে ! প্রথমে ইচ্ছা খুব জোরে একা ধমক দেই ! কিন্তু দিতে পারলাম না ওর চেহারা দিকে তাকিয়ে ! মনে হচ্ছে কোন কারনে কেঁদেছে কিছুক্ষন আগে ! বাহ ! আকাম করবা আবার কান্না কাটিও করবা ! আমাকে দেখে কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আবার লেকের দিকে তাকালো ! আমি পাশে বসতে বসতে বললাম -এই কাজ টা কেন করলা ? -আমার ইচ্ছা ? -যা ইচ্ছা তাই করতে হবে ? -হুম হবে ! আপনি কেন পিক বদলালেন না ? কেন ? আমি কিছু না বলে তন্বীর দিকে একটু এগিয়ে বসলাম ! ও ওর পকেট থেকে আমার মোবাইল টা বের করে দিয়ে বলল -চাইলে আপনি চেঞ্জ করে নিতে পারেন ! আই ডোন্ট মাইন্ড ! আমি মোবাইল টা হাতে নিতে নিতে বললাম -মুখ ফুটে কিছু না বললে আমি কিভাবে বুঝবো ? তন্বী আমার দিকে তীব্র চোখে তাকিয়ে বলল -সব কিছু মুখে বলার প্রয়োজন আছে ? -নেই ? -না নেই ! বুঝে নিতে হয় ! -হু ! -কি হু ? -হু মানে আমার কপালে এর পর থেকে দুঃখই আছে বুঝতে পারছি ! তন্বী আবারও আমার দিকে তাকিয়ে বলল -আপনি এখনই আমার কাছ থেকে চলে যান ! এখনই ! -যাবো ? সত্যি চলে যাবো ? আমি উঠে পড়তে গেলে দেখি তন্বী চোখে পানি চলে এসেছে ! আমি আবার বসে পড়লাম ! এমন মেয়েকে ছেড়ে যাওয়া কি সম্ভব ? মেয়েগুলো আসলেই একটু অন্য রকম ! এরা কখন কি যে চায়, কি চায় আর কি বোঝাতে চায় সেটা কেউ জানে না ! চেষ্টা করেও কেউ বের করতে পারে না ! আমার কপালে সামনে কি আছে কে জানে !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুমি একজন-ই শুধুই আমার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now