বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“তোমাকে ইদানীং পুরনো পুরনো লাগে ।”
রাহাতের কথা শুনে লিলি সশব্দে হাসতে লাগলো । ওর হাসির কাছে যেন সামনের লেকের স্বচ্ছ জলও ম্লান মনে হলো । রাহাত লিলির সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে চেয়েই বললো,
— “আর... তোমার এই হাসিটাও ।”
আরোও কিছু সময় ধরে হাসলো লিলি । রাহাত বুঝে পেল না ওর হাসির কারণ । এরপর একসময় হাসি থামিয়ে লিলি হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল । রাহাতের দিকে তাকালো সে । ওর চোখে চোখ রাখলো লিলি, যেমনটি করে রেখে এসেছে এতো কাল, এতো গুলো বছর ।
লিলি বললো,
— “কী করি বলো তো? নিজেকে তো আর নতুন করা সম্ভব নয় ।”
— “নতুন রুপে নিজেকে আমার কাছে আনো ।”
— “না । তাহলেও হয় না । তুমি তো এই আমিকেই ভালোবেসেছিলে । এখন যদি আমি নতুন রুপে তোমার কাছে আসি, তখন তো তুমি নতুন এক লিলির প্রেমে পড়লে । সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা লিলি ।”
— “হ্যাঁ, তাই তো!”
মন খারাপ করে ঘাসের ডগা ছিঁড়তে লাগলো রাহাত । এরপর বেশ খানিকক্ষণ নীরবতা ।
— “একটা কাজ করতে পারো তুমি ।”
হঠাৎ নীরবতা ভেঙে বললো লিলি ।
— “কী?”
খানিকটা নড়েচড়ে বসে জানতে চাইলো রাহাত । লিলিও রাহাতের মুখোমুখি হয়ে বসলো । খানিকটা সময় মাথা নিচু করে চুপ করে বসে রইলো সে । এরপর মুখ তুলে রাহাতের পাণে তাকালো ও । বললো,
— “আমি জানি রাহাত, তুমি কী চাইছো । আমার কাছ থেকে মুক্তি পেতে চাইছো ।”
— “না, লিলি । সেরকম কিছুই না.......”
রাহাতকে থামিয়ে দিয়েই লিলি বললো,
— “আমাকে তোমার পুরনো লাগে আজ-কাল । তুমি চাইছো অন্য কারোর কাছে যেতে । কিন্তু আমার জন্য তুমি তা পারছো না । আমি কষ্ট পাবো সেই কথাই ভাবাচ্ছে তোমাকে । পিছুটান থাকায় তুমি অস্থির হয়ে উপায় খুঁজছো । তার চেয়ে আমি তোমায় একটা সলিউশান দেই বরং.......”
মুখটা নিচু করে এতোক্ষণ ধরে কথা বলছিল লিলি । এবার সে মুখটা তুললো । তাকালো রাহাতের দিকে । মুখে খানিকটা হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে বললো,
— “দু’বছর । ঠিক দু’বছর সময় দিলাম তোমায় । এর মধ্যে তোমার সাথে আমার কোনোরকম যোগাযোগ থাকবে না । তুমি নতুন করে সবটা শুরু করবে । আর আমি থাকবো তোমার অপেক্ষায় । আজ ২৮শে মে । দুই বছর পর ঠিক এই দিনে এইখানটাতেই অপেক্ষা করবো আমি তোমার জন্য । এই দুই বছরের মধ্যে যদি মনমতো কাউকে পেয়ে যাও, আর আমাকে তোমার মনে না পড়ে তাহলে তো তুমি আসবেই না । আর যদি দুই বছরে তোমার মনে হয়, তুমি আমাকেই চাও, আমিই তোমার সবকিছু, তাহলে চলে এসো এখানটায় ।”
চুপ করে লিলির পুরো কথাটা শুনলো রাহাত । কথা শেষ হওয়ার বেশ খানিকক্ষণ পর ওর মুখে হঠাৎ মৃদু হাসির আভাস পাওয়া গেল । লিলিকে একবার জড়িয়ে ধরার পর সে উঠে দাঁড়ালো । এরপর হাঁটা ধরলো ও । একবারের জন্যও পিছু ফিরে চাইলো না রাহাত । কিন্তু ওর যাওয়ার পাণে তাকিয়ে একজনের হাজারও অশ্রুর ফোঁটা গড়িয়ে পড়তে লাগলো সবুজ ঘাসের ওপর ।
দুই বছর পর..........
লিলি লেকের সামনে পৌঁছতেই রাহাতকে দেখে মুচকি হাসলো । কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
— “অপেক্ষা করার কথা ছিল আমার । এখন দেখছি, তুমিই অপেক্ষা করছো ।”
রাহাত তাকালো লিলির দিকে । সেই চিরচেনা হাসি মুখে রেখেই দাঁড়িয়ে আছে সে ওর সামনে ।
— “অপেক্ষা যে করতেই হলো ।”
লিলি হাসলো ।
— “তারপর বলো, কী বুঝলে এই দুই বছরে?”
রাহাত এগিলে এলো । অস্থির হয়ে বললো,
— “বুঝলাম, আমার শুধু তোমাকেই চাই । এই দু’বছরে যতোগুলোর সাথে প্রেম করেছি, তাদের কারোর কাছেই আমার কোনো গুরুত্ব ছিল না । আমি বুঝেছি, আমাকে যদি একমাত্র কেউ গুরুত্ব দেয়, ভালোবাসে, সেটা তুমি । অন্য কেউ না ।”
লিলি কোনো কথা বললো না । কিছুক্ষণ নীরব থাকলো দুজনেই । লেকের স্বচ্ছ ও স্থির জলের দিকে তাকিয়েই লিলি জিজ্ঞেস করলো রাহাতকে,
— “কত নম্বর ব্রেকআপের পর রিয়ালাইজ করলে এটা?”
— “আ...স..সাত ।”
কিছুটা ইতস্তত করে জবাব দিল রাহাত । তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে রাহাতের মুখোমুখি দাঁড়ালো লিলি ।
— “আমাদের ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল রাহাত । সম্পর্কের শুরুটা তোমার দ্বারাই হয়েছিল । তুমিই একটা সময় আমার প্রেমে পড়েছিলে । আর সেই তুমিই একসময় এসে বললে, আমি পুরনো হয়ে গেছি । সেই তুমিই এই কথাটা বলেছিলে, যেই তুমিটা কি না আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝতো না । সারাক্ষণই বলতো, ‘তুমি আমার কাছে সবসময়ই নতুন থাকবে’ । কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম জানো সামান্য এই একটা বাক্য শুনে? নাহ, জানবে কীভাবে? তুমি তখন আমার থেকে পিছু ছাড়াতে চাইছিলে শুধু । আমাকে আর ভালো লাগছিল না তোমার । তাই আমি তোমাকে মজা করে একটা সলিউশান দিলাম, আর তুমি সেটাকে সিরিয়াসলি নিয়ে চলে গেলে । আমি তো চেয়েছিলাম তুমি ওসব শুনে বলবে, এইরকম ফালতু সলিউশান আমার চাই না লিলি, আমার শুধু তোমাকে পেলেই চলবে । কিন্তু না, তুমি সেটা বলোনি । হাসতে হাসতে চলে গেলে আমাকে ফেলে রেখে । একবারের জন্যও পিছু ফিরে তাকালে না আমার দিকে । আর এখন... আজ আমার কাছে এসেছো শুধু অন্য মেয়েদের কাছে গুরুত্ব না পেয়ে । তোমার এখন গিয়ে মনে হয়েছে আমি তোমাকে বেশি প্রায়োরিটি দেই । আর এটাই তোমার আমার কাছে ফিরে আসার কারণ । ভালোবাসার টানে নয় । তুমি আসলে আমাকে কখনো ভালোই বাসোনি । আমাকেই কেন? কাউকেই বাসোনি । ইভেন তুমি জানোই না ভালোবাসা আসলে কী । ভালোবাসা কখনো পুরনো হয় না, রাহাত । আমি কিন্তু জানতাম তুমি আবার আমার কাছেই ফিরে আসবে । কিন্তু আমি তো তোমাকে ফিরিয়ে নিব না, রাহাত । এমন একটা মানুষকে আমি কখনোই ফিরিয়ে নিব না, যে আমার এতো এতো ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে নতুন কাউকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছিল ।”
হাসি মুখে কথা বলতে শুরু করলেও লিলি কেঁদে ফেলে কথার মাঝখানেই । আর সেই কান্না তীব্র হতে তীব্রতর হয় একটু একটু করে । আর অন্যদিকে রাহাত হতবাক হয়ে এই অন্য এক লিলির মুখের দিকে চেয়ে কথাগুলো শুনে ।
— “লিলি! আ’ম সরি!”
রাহাত এগিয়ে যেতে চায় লিলির দিকে কিন্তু লিলি হাত উঁচু করে থামিয়ে দেয় ওকে । এরপর বলে,
— “বিদায়, রাহাত ।”
বলে আর দাঁড়ায় না লিলি । চলে আসে রাহাতের কাছ থেকে । চোখ মুছতে মুছতে হেঁটে চলে সে । ফিরে তাকায় না আর একবারও প্রাণপ্রিয় সেই মানুষটার দিকে । কেন তাকাবে? এই মানুষটাই যে ওকে কাঁদিয়েছে । খুব কাঁদিয়েছে । প্রতিরাত কাঁদিয়েছে, প্রতিদিন কাঁদিয়েছে ।
লিলির যাওয়ার পাণে তাকিয়ে রাহাত শুধু চেয়ে চেয়ে ওর যাওয়া দেখে । এমনই করে তো সে একদিন চলে গিয়েছিল, লিলির ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে । আজ সেই একই কিন্তু অন্যরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তিই কী ওর প্রাপ্য ছিল না?
সমাপ্ত...(copied)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now