বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টোকায়ের ভালোবাসা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ------------------------- -মা মা ওমা কোথায় তুমি? খুব ক্ষুদা লাগছে কিছু খেতে দাওনা মা![কাদঁ থেকে ব্যাগটা খুলতে খুলতে মাকে বললাম] . -টেবিলের ওপর একটা বাক্সে মুড়ি রাখা আছে এগুলো খেয়ে নে।[মা] . -প্রতিদিন দু-বেলা করে মুড়ি খেতে আর ভালো লাগেনা। অন্যকিছু থাকলে দাওনা মা![আমি] . -দেখ পাভেল আজকে বেশি কাজ করতে পারিনি। বাজার করবো কি দিয়ে এই চিন্তায় এমনিতেই কিছু ভালো লাগছে না। যা আছে খেয়ে নে।[ঘর ঝাড়ু দিতে দিতে] . -প্রতিদিন এক খাবার আর ভালো লাগেনা। তুমি খেয়ে নিও আমি আর এসব খাবার খাবোনা।[রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে] . -পাভেল যাসনা বাবা। খেয়ে যা যাসনা[পিছন থেকে ডেকে ডেকে]। . আম্মুর কথা শুনেও দাড়ালাম না। একেবারে চাচার চায়ের দোকানের সামনে এসে দাড়ালাম। প্রতিদিন একি খাবার খেতে আর ভালো লাগছে না। . ও আপনাদের তো বলায় হয়নি। আমি পাভেল। তবে এলাকার সবাই টোকাই পাভেল বলেই ডাকে। বর্তমানে এলাকার একটি সরকারী কলেজে লেখাপড়া করছি। . এতোক্ষনে হয়তো বুঝে গেছেন আমি গরিব ঘরের সন্তান।প্রতিদিন তিন-বেলা খেতে পারিনা। প্রায়ই দু-বেলা মুড়ি খেয়ে থাকতে হয়। . আর মাঝে মাঝে চাচার দোকানের চা খেয়ে দিন পার করে দেয়। আজকেও হয়তো এর ব্যতিক্রম হবেনা। . -কি ভাতিজা। আজকেও মায়ের ওপর অভিমান করে না খেয়ে চলে এসেছো?[চাচা] . -জ্বী। একি খাবার প্রতিদিন খেতে কারো ভালো লাগে বলেন?[মাথা নিচু করে] . -কি করবে ভাতিজা গরীব ঘরে জন্ম নিয়েছো। কষ্ট করেই জীবনটাকে প্রতিষ্টিত করতে হবে।[চায়ের কাপটা সামনে এগিয়ে দিয়ে] . চায়ের কাপে চুমুক দিতেই মাথার মধ্যে কারো হাতের র্স্পশ পেলাম। পিছনে থাকিয়ে দেখি মা দাড়িয়ে আছে। . -বাবা রাগ করছিস? চল বাড়ি চল বাবা।[মা] . -না যাবোনা! তুমি যাও আমি পরে আসছি।[আমি] . -ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি চলে আসিস বাবা। চুলার ওপর ভাত বসিয়ে রেখে এসেছি।[মা] . -ঠিক আছে। তাড়াতাড়িই আসবো।[মায়ের দিকে তাকিয়ে] . মা চলে গেলে আরো কিছুক্ষন চাচার সাথে আড্ডা দিলাম। চাচার চায়ের দোকানের বিল দিতে চাইলেও চাচা নেননা। . -আচ্ছা চাচা। আপনি আমার কাছ থেকে বিল নেননা কেনো? [অনেকটা অবাক হয়ে জিঙ্খেস করলাম] . -তোমার মা প্রতি মাসের শেষে বিলের টাকা দিয়ে যায় এসে। আর একথা তোমাকে বলতেও মানা করছিলো তোমার মা।[চাচা] . চাচার কথা শুনে চায়ে চুমুক দেয়া বন্ধ হয়ে গেলো। একদৃষ্টিতে চাচার দিকে তাকিয়ে রইলাম। . -কি হলো ভাতিজা এই ভাবে কি দেখছো।[চাচা] . -না চাচা কিছুনা। আজ তাহলে আসি। চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর রেখেই বাড়ির দিকে গেলাম। . বাড়ির কাছে যেতেই কি রকম একটা মাংসের গন্ধ পেলাম। মাকে দেখলাম চুলার কাছে বসে আছে। আমি আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে মায়ের কাছে গিয়ে জিঙ্খেস করলাম- . -মা আজকে কি রান্না করছো যে এতো গন্ধ আসছে?[মাকে ঝরিয়ে ধরে বললাম] . -তোর না রোজ রোজ মুড়ি খেতে ভালো লাগেনা? তাই আজকে মাংস রান্না করছি! তুই হাত মুখ ধুয়ে আয় আমি খাবার রেডি করছি![অনেকটা হেসে] . আমি অনেকটা দৌড়ে গিয়ে কোনোমতে হাত-পা গুলো ধুয়ে বিচানার ওপর ওঠে বসলাম। কিছুক্ষন পর মা আসলো খাবার নিয়ে। . -এই নে খা।[অনেকগুলো মাংস দিয়ে] . -তুমি খাবেনা মা?[খেতে খেতে বললাম] . -পরে খাবো তুই খা! বলেই মা পাশের রুমে চলে গেলো . আমি কিছু না ভেবেই নিশ্চিতে খেতে লাগলাম। হঠাৎ করেই মনে হলো মা মাংস কিনার টাকা পেলো কোথায়? আজ তো কাজে যায়নি তাহলে টাকা আনলো কোথায় থেকে! বাবাও তো টাকা পাটায়নি! . -মা ওমা কোথায় তুমি?[জোরে জোরে ডেকে ডেকে] . অনেকবার ডাকার পরও মায়ের কোনো সাড়া পেলাম না। তাই খাবার বিচানায় রেখেই পাশের রুমে গেলাম। একি মা কাঁদছে কেনো? . -মা তুমি কাঁদছো কেনো? বুঝেছি আব্বুর কথা মনে হয়েছে তাই কাঁদছো? [অশ্রুলিক্ত চোঁখে] . -কে এ এ। ও পাভেল? কি হলো খেতে ভালো লাগছে না বাবা তোর।[এক হাতে চোঁখের জলগুলো মুচার চেষ্টা করে] . কিন্তু এটা কি! মায়ের হাতের বালা দুটো হঠাৎ করেই গেলো কোথায়? সকালেও তো হাতে বালা দুটোকে দেখেছি। . -মা তোমার হাতের বালা দুটো গেলো কোথায়?[অবাক দৃষ্টিতে হাতের দিকে তাকিয়ে] . -না মানে ওই আরকি আছে লুকিয়ে রেখে দিয়েছি।[কান্না করে] . -লুকিয়ে রাখলে তো কান্না করার কথা না। মা কি হলো ও মা মা বলো না গো মা। [কান্না করে] . -এগুলো বিক্রি করে তোর জন্য মাংস.......! পুরোটা বলার আগেই মা আমাকে ঝরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। . -কে বলেছিলো এই গুলো বিক্রি করতে হা? আমি চাইনা মাংস। আমি চাইনা ভালো খাবার।আমি শুধু তোমাকে চাই মা তোমাকে। মা ও মা। আমাকে ক্ষমা করে দাও মা। . আমি আর কোনদিন ভালো খাবার চাইবো না। মা আমাকে ক্ষমা করে দাও। দরকার হলে না খেয়ে থাকবো।[মাকে ঝরিয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে] . -পাভেল তুই কাদছিস কেন বাবা? তোর কান্না আমি মা হয়ে সহ্য করতে পারবোনা।[আমার চোঁখের জলগুলো মুচতে মুচতে] .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টোকায়ের ভালোবাসা---০২
→ টোকায়ের ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now