বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

থ্রিলার গল্প : নরক-০৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X || থ্রিলার গল্প : নরক || - শুভাগত দীপ পর্ব - ৪ সাদা টাইলসের কাজ করা ঘরটি খুব একটা বড় না। আবার কষ্টকর রকম ছোট, তাও না। আসলে এই ঘরটিতে আসবাবের সংখ্যা খুব কম। একটা বড় ডেস্ক, সেই ডেস্কের ওপর দুটো কম্পিউটার কনসোল। একটা টেলিফোন সেট শোভা পাচ্ছে ডেস্কের এক কোণে। তার পাশেই একটা অত্যাধুনিক স্মার্টফোন। কম্পিউটারের দুটো মনিটরের একটাতে একটা পরিত্যক্ত গুদামের লাইভ ভিডিও দেখা যাচ্ছে। লো রেজোলিউশনের কালচে দাগ পড়া ঝিরঝির করতে থাকা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন মানুষ মেঝেতে পড়ে আছে। সাদাকালো ভিডিওতেও বেশ ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে লোকটার নগ্ন উর্ধ্বাংশে আঠালো কিছু মাখানো হয়েছে। ঘরটির একমাত্র লাইটের আলোয় তার সারা গা চকচক করছে। ডেস্কের আরেকট মনিটরে শুধু একটা মিউজিক প্লেয়ার শো করছে। নিচু ভলিউম লেভেলে Green Day'র বিখ্যাত গান 'Wake me up, when September ends' বাজছে। ডেস্কের নিচের স্পিকার থেকে ভেসে আসা গানের কথা ও সুরটা ডেস্কের সামনে বসে থাকা মেয়েটির মধ্যে কোন ভাবালুতার জন্ম দিতে পারছেনা। চিবুকে ডান হাত রেখে সে এক দৃষ্টিতে দ্বিতীয় মনিটরের দিকে তাকিয়ে যাছে। ভিডিওতে দেখানো লোকটার কোন পরিবর্তন আসে কিনা তা খুব মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করে চলেছে ও। মাঝে মাঝে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে নিঃশব্দে। হঠাৎ ডেস্কের টেলিফোন সেটটা বেজে উঠলো কর্কশ শব্দ করে। - হ্যালো। - ডাক্তার শায়লা বলছেন? - জি। - আমি আপনার হসপিটাল থেকে বলছি। কেবিন নাম্বার ১১৬'র রোগীর দায়িত্বে কি আপনিই আছেন? - হ্যাঁ। আজ বিকেলেও তো স্টেবল দেখেছি তাকে। কেন, কোন সমস্যা হয়েছে কি? - সমস্যাই বলতে পারেন। রোগীর ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে হঠাৎ করেই। অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। আপনি দ্রুত চলে আসুন। - ওকে। - ডাক্তার শায়লা? - বলুন। - এই মাঝরাতে আপনাকে বিব্রত করতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত। - ইটস ওকে। আমি আসছি। ডাক্তার শায়লা নামের মেয়েটি নিজের পেশার সাথে সম্পর্কযুক্ত ও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সাথে নিয়ে নিলো। তার মনটা একটু খারাপ হলো। গুদামঘরে আটকে রাখা লোকটার ওপর নতুন একটা পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করেছে সে আজ দুপুরে। ওটার রিএ্যাকশন লাইভ দেখার ইচ্ছা ছিলো ওর। কিন্তু পেশাগত প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় হলোনা। কি আর করা! ভিডিওতে রেকর্ডিং মুড অন করা আছে। রেকর্ডেড ক্লিপ থেকে পরে সে দেখে নিতে পারবে। কিন্তু নিচের ওই নরপশুটার শাস্তি একমাত্র লাইভ দেখেই পৈশাচিক আনন্দ পাওয়া সম্ভব। ডাক্তার শায়লা সাবলীল পদক্ষেপে ঘরের সুইচবোর্ডের দিকে এগিয়ে গেলো। ডেস্কের কম্পিউটার কনসোল দুটো বাদে ঘরের বাকি সব ইলেক্ট্রিক ডিভাইসের সুইচ অফ করে দিলো। নিজের সাদা অ্যাপ্রনটা বাম বাহুতে ঝুলিয়ে দরজার দিকে এগোলো সে। নরকের বন্দীটির ঘুমটা আচমকাই ভেঙ্গে গেলো। তার সারা শরীরে খুদে খুদে কি যেন হেঁটে বেড়াচ্ছে। সমানে কামড়ে চলেছে তাকে। লোকটার নাকে গুড়ের গন্ধ ভেসে এলো। অকস্মাৎ সে আবিষ্কার করলো, তার শরীরের উর্ধ্বাংশ প্রায় পুরোটাই গুড় দিয়ে মাখানো। সেখানে চলেফিরে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার ডাঁশ পিঁপড়া! সম্ভব অসম্ভব সব জায়গাতেই সমানে কামড়ে চলেছে তারা। যেখানে যেখানে কামড়াচ্ছে, সাথে সাথে ফুলে উঠছে সেখানকার চামড়া। পিঁপড়াগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটা ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে ওর প্যান্টের ভেতরেও। বেশ কয়েকটা গলা বেয়ে উঠে যাচ্ছে মুখের দিকে। প্রচণ্ড আতঙ্কিত লোকটা নিজের দুই হাত দিয়ে তার শরীরে এলোপাথাড়ি থাবা মারতে লাগলো। কখন যে শোয়া থেকে উঠে বসেছে, টেরই পায়নি! জখমি ডান হাতটা প্রচণ্ড যন্ত্রণায় পার্কিনসন্স ডিজিজের রোগীর মত কাঁপতে লাগলো। আবারো শুরু হলো রক্তপাত। সারা শরীরে পিঁপড়ার কামড়ের অসহ্য জ্বলুনি আর ক্ষতবিক্ষত ডান হাতের ভয়াবহ যন্ত্রণা যেন পাগল করে দিলো তাকে। উন্মাদের মত চিৎকার করতে করতে নিজের দুর্বল দুই পায়ে দাঁড়াতে চাইলো লোকটা। তিন দিন ধরে যা পারেনি, শরীরের অসহ্য জ্বলুনির কারণে আজ সেটা সহজেই পারলো। প্রায় হোঁচট খেতে খেতে দৌড় দিলো বাম পাশের সিমেন্টের দেয়ালটার দিকে। ভূতে পাওয়া মানুষের মত চিৎকার করতে করতে শক্ত ও খশখশে দেয়ালটিতে নিজের বুক পিঠ হাত পা সব ঘষতে লাগলো। শরীরের সব জায়গার চামড়া ছিলে গোলাপী মাংস বেরিয়ে পড়তে লাগলো তার। কিন্তু লোকটার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ওর এখন একটাই চিন্তা, রাক্ষুসে পিঁপড়াগুলোকে যেভাবে হোক শরীর থেকে সরাতে হবে। একটু থামলো লোকটা। পরনের একমাত্র পোষাক প্যান্টটাও ডান হাতের যন্ত্রণা অগ্রাহ্য করে খুলে একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। তারপর আবারো দেয়ালের সাথে নিজের শরীর ঘষতে শুরু করলো। কিছুতেই তার যন্ত্রণা কমছেনা। পিঁপড়াগুলো মনে হচ্ছে চামড়া মাংস ভেদ করে ভেতরে ঢুকে গেছে। পুরোপুরি নগ্ন লোকটার শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বের হওয়া রক্তে তার আশেপাশের মেঝে কালচে রঙ ধারণ করেছে। দেয়ালে শরীর ঘষার কারণে সেখানেও সৃষ্টি হয়েছে বিমূর্ত চিত্র। বেশ অনেকক্ষণ পর পরিশ্রান্ত হয়ে পড়লো সে। হাঁটু ভেঙ্গে ধপ করে বসে পড়লো দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে। জায়গাটা আসলেই নরক। আর তার সাথে খেলা করছে স্বয়ং শয়তান - এমনটাই মনে হলো তার। আগেই ডান হাতের দুটো আঙ্গুল হারিয়েছে। আর তার বদৌলতে হারিয়েছে অনেকটা রক্ত। আর আজ তার শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে দেয়ালেত সাথে ঘষাঘষির কারণে কেটেছিঁড়ে যায়নি। আজও বেশ অনেকটা রক্ত বেরিয়ে গেছে লোকটার শরীর থেকে। ডাইনী মেয়েটা ওর সারা শরীরে তরল আঠালো গুড় মাখিয়ে দিয়ে গেছে শুধু এই গুদামঘরের রাক্ষুসে পিঁপড়াগুলোকে ডেকে আনার জন্য - ভাবতেই শিউড়ে উঠলো লোকটা। এমন নারকীয় শাস্তি শুরু নরকেই সম্ভব। আর এটা ঐ ডাইনীটার নিজের হাতে বানানো নরক। আর এই নরকে মৃতপ্রায় লোকটাই একমাত্র বাসিন্দা। না না। ভুল হলো। ঘরটির অন্ধকার প্রান্তে আরো কেউ বা কিছু একটা আছে। ঐযে! শেকলের শব্দ করে নিজের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে ওটা! প্রবল শারীরিক যন্ত্রণা আর মানসিক আতঙ্ক নিয়ে জ্ঞান হারালো লোকটা। প্রবল তৃষ্ণা নিয়ে চেতনা ফিরলো লোকটার। বরাবরের মত গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে তার। কোন ফল হবেনা জেনেও হ্যালান দেয়া অবস্থাতে ডানে বাঁয়ে মাথা ঘোরালো লোকটা একটু পানির আশায়। নেই, জানা কথা। আচ্ছা, ডাইনীটা ওকে মেরে ফেলছেনা কেন? এভাবে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারবে, এইজন্য? নিজের অজান্তেই একটা ভয়াবহ গালি বেরিয়ে এলো লোকটার শুকনো ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে। গালিটা বেরিয়ে যেতেই মান্ধাতা আমলের মোবাইলের ক্রমাগত ভাইব্রেশনের শব্দ ভেসে এলো তার কানে। কয়েক সেকেন্ড ওর থেকে একটু দূরে মেঝেতে শুয়ে কাঁপতে থাকা মোবাইলটার দিকে তাকিয়ে থাকলো সে। তারপর চোখমুখ শক্ত করে হামাগুড়ি দিয়ে এগোতে লাগলো ওদিকে। সেই একই মানুষ কল দিয়েছে - Death Angel. কলটা রিসিভ করে ফোনটা কাঁপাকাঁপা হাতে কানে ধরলো লোকটা। হ্যাঁ, ওপাশে যথারীতি সেই ডাইনীটাই আছে। আবারো জঘন্য একটা গালি দিলো লোকটা। - কুত্তী... - আহ! থামো। তোমার গালাগালি শোনার জন্য তোমাকে কল করিনি আমি। - তাহলে কেন কল করেছিস? আমাকে ছেড়ে দে! আমাকে... - চোপ! একদম চোপ! একটা কথাও বলবিনা, জানোয়ার! মেয়েটার অমন বজ্রকঠিন কণ্ঠের ধমক খেয়ে আচমকাই যেন চুপসে গেলো লোকটা। এমন জীবন্মৃত অবস্থানে থেকেও মৃত্যুর প্রতি প্রবল একটা ভয় জন্ম নিলো তার মনে। এবার মেয়েটাই প্রথম কথা বলে উঠলো। - তোকে সোজাসুজি কয়েকটা প্রশ্ন করবো। উত্তর দেয়া না দেয়া তোর ব্যাপার। এতে তোর পূর্বলিখিত ভাগ্যলিপির কোন পরিবর্তন হবেনা। - কি... কি প্রশ্ন? - রিমু'র চেহারাটা মনে করতে পারিস? আমার ধারণা, ভালোভাবেই মনে আছে তোর ওর কথা। ফোন ধরা হাতটা হঠাৎ যেন বলশূন্য হয়ে গেলো লোকটার। মাথার মধ্যে যেন ঘটে গেলো ভয়াবহ বিস্ফোরণ! তাহলে রিমু'র জন্যই আজ ও এখানে! কিন্তু কেউ তো ব্যাপারটা জানতোনা! ডাইনীটা এসব জানলো কিভাবে! লোকটার রক্তশূন্য ফ্যাকাশে চেহারা লো পাওয়ারের লাইটের আলোয় আরো ফ্যাকাশে দেখাতে লাগলো। - কি রে... চুপ করে গেলি কেন? রিমুকে মনে পড়ছে? ভালোভাবে যেন মনে পড়ে সেই ব্যবস্থা করার জন্যই তোকে এই নরকে জায়গা দেয়া হয়েছে। তুই তো মরবিই। কিন্তু মৃত্যুর আগের প্রতিটি দিন রিমুকে দেখতে পাবি তোর চোখের সামনে। তোর মৃত্যু হবে ভয়াবহ কষ্টের। - না... প্লিজ... - হা হা হা! খুব ভয় লাগছে? ওটাই তো চাই! - আমাকে মেরে ফেলুন, প্লিজ! - অত সহজে না। আমাকে তুই যদি লিখিত দরখাস্ত দিয়েও নিজের মৃত্যু কামনা করিস, তবুও এত সহজে পাবিনা। - আমাকে একটু পানি দেবেন? বুকটা ফেটে যাচ্ছে... কলটা হঠাৎ কেটে গেলো। প্রচণ্ড হতাশায় হাতের মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলতে গিয়েও ফেললোনা লোকটা। তার চোখ দিয়ে দরদর করে অশ্রু ঝরছে। সে অশ্রু যন্ত্রণার হতে পারে, হতাশার হতে পারে, আবার প্রবল অনুশোচনারও হতে পারে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ থ্রিলার গল্প : নরক-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now