বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ত্রাতিনা – দ্বিতীয় পর্ব(2.3) (ষোল বছর পর)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★mAhIrA★ (০ পয়েন্ট)

X ২.৩ ক্যাম্পাসে দুপুর বেলা ট্রলিতে করে নানা ধরনের খাবার নিয়ে আসা হয়। ছাত্রছাত্রীরা সেই খাবার নিয়ে ক্যাম্পাসের খোলা জায়গায় বসে গল্পগুজব করতে করতে খায়। আজকেও ত্রাতিনা খাবারের প্যাকেট নিয়ে কিহি এবং আরো কয়েকজনের সাথে খেতে বসেছে। দক্ষিণ অঞ্চলের খাবার, তুলনামূলকভাবে ঝাল বেশি, খেতে খেতে ত্রাতিনা আহা উঁহু করছে তখন অনেক দূর থেকে সে চাপা এক ধরনের গুম গুম শব্দ শুনতে পেলো। একটু অবাক হয়ে ত্রাতিনা বলল, “কিসের শব্দ?” কিহি বলল, “আকাশ তো পরিষ্কার। মেঘের ডাক তো হতে পারে না।” তখন ত্রাতিনা বহু দূরে এক সাথে অনেকগুলো বাইভার্বালকে আসতে দেখলো। এর আগে সে কখনো একসাথে এতোগুলো বাইভার্বালকে উড়তে দেখেনি। ত্রাতিনা বলল, “দেখেছো কতগুলো বাইভার্বাল একসাথে?” সবাই দেখলো। কিহি বলল, “কোথায় যাচ্ছে কে জানে।” খেতে খেতে সবাই তাকিয়ে থাকে এবং একটু অবাক হয়ে দেখলো বাইভার্বালগুলো শক্তিশালী ইঞ্জিনের গর্জন করে ঠিক তাদের ক্যাম্পাসের উপর এসে থেমে গেল। একটা বড় বাইভার্বাল মাটি থেকে এক মিটারের কাছাকাছি নেমে এলো। সেটার দরজা খুলে সেনাবাহিনীর পোশাক পরে থাকা অনেকগুলো সশস্ত্র মানুষ লাফিয়ে নেমে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ল। ত্রাতিনা ফিসফিস করে বলল, “সর্বনাশ! মনে হচ্ছে, আমাদের আক্রমণ করবে।” কিহি বলল, “না, আক্রমণ করবে না। মনে হয়, সামরিক বাহিনীর বড় কোনো অফিসার এসেছে। এরা তার বডিগার্ড।” কিহির ধারণা সত্যি। কয়েকটা বাইভার্বাল থেকে সামরিক পোশাক পরে থাকা মানুষগুলো নেমে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশাল একটা বাইভার্বাল তাদের কাছাকাছি এসে থামল। নিচে একটা অংশ খুলে যাবার পর সেখান থেকে একটা সিঁড়ি বের হয়ে আসে এবং সিঁড়ি দিয়ে সামরিক পোশাক পরে থাকা একজন ছোটখাটো মানুষ নেমে এলো! কিহি চাপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “এটি কে?” একজন ফিসফিস করে বলল, “সামরিক বাহিনীর প্রধান। কমান্ডার লী।” ত্রাতিনা চমকে উঠল এবং সাথে সাথে সে বুঝে গেল, তার চিঠি পেয়ে কমান্ডার লী সরাসরি তার সাথে দেখা করতে চলে এসেছে। কী আশ্চর্য! কিহি চাপা গলায় বলল, “কমান্ডার লী আমাদের ক্যাম্পাসে কেন এসেছে?” ত্রাতিনা বলল, “মনে হয় আমার সাথে দেখা করতে।” কথাটাকে একটা কৌতুক মনে করে কিহি হেসে উঠতে যাচ্ছিল। কিন্তু সে হাসি থামিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কারণ দেখতে পেল, কমান্ডার লী সরাসরি তাদের দিকে হেঁটে আসছে। ত্রাতিনার সামনে এসে কমান্ডার লী থেমে গেল। তার দিকে তাকিয়ে বলল, “ত্রাতিনা?” ত্রাতিনা খাবারের প্যাকেটটা নিচে রেখে দাঁড়িয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমি ত্রাতিনা।” কমান্ডার লী তার হাত দুটো দুই পাশে ছড়িয়ে বলল, “মা, আমি কি তোমাকে একবার আলিঙ্গন করতে পারি?” ত্রাতিনা কোনো কথা না বলে দুই পা এগিয়ে যায়। কমান্ডার লী গভীর ভালোবাসায় তাকে আলিঙ্গন করে। তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে, “তুমি কি জান তোমার মা পৃথিবীর সাত বিলিয়ন মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে?” ত্রাতিনা বলল, “না জানি না।” কী কারণ কে জানে, ত্রাতিনার চোখ পানিতে ভিজে এলো। কমান্ডার লী ত্রাতিনাকে শক্ত করে ধরে রেখে ফিসফিস করে বলল, “পৃথিবীর মানুষের কাছে তোমার মায়ের কথা বলার সময় এখনো আসেনি। সারা পৃথিবীতে এখন আমরা মাত্র অল্প কয়জন সেটি জানি।” ত্রাতিনা ফিসফিস করে বলল, “কখনো কী সেই সময় আসবে?” কমান্ডার লী বলল, “আমরা আশা করছি আসবে। বিষয়টি অনেক জটিল। আমি তোমাকে একদিন সবকিছু বলব।” “ধন্যবাদ কমান্ডার লী।” কমান্ডার লী ত্রাতিনাকে ছেড়ে দিয়ে ঘুরে যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবে তার বিশাল বাইভার্বালের দিকে হাঁটতে শুরু করে। বিশাল বাইভার্বালটি থেকে একটা সিঁড়ি নেমে এলো, কমান্ডার লী সেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল। গোলাকার দরজাটি বন্ধ হয়ে গেল এবং দেখতে দেখতে সবগুলো বাইভার্বাল গর্জন করে উপরে উঠে যায়। তারপর ঘুরে যেদিক থেকে এসেছিল, সেদিকে উড়ে যেতে থাকে। বাইভার্বালগুলো চোখের আড়াল হয়ে যাবার পর সবাই ত্রাতিনার দিকে ঘুরে তাকালো। তারা তাদের চোখের সামনে যেটা দেখেছে, সেটা বিশ্বাস করতে পারছে না। কেউ সাহস করে কিছু জিজ্ঞেস করতেও পারছে না। ত্রাতিনা তার খাবারের প্যাকেটটা তুলে নিয়ে যেন কিছুই হয়নি সেরকম ভঙ্গি করে খেতে শুরু করে। কিহি সাহস করে জিজ্ঞেস করল, “কমান্ডার লী তোমার কাছে কেন এসেছিল?” “আমি তাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। চিঠিটা পড়ে উত্তর না দিয়ে সরাসরি চলে এসেছে।” “কী লিখেছিলে চিঠিতে?” “এই তো-ব্যক্তিগত কথা।” “কমান্ডার লী তোমার কানে ফিসফিস করে কিছু বলেছে। কী বলেছে?” ত্রাতিনা খুবই শান্ত ভঙ্গিতে বলল, “বলেছে আমার চিঠিতে কয়েকটা বানান ভুল ছিল। শুদ্ধ বানানগুলো কী হবে সেটা বলে দিয়েছে।” কিহি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে ত্রাতিনার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করছ, তাই না?” ত্রাতিনা মাথা নাড়ল। হাসি হাসি মুখে বলল, “তুমি সঠিক অনুমান করেছ কিহি।” “কেন তুমি ঠাট্টা করছ?” “কারণ আসলে যে কথাটি বলেছে, সেটা অনেক কম বিশ্বাসযোগ্য! তোমাদেরকে বলা হলে তোমরা কেউ বিশ্বাস করবে না।” পাশে বসে থাকা একটি মেয়ে কাছে এসে বলল, “আমি কী তোমার সাথে একটা ছবি তুলতে পারি?” ত্রাতিনা হেসে বলল, “কেন পারবে না! শুধু সেই মেয়েটি নয়, আরো অনেকেই তখন তার সাথে ছবি তুললো। . কমান্ডার লী ত্রাতিনাকে কথা দিয়েছিল যে, তার মায়ের পুরো ব্যাপারটি অনেক জটিল। কোনো একদিন তাকে সবকিছু বলবে। কখন বলবে, সে অনুমান করতে পারছিল না। কিন্তু সপ্তাহ শেষ হবার আগেই তার সাথে কমান্ডার লীয়ের দেখা হলো। এবারে দেখা হলো সবার অগোচরে।। ছুটির দিনগুলোতে ত্রাতিনা মিউজিয়ামগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। তার বয়সী ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগই কখনো মিউজিয়ামে সময় কাটাতে চায় না। তাই প্রায় সময়েই সে একা একা ঘোরে। সে যখন একটি প্রাচীন ছবির সামনে খানিকটা বিস্ময় এবং অনেকখানি অবিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন হঠাৎ শুনতে পেলো একজন তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “ত্রাতিনা?” ত্রাতিনা ঘুরে তাকালো। মধ্যবয়স্ক সাদাসিধে চেহারার একজন মানুষ।। তাকে আগে কখনো দেখেছে বলে তার মনে পড়ল না। মানুষটি মাথাটা আরেকটু নিচু করে বলল, “কমান্ডার লী আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছে। তোমার যদি সেরকম ব্যস্ততা না থাকে, তাহলে তোমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেছে।” ত্রাতিনা একটু চমকে উঠল। বলল, “না, মিউজিয়ামে ছবি দেখার মাঝে কোনো ব্যস্ততা নেই।” “চমৎকার। চল তাহলে।” ত্রাতিনা মানুষটির সাথে বের হলো। মিউজিয়ামের গেটে দাঁড়ানোর সাথে সাথে উপর থেকে একটা সাদামাটা বাইভার্বাল নিচে নেমে এলো। মানুষটির সাথে বাইভার্বালটিতে উঠে ত্রাতিনা অবাক হয়ে যায়। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু ভেতরে বাইভার্বালটি চমকপ্রদ। এক কথায় অসাধারণ। ত্রাতিনা অবাক হয়ে বলল, “কী সুন্দর।” “হ্যাঁ। তোমাকে নেয়ার জন্যে কমান্ডার লী এই বাইভার্বালটি পাঠিয়েছে। তুমি কে আমি জানি না, কিন্তু কমান্ডার লী তোমাকে খুব স্নেহ করে। তার কাছে তুমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” ত্রাতিনা কী বলবে বুঝতে পারল না। ইতস্তত করে বলল, “কমান্ডার লীয়ের মতো একজন মানুষের স্নেহ পাওয়া খুব সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি নিশ্চয়ই খুব সৌভাগ্যবান।” মানুষটি একটুখানি হাসার ভঙ্গি করে বলল, “আসলে সৌভাগ্যের ব্যাপারটি কিন্তু কখনো বিনা কারণে ঘটে না। সৌভাগ্যের কারণ থাকে!” মানুষটি তখন ত্রাতিনার ইনস্টিটিউট নিয়ে হালকা ভদ্রতার কথা বলতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মাঝেই তারা সেনাবাহিনীর বড় কমপ্লেক্সে ঢুকে যায়। ত্রাতিনা জীবনেও কল্পনা করেনি সে কখনো এখানে আসতে পারবে। বাইভার্বাল থেকে নেমে চওড়া সিঁড়ি দিয়ে ত্রাতিনা মানুষটির পিছু পিছু বড় একটা দালানে ঢুকে যায়। কয়েকটা করিডোর পার হয়ে তারা বড় একটা হলঘরে পৌঁছাল। হলঘরের ঠিক মাঝখানে একটি বড় টেবিলে সোনালী চুলের হাসিখুশি একজন মহিলা বসেছিল। ত্রাতিনাকে দেখে খুশি হওয়ার ভঙ্গি করে বলল, “তুমি নিশ্চয়ই ত্রাতিনা। এসো আমার সাথে। কমান্ডার লী তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে।” সাদাসিধে চেহারার মানুষটি ত্রাতিনার দিকে হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে বের হয়ে গেল। ত্রাতিনা সোনালী চুলের হাসিখুশি মহিলার পিছু পিছু হলঘরের শেষ মাথায় একটা বড় দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে মাথা ঢুকিয়ে বলল, “কমান্ডার লী, তোমার অতিথি চলে এসেছে।” কমান্ডার লী জানালার কাছে দাঁড়িয়েছিল। মহিলার গলায় স্বর শুনে মাথা ঘুরিয়ে তাকালো। ত্রাতিনাকে দেখে আনন্দের ভঙ্গি করে দুই হাত তুলে এগিয়ে এলো। বলল, “এসো ত্রাতিনা। এসো। আসতে কোনো অসুবিধে হয়নি তো?” ত্রাতিনা বলল, “না কোনো অসুবিধে হয়নি। বাইভার্বালটি খুবই সুন্দর ছিল।” কমান্ডার লী বলল, “এর থেকেও সুন্দর বাইভার্বাল আছে। কোনো এক জোছনা রাতে তোমাকে নিয়ে বের হবো। দেখবে তোমার ভালো লাগবে।” “ধন্যবাদ কমান্ডার লী।” “তুমি কী খাবে বল।” “আমি খেয়ে এসেছি। কিছু খাব না।” “কিছু একটা খাও। আমাদের এখানে খুব ভালো উত্তেজক পানীয় তৈরি করে। খেলে মনে হবে বয়স দশ বছর কমে গেছে।” ত্রাতিনা বলল, “আমার বয়স ষোলো, দশ বছর কমে গেলে একেবারে নাবালক হয়ে যাব।” কমান্ডার লী হা হা করে হাসল। বলল, “এটা একটা কথার কথা। আক্ষরিকভাবে নিও না।” কমান্ডার লী কোনো একটা বোতামে চাপ দিয়ে পানীয়ের কথা বলে দিল এবং প্রায় সাথে সাথেই সোনালী চুলের মহিলাটি দু’টি সুন্দর গ্লাসে করে হালকা সবুজ রংয়ের এক ধরনের পানীয় নিয়ে এল। টেবিলে গ্লাস দুটো রেখে বলল, “আর কিছু লাগবে কমান্ডার লী?” “না আর কিছু লাগবে না।” “উত্তর অঞ্চলের বাদামী বাদাম আছে।” ”ধন্যবাদ কিকি। লাগবে না।” “তাহলে মিষ্টি জাতীয় কিছু? দক্ষিণের ফার্মেন্ট করা মিষ্টি।” কমান্ডার লী ধৈর্য ধরে বলল, “লাগবে না। তুমি এবারে যেতে পার। কিকি।” “আমি ভেবেছিলাম তোমার কমবয়সী অতিথিকে তুমি আরো একটু বেশি আপ্যায়ন করবে।” কমান্ডার লী বলল, “আমার মনে হয় যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু আপ্যায়ন করা হয়েছে। তাছাড়া শুধু মাত্র খাবার দিয়ে আপ্যায়ন হয় না। আপ্যায়নের আরো অনেক পদ্ধতি আছে। তুমি আস্তে আস্তে শিখবে।” সোনালী চুলের মহিলাটি বলল, “আমি আস্তে আস্তে নয়, আমি দ্রুত শিখতে চাই।” “ঠিক আছে, আমি তোমার কোম্পানীকে সেভাবে রিপোর্ট করব।” সোনালী চুলের মহিলাটি ঘর থেকে বের হওয়ায় পর কমান্ডার লী হতাশভাবে মাথা নাড়ল। বলল, “তুমি দেখেছ, এর সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু তারপরও কী যেন ঠিক নেই। “একটু বেশি আগ্রহী–” “মানুষ আগ্রহী হলে সমস্যা নেই। রবোট বেশি আগ্রহী হলে সমস্যা।” ত্রাতিনা অবাক হয়ে বলল, “এই মহিলাটি রবোট?” “হ্যাঁ। পরীক্ষামূলক রবোট। আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে দিয়েছে।” ত্রাতিনা অবাক হয়ে বলল, “কী আশ্চর্য! আমি শুনেছিলাম মানুষের চেহারার রবোট তৈরি করা বেআইনী।” “তুমি ঠিকই শুনেছ। কিন্তু আমাদের কিছু দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অভিযান করতে হবে। সেখানে মহাকাশচারীদের সঙ্গী হিসেবে মানুষের মতো রবোট দেয়া যায় কি না, সেটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা হচ্ছে। সেজন্য এই রবোটগুলো তৈরি হয়েছে।” ত্রাতিনা বলল, “কী আশ্চর্য! আমি দেখে একেবারেই বুঝতে পারিনি।” হি হি করে হেসে বলল, “ভেবেছি মহিলাটি একটু বেশি কথা বলে!” কমান্ডার লী পানীয়ের গ্লাসটি হাতে তুলে নিয়ে বলল, “নাও, পানীয়টি এক চুমুক খেয়ে দেখো।” ত্রাতিনা পানীয়টিতে চুমুক দিয়েই বুঝতে পারে, কমান্ডার লী আসলেই ভুল বলেনি। সত্যি সত্যি পানীয়টি এক চুমুক খেতেই তার মনে হলো সারা শরীরে বুঝি এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। ত্রাতিনা হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে ঠোঁট দুটো মুছে বলল, “কমান্ডার লী, তুমি বলেছিলে আমাকে তুমি আমার মায়ের কথা বলবে।” “হ্যাঁ। বলব। সে জন্যে আজ তোমাকে আমি ডেকে এনেছি। কিন্তু তার আগে আমাকে একটা ছোট আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে। আমাকে একজনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।” “তুমি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তুমি কার কাছ থেকে অনুমতি নেবে?” “বিজ্ঞান একাডেমির মহাপরিচালক রিহার কাছ থেকে।” ত্রাতিনা চমকে উঠল, “মহামান্য রিহা?” “হ্যাঁ।” “তুমি তাকে দেখেছ?” কমান্ডার লী হাসল। বলল, “দেখেছি। অনেকবার দেখেছি। তুমিও দেখবে। মহামান্য রিহা তোমার সাথে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।” ত্রাতিনা প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, “আমার সাথে?” “হ্যাঁ। তোমার সাথে। চল, আমরা যাই।” হলঘরের ভেতর দিয়ে যাবার সময় রবোট মহিলাটি বলল, “কমান্ডার লী, আমার মনে হয় এই মেয়েটিকে প্রয়োজনের থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে তোমার বেসামরিক কিশোর কিশোরীকে এতো গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই। অন্য কেউ সেই দায়িত্বটি পালন করতে পারবে।” কমান্ডার লী বলল, “কিকি, তুমি এখন একটু বিশ্রাম নাও। মনে হয়, তোমার কপোট্রন উত্তপ্ত হয়ে আছে।” গল্প লিখেছেন : মুহম্মদ জাফর ইকবাল


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ত্রাতিনা – দ্বিতীয় পর্ব(2.3) (ষোল বছর পর)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now