বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#তিন_গোয়েন্দা
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_এগারো
ছোট খাঁড়ির অন্ধকার পানিতে এসে থামলো মোটরবোট। আগুনের বিশাল কুন্ড আর উজ্জ্বল চাঁদ আকাশে আলো ছড়িয়ে দিয়েছে বালির সৈকতে আর পাথরের ওপর। আগুনের পাশ দিয়ে হাঁটাচলা করছে মানুষ, অদ্ভুত ছায়া পড়ছে বালিতে। মনে হচ্ছে যেন ভেসে বেরাচ্ছে তারা। আগুনের আভা একেবারে পানির কিনারে এসে পড়েছে। তীরে নামতে সুবিধা করে দিলো ডেভিড র্যাগনারসন আর গোয়েন্দাদেরকে। বোটটাকে টেনে ডাঙায় তুলতে প্রিন্সিপ্যালকে সাহায্য করলো মুসা।
ডেভিড, তুমি? ওপর থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন ডক্টর ইংমার র্যাগনারসন।
হ্যাঁ, আমি কয়েকজন বন্ধু নিয়ে এসেছি।
ভালো করেছো। যত বেশি ভাইকিং আর চুমাশ হয় ততো ভালো জমে।
ছেলেদেরকে নিয়ে অগ্নিকুন্ডের দিকে চললেন প্রিন্সিপ্যাল। তার পরনে হরিণের চামড়ার প্যান্ট-শার্ট, গলায় পুতির মালা, শরীরের খোলা জায়গাগুলোতে রং করা চুমাশ যোদ্ধাদের মতো করে। রবিন আর মুসার পরনে ভাইকিং পোশাক। কিশোর পরেছে ইন্ডিয়ান ওঝার সাজ। হরিণের চামড়ার আলখেল্লা, রং করা কাঠের মুখোশ পরে থাকতে একদম ভালো লাগছে না তার। বিড়বিড় করে বললো, জগদ্দল পাথর হয়ে গেছি একদম, বাপরে বাপ, এত্ত ভার!
চমৎকার লাগছে তোমাকে, কিশোর, প্রিন্সিপ্যাল বললেন। শামান (ওঝা) হলো চুমাশদের খুব সম্মানিত পদ।
কেন, কিশোর, খারাপ লাগছে কেন? হেসে বললো রবিন। এই কিম্ভুত পোশাকে কিশোরকে দেখে কিছুতেই হাসি চাপতে পারছে না সে। ম্যাজিশিয়ান হওয়ার না খুব শখ তোমার?
তা ঠিক, গোঁ গোঁ করলো কিশোর। এখন তুড়ি মেরে তোমাদের দু'জনকে উড়িয়ে দিতে পারলে আর কিছু চাইতাম না। পরেছো তো হালকা পোশাক, বুঝবে কি! তবে তোমাদেরকেও খুব সুন্দর লাগছে ভেবোনা।
পরস্পরের দিকে চেয়ে হাসিতে ফেটে পড়লো রবিন আর মুসা। র্যাগনারসনরা দুই ভাই ও হাসলেন। মস্ত মুখোশের আড়ালে কিশোর ও মুচকি হাসলো। বিশাল অগ্নিকুন্ডের কাছে পৌঁছালো ওরা। অনেকে বসে আছে ওখানে। তাদের সঙ্গে ছেলেদের পরিচয় করিয়ে দিলেন ডাক্তার, ডেভিডের বন্ধু হিসেবে। পনেরো জন লোক খেতে বসেছে। ছেলেদের হাতেও কাগজের প্লেট ধরিয়ে দেয়া হলো। তাতে দেয়া হলো কাবাব করা মোষের মাংস, যবের রুটি, সেদ্ধ সীম আর সালাদ।
ডনের দিকে চোখ রেখো, ফিসফিসিয়ে বললো রবিন।
শুধু ডনই নয়, কিশোর বললো। সন্দেহজনক সব কিছুর ওপর নজর রাখবে। কাঠের মুখোশের মুখের কাছটায় বড় একটা ফাঁক। সেই পথে মুখের ভেতর খাবার পুরতে বেশ অসুবিধে হচ্ছে।
খেতে খেতে অগ্নিকুণ্ড ঘিরে বসা মানুষগুলোর ওপর নজর রাখছে তিন গোয়েন্দা। কেউ পরেছে চুমাশদের পোশাক, কেউ ভাইকিং জলদস্যুর। গনগনে কয়লার আঁচে তৈরি হচ্ছে কাবাব। সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। খানিক দূরে, সৈকতের ওপরে একটা ছড়ানো জায়গায় সারি সারি তাঁবু। আগুনের আলো পড়ছে ওগুলোর ওপর।
ডনকে দেখেছো? জিজ্ঞেস করলো মুসা।
না, জবাব দিলো রবিন। তবে হার্ডওয়্যারের দোকানের মালিককে দেখতে পাচ্ছি।
আগুনের কাছ থেকে দূরে বসে আছেন জর্জ র্যাগনারসন। হাতে বিশাল একটা প্লেটে খাবার বোঝাই।
একমাত্র লোক, কিশোর বললো। যিনি স্বাভাবিক পোশাক পরেছে।
আগুনের পাশে বসা সবাই বেশ আন্তরিক। হাসিখুশি। অনর্গল কথা বলছে। জোক বলছে। হাসছে। কয়েকজনের কারো হাতে গীটার, কারো অ্যাকর্ডিয়ন। গান ধরলো কয়েকজন। ধীরে ধীরে গলা মেলালো অন্যেরা। শুরু হয়ে গেলো গান। আমেরিকান আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান আঞ্চলিক গানের মিশ্রণ। তাদের সঙ্গে মেলালো রবিন। অন্য দু'জন চুপ করে রইলো। কিশোরের এসব ভালো লাগে না। আর মুসা ঠিকমতো বুঝতেই পারে না।
আচমকা গান থামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো রবিন, ওই যে!
তাকালো কিশোর, মুসা আর প্রিন্সিপ্যাল।
হ্যাঁ, ডনই, ফিসফিস করে বললেন ডেভিড র্যাগনারসন।
ছিলো কোথায়? আনমনেই বিড়বিড় করলো কিশোর।
তাবুঁগুলোর দিক থেকে এলো বলে মনে হলো, রবিন জানালো।
ভাইকিং পোশাক পরা। এগিয়ে এসে বসে পড়লো অন্যদের সঙ্গে, গানে যোগ দিলো। খাওয়া শেষ হলে প্লেটগুলো যখন ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেললো সবাই তখনও বাজনা চলতেই থাকলো। কাগজের প্লেট, প্লাস্টিকের কাঁটা চামচ আর ছুরিগুলো কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে সৈকতের পাশে বসানো ময়লার ড্রামে ফেললো একজন। রাত যতোই বাড়লো, ঠান্ডা বাড়তে থাকলো। সাগরের ওপর থেকে ভেসে এলো হালকা কুয়াশা। ওনেকেই ফিরে গেলো তখন মূল ভূখন্ডে, জর্জ র্যাগনারসন সহ। একই ভাবে বসে ডনের ওপর নজর রাখলো তিন গোয়েন্দা।
কতো খায় ব্যাটা, মুসা বললো।
তোমার চেয়ে বেশি? হাসলো রবিন।
ছেলেটাকে আমি ঠিক সন্দেহ করতে পারছি না, প্রিন্সিপ্যাল বললেন, অন্যকেউ কাজগুলো করেছে হয়তো, দোষ এসে চাপছে ডনের ঘাড়ে, কারণ তার স্বভাব ভালো না।
সেই অন্যকেউটা এই দ্বীপেই রয়েছে, কিশোর বললো, আমার বিশ্বাস।
অন্য কেউটা কি মানুষ, নাকি....? প্রশ্নটা শেষ করলো না মুসা, প্রিন্সিপ্যালের দিকে তাকালো।
শব্দ আর ভূতের ব্যাখ্যা দেয়া যায়। বাতাস আর আলোর কারসাজি হতে পারে। আর জিনিসপত্র চুরিও এমন কোনো ব্যাপার নয়। এতো হুড়োহুড়ির মধ্যে এমনিতেও হারাতে পারে। একটার সাথে আরেকটার মিল আছেই, জোর দিয়ে দিয়ে বলা যাবে না। কাকতালীয় ব্যাপারও হতে পারে।
বড় বেশি কাকতালীয়, মেনে নিতে পারছে না কিশোর। আমার মনে হয় না এগুলো এড়িয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার। যোগাযোগ আছেই। কী, সেটা খুঁজে বের করবো আমরা।
কিশোর! বলে উঠলো মুসা। একটু আগেও ডন ছিলো, এখন নেই।
চলে গেছে! গেলো কখন! রবিনও অবাক হয়েছে।
আর মাত্র চারজন লোক বসে আছে। ডন নেই তাদের মাঝে। ভারি পোশাক আর মুখোশ নিয়ে অস্বাভাবিক দ্রুত লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো কিশোর। জলদি এসো! কাঠের মুখোশ কণ্ঠস্বর ভোঁতা করে দিলো অনেকখানি, একপাশে কাত হয়ে আছে। তার মুখের তুলনায় জিনিসটা বেশি বড়। দূর! এই, এটা ঠিক করে দাও তো! এই ঘোড়ার ডিমও পরে নাকি মানুষ!
হেসে তার মুখোশটা ঠিক করে দিলো দুই সহকারী। চাঁদের আলোয় কুয়াশাকে লাগছে হালকা সুতোর তৈরি অস্পষ্ট একটা চাদরের মতো। তার মধ্যে ঢুকে পড়লো তিন গোয়েন্দা। তাঁবুগুলোর পাশ কাটিয়ে এলো। মাইলখানেক লম্বা দ্বীপটাতে গাছপালা নেই। সামনে কুয়াশার ভেতরে ভাইকিং পোশাক পরা একটা মূর্তিকে দ্রুত ঢুকে যেতে দেখা গেলো।
সে-ই, চাপা গলায় বললো মুসা। গত দু'দিন ধরে এই পোশাকই পরে রয়েছে।
কুয়াশার মধ্যে মূর্তিটাকে অনুসরণ করে দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে চলে এলো গোয়েন্দারা। আকাশে মাথা তুলে রেখেছে যেখানে বিশাল দানবীয় টিলাটা। চাঁদের আলোয় কেমন যেনো ভূতুড়ে লাগছে। যেনো কোনো অপার্থিব জানোয়ার অন্য কোনোখান থেকে এসে নেমেছে পৃথিবীতে। এটা ছাড়া দ্বীপের এই অংশে আর কিছু নেই। গোড়ায় ঝোপঝাড় জন্মে রয়েছে ঘন হয়ে।
যাচ্ছে কোথায়? বুঝতে পারছে না রবিন।
সোজাই তো চলেছে। দেখা যাক, কিশোর বললো।
কুয়াশার ভেতর দিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব মূর্তিটাকে অনুসরণ করে চললো ওরা। সতর্ক রয়েছে। লোকটা পেছনে ফিরে তাকালেই যাতে ঝট্ করে বসে পড়তে পারে। কিন্তু একটিবারও ফিরে তাকালো না ও। সোজা এগিয়ে চলেছে টিলাটার দিকে, তারপর.....
খাইছে! মুসা অবাক। নেই তো!
মুহূর্ত আগেও যেখানে ছিলো ডন র্যাগনারসন, এখন সেখানে কেউ নেই। শুধু পাক খেয়ে উড়ছে কুয়াশা।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now