বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অফি বসে আছি। বাসা থেকে সাহারা বারবার কল দিচ্ছে।তার কল দেওয়ার কারণটা আমার জানা। আজ সাহারার চাচাতো বোনের বিয়ে। এই প্রথম আমাকে আমার শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দেওয়া হলো।এক বছর আগে আমি ওনাদের বাড়ির বড়ো মেয়ে সাহারাকে নিয়ে পালিয়ে আসি।সাহারার বাবা-মা আমাদের মেনে নিতে চাইলেও সাহারার চাচার জন্য তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন সাহারার চাচাতো বোনের বিয়েতে কেনো আমাদের দাওয়াত দেওয়া হলো তাই বুঝা যাচ্ছে না।তাই সাহারা চাইছে এই দাওয়াতটা যাতে কোনোভাবেই মিস না হয়। সেজন্যই তার এতবার কল করা। কিন্তু বস থেকে কিভাবে ছুটি নিবো তাই বুঝতে পারছি না।অনেক ভয়ে ভয়ে বসের কাছে যাচ্ছি।মাঝখানে আনিস সাহেবের সাথে দেখা। এই লোকটি কথা শুরু করলে বলতেই থাকে।
"আরে জুনাইদ সাহেব কেমন আছেন?"
"জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?"
"আরে, এই গরমে ভালো থাকা যায়।তো কোথাও যাচ্ছেন নাকি?"
"একটু বসের কাছে যাচ্ছিলাম।"
"উনি তো আপনাকে খুঁজছেন, যান যান তাড়াতাড়ি যান।"
বস আমাকে খুঁজছেন কথাটা শুনেই আমার গলা শুকিয়ে এলো।কোনো কিছু করলাম নাকি আবার।আমি বসের রুমের সামনে দাড়িয়ে আছি। বস চেয়ারে বসে আছেন আর পা নাচাচ্ছেন। আমি মনে মনে ভাবছি বস যদি এখন চেয়ার উল্টে পড়ে যেতো কতো ভালোই না হতো।
"স্যার আসবো?"
"জ্বি, নিশ্চয়ই।"
"স্যার, শুনলাম আপনি আমায় ডেকেছেন।"
"বলছি, আজ আপনি চলে যান।"
"জ্বি স্যার?"
"কালকে নাকি আপনি অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছিলেন তাই ভাবলাম আপনাকে তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দিই।"
"স্যার, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।"
"এখন বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিন।"
আমার এখন ইচ্ছা করছে বসকে কোলে নিয়ে হাঁটতে। অফিস থেকে বাসায় এসে দেখলাম, সাহারা রেডি হয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সাদা সিল্কের শাড়িতে ওকে কি সুন্দরই না দেখাচ্ছে। কে জেনো বলেছিল বিয়ের পর বউকে আর সুন্দর লাগে না কিন্তু আমি আবার সাহারার প্রেমে পড়লাম।
খুবই জাঁকজমকভাবে বিয়ে বাড়ি সাজানো হলো। সাহারা আমাকে বসার ঘরে রেখে ভিতরে চলে গেলো।বসার ঘরে কয়েকজন মুরব্বি বসে আছেন। ওনাদের সামনে আমার বসা উচিত কিনা বুঝতে পারছি না। বসার ঘরে খালি কোনো চেয়ারও দেখতে পাচ্ছি না। এরমধ্যে সাহারার চাচি একবার এসে উঁকি দিয়ে গেলেন। উনি আমাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেলেন। অনেক্ষন পর একটা ছোট মেয়ে একটা চেয়ার টেনে দিলো।নূন্যতম ভদ্রতা দেখানোর কারনে মেয়েটিকে বিশ টাকার একটি নোট দিলাম।
"আমার ভাইয়ের জন্যও বিশ টাকা দেন"
মেয়েটিকে আরো বিশ টাকা দিলাম
পরে দেখলাম চেয়ারটি ভেজা। ওইখান থেকে আলোকসজ্জার এইদিকে চলে আসলাম। সামনে সাহারার চাচাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলাম।হঠাৎ কিছু একটার উপর পা পড়তেই আলোকসজ্জা নিভে গেলো। সাহারার চাচা গালাগালি শুরু করলেন।
"কোন ছোটলোকের বাচ্চারে।কে রে এখানে আসলো।"
আমি ওনার কাছে গিয়ে বললাম
"চাচা আই এম সরি,আসলে এটা আমার কারণে নিভে গেছে।
তিনি আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার বলা শুরু করলেন।বুঝতে পারলাম তিনি ইচ্ছা করেই এসব বলছেন।হঠাৎ কে যেন আমার হাত ধরে বাইরে নিয়ে এলো। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
"কিছু বলোনি কেন তুমি?"
গলার আওয়াজ শুনে বুঝলাম এটা সাহারা।
"সরি বলছি তো, আর কি বলতাম"
"সবাই তোমাকে যা খুশি তা বলবে নাকি।কি এমন অপরাধ করেছিলাম আমরা।"
"আচ্ছা এখন চলো, সবাই কি ভাববে।"
"না আর যাওয়া লাগবেনা, বাসায় চলে যাবো।যেইখানে তোমাকে অপমান করা হয়েছে সেখানে আমি মরে গেলেও যাবো না।
বুঝতেই পারছি সাহারা অনেক কষ্ট পেয়েছে।শুধুই ফোঁপাচ্ছে, তাই তাকে বাসায় নিয়ে চলে এলাম।এই মেয়েটি নিজের পরিবারকে কাছে পেয়েও আমার জন্য আবার দূরে ঠেলে দিলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now