বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
|| থ্রিলার গল্প : নরক ||
- শুভাগত দীপ
শেষ পর্ব
গল্পের এই পর্যায়ে আমরা সামান্য টাইম ট্রাভেল করবো। ফিরে যাবো আজ থেকে পাঁচ বছর আগের একটি বিকেলে। সেই বিকেলে আজকের এই নরক, নরক ছিলোনা। এটা সাধারণ একটা গুদামঘরই ছিলো। ডাক্তার শায়লা আর বোটানিস্ট ড. ইন্তেখাব আহমেদও তাদের একমাত্র শিশুপুত্র আদনান আহমেদ রিমন ওরফে রিমুকে নিয়ে একটা সুখী জীবন পার করছিলো। হ্যাঁ, সুখী জীবন। সেটা পাঁচ বছর আগের সেই বিকেলের আগে।
একটা নারীর পাগল করা কান্নায় আকাশ বাতাস কাঁপছিলো সেই বিকেলে। যে কাঁদছিলো, সে পেশায় একজন ডাক্তার। তার নাম ডাক্তার শায়লা শারমিন। কয়েকজন মহিলা পুলিশ তাকে বৃথা সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছিলো। বৃথা বললাম এই কারণে যে, একজন সন্তানহারা মায়ের ওপর স্বয়ং ঈশ্বরের সান্তনাও পুরোপুরিভাবে বিফল।
পাঁচ বছর আগের সেই অভিশপ্ত বিকেলে ইন্তেখাব-শায়লা দম্পতির একমাত্র সন্তান রিমু'র ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় ওদের স্কুলের পেছনে। রিমু ওই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তো। স্কুলটা বাড়ির কাছে হওয়ায় মাঝে মাঝেই ওটার মাঠে খেলতে যেত পাড়ার আরো কয়েকজন সমবয়সীর সাথে। অভিশপ্ত বিকেলের দুই দিন আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে গেছিলো রিমু। কোথাও ওর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলোনা। ওর লাশ পাওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় ড. ইন্তেখাবের মোবাইলে একটা কল আসে। অজ্ঞাত একটা পুরুষকণ্ঠ নিজের স্বর বিকৃত করে ইন্তেখাবকে যা বলে, তা শুনে হাত পা কাঁপতে থাকে তার।
পুরুষকণ্ঠটি জানায়, ওদের সন্তান রিমুকে অপহরণ করেছে সে ও তার সহকারী। ভোরের মধ্যে দশ লাখ টাকা না পেলে রিমু'র লাশ পৌঁছে দেয়া হবে তাদের বাড়ির দরজায়। এসব কথা পুলিশকে জানালে লাশটাও পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে। রহস্যময় পুরুষকণ্ঠটি ইন্তেখাবকে বলে, রিমু'র স্কুলের সাথে লাগোয়া যে কনফেকশনারিটা আছে, টাকা পৌঁছে দিতে হবে সেখানে। ভোরে, যখন দোকানটা বন্ধ থাকবে, টাকার ব্যাগ রেখে আসতে হবে ওটার শাটারের সামনে। এই পর্যন্ত বলেই কলটা কেটে দিয়েছিলো লোকটা। ইন্তেখাবকে কিছুই বলার সুযোগ দেয়নি। আসলে, সুযোগ দিলেও যে সে কিছু বলতে পারতো, তা-ও বোধহয় না।
দেশের প্রখ্যাত বোটানিস্ট ড. ইন্তেখাব আহমেদ অত্যন্ত সরল ধরণের মানুষ। একমাত্র সন্তানের এমন অপহরণের ঘটনা তার ভঙ্গুর মনে একটা ভয়াবহ ক্ষতের সৃষ্টি করেছিলো। আসলে সেটাই ছিলো শুরু। এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে তাকে ভয়ঙ্কর মানসিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, যার কাছে কথিত নরক যন্ত্রণা কিছুই না। সেই প্রসঙ্গে একটু পরেই আসছি।
অজ্ঞাত অপহরণকারীর কল পেয়ে সবকিছুই নিজের স্ত্রী শায়লাকে জানালো ইন্তেখাব। শায়লার মাতৃহৃদয় কোন প্রচলিত আইন বা যুক্তিতর্কের ধার ধারতে চাইলোনা। টাকা দিয়ে সন্তানের মুক্তি কেনারই পক্ষপাতী ছিলো সে। নিজেদের জমানো টাকা একত্র করে বহু কষ্টে দশ লাখ টাকার পুরোটাই যোগাড় করেছিলো এই দম্পতি। অপহরণকারী অজ্ঞাত লোকটির কথামত পুলিশকেও কিছুই জানিয়েছিলোনা। তারপর পরবর্তী দিন ভোরে ওদের বেঁধে দেয়া সময় মতই বন্ধ কনফেকশনারিটার সামনে টাকার ব্যাগ রেখে এসেছিলো ইন্তেখাব। তারপর একটা একটা করে সেকেন্ড পেরিয়েছে রিমু'র সুস্থ্য শরীরে ফেরার অপেক্ষায়। রিমু ফিরেছিলো, সেদিন বিকেলেই ফিরেছিলো, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া একটা লাশ হয়ে।
রিমু'র ক্ষতবিক্ষত লাশটি প্রথম দেখতে পায় স্কুলের জমাদার রমিজ মিয়া। সে-ই পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর দেয় ইন্তেখাব-শায়লা দম্পতিকে। একমাত্র সন্তানের লাশ দেখে যেন পাথর হয়ে গিয়েছিলো ইন্তেখাব। মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ ধরণের একটা জান্তব শব্দ হচ্ছিলো ওর। বোবা কান্নায় মুচড়াচ্ছিলো ভেতরটা। চিৎকার করে কাঁদতে পারলে হয়তো একটু শান্তি পেত মানুষটা। পারেনি সেদিন। দেবশিশুর মত দেখতে নিজের ছেলের লাশের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে কাঁদছিলো লোকটা।
ডাক্তার শায়লা তার বেশ কয়েক বছরের পেশা জীবনে অনেকগুলো মৃত্যু ও লাশ দেখেছে। কিন্তু সেই বিকেলে নিজের নাড়িছেঁড়া ধনের লাশ সামনাসামনি দেখে পাগলের মত হয়ে গেছিলো সে। তার কান্না আর আহাজারিতে আন্দোলিত হচ্ছিলো আশেপাশের পুরো পরিবেশ। 'রিমু... রিমু...' বলে ডাকতে ডাকতে বারবার ছেলের লাশের দিকে ছুটে যেতে চাইছিলো মেয়েটা। সেই সময় কিছু নারী কনস্টেবল তাকে ধরে রেখেছিলো। শায়লার কান্নায় আশেপাশের আরো কয়েকজন মানুষের চোখে পানি চলে এসেছিলো। অনেকেই রিমু'র লাশের দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। ওইটুকু বাচ্চার অমন ক্ষতবিক্ষত লাশের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেনি।
বাচ্চা ছেলেটার লাশ উপুড় হয়ে পড়েছিলো স্কুলের পেছনের একটা ডোবা মত জায়গার শুরুতে। কাদায় মাখামাখি হয়ে ছিলো লাশটার অনেক অংশ। উপুড় হয়ে পড়ে থাকলেও লাশের মাথাটা বামপাশে ফেরানো ছিলো। গলা ইঞ্চি দুয়েক ফাঁক হয়ে ছিলো। আশেপাশেত কাদামাটির অনেকটা জায়গা ভিজে ছিলো রিমু'র রক্তে। ওর পরনের নীল গেঞ্জি আর খয়েরি হাফ প্যান্টটার জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া ছিলো। শরীরের অনাবৃত জায়গাগুলোতে ছিলো নানা কাটাছেঁড়ার দাগ। পুলিশ সহ সবাই বুঝতে পেরেছিলো বাচ্চা ছেলেটাকে নারকীয় অত্যাচার করে যন্ত্রণা দিয়ে খুন করা হয়েছে। সেদিনের সেই অভিশপ্ত বিকেলে রিমু'র লাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের সবাই শিউড়ে উঠেছিলো এমন ঘটনায়। কে এমন বিভৎসভাবে খুন করলো অমন একটা দেবশিশুকে! সে কি মানুষ! না, অবশ্যই না। মানুষের রূপধারী পিশাচ!
পুলিশ রিমু'র লাশটা নিয়ে গিয়েছিলো পোস্টমর্টেমের জন্য। ইন্তেখাব-শায়লা দম্পতির মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদেরকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে বিরত ছিলো। স্বামী স্ত্রী দুজনের মধ্যে শায়লাই তুলনামূলক ভাবে শক্ত ছিলো সেই সময়। একজন সাব ইন্সপেক্টর তাকে সামান্য কয়েকটা প্রশ্ন করেছিলো। সেগুলোর মধ্যে প্রধান প্রশ্ন ছিলো, ওরা কাউকে সন্দেহ করে কিনা। উত্তরে শায়লা না বলেছিলো। কোন একটা আশ্চর্য কারণে ওরা রিমু'র লাশ পাওয়ার আগের দিন ইন্তেখাবের মোবাইলে আসা অজ্ঞাত পুরুষকণ্ঠের কলের ব্যাপারে পুলিশকে কিচ্ছু জানায়নি। কিছু জানায়নি ওদেরকে দেয়া দশ লাখ টাকার ব্যাপারেও।
পোস্টমর্টেমের রিপোর্টে ভয়াবহ একটা কথা জানা গেলো। খুন করার আগে বেশ কয়েকবার বলাৎকার করা হয়েছিলো রিমুকে। তার সারা শরীরে আঁচড় ও কামড়ের দাগের চিহ্ন ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে ছিলো। তবে ও মারা গেছে জবাই করার কারণে হওয়া অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। সমস্ত কিছু জানার পর ইন্তেখাব-শায়লা দম্পতি যেন আরো মূহ্যমান হয়ে পড়লো। প্রথম প্রথম পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতা দেখালো। কিন্তু কোনভাবেই কোন কাজ হলোনা। সময় বয়ে যেতে লাগলো, সেই সাথে স্তিমিত হতে লাগলো রিমু'র খুনীদের গ্রেপ্তার হওয়ার আশা।
কেটে গেলো দুটো বছর। সম্ভাবনাময় বোটানিস্ট ড. ইন্তেখাব আহমেদের মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা দিয়েছে। নিজের পেশাজীবন প্রায় ধ্বংস হওয়ার পথে। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর থেকেই তার ভেতরে খাপছাড়া আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিলো। একা একাই নিজের সাথে কথা বলতো, হাসতো-কাঁদতো। স্কিজোফ্রেনিয়ার প্রথম স্টেজে পৌঁছে গিয়েছিলো একদম। এক মাঝরাতের কথা, পাশে ঘুমিয়ে থাকা শায়লাকে ঠেলা ধাক্কা দিয়ে ডেকে তুলেছিলো ইন্তেখাব। ব্যগ্র কণ্ঠে বলেছিলো, সে নাকি রিমু'র কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে ব্যালকনি থেকে। উদভ্রান্তের মত সেদিকে দৌড়ে গিয়েছিলো সে। তারপর অদৃশ্য রিমুকে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলো।
শায়লা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলো তার স্বামীর অবস্থা ভালো না। সে নিজেও তো একজন ডাক্তার। কিছুদিন পর শায়লা ইন্তেখাবকে একটা প্রাইভেট মেন্টাল অ্যাসাইলামে রেখে আসে। দেশের একজন প্রখ্যাত সাইকিয়াট্রিস্ট ইন্তেখাবের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সপ্তাহে দুই দিন শায়লা ওখানে যায় ইন্তেখাবকে দেখতে। গত তিন বছরে ও যতবারই ইন্তেখাবকে দেখতে গেছে, ততবারই সে রিমু'র কথা জিজ্ঞেস করেছে। ইন্তেখাবের অসুস্থ্য জগতে রিমু বেঁচেই আছে, মরেনি।
পুরোপুরি একা হয়ে গেলো শায়লা। নিজেদের বাসা ছেড়ে গিয়ে উঠলো বাবার বাসায়। বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। মা ফ্রান্সে থাকেন ছোট খালার বাসায়। এই বাড়িতে উঠে প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কারের কাজ করে ফেললো শায়লা। এই কাজে ওকে সাহায্য করলো বাড়ির পুরোনো মালী ও কেয়ারটেকার মজু চাচা। শায়লা যখন ওর বাবার পুরোনো অফিসঘরটিকে ঘষে মেজে পরিষ্কার করে দেখানে ডেস্ক, কম্পিউটার কনসোল এসব বসাচ্ছিলো, মজু চাচার কোন সন্দেহ হয়নি। তার সন্দেহ হলো, যখন শায়লা বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত গুদামঘরটিতে অনেক পরিবর্তন আনলো। বিশ্বাসী মিস্ত্রী এনে একেবারে ভেতরের দিকে দেয়ালের গায়ে মোটা মোটা দুটো শেকল লাগানো দেখে মজু চাচা প্রশ্নটা করেই ফেললো শায়লাকে। শায়লা তখন শুধু একটা কথাই বলেছিলো - কিছু পাপীকে শাস্তি দিতে হবে, এজন্য নরক বানাচ্ছে সে! পার্থিব নরক!
রিমুকে নিজের নাতির মতই ভালোবাসতো মজু চাচা। তার মৃত্যুতে সে-ও ভয়াবহ আঘাত পেয়েছিলো। তাই সে বিনা বাক্যব্যয়ে শায়লাকে সাহায্য করতে রাজি হলো ওর প্রতিশোধ আদায়ের কাজে। একটা পৈশাচিক মিশনে নেমে পড়লো তারা।
খুন হওয়ার সপ্তাহ কয়েক আগে রিমু ওদের স্কুলের জমাদার রমিজ মিয়ার অদ্ভুত এক আচরণের কথা জানিয়েছিলো শায়লাকে। রমিজ মিয়া নাকি মাঝে মাঝেই সুযোগ পেলে রিমুকে 'আদর' করতে চাইতো। ওই 'আদর'টা রিমু'র একেবারেই পছন্দ হতোনা। কোনমতে ওকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে আসতো রিমু। শায়লা বুঝতে পেরেছিলো, রমিজ মিয়া বিকৃত মানসিকতার কোন মানুষ। সে ব্যাপারটা রিমু'র স্কুলের প্রিন্সিপালকে জানানোর পর রমিজ মিয়াকে আর রিমু'র আশেপাশে দেখা যায়নি।
রমিজ মিয়াই রিমু'র লাশটা ওদের স্কুলের পেছনে প্রথম আবিষ্কার করে - এই জিনিসটা শায়লাকে অনেক ভাবিয়েছে। লোকটার ঠাটবাটও যেন পালটে গেছে ইদানীং। নতুন বাইক কিনে ভঁ ভঁ করে ঘুরে বেড়ায় গোটা এলাকা। সামান্য একজন জমাদার বাইক কেনার টাকা কোথায় পায়! শুরুটা সে রমিজ মিয়াকে দিয়েই করতে চেয়েছিলো। ও নিশ্চিত ছিলো, রমিজ মিয়া রিমু'র অপহরণ ও পৈশাচিক খুনের ব্যাপারে অনেক কিছু জানে।
তাগড়া ষাঁড়ের মত স্বাস্থ্যের অধিকারী রমিজ মিয়াকে অপহরণ করাটা খুব কঠিন কাজ ছিলো শায়লার জন্য। মজু চাচা সাহায্য না করলে তা সম্ভবও ছিলোনা। এক সন্ধ্যায় রমিজ মিয়া অন্যান্য দিনের মতই গাঁজা খেয়ে বড় রাস্তার পাশের গোরস্তানে বসে ঢুলছিলো। ঠিক তখনই তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে এনে ফেলেছিলো মজু চাচা। শায়লা শিখিয়ে দিয়েছিলো, মাথার কোন স্থানে আঘাত করে বেহুঁশ করতে হবে। মজু চাচা ঠিক সেই জায়গাতেই মুগুরের আঘাতটা হেনেছিলো। তারপর খুব সন্তর্পনে ওরা দুজন রমিজ মিয়ার বেহুঁশ দেহটা শায়লার গাড়ির পেছনে তুলে পরিত্যক্ত গুদামঘরে নিয়ে গেছিলো। ততদিনে ওটাকে পুরোদস্তুর নরকে পরিণত করা হয়েছে!
জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে অকথ্য গালাগালির তুবড়ি ছুটিয়েছে রমিজ মিয়া। অন্ধকার একা ঘরে ওর এই গালাগালি কেউ শুনছেনা বুঝতে পেরে চুপও হয়ে গিয়েছিলো। আসলে, সব শুনছিলো ও দেখছিলো শায়লা। সিসি ক্যামেরার কল্যাণে নিজের ডেস্কে বসানো মনিটরে রমিজ মিয়াকে ভালোভাবেই দেখতে পাচ্ছিলো সে।
রমিজ মিয়াকে ইন্টারোগেট করার জন্য শায়লা দারুন এটাসবসময় অন্ধকার করে রাখা হতো ঘরটা। মাঝে মাঝেই লুকানো স্পিকারে নানা ভৌতিক শব্দ বাজানো হতো ওকে ভয় দেখানোর জন্য। আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে নানারকম অর্থহীন কথা বলতো রমিজ মিয়া। বারবার লিয়াকত নামের কাউকে গালাগালি করতো। মাঝে মাঝে অদৃশ্য কাউকে ওর দিকে এগোতে নিষেধ করতো। কম্পিউটার কনসোলের সামনে বসে ডাক্তার শায়লা এসব খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতো। আসলে দেখতো বললেও ভুল হবে। বলা উচিৎ, উপভোগ করতো।
রমিজ মিয়া তখনো পুরোপুরি অপ্রকৃতিস্থ হয়নি। রিমুকে হত্যা ও অপহরণের ব্যাপারে তার সহযোগী কে তা বের করতে শায়লাকে যেতে হলো তার নিজেরই সৃষ্টি করা নরকে। ঘরটির একটি অন্ধকার অংশে দাঁড়িয়ে সে রমিজ মিয়ার সাথে কথা বলেছিলো। সে রমিজ মিয়াকে দেখতে পেলেও রমিজ মিয়া তাকে দেখতে পাচ্ছিলোনা। সেখানে ওদের মাঝে নিন্মোক্ত কথাবার্তাগুলো হয়েছিলো।
- রমিজ মিয়া, রিমুকে চেন?
- কে... কে কথা কয়?
- রিমুকে খুন করলে কেন?
- আমি খুন করতে চাইনাই! ওই শালা লিয়াকত কইলো, ব্যাডারে না মারলে ব্যাবাক কথা ফাঁস হইয়া যাইবো। তাই...
- ওকে জবাই করেছিলো কে, তুমি?
- আমি না... আমি না... ওরে জবাই করছে লিয়াকত। আমি খালি অর হাত-পা চাইপা ধইরা আছিলাম।
- কত টাকা ভাগে পেয়েছো, রমিজ মিয়া?
- পাঁ... পাঁচ লাখ ট্যাকা। আপনেরে দিয়া দিমু। আমারে ছাইড়া দ্যান... আল্লাহর দোহাই লাগে!
- চোপ! তোর ঐ নোংরা মুখে আল্লাহর নাম নিবিনা!
- ম্যাডাম! আমারে ছাইড়া দেন...
- দেবো। তুই যদি বলিস, লিয়াকত কোথায়, তাহলে তোকে ছেড়ে দেবো।
- লিয়াকত শালায় অর দোকানে থাকে এখন।
- কনফেকশনারির দোকান?
- হ ম্যাডাম। আগে... আগে একটা পোলা অর দোকান সামলাইতো। এখন অয় নিজেই দোকানে বসে।
- প্ল্যানটা কার?
- আমার না... বিশ্বাস করেন... ওইডা লিয়াকতের পিলান...
- রমিজ মিয়া, রিমুকে তোরা অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছিস। ওইটুকু বাচ্চার সাথে তোরা অমন খারাপ কাজ কিভাবে করতে পারলি?
- আমারে মাফ কইরা দেন... দোহাই লাগে... ছাইড়া দেন...
হাত পা বাঁধা রমিজ মিয়া মেঝেতে পড়ে থেকে কাটা মাছের মত লাফাতে লাগলো। সমানে বিলাপ করছিলো সে। ভয়াবহ এই নরকের দেয়ালে দেয়ালে সেই বিলাপ ক্রমাগত প্রতিধ্বনিত হয়ে ওর কাছেই ফিরে যাচ্ছিলো। শায়লা ওখান থেকে বেরিয়ে এসে মজু চাচাকে প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশ দিলো রমিজ মিয়ার ব্যাপারে। মজু চাচাও রহস্যময় হাসি হেসে তাতে সায় দিলো। চোখে জল আর ঠোঁটে দুর্বোধ্য হাসি নিয়ে শায়লা নেমে পড়লো ওর শেষ শিকারের প্ল্যান ফাইনাল করার কাজে। পেছনে যন্ত্রণাকাতর পশুর মত চিৎকার করে চলেছে রমিজ মিয়া। মজু চাচার গালাগালিও শোনা যাচ্ছে। জানোয়ারটার জিভ কাটতে গিয়ে বাধা পেয়েই অমন গালাগালি দিচ্ছে চাচা, বুঝলো শায়লা।
টানা দুই মাস কখনো শায়লা আবার কখনো মজু চাচা পালা করে লিয়াকতের প্রত্যেকটা গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলো। সে কখন দোকানে যায়, কখন দোকান থেকে ফেরে - সবকিছুই পাই টু পাই নোট করে নিচ্ছিলো তারা। তারপর এলো সেই বিশেষ দুপুর। প্রায় একইভাবে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিলো লিয়াকতের মাথায়। জনশূন্য গলি থেকে ওর অচেতন দেহ মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সরাসরি নরকে ফিরে এসেছিলো দুই যমদূত।
| | |
টাইম ট্রাভেল শেষ করে এবার বর্তমানে ফেরা যাক। নরকের ধুলিময় ঠাণ্ডা মেঝেতে যথারীতি পড়ে আছে লিয়াকত। ওখান থেকে ওঠার কোন শক্তিই তার শরীরে অবশিষ্ট নেই। এখানে সে কতদিন যাবত আছে, সেই হিসাবও গুলিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। এখন আর ওর সাথে ডাইনীটার কোন কথা হয়না। মনে হয়, অনেকদিন হয়ে গেছে, ডাইনীটার কণ্ঠ ও শোনেনি। নরকের সবকিছু যেন আগের মতই আছে। এখনো নিয়মিত শেকলের শব্দ পাওয়া যায় ঘরটির অন্ধকার কোণ থেকে। মাঝে মাঝে কাঁচা মাংসের গন্ধও নাকে এসে ধাক্কা দেয় লিয়াকতের। এখন আর তাকে থালায় করে খেতে দেয়া হয়না। দরজার নিচের খোপটি দিয়ে খাবার ছুঁড়ে দেয়া হয়। মেঝের নোংরায় মাখামাখি হওয়া সেই খাবার বুভুক্ষুর মত গলাধঃকরণ করে সে।
টাইলওয়ালা ঘরের ডিভানে বসে আছে শায়লা। ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে মজু চাচা। মজু চাচা শায়লাকে আম্মাজান ডাকে। ওদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ হচ্ছে।
- আম্মাজান, লিয়াকতরে কি এখনই এখানে নিয়ে আসবো?
- আনো, চাচা।
- ওইখানে যাইয়া কথা বলাডাই ভালো ছিলোনা?
- না চাচা। ওর সাথে আমি স্বাভাবিক একটা পরিবেশে কথা বলতে চাই।
- আচ্ছা, আম্মাজান।
- চাচা, লোকটাকে আমার সামনে আনার আগে একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে এনো।
- আচ্ছা।
মজু চাচা চলে গেলো লিয়াকতকে এই ঘরে আনার জন্য। শায়লা উঠে গিয়ে ঘরের পশ্চিম দিকের জানালাটা খুলে দিলো। দারুন এক ঝলক বাতাস যেন স্নিগ্ধ করে দিয়ে গেলো ঘরের সব কিছুকে।
প্রায় আধাঘণ্টা পর মজু চাচা লিয়াকতকে নিয়ে হাজির হলো। ওকে রীতিমত কাঁধে করে বয়ে আনতে হয়েছে চাচার। কঙ্কালসার নোংরা লোকটাকে ধুইয়ে এনেও তার চেহারায় বিন্দুমাত্র সতেজ ভাব আনা যায়নি। কোটরে বসা ঢুলুঢুলু দুটো চোখ যেন শুধু কাঙ্ক্ষিত মৃত্যুরই প্রতীক্ষা করছে। এখন লিয়াকতের পরনে একপ্রস্ত নতুন পাজামা পাঞ্জাবি। সারা গায়ে বেশ ভালোমত বডিস্প্রে মাখিয়েও মজু চাচা ওর গায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে পারেনি। ডিভানে বসে থাকা শায়লার নাক নিজের অজান্তেই একটু কুঁচকে উঠলো।
মজু চাচা ল্যাগব্যাগ করতে থাকা লিয়াকতকে এক হাতে ধরে আরেক হাতে একটা চেয়ার টেনে নিলো। লিয়াকতকে বসালো সেখানে। তারপর শুধু একবার শায়লার দিকে একটা তাকালো। শায়লা তার দিকে তাকিয়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়াতেই চাচা বেরিয়ে গেলো। এখন এই ঘরে শুধু সে আর লিয়াকত। শায়লাই প্রথম কথা বলে উঠলো। আর লিয়াকত তার পৃষ্ঠে কথা বললো দুর্বল স্বরে।
- লিয়াকত, আমাকে চিনতে পারছো?
- জি। আপনি রিমু'র মা।
- তোমাকে আমিই এতদিন ঐ নরকে আটকে রেখেছিলাম।
- আমি জানি। এবার আমাকে ছেড়ে দিন, প্লিজ। আমার কি যথেষ্ট প্রায়শ্চিত্ত হয়নি?
শায়লা এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিলোনা। লিয়াকত বেশ দুর্বলভাবে কথা বললেও ওর ভেতরে আর আগের মত ভয় পাওয়া লক্ষ্য করলোনা শায়লা। লোকটা যেন আর কোন কিছুতেই আতঙ্কিত না। একবার নিজের স্মার্টফোনের ওয়ালপেপার হিসেবে রাখা নিজেদের ফ্যামিলি ফটোটার দিকে তাকালো শায়লা। রিমু'র নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে যেন আবারো শক্তি পেলো।
- তোমাদেরকে তো টাকা দিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তারপরো আমার বাচ্চাটাকে মারলে কেন?
- ওটা একটা দুর্ঘটনা ছিলো।
- দুর্ঘটনা? ঠাণ্ডা মাথায় একটা বাচ্চাকে বলাৎকার করে খুন করাটা একটা দুর্ঘটনা ছিলো?
রাগে রীতিমত কাঁপছে শায়লা। মনে হচ্ছে, এখনই সামনে বসে থাকা জানোয়ারটাকে মাটিতে ফেলে পিটিয়েই নেরে ফেলে! কিন্তু রাগটা সংবরণ করলো ও। লিয়াকতকে নিয়ে তার অন্য প্ল্যান আছে। তিলে তিলে গড়ে তোলা প্ল্যান। উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে এলো শায়লা। ওটা বাড়িয়ে দিলো লিয়াকতের সামনে। প্রায় ছোঁ মেরে পানির গ্লাসটা ওর হাত থেকে নিয়ে ঢকঢক করে খেলো লোকটা। তারপর কিছুটা কৃতজ্ঞতা আর কিছুটা উদভ্রান্ত চাহনি নিয়ে তাকিয়ে থাকলো শায়লার দিকে।
- ভয় নেই লিয়াকত। গ্লাসের পানিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিলোনা।
- আমাকে যেতে দিন, প্লিজ...
- আমার ছেলেটাকে কি তুমিই বলাৎকার করেছিলে?
- না। আমরা ওকে টাকা পেলেই ছেড়ে দেবো, এমনটাই প্ল্যান ছিলো। কিন্তু ভজকট করে দিলো রমিজ মিয়া। আমি রাতের খাবার আনতে বাইরে যাওয়ার পর সে চড়াও হয় রিমু'র ওপর। আমি ফিরে এসে ছেলেটার অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যাই। সে-ও এদিকে মুখ ঢাকা থাকলেও রমিজ মিয়াকে চিনতে পেরে গেছিলো। তাই...
- তাই তোমরা ওকে জবাই করলে, তাইনা?
কোন উত্তর এলোনা লিয়াকতের কাছ থেকে। শায়লাও নির্বাক হয়ে বসে থাকলো। কিছুক্ষণ পর স্মার্টফোনটা তুলে নিয়ে মজু চাচার নাম্বারে ডায়াল করলো।
- চাচা, কাজ শেষ?
- হ আম্মাজান।
- আচ্ছা, ওকে নিয়ে যাও।
- আইতেছি আম্মাজান।
চেয়ারে বসে দুর্বল শরীরের লিয়াকত যেন ঘুমে ঢুলছে। শায়লা একেবারে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। একটু ঝুঁকে ওর চিবুকটা উঁচু করে ধরলো শায়লা। চোখ রাখলো লিয়াকতের চোখে। সেই চোখের দৃষ্টিতে জ্বলজ্বল করছে ঘৃণা আর ক্রোধ।
- লিয়াকত, তোমার মুক্তি অতি নিকটে। তৈরি হও নিজের যন্ত্রণাময় জীবন থেকে আরো যন্ত্রণাময় মুক্তির জন্য।
- না... প্লিজ ম্যাডাম...
মজু চাচা চলে এসেছে। দুর্বল কঙ্কালসার লিয়াকতকে চ্যাংদোলা করে কাঁধে তুলে নিতে তার কোন কষ্টই হলোনা। চিঁচিঁ করে চিৎকার করতে থাকা প্রায় আধামরা দেহটাকে নিয়ে সে রওনা হলো সেই পুরোনো নরকে। শায়লা তখনো চোখমুখ শক্ত করে বসে আছে ডিভানে।
মজু চাচা লিয়াকতকে একরকম ছুঁড়ে ফেললো নরকের দরজা দিয়ে। তারপর ওটার পাল্লাদুটো বাইরে থেকে টেনে ওটার পুরোনো হুড়কোটা টেনে দিলো। নির্বিকার ভাবে গুদামঘরের পেছনের দিকে এগোতে লাগলো মজু চাচা। তার ডান হাতে বেরিয়ে এসেছে একটা বড় চাবি। গুদামঘরের পেছনে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে চাচা তার মোবাইল থেকে কল দিলো শায়লাকে।
- আম্মাজান...
- চাচা, এখন!
শায়লার কথা শেষ হওয়ামাত্র চাচা তার হাতের বড় চাবিটি একটা নির্দিষ্ট কি-হোলে ঢুকিয়ে ডান দিকে জোরে একটা মোচড় দিলো। ঘটাং করে কিছু একটা খোলার শব্দ ভেসে এলো। চাবিটা বের করে আবারো একইরকম দেখতে আরেকটা কি-হোলে ঢোকালো চাচা। ওটাতেও জোরে একটা মোচড় দিলো। আবারো শোনা গেলো ঘটাং শব্দ। শেকল খুলে দেয়া হয়েছে। নরকের মূর্তিমান আতঙ্ক এখন মুক্ত।
ঘটাং ঘটাং করে পরপর দুটো আওয়াজ পেলো লিয়াকত। বাম হাতের কনুইয়ে ভর দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো ঘরের অন্ধকার অংশের দিকে। শব্দটা ওখান থেকেই এসেছে। শেকল নাড়ার সেই ভয়াবহ শব্দটা শোনা গেলো। শব্দটা আজ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। আতঙ্কের শেষ সীমায় এসে পৌঁছেছে লিয়াকত। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অন্ধকার প্রান্তের দিকে। ওটাকে দেখা গেলো। হ্যাঁ, বেরিয়ে এসেছে ওটা! তাগড়া একটা মানুষ। আচ্ছা, ওটাকে কি আদৌ মানুষ বলা যায়! বিকৃত শরীরের অধিকারী একটা নারকীয় জন্তু বলাই বোধহয় ভালো। নোংরা গায়ে পুরু হয়ে জমা হয়েছে ধুলোর আস্তর। মোটা মোটা দুই পায়ে শক্ত কর লাগানো লোহার বেড়ি,তার সাথে লাগানো মোটা শেকল। ওগুলো ঘষটাচ্ছে মাটিতে। ওটার চোখে বুনো দৃষ্টি। হাঁ করা মুখের মধ্য থেকে উঁকি দিচ্ছে হলদেটে দাঁত আর কাটা জিভের উচ্ছিষ্টাংশ। লালা গড়াচ্ছে মুখের কষ বেয়ে। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে ওটা। আরেকটু কাছাকাছি হতেই মেঝের সাথে জমে গেলো লিয়াকত। ও এটা কাকে দেখছে! বহুদিন আগে নিখোঁজ হওয়া রমিজ মিয়া আর এই নারকীয় পিশাচটার এত মিল কেন! তবে কি... আর কিছু ভাবতে পারলোনা লিয়াকত। পিশাচটা ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কামড় বসিয়ে দিয়েছে কাঁধে। ফিনকি দিয়ে ছুটছে রক্ত। ভয়াবহ একটা চিৎকার করে উঠলো লিয়াকত। পিশাচটা ওর শরীর থেকে মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে চিবাচ্ছে। বহুদিন ধরে ক্ষুধার্ত ওটা। দিনের পর দিন ওটাকে অন্ধকারে আটকে রেখে ও কাঁচা মাংস খাইয়ে নারকীয় একটা পিশাচে পরিণত করেছে শায়লা,শুধু আজকের এই দিনটা দেখার জন্য। শেষ একটা চিৎকার দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেলো লিয়াকত।
ডেস্কের মনিটরের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিলো শায়লা। অদ্ভুত একটা শান্তি ছড়িয়ে পড়ছে ওর সমস্ত দেহমনে। স্মার্টফোনের ফটোটা বের করে রিমুকে একটা চুমু খেলো ও। তারপর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। কখন যে পাশে এসে মজু চাচা দাঁড়িয়েছে, টের পেলোনা।
- আম্মাজান, চলেন। কাম শ্যাষ।
- চলো চাচা।
কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকেই গোছানো ছিলো। সেগুলো নিয়ে মজু চাচা আর শায়লা মাইক্রোবাসের দিকে এগোতে লাগলো। পেছনে ধোঁয়ার রেখা দেখা গেলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো পুরোনো গুদামঘরটা। ভেতরে জান্তব স্বরে কারো ক্রমাগত চিৎকার শোনা যেতে লাগলো। আগুন, ধোঁয়া বা চিৎকার সম্পর্কে ওরা দুজন ছাড়া কেউ কিছু জানলোনা, জানবেওনা। মাইক্রোবাসটা চলতে শুরু করলো। শায়লা এক দৃষ্টিতে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে থাকলো। নরক পুড়ছে। পার্থিব আগুনে নরকের পুড়ে যাওয়া দেখে তার অদ্ভুত একটা সুখের অনুভূতি হচ্ছে।
(সমাপ্ত)
[*সম্পূর্ণ গল্পটা কপি করা এখানে আমার কেন ক্রেডিট নেই*]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now