বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দি স্যাটিনিক প্যাক্ট
-রাহাত জামান খান
"বাইক টা আর নষ্ট হওয়ার সময় পেল না।" এত গভীর রাতে কোনো গ্যারেজ খোলা পাবে কি না সেই চিন্তা মাথায়। হঠাৎ সামনে আলো দেখতে পেল। বাড়ি,কিন্তু এত পুরোনো কেন? যাই হোক,রাত টা কাটানো যাবে। অনুমতি ছাড়াই বাইক রেখে ভিতরে ঢুকে গেল ও। গ্রামের মানুষ,এত ভদ্রতা করে লাভ নেই। গৃহস্থ বাড়ি নয় এটা,নেশাখোড় দের আস্তানা বোধহয়। কেননা কোনো আসবাবপত্র নেই। কিছু লোক একত্র হয়ে জুয়া খেলছে। "আমিও একদান মারব?",মনে মনে ভাবছে রেহান। জুয়া খেলায় ওর ভাগ্য সর্বদাই ভালো। "আমি দু হাজার টাকা লাগাব",লোকগুলোর উদ্দেশ্যে বলল ও। হেসে উঠল লোকগুলো। "টাকার বিনিময়ে আমরা বাজি খেলি না।",বলল একজন। "জিতলে আমি কি পাব?",পাল্টা প্রশ্ন করল রেহান। "যা চাও সব পাবে,কিন্তু বাজি রাখতে হবে তোমার আত্না।" পাগল নাকি? মজা করছে! রাজি হয়ে গেল ও। আসলে ভিতরে ভিতরে হাসছে। কিন্তু তাসের কার্ডগুলো এরকম কেন? কি রকম উদ্বট চিহ্ন আঁকা। হেরে গেল ও। পকেট থেকে হাজার টাকার নোট বের করে কার্ড গুলোর ওপর ফেলল রেহান। জোরে জোরে হাসতে লাগল লোকগুলো। দরজার দিকে হাটা দিল ও। ভেবেছিল রাত কাটাবে। কিন্তু এরকম জায়গায় তা সম্ভব না। তিন দিন পরের ঘটনা। মুভি থিয়েটারের বাইরে ওয়েট করছে,মারিয়া আসবে। মারিয়া ওর গার্লফ্রেন্ড তবে বিয়ে ঠিক হয়েছে রেহানেরই সাথে। দু মিনিট পর এল মেয়েটি,রেহান কে দেখে হাত নাড়ল। হঠাৎ পিছন থেকে একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দিল মারিয়া কে। দৌড়ে গেল ওর কাছে রেহান। নিঃশ্বাস চলছে না মারিয়ার। পিছন ফিরে ট্রাকটি আর দেখতে পেল না ও। যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে। দুপুরে ল্যাপটপে বসে বার্থডের ছবি দেখছিল ও। মারিয়া মারা গেছে সাত দিন হলো। পিক গুলো ওর এক্সিডেন্টের আগের দিন তোলা।হঠাৎ ছবির কোনায় নজর গেল রেহানের। একি! ছবিতে ওর আর মারিয়ার পিছনে কালো আলখেল্লা পরা একটি লোক দাড়িয়ে আছে। রীতিমতো ভয় পেল এবার ও। পরদিন ফরিন এর কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলল রেহান। ফারিন ওর ক্লাশমেট। ভূত-প্রেত নিয়ে ওর ভালো জ্ঞান আছে। ছবিটা দেখে পুরানো একটি বই ঘাটতে লাগল মেয়েটি। এইতো পেয়েছি, "স্যাটিনিক প্যাক্ট"। জুয়া খেলতে গিয়ে তুমি তোমার সোল মানে আত্না টা শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছ- বলল ফারিন।তাহলে "মারিয়ার এক্নিডেন্ট?" "ওটা সাধারন এক্সিডেন্ট ছিল না। " রেহানের কথা কেড়ে নিল মেয়েটি। "ও তোমাকে ভালোবাসতো। তোমার সোল আর ওর সোল এক হয়ে যাবে....এটা শয়তান চায় নি। তাই ওকে সরিয়ে দিয়েছ।" এখন আমি করব? ফারিন কে প্রশ্ন করল রেহান। "যে জায়গায় লোকগুলোর সাথে দেখা হয়েছে সেখানে নিয়ে চলো আমাকে" বলল ও। পরদিন সকালে ওই জায়গায় গিয়ে পুরো অবাক হয়ে গেল ওরা। কোথায় বাড়ি? ধু ধু মাঠ ছাড়া কিছুই নেই ওখানে। "অামি কোনো একটা উপায় বের করছি। তুমি সাবধানে থেকো রেহান।" বিদায় নিয়ে চলে গেল ফারিন। দুদিন ধরে ফোন ধরছে না মেয়েটি। শেষে পরিচিত এক বন্ধুকে ফোন দিল রেহান। বন্ধু টি জানাল গতকাল রাতে সুইসাইড করেছে ফারিন। অবাক হলো রেহান। আত্নহত্যা করার মতো কোনো কারণ ছিল না ওর। বুঝতে পারল ওর হেল্প করছিল বলেই মরতে হলো মেয়েটিকে। তবে এখন কি করবে ও। ফোন করে ওকে কিছু জানাল না কেন ফারিন। হঠাৎ মনে পড়ল ভূত-প্রেত লিখিত কিছু পড়তে পারে না। রাইট। রেহানের জন্য নিশ্চই কোনো চিঠি রেখে গেছে ও। পর দিন ফারিনের বাসায় গেল রেহান। ওর রুমে অনেক খুঁজে হাতে লেখা একটা কাগজ পেল রেহান। চিঠি টা পড়ল ও। শয়তানের সাথে আরও একবার জুয়া খেলতে হবে। জিতে গেলে ও ফিরে পাবে ওর আত্না। ফারিনের দেয়া বর্ণনা মতো রাত ৩টায় একটি ভাঙা গির্জার সামনে উপস্থিত হলো রেহান। দেখল পাশে কবরস্থানের ভিতরে সেই লোকগুলো বসে আছে। "আমি আবার খেলব" লোকগুলোকে বলল ও। "এবার কি বাজি রাখবে? " প্রশ্ন করল একজন। "আমার জীবন", উত্তর দিল ও। জিতলে তোমার আত্না ফিরে পাবে। আর হারলে মরতে হবে তোমাকে। "মারিয়া কে মারলে কেন? ওর তো কোনো দোষ ছিল না।"লোকগুলো কে বলল রেহান। মৃত্যু যেখানে লেখা থাকে, কাউকে না কাউকে মরতেই হবে। খেলা শুরু করল লোকগুলো। একজন তাসের কার্ড ভাগ করে দিল। ভালো কার্ড পায়নি ও। হারবে সম্ভত। কিন্তু জিতলেও মারিয়া কে ফিরে পাবে না। পকেটে থাকা ছুরি টা বের করল রেহান। আমার জীবনের বদলে মারিয়ার জীবন চাই। নিজের বুকে ছুরি ঢুকিয়ে দিল ও। "দ্যি স্যাকরিফাইস" চিৎকার করে উঠল লোকগুলো। "তুমি মারা গেলেও তোমার সোল আমরা পাব না। স্বর্গে যাবে তুমি। তার থেকে তুমি পৃথিবীতেই থাকো। আমরা সব সময় চেষ্টা করব তোমাকে নরকে নিতে।" ব্যাথায় চোখ বুজে এল রেহানের হঠাৎ চারদিকে অনেক আলো দেখতে পেল সে। নিজেকে বাসার বিছানায় আবিষ্কার করল রেহান। দ্রুত মারিয়া আর ফারিন এর বাসায় ছুটে গেল ও। দেখল ওরা আগের মতই অাছে। "যাক সব বিপদ কেটে গেছে", মনে মনে ভাবল রেহান।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now