বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নৌকায় !
খাওয়া দাওয়া ?
খাওয়া দাওয়ার অসুবিধে কি? আমরা রান্না করব সেটা খাবেন। সব নৌকায় চুলো
আছে, ডেকচি পাতিল আছে। মাঝি হো হো করে হেসে বলল, এত বড় পাহাড় জঙ্গল আছে কি জন্যে?
বাথরুম?
ছোট চাচা তখনো সাহেবের পেছনে ঘুরঘুর করছেন। সাহেব মনে হচ্ছে তাকে বেশি পাত্তা দিচ্ছে না, কিন্তু তবু তিনি হাল ছাড়লেন না। আমরা আর ছোট চাচার জন্যে অপেক্ষা করলাম না, নিজেরাই একটা নৌকা ঠিক করার চেষ্টা করতে লাগলাম। আমরা বাচ্চা ছেলে বলে নৌকার মাঝিরা আমাদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল না। যখন
জানতে পারল সাথে একজন বড় মানুষ আছে তখন কয়েকজন মাঝি বেশ উৎসাহ নিয়ে
এগিয়ে এল। তারা নিজেরাই আলাপ আলোচনা করে একজন মাঝিকে ঠিক করে দিল।
লম্বা ঢ্যাঙা হালকা পাতলা মানুষ, হাসিখুশি চেহারা, নাম মুসলিম। তার কথা বোঝা অবশ্যি খুব কঠিন, মনে হয় সেখানে চট্টগ্রাম নয়, একেবারে আরাকানের ভাষার টান। মাঝির সাথে দরদাম করার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু খালেদের যন্ত্রণায় বেশিদূর যাওয়া গেল না। মাঝি যত চাইল খালেদ ঝপ করে সেটাতেই রাজি হয়ে গেল। আমরা তখন আমাদের ঝোলাঝুলি নিয়ে নৌকায় উঠে পা ছড়িয়ে বসলাম। নৌকার মাঝিকে কিছু টাকা ধরিয়ে দেয়া হল, সে গেল বাজার করতে, আগামী কয়েকদিনের জন্যে চাল ডাল কিছু কিনে আনবে। আমরা বলে দিলাম বিস্কুট কলা এসবও যেন কিনে আনে।
আমাদের মাঝে তখন কেমন জানি এক ধরনের স্ফূতির ভাব এসে গেছে। নৌকায় বসে নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে হৈ হুল্লাড় করছি। আশপাশে অনেক নৌকা। নদীর অন্য পাশে খাড়া পাহাড়। সেখানে দেখি কিছু বানর লাফঝাফ দিচ্ছে। জায়গাটার নাম বান্দরবন হওয়ার কারণ তাহলে সত্যি আছে। কিছু লোক দেখলাম নদীতে গোসল করছে, জামা কাপড় খুলে আমরা লাফিয়ে পড়ব কি না চিন্তা করছিলাম, তখন দেখলাম ছোট চাচা ফিরে আসছেন। মুখে বেশ বড় একটা হাসি।
আমরা নৌকা ঠিক করে নিয়েছি দেখে রাগ করবেন ভেবেছিলাম কিন্তু রাগ করলেন না, বরং মনে হল একটু খুশিই হলেন। নৌকার গলুইয়ে পা ঝুলিয়ে বসে এক গাল হেসে বললেন, সাহেবের নাম ফ্রেডারিক মারার। বাড়ি নিউজানি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি করছে এখানে?
তেল কোম্পানিতে কাজ করে। এক্সন। ড্রিল করার জন্যে এসেছে। ড্রিল?
হ্যাঁ। তেল খোঁজার জন্যে মাটি খুঁড়ে দেখতে হয় তো। তাই করবে পাহাড়ে।
ও।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now