বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দেখেছিস মিমু কি সুন্দর প্লান মতো কোন ঝামেলা ছাড়াই বিয়েটা হয়ে গেল! . কি বলতেছে ও! কিসের প্লান? বিয়ে হওয়ার কথা বিয়ে হল এখানে আবার কিসের প্লান? তাও আবার অনুর বিয়েতে! অদ্ভুত সব কথা বার্তা! আজ অনুর হল কাল আমারও হবে। ভাল পাত্র হাতে ছিল, ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, ভাল মাইনে পায় বাবা মা ওর সুখের কথা ভেবেই তো বিয়ে দিল। সাভাবিক। এখানে প্লানের কি হল কিছুই বুঝতেছি না! . -কিসের প্লান! -এই যে অনুর বিয়েটা কি রকম চট জলদি হয়ে গেল না! মেয়ে বড় হয়েছে বাবা মার চোখে তা ধরিয়ে দিলাম আর হয়ে বিয়েটা। ব্যাস হয়ে গেল বিয়েটা! . মানে কি! মনির সব কথাই আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে কিছুই তো বুঝতেছি না! মেয়েটা কি বলতে চাইতেছে? যদি এমনটাই হয় তাহলে অর স্বার্থটাই বা কি? . -একটু খুলে বলবি! -কথা খুব অল্প। ও আমার নিরবকে আমার কাছ থেকে নিতে চেয়েছিল। ব্যাস ওর বিয়েটা করিয়ে দিলাম। কেমন দিলাম বল তো! . কথাটা শুনার পর কান কে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে ও কি বলল? সত্যিই একদম প্রস্তুত ছিলাম না। মনিও নিরব কে চায়? . আমার আশেপাশে মনে হয় সবই চলতেছিল চলার মত কেবল আমিই থমকেই ছিলাম হয়তো! কতক্ষণ ছিলাম আমি নিজেও জানি না! শুধু মাথায় একটা কথাই ঘুরতেছিল কি শুনলাম আমি? কি শুনলাম? কোন মতে বাড়ি ফিরতে পেরেছিলাম। সারাটা রাত নিরবের মত ঘুমটাও হাত ছানি দিচ্ছিল। কেন এমনটা হল! ওপরওয়ালা কেন আমার সাথেই এমনটা করে বারবার? আমিই কেন সব সময় হারাবো সব কিছু? কেন? . বুকের ভেতর চাপা কষ্টটা নতুন করে ভর করে ওঠল। এত দিন জানতাম অনু নিরবকে চায়। কিন্তু নতুন করে মনিও যে চায় তা জানতাম না! কেন যেন মনে হচ্ছে আমি নিরব কে চির তরে হারিয়ে ফেললাম। ও আর আমার হবে না! . মনি ক্লাসের সবথেকে সুন্দরিদের মধ্যে একজন। ওর আগে পেছনে কত ছেলে ঘুরাঘুরি করে আর সেখানে যদি আজ ও নিরবকে মনের কথা বলে সেইটা নিরব অবস্যই গ্রহণ করবে। এখানে কোন ভুল নেই। কেনই বা করবে না! মনি কত ফর্সা আর আমার গায়ের রংটা চাপা। সেখানে কেন নিরব ভালটা রেখে খারাপটা গ্রহণ করবে? কেনই বা আমার সাথে মনের মিল করবে? . ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখলাম মাঠের এক কোনায় নিরব আর মনি বসে আছে। অন্য দিন আমরা চার জন থাকতাম। কিন্তু কাপলদের এরিয়াতে না। আজ কেবল মনি আর নিরব একাই আছে। হয়তো মনি তার মনের কথা বলে দিবে আজ আর নয় বলেও ফেলেছে এতক্ষণে। ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল নিরব সত্যিই অন্য কারও হয়ে গেল! আমি কিচ্ছু করতে পারলাম না! ছি! . এক পলকের জন্যও স্থির থাকতে পারলাম না। নিরব অন্য কারও হয়ে গেছে অন্যের হাত ধরে চলবে আর আমায় তা চোখের সামনে দেখতে হবে! এখানে আর থাকা যাবে না। এক পলকের জন্যও না। . সপ্তাহ খানেক ক্যাম্পাসে যাওয়া হল না। এর মাঝে নিরবকে নিয়ে অনেকবার কান্না করেছি। কিন্তু এভাবে চলে না দিন কাল। নিরবকে ভুলে থাকতে হবে আমাকে। শক্ত হতে হবে আমাকে। . ফোনটা বিছানার এক কোণায় বেজে চলেছে অনেক্ষণ ধরে। সে দিকে আমার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এ কয় দিনে মনি ফোন দেয়নি একবারও। হয়তো ওই দিছে। দিতে থাকুক না ওর মত যে আমার কাছ থেকে আমার সব কেরে নিয়েছে তার ফোন কেনই বা পিক করব। দিতে থাকুক না। . শীতের মধ্যে কোম্বলটা আগা গুরা মুরিয়ে শুয়ে রইলাম আরও কিছুক্ষণ। কিন্তু শুখটা আম্মুর সহ্য হল না। ডাকাডাকি শুরু . -এই মিম আর কত ঘুমাবি! -যাও তো তুমি একা থাকতে দাও আমায়। জ্বালাইয়ো না! . পরের ডাকগুলায় আর কোন উত্তর দিলাম না। কারণ সকালের ভক বক একদম ভাল লাগে না। নিজেরা ওঠছে তাই আরেকজনকেও ওঠাতে হবে। নাহ সে শীতে কষ্ট করতেছে এখন আমাকেও করাতে চায়। অফফ... ভাল লাগে না... যত্তসব! . -এরকমটা করে না মা শরীর খারাপ করবে! ওঠ মা! -থাক আন্টি আমি না হয় কাল আসবো! -আরেহ বাবা তুমি তো আসলেই কেবল আর এখনি চলে যাবা এইটা কেমন কথা! -না আন্টি অসুবিধা নেই -কি বল তুমি আসছ প্রথম দিন আর মুখে কিছুই না দিয়ে চলে যাবা কেমন দেখায় না! -আরে না না আন্টি অন্য একদিন আসবো সেইদিন পেট ভরে খেয়ে যাব। আজ আসি আন্টি -মিম যে কি করে না মেয়েটা! মিম! এই মিম! . কেবল ভেতর থেকে শুনতেছিলাম কথাগুলো। নিরবের কথা শুনার সাথে সাথেই দরজার কাছে আসছি ঠিকই কিন্তু খুলি নি। কেবল কথা গুলো শুনে যাচ্ছিলাম। কিন্তু একটু আগে যাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করছিলাম সেই নিরব এসেছে আমার বাসায়! নিরব! ভাবতেই ভেতরটায় অন্যরকম লাগতেছে। কিন্তু চলে যাবে কেন! আমি কি যেতে বলেছি? না যেতে দেওয়া যাবে না! দরজাটা খুলে দিলাম- . -হাই! -হাই! . চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম কেবল . -ভাল আছো? -হুম... ভেতরে এসো . মনটা খুশিতে ছিল যতটা কিন্তু নিরবকে দেখার পর আবার খারাপ হয়ে গেল। কারন হল মনি! তবে একটা কথা মাথায় যাচ্ছে না নিরবের এখানে আসার মানে কি? আমাকে দাওয়াত দিতে আসছে! বলতে আসছে ওরা এখন কাপল, আর সেই আনন্দের পার্টিতে যেন আমি যাই! হেহ আমার ঠেক্কা... জীবনেও যাব না! . নিরব এদিক ওদিক সব তাকিয়ে দেখতেছে। ওকে যে বসতে বলছি তা অর মাথায়ই নাই! এমন করে দেখার কি হল! আমি কি ভিন গ্রহে থাকি নাকি যে আমার রোম এরকম করে দেখতে হবে? মানলাম গুছিয়ে রাখতে পারি না তাই এরকম করে দেখার মানে আছে কোন! আজব! . -আমি কিন্তু বসতে বলছি -হুম...! ও হ্যা বসতেছি -আগে বস -সেইটা বাদ দাও আগে বল তুমি নিজেকে কারাবদ্ধ করে রেখেছ কেন? . কারাবদ্ধ! মানে কি? ও কি জানে না কেন আছি এরকম করে? অবস্য তার তো এসবের খবর রেখেই কি আর না রেখেই কি তার তো কিছু যায় আসে না। মানিরে রাইখা এখানে আসছে আর এসে উদ্ভট সব প্রশ্ন! . -এমনি! -হুম বুঝলাম -কি? -না কিছু না . কিছুক্ষণ নিরবতা। মন বলতেছে একবার মনের কথাটা বলে দেই! মনি আছে তো কি! ওকে ভালবাসে বাসুক সেখান থেকে কি আমায় একটু দিলে কি খুব অসুবিধা হবে? . আবার অন্য মন বলে দেয় 'মিম কি ভাবছিস এসব তুই? নিরব তো এখন অন্য কারও! কেন তুই ওদের ভালবাসায় বেঘাত ঘটাবি? কেন অন্যের ভালবাসাকে মারবি?' সেইদিন তো দেখলাম ওরা কি সুন্দর হাশি খুশি। এইটা ঠিক হবে না . -আমি তো কিছু বলতেছি তাই নয় কি! . নিরবের কথায় হুস ফিরে পেলাম। কিন্তু ও কি বলেছে কিছুই তো শুনি নি! উত্তর? . -জানি না -তাই বলে টানা এতদিন? আজকের পরীক্ষাও তো দিলে না! -আজ পরীক্ষা ছিল! . কথাটি শুনে নিরব মনে হয় কিছুটা অবাক হল। আমি নিজেই ওকে পরীক্ষার রুটিনটা দিয়েছিলাম আর আমিই ওকে বলতেছি যে আজ পরীক্ষা ছিল! আমি নিজেও জানি না কি বলে ফেলেছি। পরে মনে হল আসলে আমি কি বলেছি . -এমনিই মন ভাল না তাই দেই নি . এইদিন ওদের একসাথে দেখার পর থেকে আর নিজেকে সামলাতে পারি নি। তাই চলে এসেছিলাম। এরপর কেবল গোসল খাওয়া আর ঘুম। এই তিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আম্মু অনেকবার বের হতে বলেছে যে বিকেল বেলা অন্তত ছাদে যা একবার! কিন্তু কে শুনে কার কথা . -সেইদিন যা দেখেছিলে সব ভুল ছিল! . ভুল ছিল! কি ভুল ছিল? ও কি বলতে চাইছে? ওর আর মনির এক হতে দেখাটা কি ভুল ছিল! না অন্য কিছু? . -ঠিক বুঝলাম না! -সেইদিন তুমি আমাদের দেখেছিলে ঠিকই কিন্তু আমাদের মাঝে অন্য বুঝাপরাটা হয়েছিল তার কিছুক্ষণ বাদে . ও কিছু একটা বলতে চায় ওর চোখ বলে দিচ্ছে যা ও অনেক দিন ধরেই নিজের মাঝে লুকিয়ে রেখেছে। অনেক দিন ধরে। কিন্তু কি? আমার মন যা বলছে তা হলে কি তাই! . -কি বলতে চাও খুলে বল? -আমি মনিকে ভালবাসি না! . ভালবাসে না? সত্যিই কি ভালবাসে না? . -তাহলে! -আমি অন্য কাওকে ভালবাসি . ও মনিকে ভালবাসে না কথাটা শুনে মনটা যতটা খুশি হয়েছিলাম কিন্তু পরের কথাটা আবার ছোট করে দিল। মনের ভেতর ভয়টা আবার ফিরে আসলো। মনিকে ভালবাসে না! তাহলে কাকে বাসে? . -কে সে? ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ভয়ে আর দিধায় বললাম -আছে একজন! . কিছুটা চুপ থেকে নিরব ওঠে দারালো। কয়েক কদম হাটার পর আমার সামনে এসে হাত দুটো ধরে বসল . -হ্যা আছে। সে হচ্ছে আমার স্পেসাল ওয়ান! সে কে জানো? সে হল মিম! . কথাটা বলে ও মাথাটা নিচু করে রাখল। একটু পর আবার বলল . -যার চোখ দুটো না চাইলেও সব কিছু বলে দেয়। চাইলেও যার কাছ থেকে দূরে থাকতে পারি না! জানো! তার কাছে থাকলে মনে হয় আমার সব আছে আর দূরে গেলে মনে হয় বাম পাশের হারটা কোথাও যেন রেখে আসলাম! জানি না সে আমায় ভালবাসে কি না! ভালবাসলে সে আমায় কাছে টানবে কি না! . ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম কেবল। কিন্তু কিছু বলতে পারতেছিলাম না। বুঝতেছিলাম না কি বলবো আর কি বলা উচিত। কেবল অনুভব করতে পারতেছিলাম ওকে ছাড়া আর থাকা সম্ভব না। কখনই না! . (The End) (কিছুটা বানান ভুল থাকবে। কোন ভুল হলে ছোট ভাই হিসেবে ক্ষমার চোখে দেখবেন।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now