বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তপুর হাইস্কুল দিনলিপি (সাহস)Part-2

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Dj BrAvO (০ পয়েন্ট)

X যদিও আদিবা নিজে কখনো এধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি, তবুও সে ঠিক করলো তপুর হয়ে লড়বে। এর আগেও সে আসলামকে তার অন্যান্য ক্লাসমেটদের হেনস্থা করতে দেখেছে। এখন যেহেতু ব্যাপারটা তার বন্ধু তপুর সাথে ঘটছে তাই এটা তাকে বিশেষ ভাবালো। আদিবার মনে হলো সে নিজেও এখন এই সমস্যার একটা অংশ। আগে যখন আসলাম তার অন্যান্য ক্লাসমেটদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে তখনই কিছু করলে আজকের এই দিন দেখতে হতোনা। আদিবা সবসময় মনে করতো স্যারই এইসব সমস্যা খেয়াল করবেন আর থামাবেনও। কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে স্যার হয়তো কোনদিনই খেয়াল করবেন না। তাদের আরেক বন্ধু খোকার সাথে দেখা করলো আদিবা। দুজন মিলে তপুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজতে লাগলো। হোমওয়ার্কের ডায়েরিটা ব্যাগে রাখতে রাখতে আদিবা বললো, "তুই কি খেয়াল করেছিস তপু গত কয়েকদিন ধরে স্কুলে আসছেনা? বদমাশ আসলাম আর ওর বন্ধুরা মিলে ওকে হুমকি দিয়েছে যেনো স্কুলে না আসে!" চিন্তিত মুখে খোকা উত্তর দিলো, "জানি আমি সব। ফোন করেছিলাম তপুকে। কিন্তু ও রিসিভ করেনি। আসলামের সাথেও কথা বলেছিলাম। ও যা করছে সেটা মোটেও ঠিক না। ওকে বোঝাতে চাইলাম। ও উল্টা এসে আমার সাথে হইচই শুরু করে দিলো।" * আদিবাঃ "সে এভাবে মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা। আর কাউকে স্কুলে না আসতে হুমকি দেওয়ার অধিকারও তার নেই। এইবার আমাদের কিছু একটা করা উচিত।" আদিবা রেগে গেলো। * খোকাঃ "কি করবি বলে ভাবছিস? আমি কিন্তু কোনো ঝুটঝামেলায় নাই।"খোকা কিছুটা ইতস্তত করে বললো। * আদিবাঃ "কিন্তু তোর বন্ধু বিপদের মধ্যে! আজকে যদি আমরা কোনো কিছু না বলি একদিন হয়তো তোর কিংবা আমার সাথে ও একই ব্যবহার করবে।” আদিবার গলায় ক্ষোভ। * খোকাঃ "আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রী। এসব দেখার দায়িত্ব শিক্ষকদের, আমাদের না।" খোকা কে এবার কিছুটা চিন্তিত দেখালো। * আদিবাঃ “আসলে তুই যেভাবে ভাবছিস সেটা ঠিক নাও হতে পারে। আচ্ছা একটা ব্যাপার ভেবে দেখতো। আমাদের ক্লাসে যদি কেউ অংকে ফেল করে আমরা কি বলি? ওই স্যারের দোষ কিংবা ওই ছাত্রের। অথচ এইখানে কিন্তু আমাদেরও কিছু করার আছে। চাইলেই আমরা ওই ছাত্রটাকে দু একটা অংক বুঝতে সাহায্য করতে পারি। কিংবা একটা কঠিন সূত্র বুঝিয়ে দিতে পারি। পারি কি না বল?" কিছুক্ষণ চুপ থেকে আদিবা বললো। খোকা কিছু বলার আগেই ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজলো। টিফিন টাইম শেষ হওয়ার আগেই ক্লাসে থাকতে হবে। দেরি হলে আবার শাস্তি পেতে হবে।  ক্লাসে ফেরার সময় খোকার মাথায় শুধু একটা জিনিসই ঘুরছিলো। সে কেনো এতদিন বুঝতে পারলোনা এই সমস্যাগুলো সমাধানে তারও একটা দায়িত্ব আছে।চিন্তনমূলক প্রশ্নঃ তোমার কি মনে হয়, আসলামের প্রতি অন্যায় বন্ধ করার জন্য দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসা কি আদিবার জন্য সঠিক হবে?আমরা যা শিখলামঃ আর দশটা সাধারণ মানুষ থেকে নেতৃত্ব চর্চাকারীর পার্থক্য এইখানেই যে তিনি চারপাশের সমস্যাগুলিকে ভয় পাননা। বরং মোকাবেলা করেন। সাধারণ মানুষ যখন সমস্যার জন্য একে অপরকে দায়ী করে তখন এগিয়ে আসেন নেতা। সাহসের সাথে সমস্যার মুখোমুখি হন। মানুষকে উৎসাহিত করেন সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করতে। আমাদের মাঝে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে সকল সমস্যার জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আসল সত্যটা হলো একটা পরিবেশের প্রতিটি মানুষই সেখানকার সমস্যা সৃষ্টির জন্য প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে দায়ী। সব দায় কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে দিয়ে আমরা শুধু নিজেদের দায় এড়ানোর একটা চমৎকার অজুহাত বের করি মাত্র। আমরা ভাবি আসলে এটা খুবই সহজ একটা কাজ। কিন্তু এটাতো আমার দায়িত্ব না। আমি কেন করবো? এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দিই আমরা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তপুর হাইস্কুল দিনলিপি (সাহস)Part-2

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now