বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

।।ত্রিপুরা সুন্দরি।। লেখক- রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসে আমার পাতার তৈরি ছোট্টখাট্টো বাড়িটি উড়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে! আমি যে গাছে বাস করি তার পাশের বৃদ্ধা আম গাছটি বাওলা বাতাসে ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ! আম গাছের মুকুল বাওলা বাতাসে ঝরে পরছে! পাহাড়ের গায়ে মেঘেরা খেলা করছে। যেকোনো মুহূর্তে বর্ষণ শুরু হতে পারে! আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি ! কত সহস্র বৎসর ধরে! কখন আসবে সে? আমাকে কী মুক্তি দিবে সে? আচ্ছা প্রাণীরা আকারে যত ছোট্ট তাদের মনটাও কী ততক্ষাণি ছোট্ট? তাদের অনুভূতিগুলোও কী ছোট্ট? মন খারাপই পারে! বৈশাখ আসন্ন তাই হয়তো বাওলা বাতাস বৈশাখের আগমনবার্তা নিয়ে এসেছে! কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে হয়তো উড়ে উড়ে বিদায় নিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্ত! ঝুম শব্দে মেঘ বেদ করে বৃষ্টি নেমে এসেছে পাহাড়ের গায়ে! অদ্ভুত বর্ষণ শুরু করেছে বৃষ্টি! বাতাসের শব্দের সাথে বৃষ্টির শব্দ একটি অদ্ভুত সুরের সৃষ্টি করেছে ঝড়বৃষ্টি! আমার প্রতিবেশি বৃদ্ধা আম গাছটি ভেঙ্গে পাহাড়ের গভীর অন্ধাকার গিরিখাতে হারিয়ে যাচ্ছে! ঝড়বৃষ্টির শব্দের কাছে আম গাছটির কান্নার শব্দ ম্লান! এভাবে আর কতদিন গোপনে কাঁদবে বৃক্ষরাজি! আম গাছটির ডালে বাসা বাধা পাখিগুলো উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে নিরাপদ স্থানে! পাখিগুলোর ছোট্ট তিনদিন বয়সি বাচ্চাগুলো গাছের সাথে সাথে অন্ধকার গিরিখাতে হারিয়ে গেছে! প্রকৃতি নিজের ক্ষত নিজে সারিয়ে দেয়! আচ্ছা প্রকৃতি কী পাখিগুলোর মনের ক্ষত সারিয়ে দিতে পারবে! আচ্ছা পাখিদের মন বলে কী কিছু আছে? যার যার মত করে ভালো থাকা যদি যেত! তাহলে হয়তো আমার মনেও কোন ক্ষত থাকতো না আজ! কারো মনে হয়তো কোন ক্ষত থাকতো না! প্রকৃতির উপরে যাওয়ার বৃথা চেষ্টা হয়তো তখন আমি আর করতাম না! কারণে অকারণে আমরা প্রকৃতিকে বশ করার চেষ্টা করি! কিন্তু আমরা ভূলে যায় আমাদের ভিতরে যত জ্ঞান সবই প্রকৃতির দান! আমি প্রকৃতিকে বশ করার বৃথা চেষ্টা করেছিলাম! প্রকৃতি কখনও কী আমাকে ক্ষমা করবে না? আমার মনটা আজও দ্বিধায় পুড়ে যায়! দেবীর সুন্দর্য হরণ করে থাকে বন্ধি করার বৃথা চেষ্টা আমি করেছিলাম! ত্রিপুরা সুন্দরী নামের মেয়েটির জন্য মনটা আজও এত পাগলামো করে কেন! থাকে কী সত্যিই আমি ভালোবাসতাম? আজও ত্রিপুরা সুন্দরি সৌন্দর্যরূপ কল্পনা করার বৃথা চেষ্টা করি! দেবীর সৌন্দর্যরূপ আমার কল্পনার রাজ্য ধরা দেয় না। আমার প্রকৃতির সৌন্দর্যরূপকে বশ করার বৃথা চেষ্টার ফলে আমার পুরো সভ্যতা আজ ধ্বংস! আমার পোষা প্রাণীটির কথা খুব মনে পড়ে ইউনিকর্ণ! আমার সভ্যতা ও বর্তমানে কাল্পনিক! ইউনিকর্ণও আজ কাল্পনিক প্রাণী! আমার সভ্যতা এবং ইউনিকর্ণ বিলুপ্তির জন্য ত একমাত্র আমি দায়ী! আমি আজ দিগভ্রান্ত! পাহাড়ের মেঘবতীর মায়াবী মায়াই জরিয়ে সমতলে আর ফিরে যাওয়া হল না! পাঁচ হাজার বছর আগে আমি মহেন্দ্রনগরীর রাজা ছিলাম! আমার নাম ত্রিপুণ্ড্রক কুমার! আমার সাম্রাজ্য ছিল তৎকালীন সময়ের প্রভাবশালী শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যা অন্যতম! মহাবীর আলেকজেন্ডার সমগ্র পৃথিবী জয় করেছিল এটি ভূল ধারণা! আলেকজেন্ডার আমার রাজ্যর কাছে পরাজিত হয়েছিল। আমার রাজ্য এত ধনসম্পদ ছিল যে আমি এবং আমার রাজ্যর প্রতিটি প্রজা খুব অহংকারী হয়ে গিয়েছিলাম! প্রকৃতিকে টেক্কা দেওয়ার নেশায় আমি তখন ছিলাম মত্ত! একদিন আমি শিকারের উদ্দেশ্য বিশাল বহর নিয়ে আমার পোষা ইউনিকর্ণের পিঠে চরে মহেন্দ্রনগরী ছেড়ে পাহাড়ি এলাকায় চলে যায়। পথিমধ্যে এক জলপ্রপাতে স্নান করার সময় পৃথিবীর সৌন্দর্যরূপের দেবী ত্রিপুরা সুন্দরীকে দেখি। তার প্রণয়ে পরে যায়। আমি ত্রিপুরা সুন্দরিকে প্রণয়ের প্রস্তাব দিলাম। কিন্তু দেবী ত্রিপুরা সুন্দরি আমার প্রণয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়! অহংকারী আমি দেবীর সুন্দর্য হরণ করে থাকে বন্ধি করার বৃথা চেষ্টা করি! ছোয়া যাবে না জেনেও তবু আমি হাতটি বাড়িয়েছিলাম! প্রকৃতি আমার উপর রুষ্ট হয়ে আমার সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দেয়! আমার সাম্রাজ্য পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরকালের জন্য মুছে দেয়! পৃথিবীর ইতিহাসে আমার কোন অস্তিত্ব রাখেনি প্রকৃতি! দেবীর অভিশাপে আমার দেহ নিকৃষ্ট পোকায় পরিণিত হয়! শত-হাজার বছর! সময় বয়ে যায়! সময়ের স্রোতোবহে আমার অহংকার, সাম্রাজ্য, জৌলুশ ও সব বয়ে গেছে!!! (কাল্পনিক)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ।।ত্রিপুরা সুন্দরি।। লেখক- রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now