বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তবুও তোমাকেই খুজি

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Suborna Akhter Zhumur (০ পয়েন্ট)

X আমান একটি খুব সাধারণ ঘরের ছেলে। সে টিউশনি করে নিজেই নিজের পড়ালেখার খরচ চালায়। কারন তার বাবার পক্ষে তার এবং তার দুই বোনের পড়ার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছিলনা। কোনোরকমে খেয়ে, পড়ে তাদের চলে যায়। কিন্তু একদিন এক্সিডেন্ট করে বাবা মারা গেলে পুরো পরিবারের ভার তার মাথায় এসে পড়ে। তখন সে সবেমাত্র বি.এ পাশ করেছে। বাধ্য হয়ে সে চাকরী খুজতে থাকে। কিন্তু গ্রাজুয়েশন কম্পিলিট না করায়, আর টাকার জোড় নেই বলে চাকরী পায়না। একদিন আমানের মা তার এক খালাতো বোনের কাছে আমানকে যেতে বলে কারন, ওনার স্বামী বিরাট ধনী তিনি হয়ত আমানকে চাকরী দিতে পারবেন। আমান মায়ের কথামত সেই খালার বাসার সামনে দেখে পরির মতো একটি মেয়ে এক ছেলের সাথে রাজহাসের পালকের মতো রংের প্রাইভেট কারে চড়ে গেট দিয়ে চলে যাচ্ছে। মেয়েটিকে দেখার পর বিস্ময়ের নেশা তখনো কাটেনা ,সে ভাবতে থাকে পৃথিবীতে এতো সুন্দর মেয়েও আছে জানা ছিলোনা। কিছুসময় পর আমান সেই বাসায় গিয়ে এক গম্ভীর, আপাদমস্তক অহংকারী মহিলার সামনে গিয়ে পড়ে। মহিলাটির কাছে সে তার পরিচয় দেয়, আসার উদ্দেশ্য খুলে বলে অনেক্ষন পরে সে তাকে চিনতে পেরে বলে,"ও তুমি তাহলে দুলু আপার ছেলে। আমি তোমার খালা হই। আর চিন্তা কোরোনা, আমি তোমার খালুকে বলে সব ব্যাবস্থা করে দেবো। এরমধ্য খালুও চলে আসে তার সেই খালা তাকে সবকিছু খুলে বলে। আমান বুঝতে পারে তারা দুজনেই বিরক্ত হয়েছে। তার খালু আন্তরিকতার ভাব দেখিয়ে বলে," চিন্তা কোরোনা আমি চাকরীর ব্যাবস্থা করে দেবো। আর থাকার ব্যাবস্থা যতোদিন না হয় তুমি এখানে থেকে যাও।" সে থেকে যায়। রাতে দেখা সেই পরি কোথাও থেকে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে ফিরেছে। খালা তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, মেয়েটি আমানের খালাতো বোন রুবি। খালার বাসা হলেও সেখানে সে আশ্রিতের মতো করেই থাকে। সবাই তাদের আচরনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয় যে তারা তাকে দয়া করে থাকতে দিয়েছে। এরমাঝে একদিন অফিস থেকে বাসায় ফিরে দেখে ড্রয়িংরুমে রুবি সেই ছেলেটির সাথে বসে প্রানখুলে হাসছে। আমান রুবির পাগল করা হাসি দেখে থমকে দাড়ায়। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে। তাকে ওভাবে তাকাতে দেখে রুবি রাগি রাগি ভাব নিয়ে তাকায়, আর আমান সেখান থেকে সরে আসতে গিয়ে শুনে রুবির সাথের ছেলেটা রুবির কাছে আমানের পরিচয় জানতে চাইলে রুবি বলে," আর বোলোনা উনি নাকি আমার খালাতো ভাই। এসেছে বাবার কাছে চাকরী চাইতে। আর বাবারও বলিহারি চাকরী চেয়েছে, দিয়েছ এই পর্যন্তই থাকতো। তা না করে একেবারে বাসায় থাকতে দিয়েছে। ভাল্লাগেনা একদম।" আমান কথাগুলো শুনে বজ্রাহতের মতো বসে ভাবতে থাকে এতো সুন্দর মেয়ে এইধরনের কথাও বলতে পারে? ,এতো নিস্পাপ মুখটা অথচ মনের মাঝে এতো বিষ? আমানের মনে তখন কিছু প্রশ্ন জাগে...... "চোখের কী দোষ বলো?? দেখতে চায় তোমাকে; দৃষ্টির কী দোষ বলো?? ভালোলাগে তোমাকে; প্রভুর কী দোষ বলো?? বানিয়েছে তোমাকে; মনের কী দোষ বলো?? মন চায় তোমাকে।" রুবির বলা কথাগুলোই তাড়া দেয় থাকার অন্য জায়গা খুজতে। ওখান থেকে চলে যাওয়ার আগেরদিন রুবির ব্যাগ নিচে পড়ে থাকতে দেখে আমান ব্যাগ ফেরত দেওয়ার জন্য ওপরে রুবির রুমে গিয়ে রুবির রুমের দরজার কাছে থমকে দাড়ায়। কারন, রুবি তখন মধুর সুরে একমনে গান গাইছিল। গান শেষ হলে আমান রুমে গিয়ে বলে," বাহ! তুমি তো দারুন গান গাও। মনটা ভরে গেল গান শুনে।" আমানকে দেখে রুবি রাগী স্বরে বলে," আপনি এতক্ষণ আমার গান শুনছিলেন লুকিয়ে লুকিয়ে? কারো রুমে নক না করে আসা ব্যাড ম্যানারস আপনি এইটুকু ভদ্রতাও শেখেননি? " আমান আশাহত হয়ে বিসন্নমনে ব্যাগটা ফিরিয়ে দিয়ে চলে আসে। আর ভাবে রুবির রুমে কতোদিন নক না করে রাজকে যেতে দেখেছে, তখনতো রুবি রাগ করেনি, আর করবেই বা কেনো রাজ তো বিশাল বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে। তাই যখন তখন সে রুবির কাছে যেতেই পারে। পরেরদিন সে খালার বাসা থেকে চলে আসে মেসে। এভাবেই কেটে যায় অনেকদিন। আমানের কল্পনায় বারংবার রুবির মুখটা এখনো ভাসে কারন, সে রুবিকে ভালবেসে ফেলেছে। অন্যদিকে কয়েকমাস পর আমানের খালা তাকে কল করে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলে। যাওয়া মাত্র খালা তাকে দেখে কেঁদে কেঁদে বলে রুবা এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে আছে, ব্লাড দিতে হবে, কিন্তু ব্লাডগ্রুপ কারোর সাথে ম্যাচ করছেনা। খালার মন বলছে আমানের সাথে মিলবে।তাই তাকে অনুরোধ করে গ্রুপ ম্যাচ করলে সে যেন ওকে ব্লাড দেয়। ভাগ্যক্রমে আমানের সাথে রুবির ব্লাডগ্রুপ ম্যাচ করে, আমান রুবাকে ব্লাড দেয়।খালা খালু কৃতজ্ঞতা জানায়। অন্যদিকে আমান মনে মনে ভাবে রুবির জন্য যদি প্রানটাও দিতে হোতো সে দিয়ে দিতো। অন্যদিকে, তার বস তাকে একটা ফাইল সরিয়ে অন্যত্র রেখে আসতে বলে বিনিময়ে তাকে উঁচু পোস্টে প্রমোশন করে দেবে, একটি ফ্ল্যাট দেবে বলে আশ্বাস দেয়। প্রথমে আমানের বিবেকে বাধে, কিন্তু পরক্ষনে ভাবে রুবিকে পেতে হলে তাকে অনেক উঁচুতে যেতে হবে, তাই কাজটা সে করে। এরপর থেকে অফিসে তার দাম বেড়ে যায়। বসের সাথে একত্রে বসে কফি খায়, বসের বাসায় দাওয়াত খেয়ে আসে। প্রমোশনের কথা বসের কাছে একদিন জানতে চাইলে সে বলে, পরের মাসেই প্রমোশন আর ফ্ল্যাট দুটোই পাবে সে সবকিছুর ব্যবস্থা করছে। ওদিকে ব্লাড দেওয়ার পর থেকে খালা, খালু, রুবি সবার কাছে সে প্রিয়জন হয়ে যায়। রুবির এখন তাকে ছাড়া চলেইনা। সেই সময় থেকে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক হয়ে যায়। রুবি এখন আমানকে ছাড়া খাবার,ওসুধ কিছুই খায়না। আমানই রুবিকে ধরে ধরে হাটায়।কারন, এক্সিডেন্ট-এ রুবির পায়ে ইনজুরি হওয়ার কারনে সে হাটতে পারেনা। এরই মাঝে একদিন ব্যস্ততার জন্য রুবির কাছে যায়নি বলে পরেরদিন রুবি আমানকে দেখে গাল ফুলিয়ে কাদতে থাকে পরে আমান কোনোরকমে রাগ ভাংায়। আর অফিসে তার দাম আচমকা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কিছু আচ করতে পারে, এক বয়স্ক কলিগ তাকে বলে, "আমান সাহেব, মানুষকে বেশী বিশ্বাস করবেননা, মানুষের দাম সবসময় একই রকম থাকেনা। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দেবে।" ওনার কথা যে সত্যি সেটা কিছুদিন পড়েই সে টের পায়। কারন, বস তাকে কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরী থেকে বিদায় করে দেয়, দেখা করতে চাইলে দেখা পায়না। আশাহত হয়ে সে খালার বাসার দিকে রওনা দেয়।আমান ভাবতে থাকে না জানি রুবি কেমন আছে? কারন জ্বর হবার কারনে অনেকদিন যাওয়া হয়নি। হয়ত গাল ফুলিয়ে কেঁদেছে আমানের জন্য। গিয়ে দেখে বাসা ভরা মেহমান। খালা তাকে দেখে এগিয়ে এসে বলে," তুই এসেছিস তাহলে। রুবি এখন পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে গেছে। তাই আজ রাজের সাথে রুবির engagement -এর আয়জন করেছি, ছেলেটা পরশু ফিরেছে কানাডা থেকে।" একথা শুনে আমানের পায়ের নিচে মাটি যেন সরে যায়। তবুও কি এক আগ্রহে সে রুবার রুমের কাছে গিয়ে শোনে রুবি রাজকে বলছে," তুমি ছাড়া এই দিনগুলো আমার খুব খারাপ কেটেছে, ভালভাবে খেতে পারিনি, ঘুমাতে পারিনি। তুমি কথা দাও আমাকে ছেড়ে আর কখনো কোথাও যাবেনা।" রাজ বলল, এরপর যেখানেই যাই আমার বউকে সাথে নিয়ে যাবো। আর তোমার সেই খালাতো ভাইকে আমি আরো ভালো একটা চাকরি দিয়ে দেব। কারন, সে আমার প্রিয়তমাকে রক্ত দিয়ে তার প্রাণ বাঁচিয়েছে। আমান আর সহ্য করতে না পেরে অশ্রুভেজা চোখে ওখান থেকে বেরিয়ে আসে। "তুমি অন্যের, তবুও ভালোবেসে যাই; তোমায় পাবোনা, তবুও অনুভব করে যাই; তুমি আসবেনা,তাও তোমার আশায়থাকি; স্বপ্নপূরণ হবেনা জানি, তবুও স্বপ্ন দেখি।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তবুও তোমাকেই খুজি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now