বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তোকেই ভালোবেসে যাবো {3}

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X সন্ধ্যার টিউশনি শেষে খোলা চোখে আমি যখন চারপাশটায় তাকাই একটা ভয় এসে আমার মনে জমা হয়। এই সময়টাতে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে বাবা আর ছোট ভাইটার কথা। কত দিন মায়ের মুখটা দেখি না। আমি যখন ছোট ছিলাম মা প্রায় নানু বাড়ি বেড়াতে যেত। কিন্তু আমি মাকে একা ছাড়তাম না। আমার ভয় করতো। আমি মায়ের সাথে চলে যেতাম। কিন্তু আজ এই শহরটায় আমি অনেক অনেক মাস মাকে ছেড়ে দিন পার করছি। মা তুমি কি জানো তোমার ছেলে কত বড় হয়ে গেছে? তোমার ছেলে কতটা স্বার্থপর হয়েছে? তোমার এই ছেলেটা আজ সবাই কে ছেড়ে একা একা থাকতে পারে। বাবা কাজের তাগিদে প্রায় এই শহর থেকে ঐ শহর চলে যেত। বাবা ছোট খাটো কাপড়ের ব্যবসা করতো। কিন্তু গত চার পাঁচ বছর ধরে বাবার ব্যবসাটা আর নেই। এখন নিজেদের জমি জমা দেখে আর একেক মৌসুমে যা পারে তা চাষ করে। বাসায় এসে দেখি আদনান ভাই সিগারেট ফুকিয়ে ফুকিয়ে টানছে আর পায়চারি করছে। কেমন একটা অস্থিরতা তার চেহারায়। আমি আদনান ভাইকে বললাম “তোমার কি কিছু হয়েছে?” আদনান ভাই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে সিগারেট আবার ফুকতে থাকে। তারপর বললো “ইচ্ছা করে কুত্তার বাচ্চারে খাইয়া ফেলি। অফিস থেকে আসার সময় আজ এতা বছর পর নাদিয়ার সাথে আমার দেখা হয়েছে। মেয়েটা একদম ভালো নেইরে অনেক শুকিয়ে গেছে। কেমন আছি, কি করি এখন, টুকটাক কথা আমাকে জিজ্ঞেস করে। হঠাৎ ওর হাতে আমি দাগের চিহ্ন দেখে যখন জিজ্ঞেস করলাম এটা কিসের দাগ? ও লুকাতে চেষ্টা করলো। বললো কিছু না। ও মিথ্যা বললে আমি কেমন করে বুঝে ফেলতে পারি জানিস। তারপর আবার বলাতে ও বললো প্রায় ওর স্বামী ওরে মার ধর করে। আমি তখন চুপ করে ছিলাম কিছু বলতে পারি নাই। আমার ভিতরটা তখন পুড়ে যাচ্ছিলরে। ওর তিন বছরের বাচ্চাটাকে যখন আমি কোলে নিলাম আমার ভিতর কি যেন একটা বয়ে গেছে। চাকরি বহুত খারাপ জিনিসরে। এটা মানুষকে বদলে দিতে পারে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। যেদিন ওর বিয়ে হয় ঠিক সাত দিন পর আমার চাকরিটা হয়। কপালটা দেখছিস? তখন আমি ওরে বলতে পারি নাই “চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো?” আদনান ভাই এই কথা বলে আবার সিগারেট ফুকিয়ে ফুকিয়ে টানতে থাকে। আমি একটা অদ্ভুত বিষণ্ন মন নিয়ে নিজের রুমে আসি। জানালাটা খুলে দেই। দক্ষিনের হাওয়াটা মাঝে মাঝে আমার খুব ভালো লাগে। ছোট ভাই ফরহাদের চিঠিটা এখনও পড়া হয়নি। মিথিলা সাদমানের কাছে যেদিন চলে গেলো তার কয়েকদিন পর থেকেই আমি কত কাগজ নষ্ট করেছি লিখে লিখে। এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাব। ক্লাসে মিথিলাকে দেখেও না দেখার ভান করে থাকি এখন আমি। আমি বিছানায় শুয়ে বালিশের নিচ থেকে ছোট ভাইয়ের চিঠিটা খুললাম। গোটা গোটা অক্ষরে কয়েক লাইন বিশিষ্ট চিঠি। আমার ভাইটা ক্লাস ছয় এ পড়ে এখন। . প্রিয় ভাইয়া, প্রথমে ভালোবাসা নিও। কেমন আছো? তোমার শহরটা কি অনেক বড়? তোমার শহরে কি অনেক অনেক মানুষ? সে সব মানুষের সাথে মিশে আমাদের ভুলেই গেছো। তোমার শহরটায় একদিন নিয়ে যাবে? ঐ শহরের ভোরের কাক দেখবো, দেখবো তোমার ব্যস্ত শহরের মানুষ গুলোকে। কয়েকদিন পরেই ঈদ। কবে আসবা? কত কিছু ভেবে রেখেছি। তোমার সাথে ঘুরবো, পুকুরে গোসল করবো, দুই ভাই মিলে মাছ ধরবো। তুমি আমি আর বাবা মিলে ঈদের নামাজ পড়বো। রাত্রে বেলা তোমায় জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকবো। চিঠি লিখতে আমার ভালো লাগে না। আজকাল কেউ চিঠি লিখে? আমি জেনিয়া আপুকে এটা বুঝাতে পারি না। কিন্তু জেনিয়া আপু জোর করে আমাকে দিয়ে লিখিয়েছে। চিঠি লেখার মধ্যে নাকি একটা অনুভুতি আছে। এসব অনুভুতি আমি বুঝিনা। আম্মা প্রায় রাত্রে বেলা ঘুমের মাঝে চিৎকার দিয়ে ওঠে তোমার জন্য। বলে আমার ছেলেটা ভালো নেই। ভাইয়া তুমি কি অনেক ভয় পাও? [দয়া করে একই মন্তব্য বার বার করবেন না]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তোকেই ভালোবেসে যাবো {3}

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now