বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুকে অনেক ভালোবাসি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান EvA AhMED (০ পয়েন্ট)

X মেয়ে: এই হামযা ? ছেলে: কি! মেয়ে: ঐ দিকে কি দেখিস? ছেলে: আমার বউদের দেখছি! মেয়ে: দেখ,ভালো হবেনা কিন্তু! ছেলে: না হোক! মেয়ে: এদিকে তাকা না হয় কিন্তু মাইর খাবি! ছেলে: আমার সাথে মনে হয় হাত নেই? মেয়ে: কি তুই আমাকে মারবি? ছেলে: না,তোকে আদর করবো! মেয়ে: দেখ তুই কিন্তু আমার সাথে ইয়ার্কি মারছিস! ছেলে: আমার বয়েই গেছে তোর সাথে ইয়ার্কি মারতে।ভাব ধরতে আর জায়গা পাইলি না।তুই কি আমার শালি লাগস,না তোর বড় বোন বা তোর আত্মীয়ের কাউকে আমি বিয়ে করছি।যার কারণে তোর সাথে আমি ইয়ার্কি মারবো,যা ভাগ! মেয়ে: সত্যিই তো,আমি চলে গেলে তুই খুশি হবি? ছেলে: হ্যা,সত্যি খুশি হবো।তুই চলে গেলে মন ভরে দেখতে পারবো! যাতো এখান থেকে। অতঃপর মেয়েটা উঠে চলে গেলো।স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে,চোখের কোণে পানি। যে কোন সময় বারি বৃষ্টি আসতে পারে! এতক্ষণ যার সাথে কথা বলছিলাম।ও হলো মিলা।আমার কলেজের সবচেয়ে ভালো বেস্ট ফ্রেন্ড মেয়েদের মধ্যে।বেস্ট ফ্রেন্ড বললে ভূল হবে,তার চেয়েও বেশী কিছু।বলতে গেলে আমি তার প্রেমে মজনু দিওয়ানা।কিন্তু নিজের ভালোবাসা আমি প্রকাশ করি না। কিছু ভালোবাসা প্রকাশ হয়না।আমি জানি মিলাও আমাকে ভালোবাসে।তবে প্রকাশ করেনা,এটা আমার মনের ধারনা।তবে আমিও চাই মিলা আমাকে বলুক সে আমাকে ভালোবাসে। মিলাকে এতক্ষণ আমি ইচ্ছে করেই রাগাচ্ছিলাম।ওকে রাগাতে আমার খুব ভালো লাগে।ওর রাগে লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখতে আমার ভীষন পছন্দ।তাই ইচ্ছে করেই রাগিয়েছি! আসলে মিলা আর আমি বাসার ছাদে এক কোণে বসেছিলাম। তখন তাকে রাগানোর জন্যই দূরের ছাদে বসে থাকা মেয়েগুলোকে দেখছিলাম। তাই সে এমন করছিলো। জানি বেশিক্ষণ সে আমার উপর রাগ করে থাকতে পারেনা।সবাই সবার উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেনা। মিলার সাথে পরিচয় হওয়ার দিনটা আমার কখনোই ভূলার নই।ঐ দিন ছিলো আমার কলেজের প্রথম দিন।সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি আকাশ কিছুটা মেঘযুক্ত।বৃষ্টি আসতে পারে আবার নাও আসতে পারে। আমি ফ্রেশ হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তবে ছাতা নিলাম না। বাড়ি থেকে কলেজ বিশমিনিটের রাস্তা। ভাবলাম বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই চলে যাবো। বাড়ি থেকে কলেজ পর্যন্ত গেলাম,কোন বৃষ্টি নাই। গেইটের কাছাকাছি আসতেই ভারি বর্ষণ শুরুহলো।দৌড়ে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নাই।তাই দৌড় দিলাম না। প্রায় অনেকটা ভিজে গেলাম।হঠাৎ অনুভব করলাম।মাথার উপর কেউ কিছু একটা ধরেছে।ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি গোলাপি কালার ড্রেস পড়াহিত একটি মেয়ে ছাতা ধরে আছে। মেয়েটিকে কখনোই দেখিনি,বা চেনাও না আমার।যাই হোক সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মেয়েটি আমাকে একটি ছাদের তলায় দিয়ে গেলো। আমি হালকা ভেজা শরীর নিয়েই ক্লাস করতে গেলাম। ক্লাসে গিয়ে শেষমেশ সেই মেয়েটির সাথেই বসলাম। সেই কলেজের প্রথম দেখা, প্রথম পাশে বসা।ঠিক সেই ভাবে আজও তার পাশে বসা আমি। এইসব ভাবছি হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠলো।স্কিনে দেখি মিলার নাম্বার।রিসিভ করলাম। রিসিভ করতেই মিলার বান্ধবী যা বললো তা আমি কল্পনাই করতে পারিনি। মিলা হসপিটালে ভর্তি।মিলা নাকি অনেকগুলো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছে। মাথাটা তখন ঘুরে গেলো। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না! তখন ওর বান্ধবীর কাছ থেকে হসপিটালের ঠিকানা জেনে হসপিটালে গেলাম। মিলার বেডের ভিতর আমাকে দেখেই সবাই বাহির হয়ে গেলো! মিলার অবস্থা ভালো।আমাকে দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। তখন আমি একটু ভাবনিয়ে বললাম,,, ছেলে: দেখ মিলা তুই আমাকে ভালবাসিস ভালো কথা।কিন্তু কখনোই কি বলেছিস ভালবাসার কথা? মিলা মুখ না ঘুরিয়েই উত্তর,,,, মেয়ে: আমার বয়েই গেছে তোকে ভালবাসতে! ছেলে: সত্যি তো ভালবাসিস না? মেয়ে: হ্যা,বাসিনা! তাহলে আমার সাথে রাগ করে এসে ঘুমের এতগুলা ট্যাবলেট খেলি কেনো।তার মানে তুই আমাকে ভালোবাসিস? -আমার বয়েই গেছে তোকে ভালোবাসতে,আর আমি তোর সাথে রাগ করে ঘুমের ট্যাবলেট খাইনি।যা ভাগ! -সত্যিই কি চলে যাবো? -হ্যা,যা। -ওকে যাচ্ছি,মনে রাখিস আর আমাকে পাবিনা।তোর থেকে দূরে চলে যাবো।এই বলে দরজার দিকে পা বাড়াতেই মিলা আমার হাতটি ধরে ফেললো। -যাস না হামযা ,তুই চলে গেলে আমি বাঁচতে পারবোনা।তোকে যে আমি ভিষণ ভালোবাসি।তুই আমাকে কেনো বুঝিস না। জানিস না মেয়েরা কখনোই ভালোবাসার কথা বলতে পারেনা। জানিস তোর সাথে অন্য কোন মেয়েকে আমি দেখতে পারবোনা।আর তুই যখন ঐ মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলি সেটা আমি মানতে পারিনি।প্লিজ তুই আমাকে ছেড়ে যাসনা হামযা ! তাহলে আমি মরেই যাবো রে।এই কথা বলতেই আর গালে শুধু একটা চড় দিয়েছিলাম। আর কিছুই বলতে পারিনি।বলার ভাষা নেই। বেশি আনন্দে মানুষ নির্বাক হয়ে যায়।আমিও তাই হয়েছি। শুধু বলেছি,মরার কথা কখনোই মুখে আনবি না।তোকেও যে ভিষণ ভালবাসি।শুধু ভয় হতো যদি হারিয়ে যাস।তাই কখনোই বলিনি। -আমিও তুকে ভিষণ ভালোবাসি। অতঃপর তিন বছর পর ছেলেটা আর মিলা ছাদে বসে আঁকাশের চাঁদ দেখছে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুকে অনেক ভালোবাসি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now