বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

থ্রিলার গল্প : নরক-০২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X || থ্রিলার গল্প : নরক || - শুভাগত দীপ পর্ব - ২ অচেতন অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে আবারো সচেতন হতে লাগলো লোকটা। ফিরে আসতে লাগলো শরীরের যন্ত্রণার অনুভূতি। ডান হাতের ব্যাথাটা যেন আরো বেশি পরিসর নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। ধীরে ধীরে নিজের চোখদুটো খুললো লোকটা। ঘরের মাঝারি পাওয়ারের লাইটের আলোই লোকটার চোখদুটো সাময়িক ভাবে ধাঁধিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট মনে হলো। শরীরের অবশ পেশীগুলো নিজেদের জড়তা কাটাতে চাইছে। সামান্য একটু নড়তেই রীতিমত আর্তনাদ করে উঠলো লোকটা। হাতের যন্ত্রণায় দুচোখ বেয়ে জল নেমে এলো। চাপা একটা কান্নার মত শব্দ বেরিয়ে এলো লোকটার গলা দিয়ে। চাপা কান্নার শব্দে সাড়া দিয়েই যেন ঘরটির অন্ধকার প্রান্ত, যেখানে লাইটের আলো পৌঁছাচ্ছেনা, সেখান থেকে ভারি শেকলের মৃদু ঝনঝন শব্দ ভেসে এলো। কিছুক্ষণের জন্য প্রবল যন্ত্রণাও ভুলে গেলো লোকটা। একেবারে জায়গাতেই যেন জমে গেলো আতঙ্কে। ধীরে ধীরে নিজের বাম হাতটা দিয়ে প্রবল যন্ত্রণা হতে থাকা ডান হাতটা স্পর্শ করলো লোকটা। কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলির কাটা গোড়াতে হাতের স্পর্শ লাগতেই যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠলো সে। ভালোভাবেই বুঝতে পারলো, আঙ্গুল দুটো চিরতরে হারিয়েছে সে। ওর চিৎকারের পরপর ঘরের অন্ধকার প্রান্ত থেকে আবারো শোনা গেলো শেকলের শব্দ। চাপা গলায় কে যেন হেসে উঠলো সেখান থেকে। মুখে রুমাল চেপে ধরে হাসলে সেই হাসিতে যেমন অনেকটা খশখশে ভাব চলে আসে, ঘরের অন্ধকার প্রান্ত থেকে ভেসে আসা হাসির শব্দটাও অনেকটা সেরকম। বেশ কিছুক্ষণ ঝনঝনে শব্দ আর চাপা হাসিটা থেমে গেল। হঠাৎ থেমে যাওয়ায় মনে হলো, ঘরের ঐ অন্ধকার অংশে আসলে অশরীরী অপার্থিব কিছু একটা আছে। মাথার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে লোকটার। পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি। ডান হাতের ক্ষতস্থানগুলোর যন্ত্রণা পুরোপুরি ফাঁকা হতে দেয়নি মস্তিষ্ককে। দিন তিনেক আগের দুপুরের কথা মনে পড়লো লোকটার। নিজের কনফেকশনারি থেকে বাসায় যাচ্ছিলো দুপুরের খাওয়াদাওয়া সারার জন্য। আজন্ম ধরে চলাফেরা করা বাড়ির পাশের গলিতে পা দিতেই মাথার চাঁদিতে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিলো ওর। জ্ঞান হারানোর আগে গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা টয়োটা মাইক্রোবাস আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ের আবছা অবয়ব দেখতে পেয়েছিলো সে। তারপর সব অন্ধকার। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করেছিলো এই রহস্যময় গুমোট ঘরটিতে। ঘরটির দরজার নিচে একটা ছোট্ট চারকোণা খোপ আছে। অদ্ভুত একটা শব্দ এলো ওখান থেকে। মেঝেতে ধাতব কিছু স্লিপ করে আসার কর্কশ শব্দ শোনা গেলো কয়েক সেকেন্ড পর। ক্লান্ত চোখে লোকটা দেখলো দরজার ঐ চারকোণা খোপের ওপাশে একটা হাত অদৃশ্য হয়ে গেলো। হাতটা ওদিক দিয়ে একটা টিনের থালা ঠেলে দিয়েছে এদিকে। থালাতে কিছু একটা যে আছে, তা দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছে। থালার কথা এলেই একজন ক্ষুধার্ত মানুষের মাথায় যে চিন্তাটা আসে, লোকটারও একই চিন্তা এলো। তা হলো, খেতে হবে ওকে। গত তিন দিনে এই প্রথম হয়তো ওর জন্য খাবার পাঠিয়েছে রহস্যময় অপহরণকারী। আধবসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলো যন্ত্রণাকাতর লোকটা। কিন্তু পারলোনা। ক্ষতবিক্ষত ডান হাতের ওপর কোন ভরই সে দিতে পারছেনা। তার ওপর শরীরে চেপে বসেছে তিন দিনের অনাহার আর চেতনা নাশক ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট ক্লান্তি। ক্ষুধার জ্বালায় অগত্যা নিজের শরীরটা ঘষটাতে ঘষটাতে দরজার দিকে নিয়ে চললো লোকটা। প্রতিটা সেকেন্ড নরক যন্ত্রণায় কাটছে তার। নড়াচড়ার ডান হাতের বিচ্ছিন্ন আঙ্গুল দুটোর ক্ষতস্থান ভয়াবহ রকম জ্বলতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে, ওখানে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দিয়েছে কেউ। আবারো কি পেছনের অন্ধকার অংশ থেকে শেকলের শব্দ ভেসে এলো নাকি! কিছুক্ষণের জন্য ঘষটানো বন্ধ হয়ে গেলো লোকটার। ঘাড় ঘুরিয়ে ঘরটার রহস্যময় অন্ধকার প্রান্তের দিকে তাকালো সে। লাইটের আলো না পৌঁছানোয় কিছুই দেখা যাচ্ছেনা ওদিকে। তবে সে নিশ্চিত, ওপাশে ভয়ঙ্কর অশুভ কিছু একটা আছে। দরজার সামান্য সামনে, যেখান পর্যন্ত এসে থালাটা থেমে গেছে, সেখানে পৌঁছাতে লোকটার বেশ অনেকক্ষণ সময় লাগলো। থালার একেবারে সামনে এসে মেঝেতে থুতনি ঠেকিয়ে কুকুরের মত জিভ বের করে হাঁপাতে লাগলো সে। তার সারা শরীর ঘেমে নেয়ে গেছে। মিনিট দুয়েক বিশ্রাম নেয়ার পর থালাটির দিকে মনোযোগ দিতে পারলো লোকটা। রঙচটা সাদাটে টিনের থালাটা মাঝারি সাইজের। থালার একপাশে সামান্য কিছু ভাত ও এক রকম তরকারি দেখা গেলো। অপর পাশে রয়েছে একটা খয়েরি কাগজের প্যাকেট। প্যাকেটটির ব্যাপারে লোকটা তৎক্ষণাৎ কোন আগ্রহই দেখালোনা। ওটা শুধু থালা থেকে একপাশে নামিয়ে রাখলো। ক্ষুধার্ত মানুষের সমগ্র আগ্রহ নিবদ্ধ থাকে সামনে থাকা খাবারের ওপর। তারও একই অবস্থা। লোকটা তার নোংরা বাম হাত দিয়েই তরকারি দিয়ে সামান্য ভাতটুকু মাখাতে লাগলো। তরকারিটা কিসের, তা বোঝা যাচ্ছেনা। তবে মাংস জাতীয় কিছু আছে এর মধ্যে। ক্ষুধাতুর পেটে ওটাই দারুন উপাদেয় লাগলো তার কাছে। বিনা বিরতিতে কয়েক লোকমা খেয়ে খাবারটুকু শেষ করে ফেললো লোকটা। আবারো দরজার নিচের ঐ ছোট্ট খোপের কাছে শব্দ হলো। ওদিক দিয়ে একটা মাঝারি সাইজের পানির বোতল ছুঁড়ে দিলো কেউ। মুখ চাটতে থাকা লোকটা চিৎকার করে ওপাশের মানুষটিকে কিছু বলার চেষ্টা করলো, কিন্তু তার আগেই ওপাশের মানুষটা উধাও হয়ে গেলো। পানির বোতলটা গড়াতে গড়াতে মেঝেতে বসে থাকা লোকটার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিলো। ক্লান্ত শরীরের অবশিষ্ট ক্ষিপ্রতাকে সম্বল করেই সে তার বাম হাতটা দিয়ে খপ করে আঁকড়ে ধরলো বোতলটা। যেহেতু ডান হাত প্রায় অকেজো, তাই বাম হাতে বোতলটা ধরে দাঁত দিয়ে কামড়ে বোতলের ছিপিটা খুলতে হলো তাকে। তারপর ঢকঢক করে প্রায় আধ বোতল পানি পান করলো সে। এই পানিটুকু যেন ম্যাজিকের মত কাজ করলো তার শরীরে। কিছুটা হলেও পরিষ্কার করে চিন্তাভাবনা করার অবস্থায় ফিরলো সে। বোতলের অবশিষ্ট পানির সামান্য মেঝেতে ফেলে ওখানে নিজের এঁটো বাম হাত পরিষ্কার করার চেষ্টা করলো লোকটা। তারপর হাতটা ঘষে ওর ময়লা জিন্স প্যান্টের একপাশে মুছলো। একটা সিগারেট ধরাতে পারলে ভালো হতো - এমন একটা চিন্তা হঠাৎ মাথায় আসতেই সেটা এই পরিস্থিতিতে ভয়াবহ হাস্যকর বলে মনে হলো ওর। থালা থেকে নামিয়ে রাখা খয়েরি প্যাকেটটার দিকে মনোযোগী হলো লোকটা। বাম হাতে ধরে দাঁত দিয়ে ছিঁড়লো ওটার মুখ। তারপর উপুড় করে ধরলো ওটা। ভেতর থেকে ঠকাস করে মেঝেতে পড়লো একটা মান্ধাতা আমলের নকিয়া মোবাইল ফোন আর তার সাথে আঠা দিয়ে আটকানো এক টুকরো কাগজ। কাগজটা মোবাইলের পেছনের দিকে আটকানো। মোবাইলটা দেখে বেশ আনন্দিত হলো লোকটা। এবার বাইরে ফোন করে সাহায্য নেয়া যাবে ভেবে তখনই তার স্ত্রীর নাম্বারে ডায়াল করলো সে। কিন্তু অপারেটর মেয়েটা মিষ্টি কণ্ঠে জানালো - ব্যালেন্স নেই, রিচার্জ করতে হবে। হতোদ্যম হয়ে পড়লো সে। ফোনের পেছনে আটকানো কাগজটার দিকে তাকালো সে। সেটা ভাঁজ করে কায়দা মত আটকানো হয়েছে। কাগজটা অনেক কষ্টে ফোনের পেছন থেকে আলাদা করে ভাঁজ খুলে আলোর দিকে ধরলো লোকটা। সেখানে যা লেখা আছে, তা যদি সত্যি হয়, ভয়াবহ বিপদে পড়েছে সে। লোকটা জানে, এর সবটাই সত্যি। সারা শরীর কেঁপে উঠলো তার। ভয়াবহ এক আতঙ্ক আপাদমস্তক গ্রাস করলো তাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ থ্রিলার গল্প : নরক-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now