বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
,
,
,
---এই শোনছো......?
---ঘুমের মানুষ কি শুনতে পারে?
---ঘুমের মানুষ কি কথা বলতে পারে?
---আহ যাও তো, ঘুমাতে দাও।
---...অ্যাই উঠনা।
---না উঠবো না। তুমি যাও।
---উঠ বলছি।
---বলছি এখন উঠবো না। যাও তুমি।
---ঐ ট্রাফিক পুলিশের বাপের বাচ্চা
উঠবি কি না বল? নাহলে দিলাম গোসল
করিয়ে।
---আমি উঠবো না। তুমি যা পারো
করো। বিছানা ভিজলে তোমারই কষ্ট
হবে।
---ঐ ঘুষখোর পুলিশ উঠ বলছি।
“ঘুষখোর” শব্দটা শুনে লাফ দিয়ে
উঠলাম। আমার এতদিনের চাকরী
জীবনে এক টাকাও ঘুষ নেইনি। আর এই
মেয়ে আমাকে ঘুষখোর বলছে। যদিও
আমার চাকরীর বয়স মাত্র ৮ মাস।
কিন্তু তাই বলে নিজের বউই যদি এ
কথা বলে, তাহলে মান সম্মান সব
সাহারা মরুভূমির বালিতে মিশে
যেতে আর বাকী কই?
---ঐ কি বললা তুমি? আমি ঘুষখোর?
---হ্যা। ঘুষখোর।
---আমার চাকরী জীবনে আজ পর্যন্ত
একটা টাকাও ঘুষ নেই নাই। আর তুমি
আমার মতো একটা নিষ্পাপ মানুষরে
ঘুষখোর বললা। তাও আবার আমার আপন
বউ হইয়া।
---ওলে বাবালে... আমার নিষ্পাপ
স্বামী দেখি আবার রাগ করে।
---রাগ করবো না তো কি করবো? তুমি
আমারে মিথ্যা অপবাদ দিলা ক্যান?
---আচ্ছা স্যরি। আর আমি জানি তো
আমার স্বামী শুধু টাকা কেন? একটা
দিনার, রুপি, রুবল কিংবা ডলারও
নেয়নি। সে একদম পাক্কা ইমানদার।
---হুম। আর তুমি সেই ইমানদার
পুলিশটাকে ঘুষখোর বলেছো।
---বললাম তো স্যরি। আর বলবো না।
---ঠিক তো?
---হুম ঠিক। এবার ফ্রেশ হয়ে নাস্তা
করতে এসো। ডিউটিতে যেতে হবে না?
---আচ্ছা, যাচ্ছি।
এতক্ষনে নিশ্চই আপনাদের বুঝতে
বাকি নেই, যে কথোপোকথন গুলো
কাদের মাঝে হচ্ছিলো। হ্যা আমি আর
আমার বউ অবন্তিকা কথা বলছিলাম।
চলুন আমি ফ্রেশ হতে হতে
আপনাদেরকে আমার আর অবন্তিকার
প্রেমকাহিনি শোনাই।
,
,
---এই যে ভাইয়া শোনেন।
---হ্যা বলুন।
---আচ্ছা, এই পাশের গাড়িগুলো একটু
ছেড়ে দেয়া যায় না? আসলে আমার
পরিক্ষা শুরু হতে আর মাত্র পনের
মিনিট বাকী আছে।
---আইঅ্যাম স্যরি। আমি কিছুই করতে
পারছি না। সময় হলেই সিগন্যাল
পড়বে। আপনাকে সিগন্যাল পড়ার আগ
পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
---প্লিজ ভাইয়া দেখেন না একটু কিছু
করতে পারেন কিনা। আসলে আমার
আজকের পরিক্ষাটা খুব গুরুত্বপূর্ন। আর
একটু লেট হলেই ম্যাডাম পরিক্ষা
দিতে দিবে না।
---আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখছি।
এরপর আমি স্যারের সাথে কথা বলে
ব্রীজ থেকে চড়পাড়া যাওয়ার
রাস্তাটা খুলে দেয়ার ব্যাবস্থা
করলাম। গাড়িগুলো একে একে পশ্চিম
দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।
মেয়েটাও মিষ্টি একটা হাসির
মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানালো। আসলে
ট্রাফিকে থাকার সুবিধাই হলো এটা।
যখন যার সাহায্য দরকার তাকে
সাহায্য করা যায়। আর এসকল ছোট
ছোট কাজের মাধ্যমেই আনন্দ পাওয়া
যায়।
,
,
বিকেল হয়ে গেছে গাড়ির চাপ এখন
একটু কম। আমি আমার জায়গায় আমার
এক সহকর্মীকে রেখে পাশেই একটা
দোকানে বসে বিশ্রাম করছিলা।
হঠাতই একটা মেয়ে কন্ঠ ভেসে
আসলো.........
---ধন্যবাদ আকাশ সাহেব।
---ধন্য্যবাদ কেন? আর আমার নাম
আপনি জানলেন কি করে?
---আপনার নামটা আপনার নেমপ্লেটেই
দেয়া আছে। আর তখন সাহায্য করার
জন্য ধন্যবাদ।
---ও ঠিক আছে।
---কি ঠিক আছে?
---না কিছু না। আপনার পরিক্ষা কেমন
হলো?
---ভালো। বলা যায় আপনার জন্যই
ভালো হইছে। আর একটু দেরি হলেই
পরিক্ষাটা মিস করতাম। আপনি তো
জানেন না, তানমিনা খুব খারাপ
একটা মহিলা।
---আমার জন্য মানে? আর এই
তানমিনাটা আবার কে?
---সব কথা কি দাড়িয়ে বলবো? নাকি
বসতে বলবেন?
---হুম বসুন। এবার বলুন তানমিনা
কাহিনি।
---তানমিনা ম্যাডাম খুব বজ্জাত
মহিলা।
---এত বড় হয়েও স্কুলের বাচ্চাদের
মতো ম্যডামের দোষ দিচ্ছেন।
---সব ম্যাডামের না শুধু কামচোরা
তানমিনা ম্যাডামের।
---কাম চোরা মানে?
---আরে বলবেন না। নিজে তো ক্লাস
করায়ই না। খালি অ্যাসাইনমেন্ট
দিয়া দেয়.........
অতঃপর তিনি তার তানমিনা
ম্যাডামের গুণকীর্তন করতে লাগলেন।
আমিও শুনতে লাগলাম। উনার মুখ
থেকে শুনতে খারাপ লাগছিলো না।
কিন্তু বেশিক্ষন আর তানমিনা
কাহিনি শোনা হলো না। স্যার
লাঞ্চে গেছিলেন এসে পড়েছেন। তাই
আবারো আমার জায়গায় যেতে হলো।
তবে আসার সময় তাকে কথা দিলাম
যে, তার থিউরি তানমিনা অন্যদিন
শেষ করবো। মেয়েটার মনে হয় বাড়ি
এখানেই কোথাও। হয়তো আগেও
দেখেছি, মনে হয় খেয়াল করি নাই।
কারন, রাস্তা দিয়ে মেয়ে গেলো? না
ছেলে গেলো। সেটা নিয়ে আমার
মাথা ব্যাথা একটু কমই। কোন সুন্দরী
ললনা যদি ভুল বশত চোখে পড়েই যায়
তাহলে আমি তার দিকে দ্বিতীয় বার
না তাকিয়ে আশে পাশে উপস্থিত
মানুষগুলোর দিকে তাকাই। তাদের
দিকে তাকালে দেখা যায় নানান
মুখভঙ্গি। তাদের মুখাভিনয় তখন পার্থ
প্রতিম মজুমদারকেও হার মানায়। তাই
আমার কাছে এটাই বেশি উপভোগ্য
মনে হয়।
,
,
আজ ছুটির দিন। এক বন্ধুর সাথে দেখা
করতে পার্কে এসেছি। বন্ধু আমাকে
দাড় করিয়ে কোথায় যেন গেলো।
আমি একটা বড় গাছের নিচে একা
দাড়িয়ে আছি।
হঠাতই দেখলাম সেদিনের মেয়েটা
আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছে। ভাবলাম
ডেকে কিছু জিজ্ঞেস করি। একা
একা দাড়িয়ে থাকতে আর ভালো
লাগছে না। কারো সাথে কথা বলতে
পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু আমি
তো তার নামটাই জানি না। তাই উনার
ম্যাডামের নামটা ধরেই ডাক দিলাম।
---এই যে মিস তানমিনা, শুনছেন?
---জি বলুন।
পাশ থেকে এক মাঝ বয়সী মহিলা
উত্তর দিলেন। আরে আমি ডাকি কারে
আর শোনে কে।
---ইয়ে... মানে...
---কি ইয়ে মানে করছেন?
---না মানে আমি উনাকে ডাকছিলাম,
আপনাকে না।
মেয়েটাকে দেখিয়ে বললাম।
---ফাজলামো করার আর জায়গা পান
না তাই না?
---ফাজলামোর কি হলো। আপনার নাম
তানমিনা আর উনার নামও তানমিনা।
দুজনের কি এক নাম হতে পারে না?
---না পারে না। ওর নাম তানমিনা না
অবন্তিকা।
---আপনাকে কে বলেছে, উনার নাম
অবন্তিকা?
---ওর বাবা বলেছে।
---মানে?
---মানে ভার্সিটিতে ভর্তির সময় ওর
বাবা বলে দিয়ে গেছিলো। ও আমার
ছাত্রী। তোমার কোন সমস্যা?
এই রে খাইছে! মহিলা দেখি আপনি
থেকে তুমি বলা শুরু করেছে। কখন
জানি তুই করে বলা শুরু করে। তার
আগেই ভাগতে হবে। কিন্তু বন্ধু তো
বললো এখানেই দাড়াতে। ধ্যাত্তেরি
বন্ধু। নিজে বাচলে পরে বন্ধুর কাছ
থেকে ক্ষমা চেয়ে নেব। নয়তো
ইভটিজিং এর অপরাধে এই মহিলা
আমাকে জেলে পুরে দিতে পারে।
মুখের ভাবসাব দেখে তাই মনে হচ্ছে।
অবশ্য এটা ইভটিজিং না
আন্টিটিজিং হবে সেটা আমি শিউর
না।
আপাতত আমি অবন্তিকাকে ডেকে
ডেকে কেটে পড়ছি। মহিলা এখনো
লেকচার দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু
অবন্তিকা কেন যেন শুনেও না শোনার
ভান করছে। আমি ডাকছি কিছুতেই
পেছনে তাকাচ্ছে না। আরো জোড়ে
হেটে চলেছে।
এবার আমি, প্রায় দৌড়েই অবন্তিকার
সামনে গিয়ে দাড়ালাম। এতক্ষনে
অনেকটা এসে পড়েছি। ঐ অভদ্র ভদ্র
মহিলাকে আর দেখা যাচ্ছে না।
,
---কি হলো শুনতে পাচ্ছেন না নাকি?
---শুনতে পাচ্ছি তো।
---তাহলে দাড়াচ্ছেন না কেন?
সেইদিন এত বড় উপকার করলাম।
তখনতো তানমিনা কাহিনি শুরু করে
দিয়েছিলেন। আর এখন ডাকলেও
শোনেন না।
---উপকার করে আবার খোটা দিচ্ছেন?
---একদমই না। আপনি আমার ডাক
শোনেও দাড়ান নি কেন?
---সেইদিন উপকার করছেন? আজকে
বাশ দিয়া দিছেন সমান সমান।
---ঐ মাইয়া! আমি আবার কি বাশ
দিলাম।
---আপনি এতক্ষন যার সাথে কথা
বলছিলেন, জানেন উনি কে?
---কে উনি, মিশেল ওবামা? নাকি
হিলারি ক্লিনটন।
---আরে উনিই তানমিনা ম্যাডাম।
---ঐ তেরি! এই সেই বিখ্যাত
তানমিনা?
---হুম। আমি তাকে দেখেই
পালাচ্ছিলাম। আর আপনি দিলেন তো
ধরা খাইয়ে।
---সে জন্যই তো বলি, এই মহিলার এত্ত
পাওয়ার ক্যান?
---পাওয়ারের দেখছেন কি? ওটা তো
উনি কাল ক্লাসে আমাকে দেখাবেন।
---স্যরি। স্যরি। আসলে একা একা
দাড়িয়ে ছিলাম তো তাই ভাবলাম
একটু ডেকে কথা বলি। আর তাতেই এত
কাহিনি।
---আরে আমিও আপনার সাথেই কথা
বলতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথেই
দেখলাম রানী ভিক্টোরিয়া। তাই
গতিপথ পরিবর্তন করে মায়ানমারের
দিকে যাচ্ছিলাম।
---যা হওয়ার তো হয়েই গেছে। এখন তো
আর কথা বলতে সমস্যা নাই। চলেন
ঐখানে একটু বসি।
---তার আগে বলেন, আপনি কি পার্কে
এসেও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব
পালন করছেন নাকি?
বসতে বসতে বললো অবন্তিকা। আমিও
বসতে বসতে বললাম.........
---হুম। আপনার মতো যেই সকল গাড়ী
থুক্কু নারীরা দিক পরিবর্তন করে রুং
রুটে যায়, তাদের জন্য পার্কেও
ট্রাফিক পুলিশের দরকার হয়।
সেদিন আমাদের আরো কিছুক্ষন কথা
হয়। মোবাইক নাম্বার আদান প্রদান
পর্যন্ত না গেলেও ফেসবুক আইডি
ঠিকই নিয়ে নিয়েছিলাম। আমার বন্ধু
গুগলে সার্চ দিয়ে আমাকে খুজে বের
করে ফেলায় আমাকেও তার সাথে
যেতে হলো। সেদিনের মতো যা
জানতে পারলাম তা হলো......
অবন্তিকা ময়মনসিংহ পলিটেকনিকের
কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের অষ্টম
পর্বের ছাত্রী। এবার ইন্টার্নি করছে।
আমিও পলিটেকনিকেরই ছাত্র হওয়ায়
ভালোই জমেছিলো আড্ডা। যদিও
আমি ঢাকা পলিটেকনিকে ছিলাম।
এর পর প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো
অবন্তিকার সাথে। ও কলেজে যেত,
আর আমি ডিউটিতে থাকতাম বলে
কিন্তু খুব বেশি কথা হতো না। তবে
দুজনেই মিষ্টি একটা হাসি বিনিময়
করতাম। ফেসবুকে প্রায়ই আমাদের
কথা হতো। তবে সেটা হতো কমেন্টে।
কারন অন্যসবার মতো আমার ঘন্টার পর
ঘন্টা চ্যাট করার অভ্যাস নাই।
অবন্তিকাও মনে হয় এতটা ফ্রি
ছিলোনা।
একদিন আমি ডিউটিতে ছিলাম।
অবন্তিকা কলেজে যাচ্ছিলো। কিন্তু
প্রতিদিনের মতো আজ অটো কিংবা
রিকশায় চড়ে নয়। আজ বাইকের পেছনে
বসে। সামনে হিরো মার্কা একটা
ছেলে বসা ছিলো। কেন জানি ওকে
দেখে আমার ভালো লাগে নি।
প্রতিদিনের মতো অবন্তিকা তার
মিষ্ট হাসিটা উপহার দিলেও, আমি
হাসতে পারিনি। অবন্তিকাও বোধহয়
বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলো।
কিছুক্ষন পরই ডাটা কানেকশনটা অন
করেই দেখতে পেলাম অবন্তিকা
মেসেজ দিয়েছে। এটাই ছিলো
আমাদের মধ্যে সরাসরি আদান প্রদান
করা প্রথম মেসেজ। মেসেজটা ছিলো
এরকম।
“আজ পারলে একবার বিকালে জয়নুল
উদ্যানে আসবেন। আর সামনের
ছেলেটা আমার ছোট চাচা হয়”।
মেসেজটা পরে আমারই কেমন জানি
লজ্জা লাগছিলো। অবন্তিকা তাহলে
আমার মনের কথাটা বুঝে ফেলেছে।
আমি আর কোন উত্তরই দিতে পারলাম।
শুধু মেসেজটা সিন করে একটা লাইক
দিলাম। বর্তমানে ফেসবুকে লাইক
পছন্দ করা অর্থে ব্যবহার হয় না। এটা
এখন দেখলাম বা আচ্ছা শব্দটার
প্রতীক হয়ে গেছে।
যাইহোক, স্যারের কাছ থেকে
তাড়াতাড়ি ছুটি নিয়ে বাসায় চলে
আসলাম। সেদিনই আমি প্রথম মুখে
ক্রীম ব্যবহার করেছিলাম। আর ছোট
ভাইয়ের কাছে থেকে ধার করা
পারফিউমও মেখেছিলাম। আমার
এসবে কখনোই অভ্যাস ছিলোনা। তাই
বাড়ির সবাই কেমন করে যেন আমার
দিকে তাকাচ্ছিলো? আমি সেটা
উপেক্ষা করে সময়মতো পার্কে চলে
এলাম। এসে দেখি অবন্তিকা আমার
আগেই চলে এসেছে। সাথে সেই
ছেলেটা (অবন্তিকার ছোট চাচা) ও
ছিলো।
আমি যাওয়াতে প্রথমে উনি নিজের
পরিচয় দিলেন। এবং অবন্তিকাও
আমার সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে
দিলো। তারপর উনি বললেন.........
---অবু তুই একটু ও দিকটায় যা। আমি
আকাশের সাথে কিছু কথা বলবো।
---আচ্ছা।
বলে অবন্তিকা চলে গেলো।
অবন্তিকার চাচা বলতে শুরু করলো......
---তুমি কে? কি তোমার বংশ পরিচয়?
তোমার বাবার নামই বা কি? আমি
তোমাকে এসবের কিছুই জিজ্ঞেস
করবো না। আমি একটা মাত্র প্রশ্ন
জিজ্ঞেস করবো তুমি ভেবে চিন্তে
উত্তর দেবে।
---জি অবশ্যই।
---তুমি কি অবন্তিকাকে
ভালোবাসো? বিয়ে করবে ওকে?
---ইয়ে... মানে.....
---কোন ইয়ে মানে না। অবন্তিকার
বিয়ের জন্য বর দেখা হচ্ছে। তুমি যদি
এখন কিছু না বলো। তাহলে হয়তো
অবন্তিকাকে তুমি জীবনের মতো
হারাবে।
“জীবনের মতো হারাবে” কথাটা শুনে
আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে
উঠলো। কেমন জানি শুন্য শুন্য অনুভূতি
হতে লাগলো। যদিও অবু (অবন্তিকার
সংক্ষিউপ্ত, ওর চাচা এটা বলেই
ডেকেছিলো। তাই আমিও বলছি) এবং
আমার পরিচয় বেশিদিনের নয়। কিন্তু
আমাদের রোজই দেখা হতো। সাধারন
বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডরাও এত ঘন ঘন
দেখা করে বলে মনে হয় না। আমাদের
মুখে কথা না হলেও চোখে-চোখে
ঠিকই কথা হতো। একে অপরের চোখের
ভাষাটা আমরা ঠিকই বুঝে নিতাম। ওর
কোন পোশাকটা পড়লে আমার ভালো
লাগে, কোনটা লাগেনা এসব
অবন্তিকা আমার চোখ দেখেই বুঝতে
পারতো।
ফলে আমাদের মধ্যে একটা ভালো
বোঝাবুঝি তৈরী হয়ে গিয়েছিলো
এতদিনে। আর আমিও ধীরে ধীরে তার
মিষ্ট হাসির মায়াজালে আটকে
পড়ছিলাম। তাই আমি সরাসরি কিছুই
বলতে পারিনি। আমি শুধু
বলেছিলাম.........
---আমি অবন্তিকার সাথে একটু কথা
বলতে চাই।
---আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা কথা বলো।
আমার যা বোঝার আমি বুঝে গেছি।
আর হ্যা, কথা শেষ হলে ওকে বাড়ি
পৌছে দিয়ে যেও। আমি বাইক রেখে
যাচ্ছি।
---জি। আপনাকে ধন্যবাদ।
---অবু আমাকে তুমি করেই ডাকে।
চাইলে তুমিও তুমি করে বলতে পার।
---জি আচ্ছা।
অবু বললো।
---কি জি আচ্ছা?
---না কিছু না।
---চাচ্চুকে কি বললেন?
---উনার যা বোঝার উনি বোঝে
নিয়ছেন।
---মানে আপনি কিছুই বলেন নি?
---বলার প্রয়োন হয়নি।
---তার মানে আপনি রাজি না।
---আমি তো রাজি। আপনি?
---আমি রাজি না হলে কি আর চাচ্চুকে
নিয়ে আসতাম?
---মিয়া বিবি রাজি তো কেয়া
করেগা কাজি।
---ঠিক।
---কিসের ঠিক?
---আপনি যেটা বললেন।
---না ঠিক নাই। আপনি আগে আমাকে
প্রোপোজ করেন। তাহলে ঠিক হবে।
---আমি কেন প্রোপোজ করবো?
---নাটক, গল্প, সিনেমাতে তো সবসময়
ছেলেরাই প্রোপোজ করে।
---আপনি আপনার চাচাকে নিয়ে
এসেছেন, আর এটা সিনেমা নয়।
সুতরাং আপনিই প্রোপোজ করবেন।
---না পারবো না।
---তাহলে চলেন থানায়।
---থানায় ক্যান?
---আপনি সেখানে গিয়ে অপেক্ষা
করবেন। আমি কাজ শেষ করে রাত
তিনটায় যখন বাড়ি ফিরবো তখন
আপনাকে প্রোপোজ করবো।
---আচ্ছা থাক। এত দেরি আমার সহ্য
হবে না। তার চেয়ে বরং আমিই করি।
---হুম শুরু করেন।
আমিই বোধহয় প্রথম ব্যক্তি যে তার
প্রেমিকার কাছে থেকে প্রোপোজ
জোড় করে আদায় করছে।
---অবন্তিকা তার ব্যাগ থেকে একটা
সাদা গোলাপ বেড় করে আমার সামনে
দাড়িয়ে বলতে লাগলো.........
আপনি যদি রাস্তার মাঝখানের ওই
গোলচক্করটা হোন,
তাহলে আমি ট্রাফিক পুলিশ হয়ে
সারাদিন আপনার পাশে দাড়িয়ে
থাকবো।
আপনি যদি সিগন্যালের ঐ লাল
বাতিটা হোন,
তাহলে আমি ট্রাফিক পুলিশ হয়ে হাত
বাড়িয়ে সব গাড়ি আটকে দেব।
আপনা না করলেও, আমি আপনার বউ
হবো।
,
এ কেমন প্রোপোজ মাইরি। যদি
প্রোপোজ করার জন্য নোবেল দেয়া
হতো তাহলে এরকম অদ্ভুত প্রেম
নিবেদনের জন্য এই মেয়ে ঠিকই
নোবেল পাইতো।
---এটা কি হলো?
---প্রোপোজ। প্রেম নিবেদন।
---এরকম অদ্ভুত প্রোপোজ তো আমি এর
আগে কখনো শুনি নি।
---মানে কি? এর আগে কয়টা
প্রোপোজ পাইছেন?
---একটাও না।
---তাইলে সমস্যা কই?
---প্রোপোজে কেউ আপনি করে বলে?
তুমি করে বলতে হয়। বুঝছো? হবু বউ।
---আপনিও তো এতক্ষন আপনি আপনি
করছিলেন। তাই আমিও আপনি করেই
বললাম।
---এখন তো তুমি বললাম।
---আমিও বললাম। চলো বাসায় যাবো।
তারপর ওকে বাসায় পৌছে দেয়ার
জন্য বাইকে চড়ি। আহ! আমার কি
সৌভাগ্য বিয়ের আগেই শ্বশুরের
জিনিস ব্যবহার করছি। আরে উনিতো
আমার চাচা শ্বশুর। হোক চাচা শ্বশুর,
শ্বশুর তো।
তারপর পারিবারিক ভাবেই আমাদের
বিয়েটা হয়। অবন্তিকা বাসর ঘরে বসে
আছি আমি ভেতরে যাবো............
---ঐ কি হলো? ফ্রেশ হতে এতক্ষন
লাগে?
অবন্তিকার ডাকে ঘোর কাটলো।
বাসরের গল্প নাহয় অন্যদিন বলবো।
এখন দেখি বউ কি বলে।
---এইতো এসে গেছি।
---নাস্তা করো।
নাস্তা করে আমি বেরুচ্ছি। প্রতি
দিনের মতোই ইউনিফর্মটা পরিয়ে
দিচ্ছে অবন্তিকা। আর তার গদ বাধা
কথাগুলো বলে যাচ্ছে।
---এই শোন। সাবধানে থাকবা।
---আচ্ছা।
---পরিমানমতো পানি খাবা।
---আচ্ছা।
---দুপুরে বাইরে খাবা না। বাসায় এসে
খেয়ে যাবা।
---আচ্ছা।
---আর রাস্তাঘাটে অন্য মেয়েদের
দিকে একদম তাকাবা না।
---ক্যান কি হইছে?
---কি হইছে মানে?
---না কিছু না।
আমি জানিই এই মানে বিশ্লেষন
করতে গেলে আবার বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে
যাবে। আর আমি বউ-ভিতু, শান্তি প্রিয়
একটা মানুষ। তাই আমি হিটলারের
মতো বিশ্বযুদ্ধের কারন হতে চাই না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now