বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৪

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটা একটু অপরাধীর মতো ভঙ্গি করে বলল, “হ্যা।” “এই একটু আগে যে আমার মাথাটা কেমন জানি ঘুরে উঠল, কেমন যেন মনে হলো মাথার ভেতরে কী হচ্ছে-তখন তুমি আমার মাথার ভেতরে ঢুকেছিল?” “হ্যা।” মেয়েটা প্রায় মাথা নিচু করে ফেলল, তাকে দেখে মনে হলো যেন সে খুব বড় একটা অপরাধ করে ফেলেছে। তিতুনি তখন আরো গরম হয়ে বলল, “তোমার এত বড় সাহস, তুমি আমার অনুমতি না নিয়ে আমার মাথার ভেতরে ঢুকেছ? আমার মাথায় যদি এখন কোনো সমস্যা হয় তাহলে তোমার খবর আছে বলে রাখলাম।” মেয়েটা মাথা নাড়ল, বলল, “সমস্যা হবে না। আমি কিছু ধরি নাই, কিছু ওলটপালট করি নাই। খালি দেখেছি।” “কী দেখেছ?” “এই তো তুমি কে, কী করো, কী চিন্তা করো-এই সব।” তিতুনি বলল, “সব দেখেছ?” মেয়েটা মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যা।” “বলো দেখি আমার ভাইয়ের নাম কী?” “টোটন ।” “বলো দেখি আজকে সকালে কী হয়েছিল?” “নাশতা খাবার সময় আমি যখন পানি খেতে যাচ্ছিলাম তখন ভাইয়া আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, আর তখন হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে ভেঙে গেছে। তখন-” তিতুনি হাত তুলে বলল, “দাঁড়াও, দাঁড়াও, তুমি কী বললে, আমি?” “হ্যা আমি। আমি যখন পানি খেতে-" তিতুনি গরম হয়ে বলল, “মোটেও তুমি পানি খেতে যাচ্ছিলে না, তুমি হচ্ছ এলিয়েন-তুমি তখন কোথায় ছিলে আমি জানি না। আমি পানি খেতে যাচ্ছিলাম।” তিতুনি বুকে থাবা দিয়ে বলল, “আমি।”“একই কথা।” তিতুনির মতো মেয়েটা বলল, “আমি আর তুমি একই কথা। এখন তুমি যা আমিও তাই। আমি তোমার মগজের দশ হাজার সাতশ' বার কোটি সাতাত্তর লক্ষ চৌত্রিশ হাজার পাঁচশ' ছেচল্লিশটা নিউরন কপি করে আমার মগজে রেখে দিয়েছি।" তিতুনি কিছুক্ষণ হাঁ করে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকল, তারপর বলল, “কয়টা নিউরন?” মেয়েটা আবার পুরো সংখ্যাটা বলল। তিতুনি বলল, “তুমি আমার মাথার ভেতরের সবগুলো নিউরন গুনেছ?” “হ্যা। না শুনলে কপি করব কীভাবে!” তিতুনি কিছুক্ষণ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে নিজেও বুঝতে পারল না। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “কাজটা ঠিক হলো না।" “কোন কাজটা ঠিক হলো না?” “এই যে তুমি আমি হয়ে গেলে। যদি এখন কেউ তোমাকে দেখে ফেলে তখন কী হবে?” মেয়েটা মাথা চুলকে বলল, “কী আর হবে? প্রথমে একটু অবাক হবে, তারপর মেনে নেবে। না মেনে উপায় কী? কখনোই তো বুঝতে পারবে না কে তুমি কে আমি । দুইজনেই তো হুবহু এক রকম।” তিতুনি গরম হয়ে বল, “কিন্তু তুমি এলিয়েন। এক্স-রে করলে দেখবে তোমার ভেতরে কিলবিল কিলবিল করছে শুঁড়ওয়ালা জিনিসপত্র। তোমাকে কাটলে সাদা রঙের রক্ত বের হবে, চুল ধরে টান দিলে পুরো চামড়া খুলে ভেতরে ভয়ংকর এলিয়েন বের হয়ে যাবে। আমি জানি।” মেয়েটা মাথা নাড়ল, বলল, “আমিও জানি। কিন্তু আমি সে রকম এলিয়েন না। আমার ভেতর কিলবিল করা কিছু নাই। আমি ঠিক তোমার মতো।” “তুমি কেন আমার মতন হলে সত্যিকারের কিউট একটা এলিয়েনের চেহারা নাও, তাহলে তোমাকে আমি বাসায় নিয়ে যাব, স্কুলে নিয়ে যাব। তুমি যদি চাও তাহলে তোমাকে টেলিভিশনে টক শোতে নিয়ে যাব।”“টক শোতে?” “হ্যা। সেখানে তুমি কোথা থেকে এসেছ, কেমন করে এসেছ, সেগুলো বলতে পারবে। সবাই তোমাকে দেখার জন্যে ভিড় করে আসবে। তোমার সাথে সেলফি তুলবে।” “সেলফি?” “হ্যা । ছোট বাচ্চারা তোমার অটোগ্রাফ নিবে।” “অটোগ্রাফ?” “হ্যা।” তিতুনি গলায় জোর দিয়ে বলল, “তুমি এখন তোমার চেহারা পাল্টে ফেলো, কিউট একটা এলিয়েন হয়ে যাও।” তিতুনির মতো দেখতে মেয়েটা খানিকক্ষণ চিন্তা করে বলল, “নাহ! আমি কিউট এলিয়েন হতে চাই না। আমি তিতুনিই থাকতে চাই।” তারপর কথা শেষ করে উঠে দাঁড়াল, হাত দুটো উপরে তুলে আড়মোড়া ভাঙল, ঠিক তিতুনি যে রকম করে। তিতুনি একটু ভয়ে ভয়ে বলল, “তুমি এখন কোথায় যাবে?” “তোমাদের পৃথিবীতে এসেছি, পৃথিবীটা একটু ঘুরে দেখি।” “ঘুরে দেখবে? পৃথিবী?” হ্যাঁ। “তুমি বাসায় যাবে না তো?” মেয়েটা ভুরু কুঁচকে বলল, “কী হবে বাসায় গেলে?” তিতুনি মাথা নাড়ল, বলল, “না। খবরদার তুমি বাসায় যাবে না। তুমি বাসায় গেলে অনেক ঝামেলা হবে।” “কী ঝামেলা?” “যখন বুঝতে পারবে তুমি এলিয়েন তখন পুলিশ র্যাব এসে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে। রিমান্ডে নিবে। তারপর কেটে-কুটে দেখবে।” সবকিছু বুঝে ফেলেছে সে রকম ভাব করে মেয়েটা মাথা নাড়ল। তিতুনি একটু সান্ত্বনা দেওয়ার ভঙ্গি করে বলল, “তুমি যখন পৃথিবীটা দেখতে চাচ্ছ একটু দেখো। দেখা শেষ হলে চলে যেও। পৃথিবীতে থাকলেই কিন্তু ঝামেলা।”“ঠিক আছে।” মেয়েটা এবারে বাসার দিকে হাঁটতে শুরু করে। তিতুনি তখন একেবারে হা হা করে উঠল, বলল “সর্বনাশ! তুমি করছ কী?” “কী হয়েছে?” “তুমি আমার বাসার দিকে যাচ্ছ কেন? বাসার লোকজন কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে।” “তাহলে কোন দিকে যাব?” “এই জঙ্গলের দিকে যাও। জঙ্গল পার হলে ধান ক্ষেত। ধান ক্ষেত পার হলে নদী। নদীর তীরে হাঁটলে তোমার খুব ভালো লাগবে।” মেয়েটা মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে।” তারপর জঙ্গলের দিকে হাঁটতে লাগল। তিতুনি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে আরো একজন তিতুনি হেঁটে হেঁটে জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। কে জানে তার সাথে আর দেখা হবে কি না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ১০০(শেষ পার্ট)
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৯
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৮
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৭
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৬
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৫
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৪
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯৩
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৭০
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৬৯
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৬৮
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৬৭
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৬৬
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯২
→ তিতুনি এবং তিতুনি পার্ট ৯১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now