বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৭
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)
X
তিতুনি কী করবে সেটা নিয়ে এক মুহূর্ত চিন্তা করল, তারপর হাত বাড়িয়ে এলিয়েন তিতুনিকে খপ করে ধরে ভেতরে টেনে আনল। সে যে ফ্রকটা পরে আছে এলিয়েন তিতুনিও একই ফ্রক পরে আছে, কাজেই দুইজন বদলাবদলি করলে কেউ ধরতে পারবে না।
তিতুনি এলিয়েন তিতুনির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে
বলল, “তুমি ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকো। বের হয়ো না।” এলিয়েন তিতুনি মাথা নেড়ে রাজি হয়ে গেল, যেন এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। সব বাসাতেই যেন দুইটি করে তিতুনি থাকে, একজন বাইরে কথাবার্তা বলে আরেকজন ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকে।
ঘর থেকে বের হয়ে তিতুনি টোটনের কাছে গেল, টোটন হাঁচড় পাঁচড় করে কোনোভাবে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তিতুনি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করতে করতে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে? ভাইয়া তোমার কী হয়েছে?”
টোটন তিতুনিকে দেখে কেমন যেন ভয় পেয়ে ঝটকা মেরে তিতুনির হাতটা সরিয়ে একটা লাফ দিয়ে সরে গেল, তোতলাতে তোতলাতে বলল, “তু-তু-তু-তুই! তু-তু-তুই?"
“আমি?” তিতুনি কিছুই বুঝতে পারে নাই সে রকম ভান করে বলল, “আমি কী?”
ততক্ষণে আব্বু আর আম্মুও ছুটে চলে এসেছেন।
ভয় পাওয়া গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে?” তিতুনি বলল, “জানি না।”টোটন তিতুনির দিকে আঙুল তুলে বলল, “তি-তি-তি...” কিন্তু কথাটা শেষ করল না, সে যে তিতুনি বলার চেষ্টা করছে সেটা বুঝতে অবশ্যি কারো সমস্যা হলো না।
আম্মু জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে তিতুনির?”
টোটন এবার খানিকটা সামলে নিয়েছে। তিতুনিকে দেখে সে কেমন জানি ভয় পেয়ে গেল, একটু সরে গিয়ে বলল, “দু-দুইটা তিতুনি।"
কথাটার অর্থ তিতুনি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারল না। তিতুনি অবশ্য তার আব্বু আর আম্মুর মতো ভান করল সেও টোটনের কথাটার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছে না। বলল, “দুইটা আমি?” “হ্যা”, টোটন বলল, “তুই দুইটা।”
আব্বু ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, “তিতুনি দুইটা? তার
মানে কী?”
টোটন বলল, “একটা তিতুনি ঘরের ভেতরে । আরেকটা বাইরে।” আব্বু আর আম্মু একজন আরেকজনের দিকে তাকালেন, তারপর তিতুনির দিকে তাকালেন, তিতুনি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করল সে কিছুই বুঝতে পারছে না। আম্মু টোটনের দিকে তাকিয়ে বললেন, “একজন মানুষ দুইটা কেমন করে হয়?”
টোটন বলল, “আমি দেখেছি। দুইটা তিতুনি।” আম্মু বললেন, “কোথায় দেখেছিস?"
টোটন তিতুনির ঘরের দিকে দেখিয়ে বলল, “ঘরের ভেতরে।” তিতুনি এইবারে হাসার ভঙ্গি করল, তারপর বলল, “ভাইয়ার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।”
টোটন গর্জন করে বলল, “মাথা খারাপ হয় নাই। আমি স্পষ্ট দেখেছি।” “তাহলে ভাইয়া গাঞ্জা খেয়ে এসেছে।”
টোটন আরো জোরে গর্জন করে উঠল, বলল, “আমি গাঞ্জা
খাই নাই।”
“তাহলে ইয়াবা ।”
টোটন এবারে কোনো কথা বলল না, শুধু হিংস্র চোখে তিতুনির দিকে তাকাল। তার চোখ থেকে আগুন বের হতে থাকল। আব্বু চিন্তিত মুখে বললেন, “কী হয়েছে বোঝা দরকার। টোটন
বাবা তুমি পরিষ্কার করে বলো দেখি তুমি কী দেখেছ।” টোটন বলল, “আমি দেখেছি দুইটা তিতুনি। একটা ঘরের ভেতরে
আরেকটা বাইরে।”
“দুইটা তিতুনি মানে কী?"
টোটন কেমন জানি অধৈর্য হয়ে বলল, “দুইটা মানে দুইটা এক দুই। ওয়ান টু।”
আব্বু বললেন, “একজন মানুষ দুইটা হয় কেমন করে?” টোটন যুক্তি-তর্কের দিকে গেল না, বলল, দেখেছি।” “হয়েছে। আমি
তিতুনি বলল, “হয় নাই। তুমি তবু দেখেছ। তুমি তো আমাকে একেবারে সহ্য করতে পারো না তাই সব জায়গায় আমাকে দেখো। তোমার মনের ভুল।"
আম্মু মাথা নাড়লেন, বললেন, “হা। মনের ভুল।"
আব্বু বললেন, “কিংবা চোখের ভুল।” তিতুনি বলল, “মাথায় ঠাণ্ডা পানি ঢাললে মনে হয় ঠিক হয়ে
যাবে।” আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলল, “ঠাণ্ডা পানি আনব?” টোটন রেগে বলল, “না। তোর ঠাণ্ডা পানি আনতে হবে না।” তিতুনি বলল, “তাহলে লবণ পানি। লবণ পানি খেলে মাথা
ঠাণ্ডা হয়।” টোটন দাঁত কিড়িমিড়ি করে বলল, “লাগবে না লবণ পানি।”
তিতুনি মুখটা গম্ভীর করে বলল, “আম্মু। আমার মনে হয় ভাইয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।”
আম্মু চিন্তিত মুখে মাথা নাড়লেন। আব্বু বললেন, “একটা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলেই হবে। সকালবেলা ঠিক হয়ে যাবে।” টোটন বলল, “আমার ঘুমের ওষুধ খেতে হবে না। আমার কিছু
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now