*তিন গোয়েন্দা* বিদায় মুসা— পর্ব ৩
X
**গত পর্বের পর**
দর্শকদের মাঝ দিয়ে তীর বেগে নাচের আঙ্গিনায় ঢুকে পড়ল দুটো বেপরোয়া ছেলে।স্কেটিং থামাল না।আরেকটু হলেই ডানদিকের ছেলেটার ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেত এক নর্তক।দর্শকদের মাঝে বিরক্তির গুন্জন উঠল।পাত্তা দিল না ছেলে দুটো,কোনওদিকে না তাকিয়ে স্কেট করে ভিড় ছেড়ে বেরিয়ে চলে গেল দীঘির আরেকদিকে।রেমনের দিকে তাকাল মুসা।'আমার ঘাড়ে এসে পড়েছিল ওই ছেলেটাই না?মাথা দোলাল রেমন।হ্যাঁ।ওর সঙ্গের ছেলেটা রেগ গ্রিন।আইস হকি দলের নামকরা খেলোয়াড়।বদমাশের হাড্ডি,বিড়বিড় করল মুসা।ভাব দেখে মনে হয় দীঘিটা যেন কিনে নিয়েছে ওরা।চলো তো,স্কেট করি,'বলল রবিন।আমি বাদ,জানাল কিশোর,হাঁপিয়ে গেছি।আমি বরং নাচ দেখি।তোমরা যাও।কিশোরকে সঙ্গ দিই আমি,'বলল রেমন।তোমরা আসার আগে থেকে স্কেট করছি,হাঁপিয়ে গেছি আমিও।চট করে মুসাকে দেখে নিল ও।নইলে আমাকে হারিয়ে দিতে পারত না মুসা।মুচকি হাসল মুসা।বেশিরভাগ প্রতিযোগিতায় ওর সঙ্গে হারে রেমন,কিন্তু স্বীকার করে না যে,পারেনি।সবসময় কোনও না কোন অজুহাত দেয়,এই জন্যে পারলাম না,ওই জন্যে পারলাম না।একবার ফুটবল খেলার সময় মুসা বল কেড়ে নেয়ায় বলেছিল:যাহ,গোবরে পা-টা গেল পিছলে!রবিনের হাতে চাপড় মারল মুসা।চলো,যাওয়া যাক।রওনা হয়ে গেল ওরা।
রবিন আগে আগে ছুটছে,মুসা একটু বামপাশে পিছনে।তারপর গতি বাড়াতে শুরু করল ও,রবিনকে ছাড়িয়ে হঠাৎ রওনা হল ডানদিকে।ওদিকে সেই দুই হকি খেলোয়াড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে ও।রবিন পিছু নিল ওর।দু'জন থামল ওরা দুই হকি খেলোয়াড়ের ফুট পাঁচেক সামনে।মুসাকে দেখেই ভ্রু কুঁচকে উঠল ডেনেরিক ডেড্রনের।ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,অ্যাই ছেলে,কোথায় যাচ্ছ দেখে যেতে পারো না?এখন থেকে চোখ খোলা রেখে চলতে চেষ্টা কোরো।তার সঙ্গী রেন গ্রিন তাল মিলিয়ে বলে উঠল,চোখে দেখেই না বোধহয়!সুন্দর সকালটা ঝগড়াঝাঁটি-মারামারিতে জড়িয়ে নষ্ট করতে চাইল না মুসা,তবে সরাসরি ডেড্রনের চোখের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে বলল,উপদেশ দেয়া সহজ,নিজে তা মেনে চলা কঠিন,কী বলো?লাল হয়ে গেল ডেনেরিক ডেড্রনের মুখ।মানে?সঙ্গীর দিকে একবার তাকিয়ে এক পা বাড়াল সে,যেন মেরেই বসবে।তৈরী হয়ে গেল মুসাও।একবার ওই ছেলে হাতটা বাড়াক ওর দিকে,এমন ল্যাং মারবে যে শক্ত বরফে আছাড় খেয়ে চারকোনা বড় বড় দাঁতগুলো খসে পড়ে যাবে ছোকরার।আর যদি না পড়ে,ওর একটা মোক্ষম ঘুসিই দাঁতগুলো ফেলে দিতে যথেষ্ট।অ্যাই,রবিন-মুসা!পিছন থেকে উৎকন্ঠিত শ্যারনের ডাক শুনতে পেল ওরা।একটু আগে স্কেটিং করতে হাজির হয়েছে শ্যারন।এসো তো!ফ্রীসবি এনেছি!
চোর-চোর খেলাটা মনে নেই?খেলি চলো!' যাও,যাও,মেয়েদের সঙ্গে খেলো গিয়ে,'টিটকারির হাসি হাসল ডেড্রন।প্রচন্ড রাগ হলো মুসার,কিন্তু রবিন ওর বাহুতে সাবধানী হাত রাখতেই সামলে নিল নিজেকে।ফিরতি পথে স্কেট করে চলল ওরা।একটু পর খেলা শুরু করে মুসা টের পেল,বরফের উপরে ফ্রিসবি ধরা সহজ নয় মোটেই।অন্তত একবার হলেও আছাড় খেল ওরা সবাই।রেমনের চোর হবার পালা এলে ফ্রিসবিটা থাকল শ্যারনের হাতে।ওটা ও ছুড়ে দিল রেমনের মাথার উপর দিয়ে।ফ্রিসবিটা বড়জোর দুই ফুট উপর দিয়ে ভেসে যাবে বুঝেই দু'হাত তুলে ব্যাঙের মতো লাফ দিল রেমন।ধরতে পারল ফ্রিসবিটা,কিন্তু বরফে পড়েই ওর দু'পায়ের স্কেট দুটো পিছলে গিয়ে ছুটল বিপরীত দিকে।ধপ করে চিত হয়ে পড়ল রেমন।কোমরের ব্যাথায় মনে হল ওর,মরেই যাবে।তাড়াতাড়ি সবাই ছুটে গেল ওর পাশে,শ্যারন উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল,'লাগেনি তো,রেমন? ...রেমন?'ন-না,'
ব্যাথায় নীল চেহারায় উঠে বসল রেমন,দাঁতে দাঁত চেপে বলল,কেমন স্টান্ট করলাম,শ্যারন?নিশ্চয়ই বুঝেছ আর্নল্ড শোয়ার্যনেগারের মতো পড়ে দেখালাম?মনে মনে বলল,'বাপরে বাপ!মরেই যে গেছি সেটা তুমি বুঝবে কোথেকে!এরপর দফায় চোর হবার পালা মুসার।
মাঝে দাড়াতেই শ্যারনকে লক্ষ্য করে ফ্রিসবি ছুঁড়ল কিশোর।দমকা একঝলক বাতাস মাঝপথে সরিয়ে নিল ফ্রিসবিটাকে।ওটা ধরতে ছুটল শ্যারন,ওকে ধাওয়া করল মুসা।ফ্রিসবি তুলতে ঝুঁকল শ্যারন,মুসা তখনও বেশ পিছনে,এমনসময় শ্যারনের কনুইতে গুঁতো মেরে চলে গেল সেই ডেনেরিক ডেড্রন।ভারসাম্য রাখতে না পেরে হুড়মুড় করে পিছলে পড়ে গেল শ্যারন।সবাই ছুটে এলো শ্যারনকে তুলতে,একপলক শ্যারনকে দেখল মুসা,ওর গুরতর কিছু হয়নি বুঝে নিয়েই এবার ছুটল ও বেপরোয়া হকি খেলোয়াড়ের পিছনে।দূরত্ব কমিয়ে আনার পর চিৎকার করল ও,অ্যাই মিয়া!কই যাও দেখে যেতে পারো না!চিৎকারটা কানে যেতেই ঝট করে ঘুরে দাঁড়াল ডেনেরিক ডেড্রন,নাক কুঁচকে ঠোঁট বাঁকা করে জিজ্ঞেস করল,'আমাকে বলছ?ছেলেটার দেড়ফুটের মধ্যে গিয়ে থামল মারমুখী মুসা।হ্যাঁ,তোমাকেই বলছি।এইমাত্র আমার বান্ধবীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এসেছ তুমি।দুঃখ প্রকাশও করোনি সেজন্যে।মুসার শক্তপোক্ত ব্যায়ামপুষ্ট শরীরটা একবার দেখল ডেনেরিক ডেড্রন।যা দেখেছে সেটা ওর পছন্দ হলো বলে মনে হয় না।ঘাড় ফিরিয়ে দেখল তার বন্ধুও আশেপাশে নেই।থমকে থমকে বল ডেড্রন,'দেখিনি মেয়েটাকে।যা-ই হোক,সামান্য একটু ধাক্কা লেগেছে শুধু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now