বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টেলিফোন.....
[ফোন এর রিং এর শব্দ]
-হ্যালো, কে বলছেন?
-কেওনা
-তার মানে টা কি?
-আসলে এখন আমার আর পরিচয় নেই।
-ইয়ারকি মারছেন... ঘড়ি তে কটা বাজে
জানেন তো?
-আমার তো ঘড়ি নেই...
[ফোন কাটার আওয়াজ এল]
[ফোন রিং এর শব্দ]
-হ্যালো...কে বলছেন
-আমিতো আগেই বললাম আমি কেও নই
-ও...আপনি আবার... আপনার কি কাজ
নেই নাকি মশাই...
-না...আপাততএটাই আমার কাজ
-যতসব...
[ফোন কেটে গেল]
[আবার ফোন এর রিং এর শব্দ]
-ফোন টা কাটবেন না দয়া করে
-উফ...আবার আপনি?
-খালি একটু সময় নেবো আপনার
-হুম
-রিয়া ঘুমিয়ে গেছে?
-আচ্ছা আপনি কে বলুন তো... রিয়া কে
চিনলেন কেমন করে?
-বাহ। যাকে ফোন করছি তার মেয়ে কে
চিনবোনা...আমি সবাই কে চিনি এখন
-যা বলার তারাতারি বলুন...।আচ্ছা
আপনাকে কি আমি চিনি? চেনা কেও
হলে বলে ফেলুন...।আপনা্র এই মশকরা
কিন্তু আমার আর ভাল লাগছেনা
-আরে মশাই এতো ব্যাস্ত হচ্ছেন কেন?
আচ্ছা আপনি আপনার টাকা পেয়ে
গাছেন?
-কিসের টাকা?
-বাবাহ...আজকাল এত ভোলা শুরু
করেছেন...কি ব্যাপার?
-আপনি কি বলছেন ঠিক করে বলুন তো?
এই হেয়ালি মার্কা কথাবাত্রা শুনতে
ভাল লাগছেনা একদম...কীসের টাকা?
-কেন আপনি জে কাল ত্রিদিপ বাবু কে
খুন করলেন...কত টাকা পেলেন খুন করার?
[নবারুন বাবু ফোন কেটে দিলেন]
নবারুন বাবু পেশায় সিরিয়াল
কিলার...তবে তার সাজ পোশাক দেখে
তার ওপর সন্দেহ করা কারো পক্ষে সম্ভব
না, সাধাসিধে চেহারা,লম্বা, পাতলা
টিংটিঙে আর পড়নে সাদা পাঞ্জাবী।
বউ মারা গেছে আঁট বছর হল। বছর পাঁচ এর
মেয়ে রিয়ার সাথে উনি একাই
থাকেন...একটা কাপড় এর দোকান ও আছে
অবশ্য তবে সেটা গাঁ ঢাকা দেওয়ার এক
অস্ত্র বললেই ঠিক হয়।
তবে ফোন এ খুন এর ব্যাপার টার কথা
শুনে তার এই ডিসেম্বর এর ঠাণ্ডা হার
কাঁপানো রাত এও তার ঘাম ছুটে
যাচ্ছিলো। বিষয় টা সত্যি খুবি ভাবার
তার কাছে। কারন নবারুন বাবু যখন
ত্রিদিপ বাবু ক তার ফ্ল্যাট এ খুন করেন
তখন তো ফ্ল্যাট এ কেও ছিলই না...আর
এই বিষয়ে খালি দুই জন এই জানেন। এক
নবারুন বাবু এর এক তার বস। তো তৃতীয়
বাক্তির জানার কথাই ওঠেনা। তাহলে
ফোন এ সে লোকটি বলল কি করে যে
নবারুন বাবু খুন করেছেন। এদিক যে
পিস্তল দিয়ে তিনি ত্রিদিপ বাবু ক খুন
করেছেন সেই পিস্তল ও নবারুন বাবুর
কাছে রাখা। যতই হোক তিনি বেশ
পোক্ত খেলোয়াড়। তাহলে কি লোকটা
কি নিতান্তই অনুমান করছে? এসব ভাবতে
ভাবতে আবার.........
[ফোন বেজে উঠল.........]
-কি ব্যাপার ফোন কেটে দিচ্ছেন কেন
বারবার?
-এখানে ফোন করবেন না
-হাহাহা...আচ্ছা আপনার মনে হয়না যে
আমার সাথে কথা বলাটাই আপনার
কাছে সবছেয়ে বুদ্ধিমান এর কাজ হবে?
-আচ্ছা আপনি কে বলুন তো?
-পিস্তল টা কথায় লুকিয়ে রেখেছেন?
আচ্ছা আজ অব্ধি কটা মার্ডার করেছেন
ঠিক বলুন তো? কারন আমি যা দেখলাম
গুলি চালানোর সময় তো বিন্দু মাত্র হাত
কাঁপলও না আপনার... পাকা হাত,
প্রশংসা না করে পারলাম না।
-এটা হতে পারে না...(তার পর খানিক
স্তভধতা)
-কি ভাবছেন মনে মনে...। এই তো, যে
যখন খুন টা করেছিলেন ফ্ল্যাট চত্বরে
তো কেউ ছিলোনা, তাহলে আমি এত
কিছু জানলাম কি করে তাইতো?
হাহাহা
-না মানে, মানে ফোনে এসব কথা না
বলে সামনাসামনি বললে ভালো হতো
হয়তো। কিন্তু আপনি কে?
কি চাই আপনার? টাকা? আমি রাজি...
কত নিলে ব্যাপার টা চাপা দেবেন বলুন
তো?
-টাকা পয়সা নিয়ে আমার এর কাজ নেই।
-তবে? তবে কি চাই বলুন?
-আপনার শাস্তি
-দেখুন মশাই আপনি কে আমি জানিনা।
আর তা বাদ এও আপনার কাছে আমার
বিরুদ্ধে কোনও প্রমান নেই যে আমিই খুন
টা করেছি... আপনার সৌভাগ্য যে আমি
তাও কোনও ঝামেলায় জেতে চাচ্ছিনা
-হুম একথা সত্যি যে আমার কাছে কোনও
প্রমান নেই। আচ্ছা কবে দ্যাখা করবেন
বলুন
-হউম, এখন এলেন তো লাইন এ... যত
তারাতারি সম্ভব দ্যাখা করুন। আমি
ফাকাই থাকি। আশা করি আমার
বাড়িটা চেনেন...
-তা আর বলতে... দরজা টা খুলুন আমি
বাইরেই দারিয়ে
[ফোন কেটে গেল]
[কলিং বেল এর আওয়াজ এল]
নবারুন বাবু বুঝতে পারছিলেন না যে কি
করবেন। এত তারাতারি যে লোকটি চলে
আসবে সেটা তিনি কোন ভাবে ভেবে
উঠতে পারেননি। সেই কারনেই তিনি
সামান্য অপ্রস্তুত হয়ে পরলেন। কিন্তু
এতাই তো তিনি চেয়েছিলেন কিন্তু এত
তারাতরি তার সুযোগ চলে আসবে তিনি
কল্পনাও করতে পারেননি।
ব্যাস। শিকার নিজেই শিকারির কাছে
হেটে এসেছে। এবের খালি আরও একটা
খুন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। এই
ভেবে নবারুন বাবু ডেস্ক এর ড্রয়ার থেকে
তার পিস্তল বের করে দরজা খুলতে
গেলেন। জীবনে এই প্রথম বার তার হাত
কাপছিল পিস্তল ধরতে। কিন্তু কাজ টি
তাকে জেভাবেই হোক করতেই হবে।
দরজার কাছ এ পৌঁছে এক হাত এ পিস্তল
নিজের পেছনে লুকিয়ে দরজার হাতল
ঘুরিয়ে দরজাটি যেই খুললেন.........
একি কেউ নেই! তবে কলিং বেল বাজাল
কে?
[ফোন এর রিং এর শব্দ]
এবার নবারুন বাবু সত্যি ভয় পেয়ে
গেলেন। খানিকক্ষণ ভাবলেন ফোন টি
ধরবেন কি না! পা আর চলছেনা যেন
তার। দরজা বন্ধ আরে আস্তে আস্তে
পিস্তল টি আবার ডেস্ক এর ড্রয়ার এ
ঢুকিয়ে রাখলেন, ফোন তোলার
বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই তার। ফোন টি
বাজতে বাজতে কেটে গেলো। সাথে
সাথেই
[ফোন এর রিং এর আওয়াজ]
-বাহ! ঘর বাড়ি তো বেশ ভালই দেখছি
আপনার।আচ্ছা আপনার মেয়ে যে খাট এ
সুয়ে আছে ওটা কি শিমূল কাঠ এর?
[ফোন এর অপার থেকে ভেসে এল বন্দুক এর
গুলির শব্দ!]
মেয়ের শোয়ার ঘরের দিকে ছুটলেন
নবারুন বাবু। একি মেয়ের বিছানা রক্তে
ভাসছে। রক্ত আসছে মেয়ের মাথা
থেকে। গুলির চিহ্ন স্পষ্ট মাথায়। মেয়ে
কে সাথে সাথে কোলে তুলে নিয়ে
সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে তার গারিতে
ওঠালেন তড়িৎ এর গতিতে্ যত
তারাতারি সম্ভব হসপিটাল এ পৌছতে
হবে তাকে।
গাড়ি চলছে ৮০ কিমি/ঘণ্টা তে। এভাবে
চালালে ১০ মিনিত এই পৌঁছে যাওয়া
যাবে হসপিটাল এ। হটাত ই তার
মোবাইল ফোন ভাইব্রেট করতে শুরু
করলো। ফোন এসেছে!
-তারাতারি নিয়ে যান নাহলে মারা
যাবে বাচ্চা টা। খুবি মিষ্টি ছিল।
কিন্তু একেও খুন করে ফেললেন?
-মানে?
- মানে আর কি গুলি টা তো আপনার
বন্দুক থেকেই আমি চালিয়েছি। পুলিশ
কেও ফোন করে দিয়েছি ইতিমধেই। ঐ
পিস্তল এ তো আপনারই ফিংগার প্রিন্ট
আছে নাকি। এতক্ষণে পুলিশ চলে এসেছে
হয়ত আপনার বাড়ি রেড করার জন্য।
পালান পালান......।
-কিন্তু আপনি তো খুনটা করলেন! আপনার
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পাওয়া যাবে ওটায়।
-ধুর মশাই। মূর্খ নাকি আপনি, ভুতেদের
আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকে নাকি।
ফোন টা রাখুন মেয়ে কে নিয়ে যান
আগে হসপিটালে, বাচাতে হবে তো!
[ফোন কেটে গেল]
নবারুন বাবুর চোখ এর সামনে অন্ধকার
ছেয়ে আসছে এবার। মস্তিষ্কও ভাবার
ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে হয়তো
এতক্ষণে। পাগলের মত গাড়ি ছুটিয়ে
ছলেছে অন্ধকার এ নবারুন বাবু। চালাতে
চালাতে হসপিটাল পার করে গেলেন
একসময়।তিনি আগেই বুঝেছিলেন মেয়ে
মারা গেছে অনেকক্ষণ। সামনেই গাঙ্গা,
ওখানেই গাড়ি করে ঝাপ দাওার
পরিকল্পনা তার, তিনি গাড়ি ছুটিয়ে
চললেন। সামনেই ব্রিজ, সময় চলে
এসেছে...আনেক কাজ করেছেন আজীবন
এবার আবসর নেওয়া যাক....
বিদায়.....
(গল্পটা কোন শ্রেণীর বুঝতে পারলে জানিয়েন)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now