বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিথি ও টিভি

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X তিথি যখন খুব ছোট ছিল তখন তার মেজাজ ছিল খুব গরম। কিছু একটা হলেই সে একেবারে ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে গুলি ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করতো— তখন তাকে শান্ত্ করা ছিল ভারি কঠিন । বিশেষ করে খেতে বসে হঠাৎ যদি কিছু নিয়ে রেগে যেতো তখন লাদিয়ে প্লেট উল্টে, গ্লাস ভেঙে খাবার ছড়িয়ে একাকার করে ফেলতো। তিথির তখন উপায় না দেখে খাওয়ার সময় হলেই তিথিকে টিভির সামনে বসিয়ে দিলেন। টিভিতে কিছু এটা হতে থাকতো, তিথি সেটা দেখে অবাক হয়ে মুখ হা করতে আর আম্মু তখন মুখে খাবার খুঁজে দিতেন, তিথি সেটা কপ করে গিলে ফেলতো। সেই থেকে তিথির টিভি দেখা অভ্যাস হয়ে গেলো। এখন সে বড়ো হয়েছে, তার বয়স সাত, পড়ে ক্লাস টুতে—কিন্তু সে টিভি না দেখে এক মুহূর্ত থাকতে পারে না। প্রতিদিনই তার হিসেব করে টিভি দেখা চাই। দিনের বেলা সে কার্টুন দেখে, সন্ধ্যাবেলা দেখে নাটক, রাতের বেলা হাসির অনুষ্ঠান। তার সবচেয়ে ভালো লাগে বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে। টিভির সব বিজ্ঞাপন তার মুখস্থ, সুন্দর সুন্দর মেয়েরা আর ছেলেরা যখন নেচে নেচে কথা বলে তখন কে কী বলবে তিথি মুখস্থ বলে দিতে পারে। তাই প্রতিদিন দেখা যায়, সন্ধ্যাবেলা যখন পড়ার সময় হয়েছে তিথি তখন বইয়ের সামনে না বসে টিভির সামনে বসেছে। আব্বু বলছেন, “তিথি পড়তে বস।” তিথি বলে, “এই তো আসছি আব্বু।” খাবার সময় আম্মু বলেন, “খেতে আস তিথি।" তিথি বলে, “এই আর একটু দেখে নেই আম্মু।”ঘুমানোর সময় তার ছোট ভাই সুজন বায়ু আপু ঘুমাতে আস।” তিথি তখন তাকে ধমক দিয়ে বল্লেই ঘুমা গাধা কোথাকার, আমি এখন একটু টিভি দেখবো।" এমনি করে আস্তে আস্তে ভিপি আর টিভি মোটামুটি এক হয়ে গেলো, এমন অবস্থা যে তাদের আলাদা করা কঠিন। তখন একদিন একটা সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটলো। সেদিন দুপুরবেলা তিথির আম্মু ভাত খেয়ে বিছানায় শুয়ে খবরের কাগজ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে গেছেন। সুজন তার ঘরে খেলনা গাড়ি দিয়ে খেলছে, আব্বু অফিসে। তিথির তখন আটটা বড়ো বড়ো যোগ অঙ্ক করার কথা। সে ভাবলো অঙ্কগুলো করার আগে সে চট করে একটু টিভি দেখে নেবে। ভলিউমটা কমিয়ে আস্তে করে সে সুইচটা অন করতেই দেখতে পেলো টেলিভিশনে একটি কার্টুন দেখাচ্ছে। এটা তার সবচেয়ে প্রিয় কার্টুন – এখানে দুজন খুব দুষ্টু মানুষ আছে, একজনের নাম ম্যাক্স আরেকজনের নাম রেক্স। তাদের বড়ো বড়ো গোঁফ আর কাউবয়ের মতো টুপি। তাদের হাতে থাকে বন্দুক। ম্যাক্স আর রেক্স দুজনে মিলে ধরার চেষ্টা করে পপ্পিনকে। পপ্পিন হচ্ছে তিথির বয়সী একটা ছেলে তার মাথায় খুব বুদ্ধি।ম্যাক্স আর রেক্স কখনো পপ্পিনকে ধরতে পারে না, পপ্পিন সব সময় বুদ্ধি করে পালিয়ে যায় আর তখন খুব মজার মজার ঘটনা ঘটে। সেগুলি দেখে তিথি হেসে কুটি কুটি হতে থাকে। আজকেও তাই হচ্ছে, পপ্পিন ছুটে যাচ্ছে—ম্যাক্স আর রেক্স কিছুতেই পপ্পিনকে ধরতে পারছে না। ছুটতে ছুটতে পপ্পিন একেবারে একটা পাহাড়ের কিনারায় চলে এলো, আর পালানোর জায়গা নেই। এদিকে ম্যাক্স আর রেক্স একেবারে কাছে চলে এসেছে। তাদের চোখমুখ লাল, হাতে বন্দুক। কী হয় দেখার জন্য তিথি একেবারে টিভির কাছে গিয়ে বসেছে। ঠিক তখন হঠাৎ একটা ভারি মজার ব্যাপার ঘটলো। পপ্পিন এদিক-সেদিক তাকিয়ে পালানোর কোন জায়গা না দেখে হঠাৎ টিভির ভিতর থেকে লাফিয়ে তিথিদের বসার ঘরে বের হয়ে এলো। অনেক জোরে লাফ দিয়েছিল বলে টাল সামলাতে না পেরে সে কার্পেটের ওপর একেবারে আছাড় খেয়ে পড়েছে। কোন মতে সোজা হয়ে দাড়িয়ে পপ্পিন ছুটে গিয়ে সোফার নিচে লুকিয়ে গেলো। এদিকে টিভিতে ম্যাক্স আর রেক্স পপ্পিনকে না দেখে খুব রেগে গেলো, এদিক-সেদিক তাকিয়ে বন্দুক দিয়ে 'গুডুম' 'গুডুম' করে কয়েকটা গুলি করে তারাও হঠাৎ টিভি থেকে লাফ দিয়ে বের হয়ে একেবারে তিথির সামনে হাজির হলো। টিভির ম্যাক্স আর রেক্সকে দেখার সব সময় হাসি পায়, কিন্তু সামনা-সামনি দেখে ভয়ে তিথির একেবারে আত্মা উড়ে গেলো। ম্যাক্স কড়া গলায় জিজ্ঞেস করলো, “পপ্পিন কোথায়?” তিথি আরেকটু হলে বলেই দিচ্ছিল, বিষ্ঠার আগেই রেক্স তিথির চুলের মুঠি ধরে বললো, “পপ্পিনকে লাগবে না। একেই করে নিয়ে যাই।" তিথি কিছু বলার আগেই ম্যা আর রেক্স মিলে তিথিকে ধরে টেনে-হেঁচড়ে এক লাফে আবার টিভির ভিতরে ঢুকে গিলো। প্রথমে তিথি ভেবেছিল সে বুঝি মরেই গেছে, একটু পরে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলো সে এখনো মরেনি। টিভির ভিতরে কী রকম হয় তার সব সময় দেখার শখ ছিল, আজকে দেখে সে অবাক হয়ে গেলো। ভিতরে কার্টুনের ঘর, কার্টুনের রাস্তা, কার্টুনের গাছপালা। এক পাশে টিভির স্ক্রিন, সেদিক দিয়ে তাকালে তিথিদের বসার ঘর দেখা যায়। তিথি স্পষ্ট দেখলো, পপ্পিন সোফার নিচে থেকে বের হয়ে সোফাতে আরাম করে বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তিথি প্রায় ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠছিল তখন সে দেখেতে পেলো ম্যাক্স আর রেক্সকে। কী ভীষণ তাদের চেহারা আর চোখে মুখে কী ভয়ঙ্কর রাগ। বন্দুক তাক করে তার দিকে এগিয়ে আসছে, এই বুঝি গুলি করে দেয়। তিথী অনেক কার্টুন দেখেছে সে জানে এরকম সময় ছুটতে হয় তাই সে টিভির ভিতরে কার্টুনের রাস্তা ধরে ছুটতে শুরু করলো। ছুটতে ছুটতে সে মাঝে মাঝে আছাড় খেয়ে পড়ে আর তখন শুনেত পায় তাদের বসার ঘরে সোফার ওপর বসে পপ্পিন হি হি করে হাসছে, তিথির এমন রাগ হলো যে আর বলারমতো নয় কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। মাক্স আর রেক্স তাকে প্রায় ধরেই ফেলছিল তাই তিথি প্রাণপণে ছুটতে থাকে, সামনে একটা ঘর, লাফিয়ে সেই ঘরে ঢুকে সে দরজা বন্ধ করে দিল । তিথি জোরে জোরে কয়েকটু শ্বোস নিয়ে আবার টিভির স্ক্রিনের ভিতর দিয়ে বসার ঘরের দিকে তাকালো, পপ্পিন এখনো সোফায় বসে আছে। হঠাৎ কী দেখে পপ্পিন আবার ছুটে সোফার নিচে লুকিয়ে গেলো। তিথি তাকিয়ে দেখলো, তার ছোট ভাই সুজন খেলনা গাড়িটা হাতে নিয়ে ঢুকছে। সুজনকে দেখে তিথি চিৎকার করে হাত নাড়তে লাগলো, কিন্তু ভলিউম কমিয়ে রাখা ছিল বলে সুজন কিছু শুনতে পেলো না। সুজন সোফায় বসে খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলতে খেলতে হঠাৎ টিভির দিকে তাকিয়ে তিথিকে দেখতে পেলো, সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। সে চিৎকার করে বললো, “আম্মু দেখে যাও কার্টুনে ঠিক তিথি আপুর মতো একটা মেয়েকে দেখাচ্ছে।” তিথি তখন নিজের দিকে তাকালো, দেখলো সুজন ঠিকই বলেছে, সে আসলে সত্যিকারের তিথি নয়, কার্টুনের তিথি। টেলিভিশনের ভিতরে থাকলে সবাই নিশ্চয়ই এরকম থাকে, বের হতে পারলে মনে হয় ঠিক হয়ে যাবে। এদিকে দরজার বাইরে ম্যাক্স আর রেক্স চিৎকার করে দরজায় লাথি মারছে। মনে হয় এক্ষুণি দরজা ভেঙ্গে যাবে তখন তার কী অবস্থা হবে? তিথি তখন টিভির স্ক্রিন দিয়এ লাফিয়ে বসার ঘরে বের হওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু শক্ত কাচের স্ক্রিনে ধাক্কা খেয়ে সে আবার ছিটকে পড়লো ঘরের ভিতরে। তাই দেখে সুজন হি হি করে হেসে বললো, “আম্মু দেখে যাও, কার্টুনে তিথি আপুর মতো মেয়েটা কী করছে।" আম্মু আবার ঘুম ঘুম চোখে বললেন, “কেন জ্বালাতন করছিস? টিভিটা বন্ধ করে খেল গিয়ে।” এদিকে ম্যাক্স আর রেক্স দরজা প্রায় ভেঙ্গে ফেলছে, তিথি টিভির স্ক্রিনে লাথি দিয়ে, থাবা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু বের হতে পারছে না। সুজন তার দিকে তাকিয়ে হি হি করে হাসছে। তিথির চোখে একেবারে পানি এসে গেলো, চিৎকার করে বললো, “আমি তিথি। আমি বের হবো।" কিন্তু টিভির ভিলিউম কমিয়ে দেওয়া ছিল বলে সুজন তিথির কোন কথা শুনতে পেলো না। ঠিক তখন ম্যাক্স আর রেক্স লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে ঘরের মাঝে ঢুকে গেলো। এরপর কী হতো কে জানে, কিন্তু তার আগেই সুজন সুইচ টিপে টিভিটা বন্ধ করে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ভিতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গেলো। তিথি শুনলো ম্যাক্স আর রেক্স ফোস ফোস করে বলছে, “কোথায় গেছে পাজি মেয়েই গুলি করে ছাতু করে ফেলবো না । ঘুটঘুটে অন্ধকারে তিথি কতোক্ষণ চুপচাপ বইেল কে জানে, হঠাৎ শুনলো কে জানি ফিস ফিস করে বলছে, “এটা কে?” গলার স্বর শুনে মনে হলো পপ্পিন। কইপতথি ফিস ফিস করে বললো, “আমি তিথি।” “সেরেছে! তুমি এখনো বের হে “না। কিভাবে বের হবো” “খুব মুশকিল। একবার চ্যানেল পাল্টে দিলে আর বের হতে পারবে না। এন্টেনার ফুটো দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।” পপ্পিন ফিস ফিস করে বললো, “আমি যেভাবে ঢুকেছি। আসো আমার সঙ্গে।” ঘুটঘুটে অন্ধকারে পপ্পিনের হাত ধরে নানারকম গলি ঘুজি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ছোট একটা ফুটোর সামনে হাজির হরো তিথি। পপ্পিন বললো, “বের হয়ে যাও।" তিথি তখন ছোট একটা ফুটো দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো, পপ্পিন দুই হাতে পেছন থেকে ঠেলতে লাগলো এবং হঠাৎ করে 'প্লপাৎ' শব্দ করে তিথি বের হয়ে এলো। কার্পেটের ওপর আছাড় খেয়ে পড়ে তিথির সে কী কান্না কান্না শুনে ঘুম থেকে উঠে আম্মা ছুটে এলেন। তিথি ভেউ ভেউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললো, “আম্মু আমাকে টিভির ভিতরে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।” সুজন মাথা নেড়ে বললো, “হ্যা, আম্মু আমি দেখেছি।”আম্মু সুজনের কান টেনে বললেন, “বাজে কথা বলবি তো কান টেনে ছিড়ে ফেলবো।” তারপর অনেকদিন কেটে গেছে, তিথিকে এখন ধরে বেঁধেও টিভির সামনে নেওয়া যায় না। টিভি দেখে না বলে তিথির এখন অনেক সময়। পরীক্ষায় অঙ্কে একশর মাঝে পঁচানব্বই পেয়েছে, ইংরেজীতে বিরাশি। সময় কাটানোর জন্যে সে এখন গল্পের বই পড়ে । টিভিতে যে রকম সবকিছু দেখিয়ে দেওয়া হয় বইয়ে সে রকম না, বইয়ে শুধু বর্ণনা করে দেয়। বর্ণনাটা পড়ে পুরো ঘটনাটা কল্পনা করতে হয়। তিথি দেখেছে কল্পনা করতে ভারি মজা। টিভির কার্টুন থেকেও একশ গুণ বেশী মজা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিথি ও টিভি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now