বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুরবেলা শুয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়ছিলাম।
পাশের রুম থেকে মা চিৎকার করে
বলছিল
--রাফি, এই রাফি।
কিন্তু কোন উত্তর আসছিল না।
উত্তর না পাওয়াতে মা আমার রুমে এসে বলল
--কিরে কি করছিস?
--পড়ছি মা।
--বাবারে একটু মিথিলাদের বাসায় যা তো।
--কেন?
--টিফিন বক্সটা দিয়ে আয়।
--কি আছে এতে?
--মাংস। জানিস তো মেয়েটা ছোট থেকে আমার হাতের মাংস রান্না পছন্দ করে।আজ রান্না করছি।যা একটু দিয়ে আয়।
--আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি।
তারপর বই পড়া বন্ধ করে রেডি হতে লাগলাম।এর ফাঁকে মিথিলার পরিচয় টা দেই।আসলে মিথিলারা আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হয়।বলা চলে তেমন কেউই না।তবে একই এলাকায় থাকায় বিশেষ করে আমাদের পাশের বাসায় দীর্ঘ দিন ভাড়া থাকায় আমাদের সাথে সম্পর্কটা এতোটা ঘনিষ্ঠ হয়েছে যা বলা বাহুল্য।তাই মিথিলা আর আমিও
ছোট থেকেই খুব ঘনিষ্ঠ।আর ঘনিষ্ঠতা থেকেই ভালোবাসার সৃষ্টি।এজন্যই বিশেষ করে মিথিলাদের বাসায় যেতে রাজি হলাম।কারণ খাবারটাও দিয়ে আসা হবে আর সেই ফাঁকে মিথিলাকেও দেখা হবে।
তারপর রেডি হয়ে বক্সটা নিয়ে বাসা থেকে বাহির হলাম। মিথিলাদের বাসা আমাদের বাসা থেকে বেশি দূরে না।হেঁটে যেতে ১৫ মিনিটের মতো লাগবে।তাই হেঁটেই মিথিলাদের বাসায় উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম।
....................
...............
১৫ মিনিট বাদে মিথিলাদের বাসার সামনে পৌঁছালাম। দড়জায় সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার কলিং বেল দিলাম।কিছুক্ষণ পর অ্যান্টি এসে দড়জা খুললো।দড়জা খুলে আমায় দেখে অ্যান্টি বলল
--রাফি, বাবা তুই!
--হ্যাঁ অ্যান্টি আমি।
-- আয় বাবা আয় ভেতরে আয়।তা কি মনে করে?
-- অ্যান্টি এইতো এইটা দিতেই আসলাম।
--দুপুর বেলা ভাবি আবার কি পাঠিয়েছে?
--তোমার মেয়ের প্রিয় খাবার।
--ভাবিও পারে বটে।এই রোদের মধ্যে তোকে পাঠাতে হবে।বিকেলে পাঠালে কি হতো।তুই ফানের নিচে বস বাবা।একদম ঘেমে গেছিস।আমি লাচ্ছি দিচ্ছি খেলে আরাম পাবি।
--আচ্ছা দাও।
--পারলে ফ্রেশ হয়ে নে বাবা।(রান্নাঘর থেকে অ্যান্টি)
--আচ্ছা অ্যান্টি।
ফ্রেশ হতে যাবার সময় ভাবলাম মিথিলার রুমে আগে যাই।ওর সাথে দেখা করে ওর ওয়াশরুমেই হলকা করে ফ্রেশ হয়ে নেওয়া যাবে।যেই ভাবা সেই কাজ।অতঃপর গেলাম মিথিলার রুমে। গিয়ে দেখি মিথিলা রুমে নেই।হয়তো বাসায় নেই।তাই আর না ভেবে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে ঢুকলাম।ওয়াশরুমে ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিকট এক চিৎকার শুনতে পেলাম।সাথে সাথে ওয়াশরুম থেকে বাহিরে চলে আসলাম।বাহিরে এসেছি ঠিকই কিন্তু কিছু সময় আগের ঘটনায় আমি স্তব্ধ, বাকশূন্য হয়ে গেছি।পরিপার্শ্বিক সবকিছু এক মুহূর্তে ভুলে গেছি।এর মাঝে অ্যান্টি রান্নাঘর থেকে ছুটে এসেছে। অ্যান্টি এসে আমায় ঢাক্কা দিয়ে বলল
--কিরে কি হয়েছে।
আমি বাস্তবে ফিরে এলাম।এর মাঝে ওয়াশরুম থেকে মিথিলা বেরিয়ে বলল
--না মা কিছু না।
--তাহলে চিৎকার করলি কেন?(অ্যান্টি)
--আসলে ওয়াশরুমে হঠাৎ করে তেলাপোকা দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়েছি।তুমি তো জানোই তেলাপোকাকে আমি খুব ভয় করি।
--হুমম,তুই বড় আর হলি না।
এই কথাটি বলে অ্যান্টি চলে গেল।
....................
...............
অ্যান্টি চলে যাওয়ার পর মিথিলা আমার কাছে এসে বলল
--কি দেখেছো?
--কোথায়?
--ওয়াশরুমে?(রাগি ভাবে তাকিয়ে)
--কিছু না।শুধু দিনের বেলা চাঁদ দেখে ফেলছি।
--তুই খুব খারাপ।তুই আমার রুমে নক না করে ঢুকছিস কেন?(রেগে গেলে তুই বলে)
--আমার বউয়ের ঘরে অনুমতি নিয়ে ঢোকা লাগবে আমায়?
--তুই বিয়ে করলি কবে আমায়?
--করি নি করব তো।এখন আপাতত হবু বউ।তাই অনুমতি নেই নি।
--বুঝলাম।কিন্তু ওয়াশরুমে ঢুকলি কেন?
--আমি তো ফ্রেশ হতে ঢুকছিলাম।
--নক করিস নি কেন?
--ওয়াশরুমে আমার না তোমার লক করা দরকার ছিল।
--হুমম।
--আমি জানি নাকি তুমি আসবে।তাহলে তো লক করেই রাখতাম।বাসায় শুধু মা আর আমি ছিলাম।তাই করি নি।(রাগ কমেছে তাই তুমি বলছে)
--আমি ইচ্ছা করে কিছুই দেখি নি।আমি এতোটা খারাপ না।আমি মেয়েদের সম্মান করতে জানি।হোক সে বউ,মা,বোন বা অন্য কেউ।
--আমি তা কখনো বলেছি।আমি জানি আমার রাফি সবার থেকে আলাদা।এজন্যই আমি তাকে ভালোবাসি।নিজের থেকে বেশি বিশ্বাস করি।এজন্যই তো মায়ের কাছে তেলাপোকার কথা বলেছি যেন মা কিছু বুঝতে না পারে।
--তাই?
--হ্যাঁ। তবে পরবর্তীতে এমন যেন না হয়।
মিথিলাকে এবার কাছে টেনে নিয়ে বললাম
--মন তো এমন ভুল বারবার করতে মন চায়।এখন কি করে বুঝায় বলো তো মেয়ে।
--মনকে বল যা দেখছো ভুল দেখছো।আর যা চাও তা বিয়ের আগে নয়।সব বিয়ের পর।
--কিন্তু মন তো মানে না প্রেয়সী।
--তোমার মন খুব দুষ্টু।
--যতদিন বিয়ে হচ্ছে না ততদিন তোমার এই ঠোঁট দিয়ে বকে দিও।
--আচ্ছা দিব।
--এখন দাও।
--না না।শুধু দুষ্টামি তাই না।
--না দিলে ছাড়ব না।
--মা চলে আসবে।জানতে পারলে খবর আছে।
--জানলে জানুক।তবুও চাই।
অতঃপর সেই মুহূর্তের পূর্বেই অ্যান্টি মিথিলাকে ডাক দিয়ে বলল
--মিথিলা রাফিকে নিয়ে এই রুমে আয়।লাচ্ছি করেছি দুজনেই খেতে আয়।
--আচ্ছা মা যাচ্ছি।(মিথিলা)
এরপর দুজনে বাহিরের রুমে গেলাম লাচ্ছি খেতে।
....................
...............
বাহিরের রুমে এসে লাচ্ছি খেতে শুরু করলাম।রান্নাঘর থেকে অ্যান্টি এসে মিথিলাকে বলল
--তোর অ্যান্টি তোর জন্য মাংস পাঠিয়েছে।
--তাই মা?(মিথিলা)
--হ্যাঁ।(অ্যান্টি)
--তাই তো বলি এই দুপুরে মহারাজ এই বাড়িতে কেন?
আমি শুধু মৃদু হাঁসলাম।লাচ্ছি শেষ করে অ্যান্টির কাছে বিদায় নিলাম।তখন মিথিলা ওর মাকে বলল
--মা আমি রাফিকে আগায় দিয়ে গেট লাগায় দিয়ে আসছি।
কথাটি শেষ করে দরজর দিকে দুজনেই হাঁটা দিলাম। মিথিলা দরজা খুললো আমি বেরিয়ে চলে আসতে লাগলাম।তখন মিথিলা ডাক দিয়ে বলল
--আমায় মাংস খাওয়ানোর জন্যই এই দুপুরে ছুটে আসছিলে তাই না?
--জানি না।
--আমায় খুব ভালোবাসো তাই না?(মিথিলা)
--তুমিও বলতে পাবরে না কতোটা ভালোবাসি তোমায়।(আমি)
--আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি।
--জানি তো বাবু।
--কচু জানো।
--তাহলে জানার জন্য কাল দুপুরে আসি। জানাও হবে।তেলাপোকাও দেখা হবে।(দুষ্টুমি করে)
--না রে দুষ্টু সাহেব।এখন আপনি সোজা বাসায় যাবেন।পৌঁছে ফোন দিবেন।বুঝেছেন?
--জ্বি ম্যাডাম,বুঝেছি। তাহলে এখন আসি।
--আচ্ছা এসো।
মিথিলার কথাটি শুনে বাসার পথে পা বাড়ালাম।কয়েক ধাপ দিতেই মিথিলা বলল
--ফিরে ফোন দিও কিন্তু।
--আচ্ছা দিব নি।(আমি)
এই কথা শুনে মিথিলা বাসায় ঢুকে গেল আর আমি আবার বাসার পথে হাঁটতে শুরু করলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now