বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★★ ত্রি-চক্রযান★
.
.
ক্লাস ফাইভের পিএসসি পরীক্ষায় পিচ্চি ভাগ্নেটা A+
পেয়েছে। একমাত্র মামার একমাত্র ভাগ্নে
হিসেবে এই সাফল্যে আমার পক্ষ থেকে তার
একটা উপহার অবশ্যই প্রাপ্য! আমার প্রতিটি পরীক্ষার
সাফল্যে বড় আপুর কাছ থেকে গিফট পেতাম, তার
প্রতিদান হিসেবে হলেও পিচ্চি ভাগ্নে রাফি কে কিছু
একটা দেওয়া দরকার আমার!
কি দিব ভাবতে ভাবতেই যখন মাইক্রোস্পোরাম
ছত্রাক আক্রমণ না করা সত্ত্বেও মাথা থেকে চুল
ঝরে পড়ছিল তখনই ভাগ্নে নিজ থেকে আবদার
নিয়ে হাজির!
-"মামা আমার একটা ত্রি চক্রযান চাই!"
আবদার শুনে আমি তো অবাক! ত্রি চক্রযান!!
একেই বলে মামার বাড়ীর আবদার! তাই বলে উপহার
হিসেবে রিকশা চাইবে??
জিজ্ঞেস করলাম, "ভাগ্নে তুই কি ত্রি চক্রযান কি
জিনিস চিনোস??"
- "না, বইয়ে পড়েছি! ওটাতে চড়ে নাকি ঘুরে
বেড়ানো যায়!"
ভাগ্নেকে বোঝালাম ত্রি চক্রযানের বদলে
তাকে একটা দ্বি চক্রযান কিনে দেব, ওটাতে
চড়েও ঘুরে বেড়ানো যাবে!
কিন্তু ভাগ্নে আমার হাড়ে হাড়ে চালাক!
দ্বি মানে দুই আর ত্রি মানে তিন এটা সে বেশ
ভালোভাবেই বুঝে!
দুইয়ের চেয়ে তিন বেশী, তাই ভাগ্নে আমার দ্বি
চক্রযান কিনে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল!
ভাবল আমি তাকে ঠকাতে চাচ্ছি!
পুরো একটি দিন কেটে গেলো আমার
ভাগ্নেকে সাইকেল (দ্বি চক্রযান) আর রিকশা (ত্রি
চক্রযান)'র পার্থক্য বোঝাতে!
কিন্তু কে শোনে কার কথা, ভাগ্নের ত্রি চক্রযানই
চাই! রিকশা আর ত্রি চক্রযান এক জিনিস এটা মানতে
নারাজ সে!
মহা ফ্যাসাদে পড়া গেল! টাকা পয়সারও একটা ব্যাপার
আছে!
একটা সাইকেলের চেয়ে একটা রিকশার দাম
কয়েকগুণ বেশী হবে।
কপাল খারাপ, এই মূহুর্তে পকেট পুরো ফাঁকা! হাতে
একটা পয়সাও নাই, প্রতিদিন বিকেলে বন্ধুদের
আড্ডায় যাওয়ার সময় মায়ের কাছে হাত পাততে হয়
টাকার জন্য!
আমার ব্যক্তিগত এইরকম আর্থিক অভাব অনটনের
মধ্যে ভাগ্নেকে রিকশা কিনে দেওয়া আমার কাছে
হাতি কিনে দেওয়ার মতো ব্যয়বহুল! কিন্তু আবদার
পূরণ করতে না পারলে ফেঁসে যাবো আমি!
এত টাকা কোথায় পাবো ভেবে পাচ্ছিনা! নীলার
কাছে চাইবো কিছু?
ওহ হ্যাঁ, নীলা আমার একমাত্র গার্লফ্রেন্ড, প্রথম
ও একমাত্র ভালবাসা।
একবার ছাদে বসে নীলার সাথে ফোনে কথা
বলার সময় লুকিয়ে শুনে ফেলছিল ভাগ্নে রাফি!
সেই থেকে আমি রাফির অনুগত! অনেকগুলো
চকলেট ঘুষ দিয়ে সেবারের মতো মুখ বন্ধ
করেছিলাম ওর। কিন্তু এরপর সুযোগ পেলেই রাফি
নীলার ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে,
আম্মুকে বলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওর চাওয়া
গুলো আদায় করে নেয় আমার কাছ থেকে!
এবারো ত্রি চক্রযান কিনে না দিলে ব্ল্যাকমেইল
করবে নিঃসন্দেহে!
নাহ, নীলার কাছ থেকে টাকা চাওয়া ঠিক হবেনা!
অবশেষে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিনেই
ফেললাম ত্রি চক্রযান একটা!
.
মেডিকেল কলেজে ক্লাশ শুরু হতে আরো মাস
খানেক বাকী। ভাগ্নে আর রিকশা নিয়ে বেশ
কেটে যাচ্ছিল দিন। প্রতিদিন বিকেলবেলা রাফিকে
নিয়ে রিকশায় করে গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতাম।
বিপত্তিটা বাধলো এর পরেই!
রাফি বায়না ধরল ওকে ত্রি চক্রযানটায় চড়িয়ে আমাকে
ওর নতুন স্কুলে দিয়ে আসতে হবে একদিন!
তাতে কোন সমস্যা না, আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়!
স্কুল এন্ড কলেজ টাইপের ওই ইনস্টিটিউট টায়
পড়ে নীলাও! রিকশাওয়ালা সেজে রাফিকে ওখানে
পৌঁছে দেওয়ার সময় নীলা একবার দেখে
ফেললেই শেষ!
কপালে অনেক দুঃখ থাকবে তখন!
কিন্তু রাফির আবদার প্রত্যাখান করারও উপায় নেই
আমার!
অবশেষে পরের রোববার দুপুরবেলা ডে
শিফটের স্টুডেন্ট ভাগ্নে রাফিকে রিকশায় চড়িয়ে
রওয়ানা হলাম ওর স্কুলের দিকে!
রাফি চেয়েছিলো আমি যেন পুরোপুরি রিকশাওয়ালা
সেজে যাই!
লুঙ্গি পড়তে বলেছিল আমাকে, কিন্তু পড়তে পারিনা
বলে কোনমতে ট্রাউজার পড়ে বেরিয়ে পড়লাম!
কোত্থেকে একটা গামছা এনে রাফি আমার কাঁধে
ঝুলিয়ে দিল!
গামছা ছাড়া নাকি রিকশাওয়ালা হওয়া যায়না!
চমত্কার থিওরি!
গামছা সাথে থাকায় অবশ্য একটা সুবিধা হলো, স্কুলের
কাছাকাছি এসে গামছাটা মুখে পেঁচিয়ে নিলাম!
নীলা দেখলেও চিনতে পারবেনা এখন! তাছাড়া
আরো কত্ত ছেলেমেয়ে থাকবে ওখানে,
প্রেস্টিজেরও একটা ব্যাপার স্যাপার আছে!
রাফিকে স্কুল গেইটে নামিয়ে দিয়ে ফেরার জন্য
ত্রি চক্রযান ঘুরিয়ে নিতেই শুনতে পেলাম সেই
পরিচিত কণ্ঠটা!
একেই বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই
সন্ধ্যা হয়!
নীলার কণ্ঠ!
- "এই মামা, যাবেন??"
কি করব বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে রইলাম, বুদ্ধিটা
গুলিয়ে না গেলে তখনই জোরে রিকশা চালিয়ে
পালিয়ে আসতে পারতাম!
কিন্তু ততক্ষণে নীলা রিকশায় উঠে বসল!
- "যাবেন??"
আবারো একই প্রশ্ন!
উঁহু, কথা বলা যাবেনা! কথা বললেই ধরা পড়ে যাবো!
এখন আমাকে বোবার অভিনয় করতে হবে! মুখে
গামছা পেঁচানো থাকায় সুবিধাই হলো!
নীলার দিকে না তাকিয়েই ইশারায় তাকে বুঝাতে
চেষ্টা করলাম যে যাবো!
নীলা বোধহয় বুঝতে পারলো আমি কথা বলতে
পারিনা। ঠিকানাটা বলে ভাব নিয়ে বসে থাকল রিকশায়!
অবশ্য ঠিকানা না বললেও চলতো, আমিতো ওর বাসা
চিনি!
শেষে কিনা ভবিষ্যত ডাক্তার থেকে একজন
রিকশাওয়ালা!!
এক রাফির পাল্লায় পড়ে আজ এই দশা আমার!
কোন মতে রিকশা চালিয়ে নীলাদের বাসার
গেটে এসে থামলাম!
মনটা উসখুস করছিল এত কাছে থেকেও একটিবার
প্রিয়তমার সাথে কথা বলতে না পারায়! কিন্তু বললে
তো বিপদ!
রিকশা থেকে নামলো নীলা, আমি অন্যদিকে মুখ
করে দাঁড়িয়ে রইলাম!
খেয়াল করলাম পার্স থেকে চকচকে একটা বিশ
টাকার নোট বের করেছে নীলা, কিছু না বলে
আমার দিকে এগিয়ে ধরল!
আহা পরিস্থিতি!
টাকা নিতে আত্মসম্মানে বাঁধছিল, কিন্তু না নিয়েও
উপায় নেই!
ইতঃস্তত করছিলাম, নীলা তাড়া দিলো, " কি হলো,
নেন!!"
অবশেষে মুখ অন্যদিকে ঘুরানো রেখেই ডান
হাতটি বাড়িয়ে দিলাম!
নীলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো আমার
হাতের দিকে! এইরে বিপদ!
তারপর আমার ভয়টাকে সত্যিতে পরিণত
করে নীলা বলো উঠলো,
- "এই তোমার হাতটা চেনা চেনা
লাগছে যে!! মুখটা ফিরাও তো একটু
এদিকে!"
ব্যাস, ধরা পড়ে গেছি, মুখ ফিরালাম!
- "গামছা সরাও মুখ থেকে!"
আদেশ মান্য করলাম!
মুখ থেকে গামছা সরাতেই বিস্ময়ে
একটু পিছিয়ে গেল নীলা, তারপর ওর
মুখখানা যতটুকু হা হয়ে গেল তাতে
গোটা দুয়েক মিষ্টি একসাথে ঢুকিয়
দেওয়া যাবে!
বোকার মতে দাঁত দেখিয়ে একটা হাসি
দিলাম আমি!
বিস্মিত নীলা এখনো আমার দিকে
তাকিয়ে আছে!
বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই বলে উঠলো,
- "নীরব, তুমি!?!"
- "হুম!"
মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম!
- "তুমি রিকশা চালাও??"
- "না মানে. . ."
- "ছিঃ তুমি না আমাকে বলছিলে তুমি
মেডিকেল স্টুডেন্ট??"
- "আসলে. . . "
কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু
কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না!
- "বুঝেছি আর বলতে হবে না! লজ্জ্বা
হচ্ছে আমার আমি একটা মিথ্যেবাদীকে
ভালোবেসেছি! কেন, তুমি রিকশা
চালাও সেটা বললে কি আমি তোমাকে
ভালোবাসতাম না??"
নীলার এক্সপ্রেশন দেখে আমার মুখ
থেকে ভাষা উধাও!
- "যাও তোমার সাথে আমার ব্রেকআপ,
এটা তোমার মিথ্যে বলার শাস্তি!"
এই বলে চকচকে বিশ টাকার নোটটা
আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে হন হন করে
বাড়ীর গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল
নীলা!
আমি নির্বাক তাকিয়ে থাকলাম!
নিঃসন্দেহে সত্যি ঘটনা কি সেটা
নীলাকে বুঝিয়ে বলতে আজকের বাকী
দিনটা কেটে যাবে!
শুনে সে খুব করে হাসবে জানি, তার
হাসিমাখা মুখটা কল্পনায় এনে নিজেও
বেশ একচোট হেসে নিলাম!
আমার পরিশ্রমের প্রথম উপার্জিত বিশ
টাকার নোটটা পায়ের কাছে পড়ে
আছে, নোটটার দিকে তাকিয়ে মনে
হলো ওটা আমার দিকে তাকিয়ে
বিদ্রুপের হাসি হাসছে!
পরম যত্নে টাকাটা তুলে নিয়ে বুক
পকেটে রাখলাম, ওটাতে যে নীলার
স্পর্শ লেগে আছে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now