বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লোকটা থতমত খেয়ে থেমে গেল। বেশ বিরক্ত হল, ভেবেছিলাম আমার কথার উত্তরই দেবে না, কিন্তু উত্তর দিল। গম্ভীর হয়ে বলল, পাহাড়ি দানো।
পাহাড়ি দানো?
হ্যাঁ।
সেটা আবার কি?
পাহাড়ে থাকে। বটগাছের সমান উঁচু। একটা দাঁত হাত দুই লম্বা। আমার মুখে নিশ্চয়ই অবিশ্বাসের হাসি ফুটে উঠেছিল, কারণ দেখলাম হঠাৎ লোকটা খুব গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, আমার কথা বিশ্বাস করলে না? মনে করছ দুই চার পাতা বই পড়েছ বলে আল্লাহর দুনিয়ায় যা যা আছে সব জ্ঞান, হ্যাঁ?
আমি কিছু বললাম না। লোকটা এবার মাথা এগিয়ে বলল, এই হাড্ডিটা এসে তুলো দেখি ! বাস একটা হর্ন দিল সাথে সাথে ছোট চাচার ক্রুদ্ধ গলার স্বর শুনতে পেলাম কিন্তু এত বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছেড়ে দিই কেমন করে? এগিয়ে গিয়ে হাড়টা তোলার চেষ্টা করে একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম, ভয়ংকর ভারী— যেন হাড় নয়, পাথর। খালেদও
এগিয়ে এসে তোলার চেষ্টা করল, পারল না। সে অবাক হয়ে একবার লোকটার দিকে
তাকাল তারপর কেমন যেন অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ফসিল।
কি?
ফসিল। ফসিল?
হ্যাঁ, ডাইনোসোরের ফসিল।
বাসটা খুব খারাপ ধরনের লম্বা একটা হর্ন দিয়ে নড়তে শুরু করল, খালেদ তখনো হাড়টা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বললাম, চল খালেদ। খালেদ ফিসফিস করে বলল, আমি যাব না।
কি বললে? আমি যাব না।
আমি অবাক হয়ে খালেদের দিকে তাকালাম, হঠাৎ বুঝতে পারলাম সে সত্যিই যাবে না!
ছোট চাচা বেশি রাগেন না বলে রাগলে কি করতে হয় ঠিক জানেন না। বারবার শুধু ডান হাতটা ওপরে তুলে নাচার মত একটা ভঙ্গি করে একটু একটু তোতলাতে থাকেন। রাগলে ছোট চাচা ইংরেজিতে কথা বলতে থাকেন, বেশি রাগলে আবার ইংরেজিটাও ঠিক বের হয় না, ঢাকাইয়া কথা বের হতে থাকে। রাগটা খালেদের উপরে, কিন্তু সে একেবারেই গা করল না, একটু পরে চোখ বড় বড় করে বলতে লাগল, ফসিল! সত্যিকারের ফসিল ! ডাইনোসোরের ফসিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now