বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুমি আমায় বেঁধেছিলে ভালবাসার ডোরে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তুমি আমায় বেঁধেছিলে ভালবাসার ডোরে লিখেছেন - নূহা চৌধুরি *** প্রচন্ড চাপ যাচ্ছে এই কদিন , দম টুকু ফেলার সময় পাচ্ছি না , মাঝে মাঝে বিরক্তি ধরে যায় , কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে ইচ্ছা করে খুব , পারিনা , ব্যাস্ততা আজকাল এতই বেড়ে গেছে । সামনে পিসি টা খোলাই আছে , খুব বিরক্তি এর সময় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট গুলি তে একটু ঢুঁ মেরে আসি , ব্যাপারটা যান্ত্রিক , তবে কাটানো অল্প কিছু সময় টুকু নির্ভেজাল আনন্দ দেয় । টিং টিং করে চ্যাট বক্স টা জানান দিল কেউ স্মরন করেছে । আরে বান্ধবি , তুই তো সুন্দর হয়ে গেসিস দেখা যায়। চল বিয়ে করে ফেলি , আমি খুব সুন্দর একটা পোলা , বেশ হ্যান্ডসাম আছি , শুধু টাকা পয়সা একটু কম, পালিয়ে বিয়ে করতে অবশ্য খরচ বেশি না , যা লাগে তুই দিবি !! ইহান হাসনাত, চ্যাট বক্সের কোণায় নামটা জুলুজুলু করছে , আমি এই ছেলের সাথে কথা বলার সময় অনেক চেষ্টা করেছি একটু ভাব ধরে থাকার , পারিনাই , কোনদিন পারব সেই সম্ভাবনাও একদম শূন্যের কোঠায় , মানুষ যে বাঁদর থেকে এসেছে এই ছেলে কে দেখলে সেই সন্দেহ যে কারোই এক মুহূর্তে দূর হয়ে যাবে । পারফেক্ট বাঁদর , আমার ধারণা একে নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় গেলে প্রথম খাঁচার সব বান্দা , হুজুর হাজির বলে দুই হাত হাঁটুতে ঠুকে সালাম করে ফেলবে । এবং তার এহেন বাঁদরামির জন্য তার কোনও আফসোস হতে আমি দেখিনাই , তার সাথে আমার যতবার দেখা হয়েছে আমি তাকে অতি আগ্রহ নিয়ে কলা খেতে দেখেছি অথবা চিনে বাদাম খেতে দেখেছি এবং এই দুইটা জিনিশ ই আমি দুই চোখে দেখতে পারিনা । অবশ্য ইহানের কথা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সস্তা দুইটা জিনিস অবশ্যই তার খাওয়া উচিৎ , যেহেতু তার খুব বেশি টাকা নাই , এবং টাকা খরচে তার ব্যাপক মায়া এবং যেহেতু তার খানিক পর পর খিদা লাগে সে আর কি ই বা করতে পারে । - তুই সুন্দর পোলা ?? জীবনে আয়না দেখসিস ?? - কেন নয় বান্ধবি ? আবার বলি আমাকে কিন্তু কয়দিন পর আর পাবিনা , কাল রাতে ক্যাটরিনা ফোন দিয়েছিল শুধু তোর কথা ভেবে ওরে পেন্ডিং রাখসি , এখন বল বিয়া করবি আমারে ?? - নাহ , তোকে বিয়া করা যাবেনা , তোর থেকে পাঁচ গুন হ্যান্ডসাম টম ক্রুজ কালকে প্রপোজ করসে , বিজি আছি এখন , তুই ভাগ!! - আমারে বেইল দিলানা , পঞ্চাশ বছরের বুইড়া ব্যাটার জন্য , মনে রাইখ কেবল একজন ছিল , যে ভালোবাসতো শুধুই তোমারে ......... আমি অফ লাইনে গেলাম এই পাজি পোলা নাহলে ভ্যাজর ভ্যাজর করতেই থাকবে । এর সাথে পরিচয় টা খুব আহামরি ভাবে হয়নাই আমার , একই ব্যাচ এর স্টুডেন্ট ছিলাম কেমন করে যেন বন্ধু হয়ে গেলাম , যখন বন্ধু হলাম আসলে তখন হবার কোন চান্সই ছিলনা , এরপর এর যাবতীয় বাঁদরামিতে অভ্যস্ত হতে সময় লেগেছিল কিন্তু আমার অতি একলা কাটানো সময় গুলো ও এতো আনন্দে ভরপুর করে দিল , এতো রঙ্গিন করে দিল যে ওকে ছাড়া একটা দিন ভাবা আমার জন্যে অসম্ভব ছিল । আমি নিজের কথা বলি , আমি বেশ গম্ভীর মানুষ , অপ্রয়োজনীয় গম্ভীরতার চাদরে নিজেকে মুড়ে রাখি , একলা থাকার প্রহর গুলো ভীষণ পছন্দের আমার । অনেকের সাথে হইহুল্লর করার চেয়ে একটা গল্পের বই এ মুখ গুঁজে থাকতে বেশি ভালোবাসি । আমার কবিতা ভাল লাগে , গান ভাল লাগে , মঞ্চ নাটক ভাল লাগে । আমি দুঃখ বিলাসি , আমার প্রিয় যা কিছু আছে সব তালিকায় দুঃখ বিলাসের প্রাধান্য টা একটু বেশী । আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হল আমার মা । যখন খুব মন খারাপ করা বই পড়ে বা গান শুনে আমার ভেতরে শূন্য শূন্য লাগে , আমি মা কে জড়িয়ে ধরে থাকি , মা আমার গায়ে হাত বুলিয়ে দেয় , বলে - আমার এইটুকু মেয়েটা কেমন করে এতো আবেগি হল , এইটুকু জাপানীদের মত ছোটো চোখে কেমন করে এতো জল লুকিয়ে রাখে শুনি , কেমন করে বলতো মা ?? আমি তখন মা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি , আমার শূন্য লাগা প্রহর নিমিষেই নাই হয়ে যায় । আমার পরিবারের বাইরে পৃথিবীর শুধু মাত্র একটা মানুষকে আমি আমার ছোট্ট হৃদয়ে অনেক বড় জায়গা দিয়ে ফেলেছি , সেই মানুষটা অবশ্যই ইহান ছিল , আমি এই ছেলেকে অনেক ভালোবাসি । ওর গায়ে পড়ে ঝগড়া করা ভালোবাসি , আজে বাজে অকাজের কথা ভালোবাসি , ওকে হাসতে দেখলে ভালোবাসি , ওর রাগ ভালোবাসি , ওর সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত ভালোবাসি । অনেক ভালোবাসি , অনেক টা গুনে শেষ করা যাবেনা ঠিক এইরকম । আমি কতদিন ভেবেছি ওকে জানিয়ে দিবো , কেমন করে বলব মাথায় আসে না , আমি কি ছোট্ট কিছু পঙক্তি দিয়ে জানাব ? এভাবে কি বলা যায় - 'বৃষ্টির ফোঁটাকে মনে হয় তোমার পায়ের শব্দ... পাতার শব্দকে মনে হয় তোমার গাড়ির আওয়াজ।' পরক্ষনেই সেই চিন্তা বাদ দেই , হয়ত এরকম কিছু শুনে ইহান বলে বসবে আমি কি করলে তোর বজ্রপাত মনে হয় রে? মাথায় যেটা আসতেসে , সেইটা একটা অতি বাজে কথা , তুই ভদ্র মাইয়া , বললে আবার কাইন্দা দিবি । আবার মনে হয় ওকে বলি ছেলে তোকে ধরে একদিনের তরে অনেক অনেক করে খুব সন্ধ্যা থেকে খুব ভোরে কাঁদতে চাই ... সেই চিন্তা বাদ দিতে আবার দুই মুহূর্ত ভাবিনা , ইহান খুব পাজি ছেলে আমার নাম কাঁদুনি বেগম রাখতে সেও দুই মুহূর্ত ভাববেনা , এইটা আমি খুব ভাল জানি , ইহান কে আমার থেকে ভাল আর কে জানবে ?? আমার কেবল ই মনে হয় আমি ওকে বলতে পারবনা । আমারও রয়েছে ভয় , সরবহারার শৃঙ্খল শুধু নয় বিপ্লব এলে তোমাকেও হারাবার , যে তুমি শৃঙ্খল হয়ে কোনোদিন বাধোনি আমায় । ***** জানেমান চল বিয়ে করে ফেলি , আমি না কখনই পালিয়ে বিয়ে করিনাই। তোদের ঐদিকে কাজি অফিস আছে ? প্লিজ প্লিজ চল আজকে বিয়ে করি , তারপর আজকের দিনটা আমি আর তুই মিলে বিশ্ব পালিয়ে বিয়ে করা দিবস হিসেবে পালন করব , তুই রাজি ? যখন আমার মুঠো ফোনে এই বার্তা আসে , তখন আমি আমার রুমের ছোট্ট কোনায় বসে ছিলাম । আমার খুব ইচ্ছা করছিল মা কে জড়িয়ে ধরে বলি , আমার গায়ে একটু হাত বুলিয়ে দেবে মা ? কিন্তু পারছিলাম্ না , আজ এই শরীর টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে , একজন হায়েনার তীব্র আঘাতে এখানে সেখানে পচন ধরে গিয়েছে , দুপুরের পর থেকে একটু পর পর শরীর টা ধুয়ে নিচ্ছি , কিছুই হচ্ছে না , যেন ঐ ঘৃণিত স্পর্শ আমাকে আরও ঘিরে ধরছে । আমার এই অপবিত্র দেহে আমার মা কে আমি কেমন করে ছুঁতে বলি ? আহ , বেঁচে থাকা এতো কষ্টের কেন ? দুপুরে বন্ধু ইহানের বাসায় গিয়েছিলাম , ইহানদের পরিবারের সাথে কবে থেকে যে একটা পারিবারিক বন্ধুত্ব হয়ে গেছে জানাই হয়নি , ইহানের বড় ভাই হয়ে গিয়েছিল আমার বড়দা , ইহানের এক রত্তি বোন টা আমার ও ছোট বোন । তাই বড়দা রূপী হিংস্র হায়েনা যখন ভেতরে বসতে বলল আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি আমি সর্বহারা হতে চলেছি । কি করব এখন আমি ? কেমন করে মৃত্যু কে কাছে টেনে নিতে হয় আমার জানা নাই , আমার খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে , আহ ঈশ্বর আমাকে একটু কাঁদার শক্তি দাও , শেষ বারের মত করে কাঁদতে চাই । ***** তোর কি হইসে? মরার শখ হইসে আমাকে বলিস নাই কেন ? ছাদ থেকে ফেলে দিতাম এক ধাক্কায় , নিজেও হয়রানি করলি , মরলিওনা , আমাদের কষ্ট দিলি । কথা বল মাইয়া , এক চড়ে দাঁত ফেলে দিবো । মরতে চাস তুই , কেন বাঁচলি তাইলে , কেন বাঁচলি ?? ইহান আমাকে ধরে হুহু করে কেঁদে যাচ্ছে , আমি গাল ধরে বসে আছি । চড় বেশি জোরে হইসে ? হু । তোর কি হইসে আমারে বল ? না । বল বলতেসি । না । দ্যাখ ঢং মারবিনা , বয়স হইসে তোমার , ম্যাচুরড হইস অনেক , কি এমন হইসে যে তোকে এমন একটা কাজ করতে হইল ? খুলে বললাম সব , আমি যদিও জানতাম , ইহান সহ্য করতে পারবে না , আমি যেমন ভেঙ্গে গেছি ও তার থেকে বেশি ভেঙ্গে যাবে , দুনিয়ায় ও বড়দা থেকে কাউকে বেশি ভালবাসে না । তারপর খুব দ্রুত কিছু ব্যাপার ঘটলো , যত দ্রুত আমার কল্পনার দুঃখবিলাস বাস্তবের ক্যানভাসে রঙ তুলিতে আঁচর কেটে চলেছে , তার থেকেও দ্রুত । বড়দার বিরুদ্ধে কেস হল , কেস করল স্বয়ং ইহান , বড়দা নিজেই সব স্বীকার করেছিলেন কোর্টে । কেন করেছিলেন জানিনা । যেদিন বড়দার মামলা শেষ হবে ঐ রাতেই তিনি সুইসাইড করেন । ইহান আমার বিয়ে হয়ে যায় অতিদ্রুত , যে ঘোর অমানিশা আমায় ঘিরে ধরেছিল , ইহান তার ভালবাসার পবিত্র স্পর্শে সেই কালিমা দূর করে দেয়ার সকল চেষ্টা চালালো । বিয়ের রাতে ইহান আমাকে নিয়ে বের হয়েছিল রাস্তায় , আমি হাঁটছি , ইহান হাঁটছে । আমার ইহানের আম্মার কথা মনে পড়ছে , ইহানের আম্মা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন আমি যেন তার বড় ছেলে কে ক্ষমা করে দেই । বুঝলি ঈশিতা , আম্মার যখন বিয়ের পাঁচ বছরেও বাচ্চা হয়নাই , তখন বড়দা কে আম্মা পালক নেন , বড়দা কে আমরা কোনদিন সেই চোখে দেখিনি । আমি হওয়ার পর কত মানুষ বড়দা কে অনাথ আশ্রমে দিতে বলেছে , আম্মা তাদের মুখে ঝাঁটা দিয়েছিল , সেই বড়দা টা কেন এমন হয়ে গেল বলতো ? আমি এই দুনিয়ায় বড়দা কে সবচেয়ে বেশি ভাল বেসেছিলাম্ রে , একটা অমানুষ কে অনেক ভালবেসেছিলাম । আমার খুব ইচ্ছা করছিল , ওর জল টুকু মুছে দেই , পরক্ষনেই ভাবলাম ঐ বিষাক্ত জল টুকু ঝরে গেলেই ভাল হয় বোধহয় । ইহান সে রাতে কাঁদল , ছোট্ট একটা বাচ্চার মত হুহু করে কাঁদল , আমাকে শক্ত করে ধরে অনেক অনেক কাঁদল । ***** ইহান আর আমি এখন অনেক ভাল আছি , অনেক ভাল । ইহান আগের মতই আছে , সারাদিন আজাইরা কথা বলে বেড়ায় , পালিয়ে বিয়ে করতে না পারার দুঃখ এখনো যায়নি ওর ।মাঝে মাঝে ঘন্টা হিসেবে রিক্সা ভাড়া করে ঘুরতে যাই , আমার মুঠোফোনে টিং টিং করে বার্তা আসে , উইল ইউ প্লিজ ম্যারি মি ? আই ওয়াণ্টু করতে বিয়া , অবশ্যই পালাইয়া আমি ভেবেছিলাম ইহান বদলে যাবে , ভেবেছিলাম ইহান আমাকে ঘৃণা করবে , ইহান আমাকে করুণা করবে , তার কোন কিছুই সে করেনি । সে আমাকে গভীর ভালোবাসায় আঁকরে ধরে রেখেছে , পৃথিবীর সকল অকল্যাণ থেকে আমাকে বাঁচিয়ে চলেছে । ইহান তার মঙ্গলময় স্পর্শে আমাকে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে , তার এক জীবনের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ঘিরে রেখেছে সকল অমানিশার আধার থেকে । আমি , এই অতি ক্ষুদ্র আমি এক জীবনে ঈশ্বরের কাছে আর কিইবা চাইতে পারি ??


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুমি আমায় বেঁধেছিলে ভালবাসার ডোরে
→ তুমি আমায় বেঁধেছিলে ভালবাসার ডোরে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now