বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ট্রেনের কামড়া

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:ভৌতিক MH2[HRIDOY] কলকতা থেকে অফিসের একটা জরুরি কাজে আমায় কলকাতা থেকে আসাম যাওয়ার দরকার, জরুরি একটা কাজ আছে সেখানে।কীসে করে যাওয়া যায়।ভবছি।ছোট সময় রেলগাড়ি দিয়ে একবার নানাবাড়ি গিয়েছিলাম,অনেক ভালো লেগেছিল। এবারও তাহলে না হয় রেলগাড়ি দিয়েই যাওয়া হোক। যথাসময়ে রেলস্টেষনে আসলাম।এটাই মনে হয় আজকের শেষ ট্রেন।কারণ অনেক রাত হয়েছে।ছোট সময় রাতের রাতের ট্রেনে করেই গিয়েছিলাম।তাই আজকেও রাতের ট্রেনে আসা।সেবার অবশ্য বাবা মা আর ভাইয়া সঙ্গে ছিল।তখন কতো দুষ্টুমি করতাম।আর তখনকার আমি আর এখনকার আমির মাঝে রাত দিনের ফারাক।এখন আর আগের মতো হাসিখুশি বা দুষ্টু নই। বয়স ২৫ ছাড়ানোর পর নাকি সব পুরুষই গম্ভীর হতে শুরু করে।আমিও তেমন হয়েছি।এখন প্রচন্ড রকমের ইন্ট্রোভার্ট আমি।কোলাহল,মানুষের সঙ্গ,বা আড্ডা দেওয়া আমার কাছে সবচেয়ে বড় রকমের বিরক্তিকর কাজ।তাই মানুষের কোলাহলে যেন না পরতে হয় তা রাতের ট্রেনে আসার আরেকটি মুখ্য কারণ। টিকেট কাউন্টারে গেলাম।কাউন্টারের লোকটা চোখ বুজে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা কে জানে।আমি ডাকলাম,,, "কাকা,জেগে আছেন না ঘুমিয়ে পড়েছেন???" লোকটা ধরফর করে উঠল,হয়তো ভেবেছিল কোনো অফিসার বুঝি তাকে ডাকছেন,নিজের দায়িত্ব রেখে ঘুমাচ্ছেন বলে ধমক দেবেন।চোখে খোলে আমায় দেখে সেই চমকে যাওয়া ভাব চলে গেল,বরং খানিকটা তুচ্ছ ভাব আসল।এইসব লোকেরা মূলত বেশি ভাব দেখায়।আমায় বলল, "কী চাই??? এভাবে ডাকলেন কেন???" আমার শরীরে অফিসিয়াল পোষাক ছিল বলেই আপনি করে বলল,না হলে হয়তো তুই করেই বলত।হায়!!! আজও পোষাক দিয়ে মানুষের মূল্য বিবেচনা করা হয়। আমি বললাম, "টিকেট কাটতে এসেছি,আসামেরর গৌহাটি যাব।ট্রেন আছে??? টিকেট পাওয়া যাবে???" "হ্যা,শেষ ট্রেনটা আছে,আধঘন্টা পর আসবে।টিকেট দিব???" "খালি কামড়া পাওয়া যাবে??? লোকজনের ভিড় ছাড়া???" "কেন??? নেশা টেশা করবেন নাকি??? ট্রেনে এসব করা আইন বিরুধী,মনে রাখবেন।" "না,আমি আসলে মানুষের ভিড় পছন্দ করি না।তাই খালি কামড়া দরকার।পাওয়া যাবে???" "হ্যা,একটা কামড়া সবসময় খালি যায়।কেউ উঠে না,ওইটা চলবে???" "হ্যা,চলবে।টিকিট দিন" টিকিট কেটে চলে আসলাম।প্লাটফর্মের একটা বেঞ্চে বসে আছি।অপেক্ষার সময় কাটতে চায় না,তাই মোবাইল বের করে ফেসবুক চালাতে লাগলাম।দেখলাম অজিত ভাইয়া অনলাইনে আছে।অজিত ভাইয়া আমার বড় ভাইয়া।ওনাকে বললাম লিখে বললাম যে ট্রেনে করে যাচ্ছি আসাম।ওনি তখন শৈশবের সে স্মৃতি আবার তোলে ধরলেন।ভাইয়ার সাথে কথা বলতে বলতে ট্রেন এসে গেল।আমিও কামড়াটা খুঁজে উঠে পড়লাম।দেখলাম কেউ নেই।এমন কামড়াই তো আমার চাই।আমার সিটটায় বসে পড়লাম।পাঁচ মিনিটের মাঝেই ট্রেন স্টার্ট নিল,আর তখনই একটা লোক লাফিয়ে কামড়ায় উঠল।আমার তখন টিকিট কাউন্টারের লোকটার উপর রাগ উঠল।বলেছিলাম ফাকা কামড়ার কথা, আর ও কিনা আমায় ঠকালো। লোকটা এসে আমার পাশের সিটে বসল।আমি বললাম, "আপনার সিটে গিয়ে বসুন,আমার পাশে বসার কী হলো???" "টিকিট দেখুন এটাই আমার সিট।" টিকিট দেখলাম, "হ্যা,এটাই তো আপনার সিট।কিন্তু কাউন্টারের লোকটা তো বলেছিল এই কামড়ায় আর কাওকে দিবে না।" "কাউন্টারের লোকরা এমনই করে।" আমি আর কথা বললাম না,মোবাইল মনোযোগ দিলাম।ভাইয়ার সাথে কথা বলছি মেসেঞ্জারে।লোকটা বারবার কথা বলে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে।অন্যসময় হলে হয়তো এতক্ষনে রেগে গিয়ে লোকটাকে থাপ্পড়ই মারতাম। কিন্তু আজ কী হলো জানি না,কিছুই করতে পারলাম না।হঠাৎ করেই ভাইয়া অনলাইন থেকে চলে গেল,ওকে অফলাইনে দেখাচ্ছে।এমন তো কখনও হয় না,অন্তত আল্লাহ হাফেজ বলে ও বিদায় নেয়।এভাবে কখনও অফলাইনে যায় না।পাশের লোকটা বলল, "এখন তো আপনার ভাই ও অফলাইনে।চলুন না,একসাথে কথা বলি।" "আমি কথা বলতে বা কোলাহল পছন্দ করি না,প্লিজ আপনি চুপ করুন" "বুঝেছি আপনি ইন্ট্রোভার্ট,আমিও একসময় এমন ছিলাম।এখনও তো আমি ইন্ট্রোভার্ট হয়ে গেছি।" এতো কথা বলে বকবক করে চলাকে কেউ ইন্ট্রোভার্র বলে জানতাম না।লোকটা কি পাগল নাকি।আবার বলে উঠল লোকটা,,, "মনে হয় আমার সাথে কথা বলতে চান না,আচ্ছা বলতে হবে না।জানেন এই কামড়ায় কেন মানুষ উঠতে চায় না???" " না তো,কেন উঠে না???" "একটা ঘটনা আছে, একদম সত্য।শুনতে থাকুন।" "আচ্ছা,বলুন" "একসময় এই লাইন দিয়ে এই ট্রেনটা যখন যেত তখন প্রচুর ডাকাতি হতো মাঝ পথে।ডাকাতরা প্রায়ই লোকদের লুটতরাজ করে মেরে ফেলে দিত।তেমনি একদিন,এই কামড়ায় একটা আমার বয়সী তরুন উঠেছিল।প্রচন্ড ইন্ট্রোভার্ট তো, তাই একলা এই কামড়ায় উঠেছিল নাকি।মাঝপথে ডাকাতি শুরু হলো, ডাকতরা ছেলেটাকে মেরে ফেলল।তারপর থেকে নাকি এই কামড়ায় ওই ছেলেটাকে দেখা যায়,যারাই এই কামড়ায় একা উঠে,পরে নাকি তাদের লাশকে গড়াগড়ি করতে দেখা যায়।তাই কেউ উঠে না। " "মজা করছেন আমার সাথে???অনেকক্ষণ ধরেই তো বগিতে বসে আছি,কই ওই ছেলেটাকে দেখি নি তো।আর আমি ভূতে বিশ্বাস করি না।" "ভূত আছে,কেন আপনি দেখেন নি???" "না কখনও দেখি নি,আর কই ওই ছেলের ভূত।নির্ঘাত গুল মারছেন আমার সাথে বা গাল গল্প করছেন।" "আমি কোনো গালগল্প করছি না।কারণ সেই ছেলেটিই আমি।" সমাপ্ত [আমার লেখা নতুন ভূতের গল্প এটা।কেমন লাগল কমেন্ট করে জানাবেন।ভুল ত্রুটি নজরে আসলে বলবেন] বি.দ্র.: অনেকটা সময় এবং শ্রম দিয়ে গল্প লিখি,দয়া করে কপি করবেন না। আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ট্রেনের কামড়ায় অচেনা সেই লোক
→ ট্রেনের কামড়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now