বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৬
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)
X
তিতুনি মশারি টানিয়ে শুতে যাবার সময় হঠাৎ শুনতে পেল দরজায় কেউ বেল বাজিয়েছে। এত রাতে কে আসতে পারে তিতুনি আন্দাজ করতে পারল না, তাই কান পেতে শোনার চেষ্টা করল। শুনল আব্বু বলছেন, “টোটন দেখ দেখি এত রাতে কে এসেছে।”
টোটন নাক দিয়ে বিরক্তির মতো একটা শব্দ করল। তারপর গিয়ে দরজা খুলল, তিতুনি শুনল দরজা খুলেই টোটন বিচিত্র একটা শব্দ করে বলল, “আরে, তিতুনি? তুই? তুই বাইরে?”
আসল তিতুনির হাত-পা হঠাৎ ঠাণ্ডা হয়ে গেল—এলিয়েন তিতুনি এসেছে। তাকে না করে দেওয়ার পরও সে এসেছে। সর্বনাশ! এখন
কী হবে? তিতুনি দরজায় কান লাগিয়ে শোনার চেষ্টা করল।
টোটনের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে এলিয়েন তিতুনি ঘরে ঢুকে
গেল । টোটন তখন আরো জোরে চিৎকার করে বলল, “কী হলো কথা
বলিস না কেন?”
এলিয়েন তিতুনি কথা না বলে টোটনের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসার ভঙ্গি করল। টোটন রেগেমেগে চিৎকার করে বলল, “আম্মু দেখো, তিতুনি আমাকে মুখ ভ্যাঙাচ্ছে।”
আম্মু এসে এলিয়েন তিতুনির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোকে না তোর ঘরে যেতে দেখলাম! তুই আবার বাইরে গেলি কখন?”
এলিয়েন তিতুনি (যদিও সে আসল তিতুনি না কিন্তু কারো পক্ষে সেটা বোঝা সম্ভব না) বলল, “এই তো একটু আগে তোমাদের সবার সামনে দিয়ে হেঁটে গেলাম।”
আম্মু বললেন, “খেয়াল করিনি।”
এলিয়েন তিতুনি বলল, “আমি জানি। এই বাসায় আমাকে কেউ খেয়াল করে না। আমি আছি কী নেই তাতে কারো কিছু আসে যায় না।”
নিজের ঘরের দরজায় কান পেতে আসল তিতুনি অবাক হয়ে শুনল এলিয়েন তিতুনি গলার স্বরে একধরনের অভিমানের সুর ফুটিয়ে তুলেছে এবং সেটা শুনে আম্মু পর্যন্ত দুর্বল হয়ে গেছেন।তিতুনির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “পাগলি মেয়ে, কে বলেছে তোকে আমরা কেউ খেয়াল করি না? সকালে তোকে বকাবকি বেশি করেছি সেই জন্যে এখনো আমার উপর রাগ করে আছিস?”
এলিয়েন তিতুনি একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “না আম্মু, আমি রাগ করি না। এই বাসায় আমি কে? আমি কার উপরে রাগ করব? মাঝে মাঝে একটু দুঃখ পাই কিন্তু কখনো রাগ করি না।”
গলার স্বরে এতই গভীর বেদনা যে আম্মুর চোখে একেবারে পানি এসে গেল, এলিয়েন তিতুনিকে একেবারে বুকে চেপে ধরে বললেন, “ছিঃ তিতুনি। মায়ের উপর রাগ করতে হয় না। ছিঃ মা!”
অন্য-তিতুনি কিছু বলল না, কখনো কখনো কথা না বলাটাই কথা বলা থেকে বেশি কাজে দেয়। এবারেও কাজে দিল, আম্মুর চোখে আগেই পানি চলে এসেছিল, এবারে একেবারে গলা ভেঙে গেল। ভাঙা গলায় বললেন, “বল মা, কেন তুই এত রাতে বাসা থেকে বের হয়েছিলি?”
অন্য তিতুনি কথা বলল না। “আমার উপর রাগ করে বের হয়ে গিয়েছিলি?”
এলিয়েন তিতুনি এবারেও কথা বলল না, মাথাটা আরো নিচু করল। আম্মু তিতুনির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “আর কখনো এ রকম পাগলামি করবি না। ঠিক আছে?”
এলিয়েন তিতুনি মাথা নাড়ল। আম্মু তখন অন্য তিতুনিকে ছেড়ে দিলেন। অন্য তিতুনি হেঁটে হেঁটে নিজের ঘরের দিকে রওনা দিল। টোটন গজগজ করতে করতে অন্য তিতুনির দিতে তাকিয়ে বলল, “বেশি আদর দিয়ে তোর মাথা নষ্ট করা হয়েছে আর কিছু না। আমি একেবারে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তুই সামনে দিয়ে যাসনি, গেলে আমি দেখতাম।”
অন্য-তিতুনি বলল, “আমি তাহলে কোন দিক দিয়ে গিয়েছি?” “নিশ্চয়ই জানালা দিয়ে বের হয়েছিলি। তোর ঘরে জানালার শিক
নিশ্চয়ই তুই খুলে রেখেছিস।”অন্য-তিতুনি দাঁত বের করে হাসল, সেটা দেখে টোটন গরম হয়ে বলল, “খবরদার, মুখ ভ্যাংচাবি না।” “আমি মুখ ভ্যাংচাচ্ছি না, তোমার কথা শুনে হাসছি।” এলিয়েন তিতুনি তার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যখন দরজা ধাক্কা দিল তখন হঠাৎ করে আসল তিতুনির মনে পড়ল সে দরজাটার
ছিটকিনি লাগিয়ে রেখেছে। দরজাটা যে ভেতর থেকে বন্ধ সেটা সাথে
সাথে টোটনের চোখে পড়েছে। সে চিৎকার করে বলল, “মিথ্যুক।
দরজা ভেতর থেকে বন্ধ, তুই বের হলি কেমন করে?" ঘরের ভেতর থেকে ছিটকিনি খুলে আসল তিতুনি সরে যেতে চাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই টোটন লাথি দিয়ে দরজা খুলে ফেলেছে। টোটন দেখল খোলা দরজার সামনে ঘরের ভেতর একজন তিতুনি আর দরজার বাইরে আরেকজন।
টোটন গগনবিদারি একটা চিৎকার দিয়ে দুই হাতে মাথা চেপে ধরে ছুটে যেতে গিয়ে ঘরের সামনেই আছাড় খেয়ে পড়ল। সেই আছাড় খাওয়ার শব্দে মনে হয় পুরো বাসা কেঁপে উঠল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now