বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তখন চলতে ছিল আষাঢ়
মাস। আষাঢ় মাস
ভ্রমনের জন্য
মোটেও সুবিধার নয়।
যখন তখন বৃষ্টির ফলে
রাস্তা-ঘাট
কাদায় সয়লাব হয়ে
থাকে। তারপরও আমাকে
যেতে
হয়েছিল। কথা ছিল
ভ্রমন সংঙ্গি হিসাবে
আমার
বাল্যবন্ধু ইমরান
থাকবে। কিন্তু যাবার
আগের দিন ইমরান
আমাকে চৌধুরী
সাহেবের বাড়ি যাবার
বিস্তারিত
ঠিকানাটা হাতে
ধরিয়ে দিল। করুন গলায়
বললো, দোস্ত
প্লিজ তুই একা গিয়ে
ঘুরে আয়। আমার অফিসের
জরুরী
কাজে আমাকে চট্রগ্রাম
যেতে হবে। কণে তোর
পছন্দ
হলে পরের বার আমি আর
তুই যাব।
ওর এমন অনায্য দাবী
শুনে আমি যেন আকাশ
থেকে
পড়লাম। সাথে সাথে
তির্ব প্রতিবাদ করে
বললাম, এটা
তোর খুব বাড়াবাড়ি
হয়ে যাচ্ছে। তুই জানিস
আমি কেমন।
আমার পক্ষে কিছুতেই
অপরিচিত জায়গায় একা
যাওয়া
সম্ভব নয়। আর নিজের
পাত্রী দেখতে যাব
নিজেই! ছিঃ
কেউ একা কণে দেখতে
যায়?
আমার ভৎসনায় ওরে খুব
বিচলিত দেখায়। ও ভাল
করেই
জানে মেয়েদের
ব্যাপারে আমার
সিমাহিন অস্বস্তির
কথা। ২৮ বছর পেরিয়ে
যাবার পরও মেয়েদের
ব্যাপারে
আমার লাজুকতা ভয়াবহ
পর্যায়ে। কিন্তু
ইমরানের নানা
যুক্তির কাছে, আর সারা
জীবনের সবচেয়ে
কাছের বন্ধুর
দাবীর কাছে পরাজয়
হয় সব কিছুর। আমি
গিয়ে ছিলাম
কুসুমপুর। তার গল্পই বলব
আজ।
সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল
খুব। রেলের কাচের
জানালা দিয়ে
সেই বৃষ্টি দেখতে
দেখতে ঘুমিয়ে পড়ে
ছিলাম। কতক্ষন
ঘুমিয়ে ছিলাম আমি
জানিনা। রেল যখন
ঝাকুনি দিয়ে
থামল ধরমর করে
উঠলাম। ততক্ষনে
বেশিরভাগ যাত্রী
নেমে গিয়েছে।
বৃষ্টিপাত তখনও
চলতেছিল। দৌড়ে
প্লাটফর্মে ঢুকলাম বটে
তবে শরীরের বেশ
কিছুটা ভিজে
গেল আষাঢ়ের বৃষ্টিতে।
ষ্টেশন মাষ্টারের
কক্ষের
সামনে দাড়িয়ে ভিজে
যাওয়া চশমার গ্লাস
পরিস্কার
করলাম। কেমন যেন
ঝাপসা দেখছি সব।
মাথাটাও
ঝিমঝিম করছে। টানা
সাত ঘন্টার রেল
ভ্রমনের
ক্লান্তিতে এমনটা
হয়েছে বোধহয়।
ষ্টেশন মাষ্টারের
কক্ষটা বহুদিন চুনকাম
করা হয়নি।
অনেক জায়গায়
প্লাস্টার উঠে গিয়ে
লাল ইট বেরিয়ে
আছে। স্যাতসেতে
দেয়াল। ষ্টেশন
মাষ্টারের চেয়ারের
বাম পাশে একটা
কাঠের আলমারী।
আলমারীর দরজা
আটকানো থাকলেও
আলমারীর উপরে পুরাতন
রেজিষ্টার
খাতা আর ময়লা
ফাইলের স্তুব। ষ্টেশন
মাষ্টারের
চেয়ারের একটা হাতল
নেই। তেল চিটচিটে
হয়ে
চেয়ারটা তার আসল
চেহারাটা হারিয়ে
ফেলেছে।
ভদ্রলোকের গায়ের রং
কালো। বয়স ৫০বছরের
বেশি হবে।
গালে বিশ্রি একটা
কাটা দাগ। তবে গোফটা
বেশ ভারি।
যতœ করে গোফটাকে
কামিয়েছেন ষ্টেশন
মাষ্টার।
আমি তাকে সালাম
দিলাম । তিনি
বিরক্তিভরা দৃষ্টিতে
আমার দিকে তাকালেন।
টাই পরা সুশ্রী আমাকে
অন্যরা
সমিহ করলেও তিনি
আমাকে যেন খেয়ালই
করতে চাইল
না। গলা পরিস্কার করে
আমি তাকে কিছু বলতে
গেলাম
ঠিক তখনি সে মাথা
ঘুরিয়ে বললো, ঢাকার
ট্রেন
আগামীকাল সকাল
৯টায়।
- আমি কিছুক্ষন আগের
ট্রেনে ঢাকা হতে
এসেছি। এসেই
একটা ভয়ানক সমস্যায়
পড়েছি। কথা ছিল শরিফ
চৌধুরীর
লোকজন আমার জন্য
গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা
করবেন। কিন্তু
এখন ষ্টেশনে কাউকে
খুজে পাচ্ছিনা। এমনকি
কোথাও
একটা রিকশাও পেলাম
না।
আমার কণ্ঠে অসহয়ত্ব
প্রকাশ পেলো। কিন্তু
ষ্টেশন
মাষ্টার বেশ
নির্বিকার ভাবে
বললো, জমিদারী চলে
গিয়েছে ৪০ বছর আগে,
কিন্তু ওনার ডাট কমে
নাই!
আমি তাজ্জব হয়ে
গেলাম ষ্টেশন
মাষ্টারের ধৃষ্টতা
দেখে। বিস্ফোরিত
চোখে প্রশ্ন করলাম, কি
বলছেন এসব?
আমার কথার উত্তর না
দিয়ে তিনি বললেন,
চৌধুরী
সাহেবের বাড়িতো
মহল্লার শেষ মাথায়।
তাছাড়া দু’দিন
ধরে যেভাবে বৃষ্টি
হচ্ছে তাতে রাস্তায়
হাটু পানি জমে
গেছে। চৌধুরী সাহেব
আপনার জন্য একটা
রিকশা
পাঠিয়ে ছিলেন, তবে
রেল দুই ঘন্টা লেট করে
আসায় আর
তুফান থাকায় সে হয়ত
চলে গিয়েছে।
আমি হাতঘড়িতে চোখ
রাখলাম, রাত ১০টা
বেজে ৩৬
মিনিট। গ্রামে অবশ্য
সাড়ে দশটাই অনেক
রাত। আর সেটা
যদি হয় ঝড় বৃষ্টির রাত!
ওয়েটিং রুমের
বেঞ্চিতে এসে বসে
পড়লাম। ভারি
ক্লান্তি লাগছে।
পেটের ভেতর খিদেরাও
আক্রমন
চালাতে শুরু করে
দিয়েছে। অসহ্য লাগতে
ছিল। বুঝতে
পারছিলাম না কি করে
এই অনাকাঙ্খিত বিপদ
হতে
উদ্ধার পাবো। বন্ধু
ইমরানের চৌদ্দ্যগুষ্টি
উদ্ধার করতে
লাগলাম। বার বার ঘড়ি
দেখতে ছিলাম।
সেকেন্ডের
কাটা গুলি যেন ঘন্টার
কাঠা হয়ে গেল, সময়
কাটতে
চাইছিল না। তারপরও
বসে বসে একঘন্টা
কাটিয়ে দিলাম,
কিন্তু বৃষ্টি থামার
কোন লক্ষন দেখলাম না।
দেয়ালের
পেরেকের সাথে
হারিকেন ঝুলিয়ে রাখা
হয়েছে।
বাতাসে হারিকেনের
আলো কাঁপছে। ঘোলা
কাচের
ভেতর থেকে লাল
ফ্যাকাসে আলো গভির
অন্ধকারের
কাছে তেমন পাত্তা
পাচ্ছেনা।
ওয়েটিং রুমে এখন আর
কেউ নেই আমি ছাড়া।
বাইরের
বৃষ্টির শব্দ আর রাতের
নিঃসঙ্গ নিজর্ণতা
মিলে ভৌতিক
পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
আমার গা ছমছম করছিল।
ভয়
পাচ্ছিলাম। মনে
হচ্ছিল অচেনা
পৃথীবিতে চলে এসেছি
আমি। জানালা দিয়ে
বাইরের নিকষ কালো
অন্ধকার
ঘরে ঢুকছে। ভয়াবহ এমন
সময়ে হঠাৎ মনে পড়ল
আরে আমার
কাছেতো চৌধুরী
সাহেবের বাসার
নাম্বার আছে! কি
বোকাই না আমি! উঠে
দ্রুত ষ্টেশন মাষ্টারের
কক্ষের
দিকে ছুটলাম। হতাশ
হলাম, কক্ষে তালা
ঝুলছে। দুরে
একজন প্রহরীকে
দেখলাম সিমেন্টের
বেঞ্চে গুটিসুটি
মেরে ঘুমুচ্ছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now