বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘুম থেকে উঠেই চুপচাপ বসে আছি কারো
সাথে কোনো কথা বলছি নাহ বাসার,সারারাত ঘুম
হয়নি এই ভেবে"ঠিক গত বছরের এই দিনে প্রথম
বার আর শেষ বারের মতো নাজমুলের সাথে
আমার দেখা হয়েছিলো। ঠিক দেখা করার আগের
দিন রাতেও আমার ঘুম হয়নি টেনশনে,নাজমুল হঠাৎ
করেই বল্লো যে কালকে আসতেছি কুমিল্লায়।
আমি তো ভাবলাম ও ফান করছে কিন্তু নাহ নাজমুল
সিরিয়াসলি বলছে যে সত্যি আসবে
কালকে,,কেমন একটা টেনশন আর ভয় কাজ
করছিলো কিভাবে ওর সাথে দেখা করবো।
জীবনে কোনো ছেলের সাথে দেখা
করিনি প্রথম ওর সাথে দেখা হবে আমার,নাজমুল
আর আমার পরিচয়টা হয়েছিলো
ফেইজবুকে,,আমার এফবি আইডির নাম ছিলো
নীল পরি তো নাজমুল আমাকে পরী বলেই
ডাকতো,আর আমি নাজমুলকে পিচ্চি বলে
ডাকতাম"আমি ভেবেছিলাম ও ছোট হবে বয়সে
আমার তাই।ওখান থেকেই আমাদের রিলেশনের
শুরু,নাজমুল আমাকে অনেক ভালোবাসতো
অনেক বেশিই ভালোবাসতো,,আমার মনে
লুকানো ছিলো অনেক অজানা কষ্ট।যা আমি
কারো সাথেই শেয়ার করতাম নাহ,প্রথমত
নাজমুলকে আমি বন্ধু ভাবতাম ভালোবাসতাম নাহ
"আমি নাজমুলকে ভালোবাসতে চাইনি
কখনোই,নাজমুলের বাড়ি ছিলো পাবনায় আর আমার
বাড়ি ছিলো কুমিল্লায় অনেক দূর ছিলো,নাজমুল
ঢাকায় থাকতো একটা জব করতো প্রাইভেট
কম্পানিতে,ওর লেখা পড়া বেশি ছিলো নাহ
"ছোটবেলায় ওর বাবা মারা যায় তাই বেশি দূর
লেখাপড়া করতে পারেনি,এস এস সি পর্যন্ত
পড়েছিলো,আর আমার এইচ এস সি রেজাল্ট খারাপ
হয়েছিলো দুইবার,মাঝে স্টাডিও অফ ছিলো আমার
অনেক ইচ্ছা ছিলো লেখাপড়া করার,কিন্তু একটা
ছেলের সাথে রিলেশনে জড়িয়ে সব শেষ
হয়ে গেল লেখাপড়াও।ফ্যামি
লি থেকে তো বলেই দিলো তোকে দিয়ে
লেখাপড়া আর হবে নাহ।নাজমুলকে সবি বলেছি
আমি আমার জীবনের সব কথা,নাজমুল আমার
অনেক কেয়ার করতো মানে অনেক
ভালোবাসতো।আমার প্রতি ওর এতো ভালোবাসা
দেখে আমি যে কখন নাজমুলকে
ভালোবেসে ফেলেছি কল্পনাই করতে
পারিনি,অনেক বেশি ভালোবাসতাম নাজমুলকে আমি
অনেক বেশিই,যা কোন পরিমাপ করা যায় নাহ।আমার
খুব ইচ্ছে করতো কাছে থেকে নাজমুলকে
দেখতে,যাকে এতো ভালোবাসি তাকে তোহ
দেখতে ইচ্ছে করবেই"আমি ওরে বলতাম শুধু
আমার সাথে দেখা কর ও বলতো সময় হলেই
দেখা করবো।আমার মাঝে মাঝে অনেক ভয়
হতো আচ্ছা নাজমুল আমাকে কখনো ছেড়ে
যাবে নাহ তো,ও কি সারাজীবন আমার পাশে
থাকবে তো?কতো প্রশ্ন মনে আসতো
আমার,অনেকেই বলে মেয়েরা নাকি ছেলের
টাকা পয়সা কে ভালোবাসে সুন্দর চেহারাকে
ভালোবাসে।কিন্তু আমার বেলায় তার উল্টোটা,
আমার ফ্যামিলির সাথে কখনো ওর ফ্যামিলির খাপ
খাবে নাহ,ও দেখতে যে অনেক সুন্দর ছিলো
তাও নাহ"কিন্তু আমি সব জেনেও নাজমুলকে
ভালোবেসেছিলাম।আমার কাছে পৃথিবীর
সবচেয়ে সুন্দর ছেলেটি ছিলো নাজমুল,,ওর
মনটাকে আমি ভালোবেসেছিলাম তাই ওর সব কিছুই
আমার ভালো লাগতো।ওর কাছে টানতো
অনেক চুম্বকের ন্যায়,আমার পড়া লেখার প্রতি
আগ্রহ দেখে ও আমাকে বলেছিলো আমাকে
আবার পড়াবে কলেজে ভর্তি হতে হবে, কিন্তু
আমার কাছে তো টাকা নেই কিভাবে পড়বো?
নাজমুল বল্লো ও টাকা দিবে প্রথমে আমি নিষেধ
করি কিন্তু পরে নাজমুল আমাকে অনেক বুঝিয়ে
রাজি করে।সেজন্যই মুলত ওর কুমিল্লায় আসা আমার
সাথে দেখা করার জন্য, ওর সাথে রিলেশনের
সাত মাস পর আজকে আমাদের দেখা হবে।
সকালে অনেক কষ্টেই বাসা থেকে বের হলাম,
মহিলা কলেজের ভিতর ওর জন্য অপেক্ষা
করছি,মানুষ সাধারনত কারো সাথে দেখা করতে
আসতো কোনো রেস্টুরেন্টে,পার্ক অথবা
অন্য কোথায়, কিন্তু আমাদের বেলায় তা হয়নি।
আমিই নাজমুলকে বলেছিলাম আমার কলেজে
আসতে, বাহিরে যদি কেউ দেখে ফেলে ওর
সাথে আমাকে সেই ভয়ে ওর সাথে আমার
কলেজের ক্যান্টিনে দেখা করা। নাজমুল
আসলো কলেজের সামনে আমি ওরে রিসিভ
করলাম,লজ্জাও লাগছিলো অনেক ওর দিকে
তাকাতে পারছিলাম নাহ,অনেক নার্ভাস লাগছিলো
আমাকে দেখতে।নার্ভাস হওয়ারই কথা জীবনে
প্রথম কোনো ছেলের সাথে দেখা করতে
আসলাম,অবশেষে আমি আর নাজমুল কলেজের
ক্যান্টিনে গেলাম,বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট ছিলাম আমি
কলেজের ক্যান্টিনে বেশি একটা যাওয়ার সময়
পাইনি।কারনটা হলো কলেজে ক্লাস,প্র্যাক্ট
িক্যাল,প্রাইভেট পড়েই সময় চলে যেতো
আমার,তাই যাওয়া হয়নি ক্যান্টিনে তেমন।আমি আর
নাজমুল বসে আছি দুইজন টেবিলের দুই পাশে,
অনেক কথা বল্লাম আমরা প্রায় দুই ঘন্টা আমরা
বসে ছিলাম ক্যান্টিনে। ওই সময়টা যে
কিভাবেএতো তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছিলো বুঝতেই
পারিনি।আমরা কেউ কিছু খেতে পারিনি নাজমুল অর্ডার
করেছিলো, কিন্তু খেতে পারিনি,কলেজ ক্যান্টিন
থেকে বের হয়ে আমমরা লাইব্রেরীতে
গেলাম নাজমুল আমাকে বই কিনে দিলো।তারপর
আমরা একটা শপিং মলে গেলাম,আমি নাজমুলকে
একটা শার্ট কিনে দিয়েছিলাম আমার পছন্দের যদিও
ও নিতে চায়নি,ও জানতো আমার কাছে টাকা ছিলো
নাহ তাই নিতে চায়নি।তবুও আমি কিনে দিয়েছিলাম
জোড় করেই, শার্টটা ও পড়েছিলো শপিং মলেই
আমিই বলেছিলাম পড়তে।আর কখনো নাজমুলকে
দেখতে পাবো কি নাহ কে জানে, শার্টটা ওী
অনেক পছন্দ হয়েছিলো তারপর দুজনে এককটা
সেল্ফি তুল্লাম স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য এই
দিনটাকে।নাজমুলের চলে যাওয়ার সময় হলো ও
চলে যাবে,আমার মন অনেক খারাপ হয়য়ে
গেলো অনেক কান্না আসছিলো আমার এই
ভেবে ও চলে যাবে এখন,যদি আর নাহ আসে
কখনো যদি আর দেখা নাহ হয় কখনো
আমাদের,নাজমুল আমাকে প্রমিজ করেছিলো ও
আবার আসবে আমার সাথে দেখা করতে আর
ছয়মাস পড়েই আমাকে বিয়ে করবে,নাজমুল বিদায়
নিয়ে চলে গেলো আর আমিও বাসায় চলে
আসলাম।আমার সাথে দেখা করার কিছুদিন পর
থেকেই নাজমুল আমাকে এড়িয়ে
চলতো,ভালোভাবে কথা বলতো নাহ আমার
সাথে,বলে যে আমাকে এখন ভালোবাসে নাহ
ভুলে যেতে বল্লো ওরে,আমি তো ওর কথা
শুনেই হতভম্ব হয়ে গেছি কি বলছো তুমি এসব
নাজমুল,আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো নাহ ওর কথা।এভাবে
অনেক দিন কেটে গেলো প্রতিদিন আমি ওর
খবর নিতাম,হঠাৎ একদিন শুনলাম নাজমুলকে পুলিশে
ধরে নিয়ে গেলো,ওর গ্রামে কে যেনো
ওর নামে মিথ্যে মামলা করেছিলো,ও আগে
রাজনীতি করতো আমি জানতাম নাহ।সেই সুত্র
ধরে ওকে ধরে নিয়ে গেলো,আমার তো
বিশ্বাসই হচ্ছিলো নাহ ও জেলে আছে,ওর
ভাগ্নে আর একটা ফ্রেন্ড ছিলো ওদের কাছ
থেকে জানতে পেরেছিলাম।আমার তখন কি যে
কান্না পাচ্ছিলো ওই মুহূর্তে তিন মাস দশদিন। ও
জেলে ছিলো, এই তিন মাস দশদিন আমি মরার
মতো বেঁচে ছিলাম ও ছিলো পাবনা জেলে ওর
সাথে দেখা করার মতো কোন পরিস্থতি ছিলো
নাহ আমার।অনেক দূর ছিলো পাবনা কুমিল্লা
থেকে কিন্ত এমন একটা দিন যায়নি আমার যে আমি
ওর খবর নেইনি । নামায পড়ে শুধু আল্লাহর কাছে
ওর জন্য দোওয়া করতাম আর কান্না করতাম নাজমুল
যেনো তাড়াতাড়ি ছাড়া পায়।তিন মা দশদিন পর ও ছাড়া
পেলো।আমার খুশির সীমা ছিলো নাহ তখন,আমি
নামায পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।
আমার জন্য যে আরো কষ্ট অপেক্ষা করছিলো
আমি কল্পনাও করিনি জেল থেকে বের হওয়ার পর
ওর সাথে কথা হল।ভাবলাম আগের সব কিছু ও ভুলে
যাবে কিন্তু তা হয়নি,ও যে কথা আমাকে
বলেছিলো তা শুনার জন্য আমি কখনোই প্রস্তুত
ছিলাম নাহ,ও বল্লো ও ওর মামাতো বোনকে
বিয়য়ে করবে"যেই মেয়েরটার আগেও একটা
বিয়ে হয়েছিলো পনেরো বছর সংসার
করেছিলো তার প্রথম স্বামীর ঘরে।
কোনো বাচ্চা হয়নি,আমি আজও বুঝতে পারলাম
নাহ কেন নাজমুল ওর মামাতো বোনকে বিয়ে
করলো?অনেক আগে নাকি ওই, মেয়ের সাথে
রিলেশন ছিলো,তবে আমার কি দোষ ছিলো
আমার সাথে কেন এমন করলো?কাউকে
ভালোবাসা কি অপরাধ?নাকি ভালোবাসা অভিশাপ?প্রশ্ন
আছে মনে অনেক কিন্তু আমার উত্তর জানা
নেই।নাজমুল আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর
দিতে পারেনি আজ পর্যন্ত।ও এখন ওর মামাতো
বোনকে বিয়ে করে সংসার করছে।হয়তো
আমাকে ভুলেও গেছে?নাজমুল আজকের এই
দিনটাকে ভুলে গেছে,আজকের দিনটা অনেক
স্পেশাল ছিলো,আজকের দিনে ওর সাথে আমার
প্রথম আর শেষ দেখা হয়েছিলো।মানুষ নাকি
মরে গেলে পঁচে যায়,বেঁচে থাকলে বদলায়,
কারণে অকারণে বদলায়,সময় বদলেছে নাজমুল
বদলে গেছে।কিন্তু আমি আজো পর্যন্ত
বদলাতে পারলাম নাহ নিজেকে তবে কেন?এরই
নাম কি ভালোবাসা,সব কিছুই ঠিক আছে তোমার
প্রতিটি কথা মনে আছে,কিছুই ভুলিনি আমি আজো
পর্যন্ত।ভুলতে পারি নাহ আমি,কাজী নজরুল
বলেছিলেন,তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে সে
জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন???আসলেই
অনেক কঠিন তোমারে ভোলা, আজকের এই
দিনটাকে ভুলে থাকা।জানি তুমি আর কখনে ফিরে
আসবে নাহ,তবে কেন এই স্মৃতির বিড়ম্বনা আমি
প্রতিনিয়ত তাড়া করে???
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now