বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন মানুষ গুনাহ করছে আর সে গুনাহ তাকে জান্নাতে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকজন ভালো ভালো কাজ করছে কিন্তু সে কাজ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছে।
.
অদ্ভুত লাগে না শুনতে?
.
আমাদের একজন সালাফ এমনটাই বলেছেন।
তাকে এ অদ্ভুত ব্যাপার কীভাবে হওয়া সম্ভব জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা ব্যাখ্যাও করেছেন।
.
ইবনুল কায়্যিম (রহ) তার বইয়ে সে ব্যাখ্যার কথা লিখেছেন এভাবেঃ—
“কেউ একটা গুনাহের কাজ করে ফেলতে পারে।
আর তারপর সে গুনাহ নিয়েই সবসময় ভাবতে থাকে।
দাঁড়ানো কিংবা বসা অবস্থায়, এমনকি চলাফেরার সময়েও তার সে গুনাহের কথা মনে পড়ে যায়।
তখন সে লজ্জিত হয়।
তওবা করে।
(আল্লাহর কাছে) ক্ষমা চায় আর প্রচণ্ড অনুশোচনায় ভুগে।
আর (এ অনুশোচনাই) একসময় তার নাজাতের উসীলা হয়ে যায়।
আবার কেউ একটা ভালো কাজ করতে পারে আর সে কাজ নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।
উঠতে, বসতে, হাঁটাচলার সময় তার সেই ভালো কাজের কথা মনে হয়।
এভাবে আত্মপ্রশংসা আর অহংকার দ্বারা তার মন পূর্ণ হয়।
শেষ পর্যন্ত (এ ভালো কাজই) তার সর্বনাশের কারণ হয়।
তাই কখনো কখনো গুনাহই বান্দাকে অনেক ভালো কাজ ও ইবাদতের দিকে নিয়ে যায়।
তার আচরণ বদলে যায়।
যার ফলে সে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহর সামনে লজ্জিত হয় এবং বিনয় প্রকাশ করে।
লজ্জায় তার মাথা নত হয়ে যায়, অনুশোচনায় সে অনেক কান্নাকাটি করে আর তার রবের কাছে ক্ষমা চায়।
এ প্রত্যেকটি কাজই ঐ ব্যক্তির জন্য উত্তম তার সেসব ইবাদতের চেয়ে যা তাকে অহংকারী করে, মানুষের সামনে নিজেকে জাহির করতে উব্ধুদ্ধ করে আর মানুষকে নীচু করে দেখার মানসিকতা তৈরী করে।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর সামনে ঐ (পাপীর) গুনাহই বেশি উত্তম, ঐ গুনাহই নাজাতের উসীলা হয় সে ব্যক্তির ভালো কাজের চেয়ে—যে নিজের প্রশংসা করে, মানুষকে ছোট করে দেখে আর ভাবে যে সে আল্লাহর অনেক বড়ো খেদমত করে ফেলেছে।
যদিও তার কথায় এমন কিছু প্রকাশ পায় না।
কিন্তু আল্লাহ জানেন তার অন্তরে কী আছে।
এ ধরনের ব্যক্তি সেসব মানুষের ব্যাপারে বিদ্বেষ পুষে রাখে যারা তাকে অনেক সম্মান দেয় না আর তার সামনে হুজুর হুজুর করে না।
সে যদি নিজেকে মন থেকে পরখ করে, তবে (এ কথার সত্যতা) স্পষ্ট দেখতে পাবে।”
(মাদারিজুস সালেকীন, ১/৩০৭-০৮)
.
রাসূল (সা) তাই বলেছেন,
“বান্দা পাপ করবে, আর আল্লাহ তাকে এর জন্য জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
সাহাবিগণ অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! পাপ কেমন করে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে?”
রাসূল (সা) বললেন, “সে পাপ (সারাক্ষণ) তার চোখের সামনে ভেসে বেড়াবে, ফলে সে (এ ধরনের পাপ থেকে) পালিয়ে বেড়াবে এবং এর জন্য তওবা করতে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত এ পাপই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।”
(কিতাবুয যুহদ, হাদিস নং ২১৯)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now