বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
///
///
///
আমি তরী । দাঁড়িয়ে আছি বারান্দায়। আকাশ দেখছি, আকাশ দেখাটা যেনো আমার অভ্যাস এ পরিনত হয়েছে। আজ আকাশ টা মেঘলা এলোমেলো বাতাস বয়ছে। হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে পুরানো সব দিনে, জানি পারবনা তবু স্মৃতিতে তো নিজেকে হারাতে পারি ।
আজ থেকে পাঁচ বছর আগের কথা, এমন এক দিনে পরিচয় হয় অভ্র এর সাথে।একই ভার্সিটিতে পড়তাম, আমার থেকে বয়সে বড় ছিলো অভ্র, ছোট থেকেই আমি খুব গোমড়ামুখর,কারো সাথে ঠিক মতো মিশতাম না, এবংকি কথা ও খুব বেশী দরকার না পড়লে বলতাম না।
তারপরেও আমি নিজের মতো করে নিজেকে সুখি রাখতাম, বাবা-মায়ের একমাএ মেয়ে বলে কনো কিছু চাওয়ার আগেই পেয়ে যেতাম।অভ্র ছিলো একটু চঞ্চল টাইপের, এক মহুর্তে হাজার টা কথা বলে ফেলতো, আমার মোটেও ভালো লাগতো না, তবুও অভ্র কে কিছু বলতাম না, আমি সবসময়ই চাইতাম একটু শান্ত হয়ে থাকতে, অভ্রর জন্য তাও পারতাম না ।দেখতে দেখতে প্রায় আমরা দুজন বন্ধুর মতই হয়ে গেলাম।
অর্পূব গলা ছিল ওর,আমাকে প্রায় গান গেয়ে শুনাতো,আমিও শুনতাম বেশ ভালোই লাগতো আমার কাছে কিছু দিনের মধ্যে আমাদের অনেক ভালো বন্ধুত্ব হলো। আমরা এক সাথে বসে গান তুলতাম। মাঝে মাঝে ঘুরতেও যেতাম, আমাকে হাসানোই যেনো ছিলো অভ্রর কাজ, আমি খুব কমই হাসতাম, মাঝে মাঝে অভ্র বলতো আমি নাকি হাসতে জানিনা, হাসিতে এত কৃপণতা করি কেনো?হাসতে তো টাকা লাগেনা।আর আমিও ওর কথা শুনে হাসতাম।
ওকে নিয়ে প্রায় সপিং এ যেতাম। সত্যি বলতে ওকে সপিং এ নিয়ে যাওয়ার মজাটাই আলাদা, চুপচাপ আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম, আর ও সব কিনত। কখনো সপিং ব্যাগ আমাকে ধরতে হত না আর ওর পছন্দটাও ভাল ছিল ।
দেখতেও মোটামোটি ভালই ছিল, অনেক মেয়ে ওর আশেপাশে ঘুরাঘুরি করলেও কাউকে পাওা দিতো না অভ্র, দেখে ও না দেখার ভান করে থাকতো। মাঝে মাঝে আমি জিজ্ঞাসা করতাম
কেউ আছে নাকি? ও শুধু হাসতো।আর কিছুই বলতো না আমায়।
ভালই যাচ্ছিল দিনগুলো , বেশ হাসি খুশিই ছিলাম দুজন।একদিন আমরা লাইব্রেরীতে বসে ছিলাম,হঠাৎ দেখি ওর ডাইরি একটা আমার বইয়ের পাশে,ওটা ওর পারসোনাল ডাইরি ছিলো, জানি ও জানলে খুব রাগ করবে , তবু জানিনা কেন আমি ডাইরি টা পড়া শুরু করি। ডাইরি তে শুধু আমার কথাই লেখা ,বুঝতে বাকি ছিলনা গাধাটা আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে।
সেই প্রথম থেকে যা যা হয়ে এসেছে
ও সব কিছুই ডাইরিতে লিখে রেখেছে, আমার একটা নাম ও দিয়েছে
"চন্দ্র"
আমি ওই দিন কিছু বললাম বা, ওর ডাইরিটা রেখে সোজা বাড়িতে চলে এসেছি।
প্রায় কয়েক দিন ভার্সিটিতে যাই নি, অভ্র অনেক বার চেষ্টা করে যোগাযোগ করতে, আমি করিনি, ওর থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করি । কিন্তু হঠাৎ একদিন রাতে আমার ফোনে ম্যাসেজ আসে, তরী একটু বাইরে আসো, আমি তোমাদের বাসার নিছে দাঁড়িয়ে আছি। এই ম্যাসেজ টা পেয়ে নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না,দৌড়ে গেলাম ওর কাছে। অভ্র এক গুচ্ছ লাল গোলাপ হাতে আমার সামনে আসে আর সব না বলা কথা গুলো বলে দেয়, যা আমি চাইনি ও কখনো আমাকে বলুক।
অভ্র ~ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি
আমি ~ এসব কি বলছো অভ্র?
অভ্র~ ঠিকই বলছি, অনেকবার বলতে চেয়েও পারিনি, ওইদিন ইচ্ছে করেই তোমার সামনে ডাইরিটা রেখেছিলাম আমি, যাতে বুঝতে পারো কতটা ভালোবাসি।
আমি~ তুমি ভাবলে কি করে এটা সম্ভব
অভ্র~ তুমি চাইলেই সম্ভব
আমি ~ কখনোই সম্ভব নয়, একটু হেসে হেসে কথা বলছি তোমার সাথে, আর তুমি তার মাঝেই এত কিছু ভেবে নিলে?তোমাকে ভালোবাসতে কখনো পারবো না আমি। আমার জীবনে আমি তোমার সাথে চলতে পারবো না।তোমার মতো ছেলেকে আমি ভালোবাসতে ও পারবো না।
অভ্র ~ এতদিন এইগুলো কি ছিলো?
আমি ~ কিছুই ছিলোনা!
অভ্র~ একদিনের জন্যে ও কি ভালোবাসা জন্মে নি তোমার মনে
আমার জন্য?
আমি ~ নাহ!! প্লিজ আর কখনো আমার চোখের সামনেও আসবে না তুমি।
অভ্র~ আসবো না, আমার মতো একটা ছেলেকে এতদিন সময় দিয়েছো তার জন্য ধন্যবাদ।
অভ্রর চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে, খুব কষ্ট হচ্ছে ওর।
আমাকে ভালো থেকো বলেই অভ্র চলে যায়, একবারের জন্যেও পিছনে তাকায় নি
ঐ দিন এর পর থেকে কখনো দেখা হয়নি অভ্র এর সাথে , কখনে জানতেও দেয় নি কোথায় আছে কেমন আছে, কথা ও হয় নি, ওর নাকি বিয়েও ঠিক হয়ে গেছে, দুই দিন পরই বিয়ে। শুনলাম অনেক ভাল চাকরি করে , বেশ ধনী ও এখন । জেনে ভাল লাগল ও আজ সুখে আছে , জিবন সাথি খুঁজে পেয়েছে যে ওকে কখনো ছেড়ে যাবে না ।
অভ্র কখনো বলা হবে না, ওই দিন ডাইরিটা পড়ে আমি কতবেশী খুশি হয়েছিলাম, খুশিতে কতটা আত্মহারা হয়েছি, জানো ওই রাতে একটু ও ঘুমাতে পারিনি, বসে বসে আমার আর তোমার ভালোবাসার কথা লিখেছি, কতগুলো কবিতা লিখেছি।কখনো বলা হবে না
লাল গোলাপ হাতে সাদা শার্ট পরা ঐ দিন তোকে অনেক সুন্দর লাগছিল । হয়তো তুমি কখনো জানতে পারবে না কতটা ভালবেসে ছিলাম আমি তোমায়।
তুমি আমাকে যতটা ভালবেসেছিলে এর চেয়ে অনেক বেশি , অনেক বেশি
ভালোবেসেছি...........
জানো অভ্র
ঐ দিন তোমায় অনেক কাঁদিয়ে ছিলাম , হয়তো আমি তার চেয়ে অনেক বেশি কেঁদেছিলাম ।
কিন্তু আমার যে আর কিছু করার ছিল না!
ওই দিন সকালে ভার্সিটি যাওয়ার জন্যেই বের হয়েছিলাম, আর তোমাকে
ভালোবাসি বলবো এই আশায় করেছি।কিন্তু আব্বু ডেকে বলে যে
তার বন্ধুর ছেলে আসবে আজকে, আর ওর সাথেই আমার বিয়ে ঠিক করা ছিলো অনেক আগে থেকেই, বিশ্বাস করো, এর কিছুই আমি জানতাম না।
তুমি ত জানতে আমি আমার আব্বু আম্মুর একটাই মেয়ে, অনেক আদরে বড় করেছে আমায়, তুমিই বলো?
আমি কি করে এতটা কষ্ট দিতাম তাদের কে, জানো অনেক বুজিয়েছি
কিন্তু তারা বুজলো না, তোমাকে কখনোই মেনে নিতো না। তাই আর তাদের কথার অবাধ্য হতে পারিনি, আব্বু আম্মুর মুখের হাসির জন্যে আমার ভালোবাসা বির্সজন দিতে হলো।আব্বু আম্মুর হাসির কাছে যে আমার ভালোবাসা খুবউ তুচ্ছ ছিলো।
জানি আমার ওই কথাগুলো তোমায় প্রচন্ড কষ্ট দিয়েছিল, কিন্তু কি করব বলো,আমার যে কিছুই করার ছিলো না,
তুমি যাতে আমায় খুব সহজে ভুলতে পারো, তাই ওইরকম ব্যবহার করেছি।
তোমার জন্য না হয় আমি খারাপ আর স্বাথর্পর ই থাকবো
সারা জিবন ।
কখনো যদি দেখা হয় তোমার আর আমার, তোমার চোখে কখনো চোখ রাখতে পারব না , তোমার কোন প্রশ্নের উওর আমার কাছে আজও নেই । শুধু বলতে চাই সুখে থাকো, তোমার জিবন সঙ্গীকে নিয়ে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now