বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি আমার সে বেস্টফ্রেন্ড দীপ্তির ডায়রিটা বের করলাম।ডায়রিটিতে বিষণ ভাজ পড়েছে।ভাজের মাঝে খুব ধুলা জমে আছে।
ডায়রিটা এতদিন আমার আলমারিতে জমা ছিল।আমি খুলেও দেখিনি।দীপ্তির মা আমাকে শেষ সময়ে দিয়েছিলেন যখন তিনি কান্নার জলে ভাসছিলেন।
আমি আমার সে টি টেবিল জমা ধুলাগুলো পরিস্কার করে বসলাম।অনেকধরে এ বাড়িতে কেউ আসেনি।আমি আজ আসলাম।এখানে গত ১০ বছর ধরে আর কেউ পা রাখেনি।
কিন্তু আজ আসতে হলো কারো কষ্টের টানে।ডায়রিটা খুলতে একটা কবিতা পেলাম।
"তুমার স্মৃতির সে পাতা আমি
একটা একটা খুড়িয়ে রাখবো জমা
সে স্মৃতিতে মনে রেখ,তাই রাখিলাম এ রক্তজবা!
বেশ কিছু খুজে এ ২টি লাইনে।আগে জানতাম না দীপ্তি ভালো কবিতা লিখতে পারে।কখনো জানতাম না আর জানতে চেষ্টাও করিনি!
ডায়রি প্রথম পেইজ খুলার সাথে সাথে আমি আমার সে ইউনিভার্সিটির সে প্রথম দিনের পেইজটাই খুললাম।
সূর্য নিজের জায়গায় ঠিক ছিল কিন্তু আমি ঠিক ছিলাম মোটেই। ঘুমে মগ্ন ছিলাম যে মনোই ছিল না যে ভার্সিটির প্রথম দিন।আমার রুমমেট যখন বলল সকাল ৯টা তখন বারোটা বাজলো।
আমি উঠে দৌড় দিলাম সোজা বাথরুমে। বাথরুমে গিয়ে সোজা সাওয়ার ছেড়ে দিলাম।
বিনা কোনো সাবান মাখা ছাড়া টাওয়াল দিয়ে গা খানা মুছে ফেললাম।
আমার নিউ শার্টটা বের করলাম যেটা কাল আমি মার্কেট থেকে সাড়ে ৫০০টাকা দিয়ে কিনেছি।স্প্রে বোতল খুলতে সারা দুনিয়া সুগন্ধের ভরে গেল।
২০ মিনিটে আমার ক্লাস আমি দৌড়াচ্ছি সাথে আমার বাবার ১৯৮০সালের সাইকেল অর্থাৎ পনি সাইকেল যাকে বলে।সাইকেলের গতি নিমিষেই বাড়ছে নিমিষেই কমছে।আমি তবুও জ্যামের মাঝ দিয়ে সাইকেল দৌড়াচ্ছি।
শুনলে অদ্ভুত লাগে আমি আমার কখনো কোনো কাজ আগে করিনি।এ লেটের জন্য আমি বারোটা স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।কিন্তু কোনো জলদি না করলেও বিয়েরা আগে করার স্বপ্ন ঠিকই ছোট থেকে পোষে রেখেছি।যাক আমি দৌড়াচ্ছি দৌড়াতে দৌড়াতে ঠিকই পৌছলাম আমার ভার্সিটিতে। ওহ এখনও ৫মিনিট বাকি আছে!আমি সাইকেল পার্কিং করে ঢুকবো তখনি একটা মেয়েকে দেখে জায়গায় ক্রাস খেয়ে গেলাম।মেয়োটা তখন বাস্কেটবল খেলছে।
আমি অনেকক্ষণ ধরেই তাকে দেখেছি তা একটা বুড়ো আন্টি অনেকক্ষণ ধরে কেয়াল করছেন।
-এ ছেলে এখানে এত দেখছো!
-আন্টি!!
-কি বললে?
-জ্বি ম্যাডাম আমি এদিকে আমার ক্লাস খুজছি!
-পাস্ট ইয়ার??
-হুমম!
-৩তলা ৩০২নং রুম!
-ধন্যবাদ ম্যাডাম!
আন্টি কিছু বলার আগেই চলে গেলাম।রুমে গিয়ে দেখি স্যার লেকচার দিচ্ছেন।
-স্যার আসতে পারি?
-এত লেইট কেন?
-স্যার জ্যাম ছিল!
-আচ্ছা আস!প্রথম দিন বলে মাফ করলাম।পরের বার যেন আর না হয়!
-ওকে স্যার!
আমি কার পাশে গিয়ে বসবো ভেবে পাচ্ছি না তখন স্যারের ডাক এল দাড়িয়ে আছো কেন এখন?আমি ভয়ে বসে গেলাম কিন্তু কার পাশে বসেছি তা দেখার সময়ই পেলাম না।
অনেকক্ষণ পর ভরিং ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমি আমার পাশের জনের দিকে ফিরে দেখলাম।একটা মেয়ে নাম ওজানি না।কাট্টাসের মত চুইংগাম চাবিয়ে অভদ্র ভাবে পোলাচ্ছে!
-এ সোনা খাবি নাকি?
-কি?
-চুইংগাম!
আমার মুখের রিয়েকশন দেখে বলল
-তুই চুম্মা ভেবেছিলি?
-একদমই না তোর মত কাট্টাসের চুমু আমি খেতে চাই না!
-তুই বেটা আমার মত!সব ছেলে আমার সাথে লজ্জাবতীর কথা বলেছে কিন্তু তুই মেন টো মেন কথা বলেছিস!
-চাল ফুট আমি আমি তোর মত না তুই আমার মত!
কথাটা বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।মেয়েটাও আমার পিছু নিয়ে হাঠছে।
-আচ্ছা তুই ছেলের সাথে এমন কথা বলছ!
-হুমম কেন?
-না মেন টো মেন বললি তাই!
-আমার আম্মু চেয়েছিল আমাদের পরিবারে একটা ছেলে হোক কিন্তু আমি হয়ে গেলাম।তাই আম্মুর সে ইচ্ছা আমি এভাবে পূরণ করলাম।
-তুই কথা এরকম পাকিয়ে বলিস!
-হুমম ছোট থেকেই!আমি দিপ্তি!মা-বাবার একমাত্র মেয়ে আর তাদের জ্বালিয়ে মারার একমাত্র কারণ!
-মানে?
-তাদের সবসময় জ্বালায় আমি!
-ওও!
-তোর ব্যাপারে কিছু বললি না যে!
-আমি দূর্জয়! এখানে ব্যাচালরে থাকি!
-মা-বাবা?
-মা-বাবা দুইজনের ডিভোর্স হয়ে গেছে!কখনো মার কাছে যায় তো কখনো বাবার কাছে দুইজনের সাথেই দেখা করতে যায়!
দুইজনে কথা বলতে রোডে চলে আসলাম।
-আচ্ছা তোর নাম্বারটা দেয় না!
-কেন প্রেম করবি নাকি?
-বাজে না বকে বলবি!
-০১৮৬............
-তোরটা তো বল!
-ফোন করলে আমার দেওয়ার দরকার হবে না!
দিপ্তি একটা অসহ্য হাসি দিয়ে চলে গেল।আমি আমার সঙ্গী পনি সাইকেলে উঠে পড়লাম।
মূল আমি পিছনে ব্যাক সাইডটা ব্যাথা হয়ে গেছে তাই সাইকেল টি হাঠতে হাঠতে নিয়ে গেলাম।
ব্যাচেলর জীবন এত সহজ হয় না। বাসায় এসে একটু আরাম করে গ্যাসে আগুন জ্বালানাম।ভাত রান্না করার জন্য চাল পরিষ্কার করছি।এতদিন আতপ খাচ্ছি কিন্তু আজকে সিদ্ধ চাল রান্না করতে হচ্ছে।ভাত চুলায় দিয়ে ইন্টারনেটে ঢুকলাম।তখনি দিপ্তির বান্দরের মুখটা আমার নোটিফিকেশনে রিকুয়েষ্ট নামে ভেসে উঠলো আর একটা মেসেজ আসলো হাই!
আমি জুলিয়ে রাখলাম রিকুয়েষ্টটা।
বুয়া তরকারি রান্না করে যায় তাই আমাদের শুধু ভাত রান্না করতে হয়।ঘরে শুধু আমি একা। আমার রুমমেট তৌহিদ ভাই জব করেন সকাল সাতটা থেকে ওনাট ডিউটি তাই তিনিই আমাদের আগে চলে যান।তারপর রিফাত আমার থেকে জুনিয়র কলেজে গেছে কিছুক্ষণ পর আসবে।নিজাম ভাই আমার থেকে দুইবছরের সিনিয়র ওনিই টিউশনি করান তাই রাত ৯টা করে ঘরে আসেন।আমি সবার থেকে লেট করে উঠি। এ লেট করে ঘুমানোর জন্য হোস্টেলে না গিয়ে ব্যাচালরে এসেছি।ভাতটা আজ পাঙ্গাস মাছ দিয়ে খেলাম।আমার প্রিয় মাছ থেকে পাঙাস মাছ একটা।কিন্তু সবার উপরে আমার প্রিয় মুরগীর রান!!!
তাই শুক্রবার মুরগী না হলে আমার চলে না।
আমি একটা লোকমা আরাম করে করে খাচ্ছি।
ভাতটা শেষে আমি আমার প্রিয় জায়গা বিছানার ওপর অ্যাটাক করলাম।
সোজা ঘুম থেকে উঠলাম।সন্ধ্যা ৭টা বাজে।সময় পা এত বড় যে কখন চলে যায় তা জানা নেই দূর্জয়ের।দূর্জয় ওয়াশরুম হাই তুলতে তুলতে তুলতে মুখে পানি মারলো।চোখ লাল হয়ে আছে দূর্জয়ের।রিফাত মোবাইলে তার গফের সাথে কথা বলছে।গফের মেসপজগুলো সে সবাইকে দেখায় তাই দূর্জয়ের অজানা নেই যে রিফাত কার সাথে কথা বলছে।
আর কথাটা ভাবতেই সে ওয়াশরুমে মিট করে একটু হাসলো।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দূর্জয়। নিজের টি শার্ট টা গায়ে দিল আর ছাদে চলে গেল।ছাদে ঠান্ডা বাতাস আর পুরো শহরটা নিজের মনে হয়।রাতে শহরটাকে অনেক লাইটের ভিড়ে একটি রত্ন।দূর্জয় ছাদের এক পাশ থেকে অন্য পার পর্যন্ত হাঠে আর অার অসংখ্য তারা একটি একটি গুণে কিন্তু একটাই সমস্যা এখনও তার গুণা শেষ হয়নি।
দূর্জয় ছাদে কিছুক্ষণ বসে চলে গেল নিজের রুমে।সন্ধ্যা হলেই একটা চায়ের প্রয়োজন হয়।আর দূর্জয়ের ছোট বেলা থেকে একটা খারাপ অভ্যাস চায়ের!চা তাকে খেতেই হবে!
এ অভ্যাসের কারণে বাবা থেকে মার আর মা থেকে অনেক গালি খেয়েছে।তবুও এ অভ্যাসটা এখনও ভাঙলো না তার।চায়ের লিকার বানিয়ে দুধের চা টা দূর্জয় মুখে দিতে মুখটা যেন ফ্যাকাশপ হয়ে গেল কারণ লিকারের রং বেশি হয়ে গেছে যার কারণে চা তিতা হয়ে গেল তার জীবনের মত।নবাব সাহেব চা তো খেতে।জানেন কিন্তু বানাতে জানেন না।
চায়ের শখ পূরণ করে দূর্জয় বই পড়ার শখও পূরণ করতে গেলেন।
বইয়ের একটা সেল্ফ সে নিজের রুমে সাজিয়ে রেখেছে।বইয়ের অর্ডার দিয়ে একটা একটা রাত জেগে জেগে পড়ে সে।এর মধ্যে সে মোবাইলকে ছুয়ও না।ভাতের কিছু সময় আগে করে পুরো ব্যাচেলর ক্যারাম খেলে।ক্যারাম ঠিক ১০টার দিকে খেলা শুরু করে আর ১১টা পর্যন্ত খেলে।তারপর ভাতটা খায়।এদিকে দিপ্তি রাগে জ্বল জ্বল করছে হারাজাদাটাকে সামনে পেলে আজ সে এমন মারবে যে মুখের নকশা পাল্টে দিবে।আরে দূর্জয় নই!রিশি যে দিপ্তিকে ভালোবাসে ক্লাস টেন থেকে কিন্তু দিপ্তি তাকে ভালোবাসে না।রিশি তাকে অনলাইনে, ফোনে জ্বালাতন করে।
অনেক রাত হয়েছে বলে দূর্জয় ঘুমিয়ে পড়লো।এদিকে দিপ্তি আগেই গভীর ঘুমে নাক ডাকছে।
পরেরদিন সকালে দূর্জয় ক্যাম্পাসে আরামে বসে আছে। ক্লাস করার মোড তার মোটেই ছিল না আর লেট ও অনেক হয়েছে তার তাই ক্যাম্পাসের এক কোণায় বসে ছিল সিনিয়রদের মাঝে।
দিপ্তি অনেকক্ষণ ধরে দূর্জয়ের জন্য বসে ছিল।গালে চুইংগাম টা এমন করে চাবাচ্ছে যেন তার বফ আসেনি। তাই পুরো ক্যাম্পাস তন্নতন্ন করে অবশেষ পেল।
-ওই তুই ক্লাস করিস নি কেন?
-আমার ইচ্ছা!
-তোকে কাল থেকে কল দিচ্ছি রিসিভ করিসনি কেন?
-ওই তুই কি আমার গফ যে তোর সাথে সারাদিন কথা বলবো!
-না!কিন্তু তুই আমার তো ফ্রেন্ড!
-নিশ্চুপ
-আচ্ছা এখন বল রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করিসনি কেন?
-আমি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে কোনো খবিস কে রাখি না!
-তুই কি বললি!
-বললাম তুই একটা খবিস!
দিপ্তি তাট ব্যাগ দিয়ে দূর্জয়ের ব্যাগে মারলো।
-ব্যাথা পাইছি তো!
-তোকে ব্যাথার জন্যই মারছি আদরের জন্য মারিনি!
-তুই দূরে গিয়ে মর!
তখন থেকে আমরা বেস্টবন্ধু হয়ে উঠি।
প্রথম পাতায় লেখা"তোমার সে বন্ধুত্ব আমি কখনো ভুলবো না সে দুষ্টামি কেন যেন আমার জন্য তোমার ভালোলাগা হয়ে উঠলো।অজুহাতে আমি তুমার ঘরে যাওয়া আমি ভুলতেই পারবো না।আমি ওইদিন ইচ্ছা করেই আমার ফোনে তুমার নাম্বার ডার্লিং দিয়ে সেভ করেছিলাম।"
দূর্জয়ের মনে আছে সেদিন দূর্জয় দিপ্তি থেকে তার মোবাইলটা নিয়ে চেক করতে তার মোবাইলটা আস্তে করে তার থেকে চুরি করে নিলো
চলবে,,,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now