বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টিচার V/S স্টুডেন্ট

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অন্তরা (০ পয়েন্ট)

X টিউশনের প্রথম দিন আজকেই প্রথম এলাম স্টুডেন্ট কে পড়াতে।স্টুডেন্ট এর বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কলিং বেল চাপ দিতেই একটি মেয়ে এসে দড়জা খুলে দিলো। মেয়েটির হাতে একটি ফুলের ঝাড়ু ছিলো।পোশাক-আশাক দেখে মনে হলো এই বাড়ির কাজের মেয়েই হবে। হুট করেই মেয়েটির সাথে খেঁজুরে আলাপ করার ইচ্ছা জাগতেই আমি মেয়েটিকে বললাম তোমার নাম কি নূরী? মেয়েটি বলল না। --তবে কি বিলকিস? -- না, না আফা হেইডাও না। -- তবে কি সখিনা? -- কি যে কন না আফা, আমার নাম হইলো গিয়া এঞ্জেল সাফা। মেয়েটার কথা শুনে আমি একতরফা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। সাধারনত কাজের মেয়েদের নাম সখিনা, জড়িনা, বিলকিস এসবই হয়। এঞ্জেল সাফা হওয়ার কথা না। আচ্ছা এ মেয়েটা এ বাড়ির বড় মেয়ে নাতো যে কিনা যেমন খুশি তেমন সাজোর জন্য এভাবে সেজেছে। যদি তাই হবে তবে আপা কে আফা বলল ক্যান? মেয়েটাকে কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনই ৯/১০ বছরের একটি ফুটফুটে মেয়ে এসে আমার হাত ধরে টেনে একটি রুমে নিয়ে গেলো। তারপর মেয়েটি রুম থেকে বের হয়ে গিয়ে দড়জার সামনে দাঁড়িয়ে বলল স্লামালাইকুম মেম আমি কি ভেতরে আসতে পারি? আমি আরেকতরফা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আমতা আমতা করতে করতে বললাম, ওয়ালাইকুম আসসালাম ভেতরে আসো। এরপর আমি আমার স্টুডেন্ট কে পড়া বুঝিয়ে দিয়ে,, চেয়ারে বসে দুই পা দুলিয়ে কুটকুট করে বিস্কুট চিবাচ্ছিলাম। আর মাঝে মাঝে কাঠ বিস্কুট ইয়ে মানে টোস্ট আর কি চা তে চুবাচ্ছিলাম আর কামড়াচ্ছিলাম। ঠিক এমন সময় আমার ছাত্রী বলে উঠলো মেম আপনার নাম কি?? আমি আবারো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। এই যা খাওয়া শুরু করে দিলাম অথচ স্টুডেন্ট এর সাথে তো পরিচিতই হলামনা। একটু লজ্জা পেয়ে,সামনের চুলগুলো বাম হাত দিয়ে কানের পিছে গুজতে গুজতে বললাম আমি সায়মু। আর হ্যা আমাকে ওসব মেম টেম ডেকোনা,সায়মু আপু বললেই হবে। মেয়েটি দাঁত ক্যালিয়ে বলল ওকে সায়মুপু,,,,,, আমি আবারো বিস্কুটে কামড় দিয়ে পুরো ঘরটা পর্যবেক্ষন করতে লাগলাম। সাথে সাথে আমার স্টুডেন্ট আবারো প্রশ্ন ছুঁড়লো --সায়মুপু আপনি প্রেম করেন? আমার তো আক্কেলগুড়ুম। এ কেমন মেয়েরে বাবা,,!টিচার কে কেউ এমন প্রশ্ন করে? বড্ড পাজি দেখছি। নো প্রবলেম সব ধরনের পাজির ডোজ সায়মুর কাছে আছে। তাই আমিও ভাব নিয়ে বললাম,,না আমি প্রেম করিনা। -- কি বলেন সায়মুপু আপনার মতো এত্তো কিউট একটা মেয়ে প্রেম করেননা তা কি হতে পারে? আমার চোখ কপালে উঠে গেলো এই বাচ্চার মুখে এমন কথা শুনে, তার উপর আমি তার টিচার। এবার একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি মেয়েটিকে বললাম... এই যে মেয়ে শোনো আমি তোমার টিচার সো রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলো। বড্ড পেঁকেছো দেখছি। কি ভাবছো এসব কথা বললে আমি আর কাল থেকে আসবোনা। আমি তোমার আগের টিচারদের মতোনা যে একদিন পড়ানোর পর আর আসবোনা। তুমি কি জানো তোমার এসব কথা আমি ফোন রেকর্ড করেছি, আরেকটি পাঁকা কথা বললে এখন গিয়ে তোমার আম্মুকে সব শোনাবো। এখন তোমার পড়াশোনা করার সময়,প্রেম নিয়ে চিন্তা তোমার মস্তিষ্কে প্রবেশ করে কিভাবে? মেয়েটির চোখ ছলছল করছে বোদহয় কেঁদে ফেলবে। --আই এম সরি সায়মুপু। আমি আর দুষ্টুমি করবোনা। মন দিয়ে পড়বো। চোখের পানি মুছে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম এই বয়সটা পড়াশোনা আর খেলাধুলার। প্রেম এর না। ঠিক আছে এখন পড়ো। মেয়েটিও শান্ত হয়ে পড়ায় মন দিলো যাক ডোজে কাজ হয়েছে বিঃদ্রঃ আমার ফোনে আজ চার্জ ছিলোনা ফোন সারাদিন বন্ধ ছিলো। টিচার V/S স্টুডেন্ট লিখাঃ Shirin Sultana


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টিচার V/S স্টুডেন্ট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now