বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ততক্ষণে বৃষ্টির ছুটি হয়েছে

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সেদিন হালকা বৃষ্টি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অষ্টম দিন। কলা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার প্রতিক্ষা করছিলাম। মৃদু কণ্ঠে সুনীলবাবুর ‘কেউ কথা রাখেনি’ আওড়াচ্ছিলাম। জানি না কেমন জানি মনটা উদাস ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে একটা নারী কণ্ঠের আওয়াজ এলো। বলল, কতক্ষণ যাবৎ আপনাকে ডাকছি, কানে শোনেন না? আমি তো পুরো ভ্যাবাচেকা। কারণ যা দেখলাম, তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। দেখছি একজন অতিসুন্দরী ললনা আমার সামনে কাকভেজা আর কর্দমাক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাঁ হাতে ব্যাগ আর ডান হাতে ছাতা, মুখে অজস্র অভিমান। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় ললনাটি আমার সম্মুখে। সাত-পাঁচ ভাবতেই ললনার কথায় মনোযোগ দিলাম। ললনা বলল, অদ্ভুত লোক তো আপনি! আপনাকে বললাম, ব্যাগটা ধরেন একটু; আর আপনি গাধার মতো হাসছেন! আমি ব্যাগটা ধরে বললাম, গাধাও হাসে নাকি? ললনা বলল, একদম চুপ। আপনি কি মানুষ? তারপর ব্যাগটা নিয়ে হনহনিয়ে চলে গেল। আমিও চলে গেলাম অন্য দিকে। ততক্ষণে বৃষ্টির ছুটি হয়েছে। ও হ্যাঁ, আমি মুগ্ধ। আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের স্মৃতিগুলো খুব আনন্দদায়ক। জীবন চলছিল ভালোই। বন্ধু আড্ডা, বড়দের আদর—সব মিলিয়ে জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু সুখের দিন কি আর বেশি দিন থাকে? একদিন ফেসবুকে লগ ইন করে দেখি একটা ফিমেল আইডি থেকে রিকোয়েস্ট এসেছে। মন খারাপ থাকার কারণে অ্যাড না করে বের হয়ে যাই। পরের দিন ক্লাসের জন্য প্রস্তুত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। যথানিয়মে ক্লাসে যাচ্ছিলাম, কেউ একজনের ডাক শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি, একজন অতিশয় ভদ্রমহিলা মানে ললনা ডাকছে। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না, কাকে ডাকছে! তো একবার তাকিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছিলাম। পেছনের রমণী অতর্কিত সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি প্রতিবন্ধী? আমি, জি না। ভাব দেখান? আমি বললাম, দেখেন, এবার বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। কে আপনি? ওমা! বাবু দেখি কানাবাবা। বললাম, মানে? ও দিন দেখেও আজ মনে নেই? বলি, কোন দিন? বাদ দেন। আমি অদ্রি। বললাম, আসি। ক্লাসে লেট হয়ে যাচ্ছে। অদ্রি ভদ্র মেয়ের মতো রাস্তা ছেড়ে দাঁড়াল আর আমি তাড়াতাড়ি স্থান ত্যাগ করলাম ক্লাসের উদ্দেশে। কিন্তু ক্লাসে বসে মেয়েটার অদ্ভুত আচরণের কথা মনে হতে লাগল। আবার হালকা পরিচিত মনে হলো। তখন হুট করে মনে পড়ল, আরে, এটা তো ওই মেয়েটা, যে চিৎপটাং হয়েছিল সে দিন। হাসছিলাম নিজের মতো করে। তখন পাশে বসা হিয়া বলল, কিরে, হাসছিস কেন? স্যার তোকে দেখছে। সম্বিত ফিরে পেয়ে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। অদ্রিকে ভুলতে পারছিলাম না। কেমন একটা মায়া আছে ওর চোখে। খুবই সাধারণ। গোল মুখ, চোখ যেন সমুদ্রের মতো বিশাল, নাকটা বোঁচা অনেকটা জাপানিজদের মতো। পরে যদিও ওর বোঁচা নাক নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। ক্লাস শেষ করে চা খেতে যাচ্ছিলাম স্টলে। গিয়ে দেখি জায়গাটা একটু গরম, মানে কিছু একটা হয়েছে। একজন মাথা নিচু করে কাঁদছে। একটা মেয়ে। ভালো করে লক্ষ করতেই দেখলাম, অদ্রি। ঘটনা যা শুনলাম তা হলো অদ্রিকে র‌্যাগ দেওয়া হয়েছে। আমারও মনটা খারাপ হলো। চা না খেয়ে রুমে চলে এলাম। তার পরের দিন অদ্রিকে অনেক খুঁজেও পেলাম না। ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ছাত্রী। ওর ডিপার্টমেন্টে খুঁজেও পেলাম না। কেমন জানি লাগছিল, হয়তো ওর প্রতি কিছু একটা ফিল করছিলাম। অদ্রি অনেক দিন থেকেই ক্লাসে আসে না। ওকে কোথায় খুঁজব ভেবে পাচ্ছিলাম না। মন খারাপ করে ফেসবুক লগইন করে ভালো করে সব চেক করতে গিয়ে দেখি যে মেয়েটা রিকোয়েস্ট দিয়েছিল সেটা অদ্রি। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাড দিয়ে দেখি অনেক টেক্সট। অনেক কিছুই লেখা। কিন্তু যে বিষয়টা পড়ে সবচেয়ে মর্মাহত হয়েছি সেটা হলো, অদ্রির বাবা মারা গেছেন কিছুদিন আগে। বাবা মারা যাওয়ার সাত দিন পরই ভাই আর ভাবি মিলে অদ্রিকে বিয়ে দিয়ে দেয়। অদ্রি আমাকে পছন্দ করত। আমিও হয়তো ওর কোনো কিছুর মায়ায় আটকে গেছি। সব সময় ওর কথা মনে হয়। ভালো লাগে ভাবতে অদ্রিকে নিয়ে। এটা কি ভালোবাসা? হয়তো! আমি থাকলে হয়তো অদ্রিকে নিয়ে স্বপ্ন সাজাতাম। পড়াশোনা হতো ওর। এই আমি মুগ্ধ। ভালোবাসাকে ভালোবেসে বেঁচে থাকব আজীবন। এইচ এস রাজন, ঢাকা ফেসবুক থেকে পাওয়া সূত্র:- কালের কন্ঠ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ততক্ষণে বৃষ্টির ছুটি হয়েছে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now