বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অন্ধকার ঘরে সন্ধ্যার আলোর মাঝে আমি যখন
একলা হয়ে বসে থাকি তার একটু পরেই আদনান ভাই
রুমের ভিতর প্রবেশ করে আলো জ্বালিয়ে
বলে “অন্ধকার ঘরে কি করিস তুই?” আমি আদনান ভাই
এর দিকে তাকাই। আমার তাকানো দেখে আদনান ভাই
কাছে এসে আমার চোখ গুলোর দিকে তাকিয়ে
বলে “কিরে তোর এই অবস্থা কেন? মিথিলার কথা
আবার মনে পড়েছে?” আমি মাথা দিয়ে না সূচক ইশারা
দিয়ে বলি “ও ফোন করেছিল। এতোদিন তো ওর
সাথে কথা হতো না। যখন ইচ্ছা করতো ওর সাথে
কথা বলার বা ওর কথা মনে পড়তো তখন না চাইতেও
ওর আইডিতে ঢুকে ছবি গুলো দেখতাম। নতুন ছবি
আপলোড করলে মন্তব্য করতাম। কিন্তু এখন আর
সেটাও হবে না। ও বন্ধুত্তের তালিকা থেকে
মুছে দিতে বলেছে। সাদমান ব্যাপারটা পছন্দ করে
না। কিন্তু আমি ওকে ব্লক করে দিয়েছি। ভালো
হয়েছে না?” আমার কথা শুনে আদনান ভাই
সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট
ধরিয়ে দু তিনটা ফু দিয়ে আমাকে বলে “সালার
ভালোবাসা ভালোবাসা খেলাটা জীবনটা হেইল করে
দিছে। এই ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু বুঝস না?” আমি
কিছু বলি না। আদনান ভাই রুম থেকে চলে যায়। এই
মানুষটাও এক সময় একজনকে ভালোবাসতো তা
আমি খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু কাউকে কিছু
বলে না। বুঝতে দেয়না।
.
মিথিলার সাথে আমার পরিচয় ভার্সিটিতে। কি মিষ্টি করে
কথা বলে মেয়েটা। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার প্রায়
কয়েকমাস ওকে দেখতাম ও একা একা বসে
থাকতো ক্যাম্পাসে। আমার মনে হতো সব সময়
মেয়েটার মন খারাপ থাকে। একদিন ওর কাছে গিয়ে
আমি বললাম “তোমার কি মন খারাপ?” সে আমার দিকে
তাকিয়ে মাথা নেড়ে না সূচক ইশারা দেয়। আমি বললাম
“একটু বসি?” সে চুপ করে হ্যাঁ সূচক ইশারা দিয়ে
বসতে বলে। ঐদিন তার সাথে আমি অনেক কথা
বলেছিলাম। তাকে জিজ্ঞেস করি এইভাবে বসে
থাকো কেন? সে এই ব্যাপারে কিছু বলে না। আমি
তাকে আমার সম্পর্কে বলি। এই যে এই শহরে
আমি একা থাকি। পড়ালেখার পাশে কয়েকটা টিউশনি
করি। আমার গ্রামের কথা বলি। গ্রামের সবুজ ধান
ক্ষেত, বিলে মাছ ধরা, বাঁশের সাঁকোতে হাটার কথা।
চাঁদনি রাতে বাড়ির উঠানে বসে ভৌতিক গল্প করার কথা
বলি। এরপর থেকেই সে প্রতিনিয়ত আমার সাথে
কথা বলতো। হাটতো। ঘুরতো। যতক্ষন আমার
সাথে থাকতো আমি চেষ্টা করতাম তাকে
প্রফুল্লতার মাঝে রাখতে। কিন্তু কখনও বুঝতে
পারতাম না তার বিষণ্নতার কারণ। মিথিলার মাঝে যে
নিরবতার আভাস বিরাজ করতো আমি সেটা একটা সময়
তেমন আর দেখতে পেতাম না। আমি তাকে
ইতস্তত হয়ে একবছর পর একদিন জানাই “জানো
মিথিলা যতদিন তোমার সাথে আমার সময় অতিক্রম
হচ্ছে আমার কেন যেন খুব ভালো লাগে।” সে
একটা হাসি দেয়। তার হাসির মাঝে কি যেন একটা ছিল।
সে আমাকে বলে “জানো জাহেদ এই ব্যস্ত
শহরে মানুষের মন কখন বিষণ্ন হয়? এই যে তুমি
আমাকে প্রায় বলো আমার মন খারাপ কিনা। আমি তখন
তোমাকে কিছু বলি না। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে
পৃথিবীর তৈরি করা নিয়ম আর সময়কে অবজ্ঞা করে
একেবারেই হারিয়ে যাই। কিন্তু জানো পৃথিবীর এই
তৈরি করা সময় আমাকে তার মাঝে আটকে রাখে।
সাদমানকে আমার ভালো লাগে। ছেলেটাকে
কেন যেন আমার খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।
এই ইচ্ছেটা যখন তার কাছে নিয়ে গেলাম সে
আমার ইচ্ছাকে ফিরিয়ে দেয়। আমার খুব কষ্ট হয়।
আমি মানুষটা দেখতে কি খুব খারাপ?” আমি চুপ করে
ছিলাম। আমার চুপ থাকা দেখে সে আবার বলেছিল
“আমার সাথে সময় অতিক্রম করতে তোমার কেন
ভালো লাগে? আমাকে ভালোবাসতে শুরু
করেছো? এমনটা কখনো করবে না কেমন?
আমি মানুষটার ভিতর অনেক কষ্ট।” আমি এই কথার কি
উত্তর দিব ভেবে পাইনি। একবার বলতে
চেয়েছিলাম “তোমার হাজার হাজার কষ্ট গুলোকে
আমার মাঝে ভাগ করে নিতে পারবো মেয়ে।
কিন্তু কথাটা বলার এই অধিকার রাখি না আমি। এরপর
অনেকটা দিন কেটে গেছে। অদ্ভুত সেই
কাটিয়ে দেওয়ার দিনে আমার ঘুমন্তবোধে
অজান্তেই মিথিলা হাজির হয়। আমার সেই ঘুমে একা
একা তাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করি। যে ভাবার মাঝে
বৃষ্টি কিংবা ধমকা বাতাস আমাকে বেধে রাখতে
পারেনা। একদিন ক্লাস শেষ করে আমি যখন মিথিলার
কাছে গেলাম সে আমাকে দেখে বলেছিলে
“দেরি করলে যে?” আমি তাকে বলি “ক্লাস শেষ
করেই সোজা এখানে চলে আসছি। ক্লাস করোনি
কেন? সে অনেকক্ষন চুপ করে ছিল। আমি তার
চুপ থাকার কারণ বুঝতে পারি না। তারপর ইতস্তত হয়ে
নিচের দিকে তাকিয়ে বলে “আমাকে কেন যেন
কেউ ভালোবাসে না। ভালোবাসার অধিকার কি আমার
নেই?” তারপর সে আবার চুপ করে থাকে। আমিও
নিশ্চুপ হয়ে তার মায়ামায়া চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকি।
তার এই কথা শুনে আমার ভিতর জুরে নীল আলো
ছড়িয়ে যায়। আমি তাকে বললাম “তোমার আকাশে
আমি যদি কাক হয়ে ঘুরে বেড়াই তুমি কি খুব বিরক্ত
হবে?” সে অনেকটা অবাক হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে থাকে। আমার এই কথার ধরন নিশ্চয় মিথিলা
বুঝতে পেরেছিল। আমি আকাশের দিকে তাকাই।
বিকেল বেলার আকাশটা থমথমে ছিল। এই থম থম
আভাসটা জানান দিচ্ছিল এক বর্ষন মুখর বিকেল। সে
আমাকে তার আকাশে কাক হয়ে ঘুরার অনুমতি না
দিলেও আমি তার চোখ দেখে বুঝতে
পেরেছিলাম তার আকাশটা আমার। তারপর থেকেই
ওকে আমি আমার সমস্থ কিছু দিয়ে ভালোবাসতে
শুরু করলাম। আমার পথ চলা থেকে শুরু করে
ঘুমানোর আগ পর্য্নত আমার ছায়ার মাঝে তাকে
অনুভব করতাম। কিন্তু এই ভালোবাসাটা কেন যেন
আমার জন্য ছিল না। কত সুর এসেও আমার থেকে
হারিয়ে যেতে শুরু করলো। কোন এক ক্লান্ত
দুপুরে সে অদ্ভুত মায়া মায়া চোখ নিয়ে বললো
“গতকাল সাদমান আমাকে প্রপোজ করেছে। আমার
না অনেক কষ্ট হয়েছিল। আমি তাকে কিছু বলিনি।
ভালোবাসা এমন কেন বলো তো? তাকে আমার কি
বলা উচিৎ?” আমি চুপ করে থাকি। আমার বেলা শেষে
আকাশটার নীল রংটাকে কালো মেঘে ঢেকে
দেয়। আমার প্রশান্ত কল্পনার চোখে যন্ত্রনার
শব্দ বাসা বাধে। এক একটা শব্দ আমার চোখ
থেকে জল বের করে নিয়ে আসতে চায়। আমি
কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তার চোখের
মাঝে সাদমানের প্রতি অগাঢ় ভালোবাসা আমি খুঁজে
পাচ্ছিলাম। তারপর আমি তাকে বললাম “তোমাকে
একটা কথা বলি?” সে মাথা দিয়ে হ্যাঁ সূচক ইশারা দেয়।
আমি খুব গম্ভীর হয়ে বললাম “তুমি যখন সব সময়
বিষণ্ন হয়ে থাকতে আমার কেন যেন খুব খারাপ
লাগতো। আমার প্রিয় বন্ধুটা আমার চোখের সামনে
এইভাবে ঘোরাঘুরি করতো আমাকেও যেন একটা
বিষণ্নতা ছুয়ে যেত। কিন্তু তুমি যখন হঠাৎ একদিন
বললে তোমাকে কেউ ভালোবাসতে চায় না তখন
আমি তোমাকে ভালোবাসার কথা বলি। কিন্তু বিশ্বাস
করো তোমাকে আমি বন্ধু ভাবা ছাড়া একটুও
ভালোবাসিনি। কিভাবে ভালোবাসতে হয় আমি জানি না।
তোমার মনটাকে বিষণ্ণতা গ্রাস করে ফেলুক আমি
চাইতাম না। তাই আমি কিছু না ভেবে তোমাকে এই
বিষণ্ন থেকে ভালো রাখার জন্য একটা ভালোবাসার
নিছক অভিনয় করেছি মাত্র। তার জন্য আমি দুঃখিত।”
তারপর মিথিলা আমার সাথে খুব রাগ দেখিয়ে চলে
গিয়েছিল। যাওয়ার সময় বলেছিল “তোমরা ছেলেরা
এমন কেন? সবকটা স্বার্থপর” প্রিয় মিথিলা আমি
ছেলেটা কেমন জানি না। তবে আমি ছেলেটা
আসলেই স্বার্থপর। স্বার্থপর না হলে এমন কাজ
কেউ করে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে
অন্যের হাতে দিয়ে দিতে? আমার জীবনের সব
আলপনার মাঝে ভালোবাসার ছোয়া কখনও কি একটুও
খুঁজে পাওনি তা জানতে খুব ইচ্ছে করে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now