বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুই জয়ী

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এ.বি.এম. সিদ্দিকী(guest) (০ পয়েন্ট)

X কথিত আছে যে ঘুমের মধ্যে আমরা যে কাল্পনিক বিষয় বস্তু দেখি তা নাকি স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে ভাল স্বপ্ন, যে গুলোকে অনেকে রঙিন স্বপ্ন বলে থাকেন। এ ধরনের স্বপ্ন দেখতে সবাই পছন্দ করে। আমিও মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি,কিন্তু আমার এবারের স্বপ্নটি ভাল না খারাপ তা নিজেই বিচার করতে পারছি না। আপনারা আমার স্বপ্নের বিবরণ শুনে বিচার করবেন, স্বপ্নটি কেমন ছিল? আমি একজন খাদ্য রসিক মানুষ। খাওয়া আমার কাছে সব কাজের মধ্যে সেরা কাজ বলে মনে হয়। আমি সব খাবার আবার খেতে পারিনা তবে আমি যে খাবার খেতে পছন্দ করি তা আমার মা-বাব আমাকে খেতে দিতে চান না। তারা বলে খেতে খেতে আমার শরীর নাকি বেশি ভারী হয়ে যাচ্ছে। একদিন রাতে আমার খাওটা ভাল হল না, কেননা খাদ্যগুলো ছিল আমার অপছন্দের। সেদিন রাতে আমি স্বপ্নে এমন এক রাজ্যে গেলাম যেখানে, সব ধরনের খাদ্য কথা বলতে পারে। তারা সবাই আমাকে ঘিরে ধরেছে। ভাত বলছে, "আপনি তো মানুষ সব কিছুই খেয়ে থাকেন, আপনি বিচার করবেন আমাদের মধ্যে কে মানুষের উপকার করেও মানুষের অপকার করে নিজেকে মানুষের চেয়ে ক্ষমতার অধিকারি "।আমি বললাম, "ঠিক আছে। সবাই আগে সবার বক্তব্য দাও "। স্যার আমি ভাত বলছি,"আমি পৃথিবীর অনেক দেশের প্রধান খাদ্য। আমি অন্যদের তুলনায় বেশি শর্করা দিয়ে থাকি। আপনি তো জানেন মানুষের রোগ প্রতিরোধ এর ক্ষমতা বাড়ায় শর্করা"। "কিন্তু তুমি তো মানুষ এর ক্ষতিও কর "। " জি,স্যার আপনার মত কিছু খাদক ধরনের কতিপয় মানুষ আছে যারা আমাকে আতিরিক্ত ভাবে গ্রহণ করেন। ফলে আমি না চাইলেও আপনার মত লোকেদের স্থূলতা বেড়ে যায়। এটা তাদের জীবনকে দুর্বিশহ করে ফেলে। অলসতার শীর্ষে আমি নিয়ে যাই।কিন্তু আমি যাই করিনা কেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় শর্করা আমি প্রদান করে থাকি। " স্যার অর কথা বাদ এবার আমার কথা শুনুন", আমি হলাম ভজ্য তেল। " চিন্তা কোথায় না থাকি যে কোনো শবজি সহ ইত্যাদি রন্না আমায় ছাড়া কল্পনা করা যায় না। এমন কি পিঠা বানাতে আমায় প্রয়োজন। এছাড়া আমার ভিতরে থাকে ভিটামিন"। "তুমি কি বলতে চাও তোমার খালি উপকার করার সামর্থ আছে, তুমি কোনো ক্ষতি করনা"। " ঠিক তা নয়,আপনারা আমাকে বাধ্য করেন আপনাদের ক্ষতি করতে। যখন আপনারা আমাকে বেশি ব্যবহার করেন,তখন আমি না চাইলেও, আমার ভিতর থাকা উপাদান গুলোকে চর্বি হিসাবে আপনাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় স্থান নিতে হয়"।ভজ্য তেলের কথা শুনে অর্ধেক খাদ্য ময়দান ফাঁকা করে চলে গেলো। " স্যার ও যদি এত উপকার করে, তাহলে আমি কিনা করি ভাবুন একবার"।তুমি কে? আমি হলাম পানি, "যাকে আপনার অনেক সময় জীবন বলে থাকেন। স্যার আমি হলাম সার্বজনীন দ্রাবক, সকালে ঘুম থেকে উঠে,প্রথম কাজ থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে সবাই এমন কাজ নেই যাতে ব্যবহার করে করেন না। শুধু তাই নয় আপনার দেহের সকল জৈবিক ক্রিয়া - বিক্রিয়া সচল রাখতে আমায় প্রয়োজন। আপনাদের কথিত আছে সকল খাবার ছাড়া দিন,মাস, বছর পার করা যায় কিন্তু পানি ছাড়া ৩ দিন চলে না। কিন্তু আপনারা যদি পরিবেশ নষ্ট না করতেন আমায় দূষিত না করতেন তাহলে এত রোগ আমি কখনো ছড়াতে দিতাম না। যে নদী পানি একসময় মানুষ পান করত, সেসব অনেক নদী আজ বিলুপ্ত বা কিছু বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তাহলে কিভাবে আমি আপনাদের অপকার না করে থাকতে পারি"। পানির কথা শুনে পুরো ময়দান আর্তনাদে ভোরে উঠল। কিন্তু দূর প্রান্ত থেকে একজন চিৎকার করে আর্তনাদ করতে করতে এসে সামনে দাড়াল। সে বলল, " স্যার আমি জ্বলন্ত সিগারেট বলছি আমার কথাটি একবার শুনুন, আমার কথা শুনলে আজ পুরুষ্কারটি আপনি আমাকেই দিয়ে যাবেন "। হ্যাঁ বল। " স্যার আপনার সামনে যারা এতক্ষণ বক্তব্য রাখল তারা আপনাদের কাছে সু-খাদ্য নামে পরিচিত। আর আমি কু-খাদ্য পরিচিত। সকল কু-খাদ্যের লিডার আমি।কারন আমাকে দিয়ে তৈরি হয় পথ চলা।সমস্ত সু-খাদ্য রা এতক্ষণ বয়ান দিল তারা ছিল প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি কিন্তু আমাকে তৈরি করেন আপনারা শুধু তাই নয়। আপনারা আমার গায়ে সিল মেরে দেন,আমি আপনাদের জন্য ক্ষতিকর। তবুও জিবিকার জন্য মানুষ হয়ে মানুষকে আপনারা সিগারেট দেন।সমস্ত কু-খাদ্য গোপনে খেলেও আমাকে ওপেনে খায়।আমার একটি শলকায় প্রায় চার হাজার উপাদান বিদ্যমান। এখানে উপস্থিত সবার মধ্যে কেউ বলতে পারবে তার ভিতর চার হাজার উপাদান বিদ্যমান। আমার শল্কার চার হাজার উপাদানের কিছু বিশেষ উপাদানের নাম আপনায় বলি নিকোটিন,মিথেন,অ্যামোনিয়া,কার্বন-মনোক্সাইড,হাইড্রজেন সায়নাইড ইত্যাদি। বাহ্যিক ভাবে এগুলো থেকে আপনারা সবসময় দূরে থাকতে চান।অনেকে এগুলো দেখে ভয়পান। কেননা এগুলো আপনাদের জন্য বিষ। কিন্তু আমার ক্ষমতা দেখেন আপনারা আমায় ভোগ করবেন,আমি ক্ষতি করব কিন্তু আপনাদের কাউকে টের পেতে দিয় না। আপনি কিছু কোমোন রোগের কথা জানেন।আমি আপনায় কিছু আনকোমোন ক্ষতি গুলো বলি শুনবেন?" হ্যাঁ বল। তোমার কথা গুলো বেশ ইন্টারেসটিং। " হা... হা... হা... স্যার দেখুন সৃষ্টিকর্তা আপনার শরীরের দামি অঙ্গানু গুলো পর্শুকা দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন কেন? যাতে বাইরের থেকে আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, কিন্তু আপনারা আমার আঘাত থেকে কখনো রক্ষাপাবেন না। ধাতু থেকে অধাতু হয়ে অর্থাৎ গ্যাস হয়ে আপনার দেহকে প্রদক্ষিণ করে উপাদানগুলোকে রেখে আসি। যাতে পরবর্তিতে কেউ এই জায়গা ঘুরতে পারে, আর আমাকে কষ্ট দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে পারে। স্যার আপনার যেই আগুন আমার গায়ে লাগান তা বেড়ে 710 ডিগ্রী তে আমার উপাদান গুলোকে পুড়িয়ে ফেলে। আপনি যেহেতু বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছেন, সেহেতু আপনি এনট্রপি এর কথা শুনেছেন। হ্যাঁ আমি এটা বাড়াতে সাহায্য করি।যা হোক এতক্ষণ আমার অপকারের কথা বললাম। এবার উপকারের কথায় আসি।আমার কাছে ধনী - গরীবের ব্যবধান শেষ হয়ে যায়। কারন আমি সবার সমান ক্ষতি করি। আমি ভ্রাতৃত্ব গড়তে সাহায্য করি।দেখবেন আমাকে পাওয়ার জন্য কতিপয় লোক, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বন্ডিং সু-দৃঢ় হয় মসজিদে যাওয়ার জন্য আহ্বান করলে সহযে যেতে চায় না তারা, কিন্তু আমার কথা বললে সবাই একজড় হয়।আমার সাথে নিজের ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় সবাইকে হার মানাতে হবে। এত কিছুর পরেও আমি আমার গায়ের লেখাটি সবাইকে বলতে চাই। বিদায় স্যার আমি এখানে জ্বলে, আপনার সামনে শেষ হয়ে গেলাম"। "আর কেউ কিছু বলে চাও?"। সবাই চুপ করে থাকে।তাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল, পৃথীবিতে যত ধিক্কার আছে তা আমাদের মানুষের জন্য। আমি বললাম,"সিগারেট তো শেষ হলো কিন্তু তার কথাগুলো ছিল অতন্ত্য যুক্তি সংগত। হ্যাঁ আমি স্বীকার করলাম তুমিই বিজেতা কিন্তু পুরুষ্কারটা তোমায় তুলে দিতে পারলাম না"।তখন বুকের ভিতর কোথায় যেন কেমন একটা অপরাধ বোধ অনুভব হলো তা বোঝাতে পারব না।তবে বলতে চাই তুই জয়ী। এ স্বপ্নটি আমি কখনো ভুলব না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুই জয়ী
→ তুই জয়ী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now