বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তবুও বন্ধু… মন হলো না আপন…-১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সুলতানার কথা…. অনেক্ষণ ধরে বসে আছি শায়মাদের ড্রয়িং রুমে। ওর দেখাই নেই। বসতে বসতে আমার পায়ে ঝিঝি ধরে গেছে। আমি পায়ের ঝিঝি কাটানোর জন্য হাঁটতে থাকি রুমের এ মাথা থেকে ও মাথায়। দেয়ালের এক পাশ পুরোটা জুড়েই একটা অয়েল পেইন্টিং, এক নগ্ন বক্ষা নারী স্নান করছে। পুরো নগ্ন বক্ষা বোধ হয় বলা ঠিক না, আধাআধি, অল্প একটু পানির নিচে তার সৌন্দর্য। আমি ছবিটা দেখতে থাকি। এবারেই যে নতুন দেখছি তা নয়। কত শত বার যে দেখেছি! তারপরও পুরানো হয় না। এর মধ্যে ওদের আনোয়ারা বুয়া এক কাপ চা নিয়ে আসে। ঠান্ডা চা, এই মহিলা কখনোই আমাকে গরম চা দিতে পারেনি। ইচ্ছে করে দেয় কিনা কে জানে! আমার ইচ্ছে করে একদিন জিজ্ঞেস করি। আজ আমাদের একটা বিশেষ কাজ আছে। শিমুল ভাইয়ার সাথে দেখা করতে যাবো। আমরা এক সাথে একই পাড়ায় থেকেছি। এরপর ভাইয়া এইচ এস সি শেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বাইরে চলে যায়। আমি ভাইয়ার মুখটা মনে করতে চেষ্টা করি। কিছুই মনে আসে না। রেগে গেলে আমাকে বলতো, এই কালী। শুনে তো আমি কেঁদে কেটে অস্থির হয়ে যেতাম। এখন তো মজাই লাগে। সেদিন ক্লাসেই কালো রঙ খুঁজছিলো কে যেন। আমিই বললাম, এই কার কালো রঙ লাগবে? আমার থেকে নিয়ে যা। শিমুল ভাইয়ার কথা মনে পড়তেই আমার বুকটা ধড়পড় করতে থাকে। অস্থির লাগতে শুরু করে। আমি অস্থিরতা কাটানোর জন্য শায়মার রুমের দিকে যাই। পেছন থেকে ওর কচু পাতা রঙের শাড়িটা দেখতে পাই। -এই শায়মা, আর কতক্ষণ লাগাবি? আমি যে আসলাম মাত্র এক ঘন্টা সতের মিনিট হইছে। – এইতো, আর কিছুক্ষণ। বলেই আমার দিকে ঘুরলো। – তোরে তো অপ্সরার মতো লাগছে। কচু পাতা রঙের কোন শাড়ি যে কোন নারীকে এত সুন্দর বানিয়ে দিতে পারে ধারণা ছিলো না। – কেন! আমি কী এম্নিতে সুন্দর না? আমি এবার চুপ করে যাই। শায়মা খুব সুন্দর! আমরা সব বন্ধুরা ওকে অপ্সরা ডাকি। ও ভালো গান গায়, নাচ করে। ভার্সিটিতে যে কোন ফাংশানেই অথবা কোন কারণ ছাড়াই ওর গান গাওয়া লাগে। – আজও কী তুই তোর এই রঙ ওঠা জিন্সটা ছাড়তে পারলি না। অনেক দিন পর শিমুল ভাইয়া আসতেছে। শিমুল ভাইয়ার নাম শুনেই আমার বুকের ভেতরটা আবার ধকধক শুরু করে। পৌনে দুই ঘন্টা সাজ নামক কর্ম শেষ হওয়ার পর শায়মা আর আমি বের হই। অন্য দিনগুলোতে শায়মার সাথে কোথাও যাওয়াটা আমি এড়াই। এত দামী গাড়িতে বসলে কেন যেন অস্বস্তি লাগে। এর চেয়ে বাসের মধ্যে ঠেলাঠেলিতেও আমি স্বস্তি পাই। বেশি ধনী আমার ভালো লাগে না। ধনী কোন আত্মীয় স্বজনদের বাসায়ও আমি বেড়াতে যাই না। শুধু এই নিয়মটা শায়মার জন্যই টিকে নি। শায়মা আমার খুব ভালো বন্ধু। আমিও ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। শিমুল ভাইয়া এখন দেখতে কেমন হয়েছে কে জানে! শায়মার সাথে যোগাযোগ ছিলো। ওরা কি ভালোবাসে দুজন দুজনকে ? কখনো কি ভালোবাসার কথা বলেছে? ভাবতেই গলাটা শুকিয়ে ওঠে। – এই সুলতানা, কী হয়েছে? হঠাৎ এমন লাগছে কেন তোকে? – কই, কিছুনা তো। – এসে গেছি, নাম এখন। সামনে যাকে দাঁড়ানো দেখি তাকে দেখেই পৃথিবীটা একটু দুলে ওঠে। শায়মা আর শিমুল ভাইয়া কী সব বলে, আমার মাথায় আর তেমন কিছুই ঢোকে না। আমি আমার সামনে দাঁড়ানো পৃথিবীর সবচেয়ে সুপুরুষটাকে দেখতে থাকি। শিমুল ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলে,আরে, সুলতানা, না? আমার দুলে ওঠা পৃথিবী প্রবলবেগে দুলতে থাক…… শায়মার কথা…… দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর শিমুলের সাথে আজ সামনা সামনি দেখা হতে চলেছে। আমাদের গাড়িটা ওদের গাড়িবারান্দায় ঢুকতেই দেখতে পেলাম শিমুলকে, ওদের সেই অতি পরিচিত ঝকঝকে সবুজ ভেলভেট কার্পেটের মত লনে বসে ছিলো শিমুল, আন্টি আঙ্কেলও ছিলেন সেখানে। লনে গেঁথে দেওয়া সেই সুদৃশ্য পাথরের টি টেবল চেয়ারে বিকালের চা খাচ্ছিলো সবাই ওরা। আমাদেরকে দেখে এগিয়ে এলো শিমুল। ওকে দেখে আমার বুকের মাঝে দ্রিম দ্রিম ড্রামের শব্দ শুরু হলো! সাথে মনের মাঝে তখন গুনগুন সুর, আমার হৃদয় তোমার আপন হাতে দোলে, দোলাও দোলাও দোলাও…… শিমুল আমার দিকে তাকিয়ে সুলতানাকে আড়াল করে এক চোখ টিপ দিতেই আমার ঘোর কাটলো। আমি তড়িঘড়ি ওর পেছনে লনে বসে থাকা আন্টি আঙ্কেলের দিকে এগুতে গেলাম। এ কয়েক বছর একমাত্র ছেলের সাথে সাথে আন্টি আঙ্কেলও পাড়ি জমিয়েছিলো সুদূর ইউএসএ তে। এ বছর ঈদের ছুটি কাটাতে ওরা সবাই ফিরেছে দেশে। এতগুলো দিন শিমুলের সাথে আমার যে তাই বলে দেখা সাক্ষাৎ একেবারেই ছিলো না তা নয়। ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপ আর ফোনের বদৌলতে আমার সারাটাদিনের বলতে গেলে ২৪ ঘন্টার পুরোটা সময়ই কেটেছে শিমুলের সাথে। তারপরও এতগুলো দিন পর ওর সাথে সামনা সামনি দেখা হবার এই আনন্দ মুহুর্ত গুনছিলাম আমি গত তিনমাস ধরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তবুও বন্ধু… মন হলো না আপন…-১
→ তবুও বন্ধু… মন হলো না আপন…-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now