বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"তাকে ভালবাসতে ভালবাসি"
.
.
উৎসর্গ:গল্প লিখার ইচ্ছা না থাকা সত্বেও যারা
ইনবক্সে কমেন্টে গল্প লিখতে অনুরুধ করে
গল্পটা লিখিয়েছেন,এই গল্পটা অামার সেই
প্রানপ্রিয় পাঠকদের উৎসর্গ করলাম
.
.
ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটা কি নষ্ট হয়ে গেল কিনা
বুঝতে পারছিনা।এতদিনতো আয়নাটার সামনে দাড়ালে
আমার নিজের মুখটাই ভাসত।কিন্তূ আজ আয়নাটাতে
অন্য কারো মুখ ভাসছে।আর সেই অন্য কেউটা
আর কেউটা কোন অপরিচিত মুখ নয়।আমাদের
বাসার নতুন পেয়িং গেষ্ট সানি ভাই।যদিও এখন ভাই
বলছি বাস্তবে কখনো উনাকে ভাই বলাতো
দূরের কথা,আজ অব্দি কোনদিন কথাও হয়নি উনার
সাথে।সচরাচর উনার সামনে পরিনা আমি।আর যদি
পরেও যাই ভুল করে,লজ্জায় লাল হয়ে যাই
একেবারে।উনাকে দেখলে এতটা লজ্জা কেন
লাগে আমি জানিনা।তবে শুধু লজ্জা না।একটা ভাল লাগাও
কাজ করে।ছেলেটার মুখটা এতটা ইনোসেন্ট
যে,তাকালেও ভাল লাগে।কিন্তূ ঐ যে লজ্জা....
.
সে কারনেই উনাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি।উনার
রুমের পেছনদিকের জানালার ফাঁকটা দিয়ে তাকালেই
উনি কি করছেন সেটা দেখা যায়।আমি প্রিয় মানুষটার
চন্দ্রমুখখানা দর্শন করতে প্রায়ই রুমের জানালা
দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারি।সারাক্ষন পড়াশুনা নিয়ে ব্যাস্ত
থাকে ছেলেটা।বইয়ের দিকে এক ধ্যানে
তাকিয়ে থাকা উনার মনোযোগী দৃষ্টিটা আমার
অপূর্ব লাগে।মাঝে মাঝেতো মনে হয় গিয়ে
জিজ্ঞেসই করে ফেলি যে
-এই ছেলে এত কি পড় তুমি হ্যাঁ?আমি যেভাবে
তোমাকে উঁকিঝুকি মেরে দেখি,তুমিও সেভাবে
আমাকে উঁকিঝুকি মেরে একটু
দেখতে পারনা?আবার পরক্ষনই ভাবি,আমিতো
ওকে ভালবাসি তাই ওকে দেখতে আসি।কিন্তূ
ওতো আমাকে ভালবাসেনা।তাহলে ও কেন
আমাকে দেখতে আমার রুমে উঁকিঝুঁকি দিবে?
.
আচ্ছা আমি কি সত্যিই ওকে ভালবাসি?যদি ভাল নাই বাসি
তাহলে সবখানে ওকে দেখতে পাই কেন?
পড়তে গেলে বইয়ের পাতায়,গোসলে গেল
বালতির পানিতে।খেতে গেলে ভাতের
প্লেটে।আর এখন শখের আয়নাটার সামনেও ওর
জন্য দাড়াতে পাড়ছিনা। সব খানে ও কেন?একটা
ছেলে একটা মেয়েকে এতটা কাবু কিভাবে
করে?কেন ওর জন্য পাগল হচ্ছি আমি?আর আমারই
বা কি দোষ,এরকম সুন্দর একটা ছেলেকে
দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়বে।তার উপর
ব্যবহারও অমায়িক।মাতো ওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
এমনিতেই আমি ওর প্রতি দুর্বল।তার উপর সবসময়
কানের গোড়ায় সানির এটা ভাল ,ওটা ভাল শুনতে
শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।যদিও প্রিয় মানুষটার
প্রশংসার শুনতে খারাপ লাগেনা।তবে সমস্যা
হচ্ছে,মায়ের মুখের প্রশংসা আমাকে ওর প্রতি
আরো দুর্বল করে দিচ্ছে।খুব চেষ্টা করছি
নিজেকে এই মোহ থেকে সরিয়ে আনতে।
কিন্তূ পারছিনা।তাই বার বার মনে প্রশ্ন জাগছে,এটা কি
আসলেই মোহ নাকি অন্ধ প্রেম?
যদিও মোহই হত তাহলেতো কিছুদিন পর কেটে
যেত।কিন্তূ ওর প্রতি আমার ফিলিংসটা দিন দিন কমা কিংবা
কেটে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিনিয়ত বেড়ে
চলেছে।তার মানে এটা মোহ না।এটা প্রেম।আমি
গভীরভাবে সানি ভাইয়ের প্রেমে পড়েছি।
.
ধুর,ওকে ভাই কেন বলছি!আমিতো ওকে ভালবাসি।
ওকে আমি শুধু সানি বলে ডাকব।কিন্তু আমি যেই
কনজারভেটিভ মাইন্ডের মেয়ে,তাতে
করেতো কখনো সানিকে এটা বলতে পারবনা
যে আমি তাকে ভালবাসি।
.
না না,যে কোন মূল্যেই হোক সানিকে আমার
মনের কথা জানাতেই হবে।মুখে বলা কখনো
সম্ভব হবে কিনা জানিনা।তবে চেষ্টা করব।কিন্তূ
মুখে বলার আগে কাজেকর্মে বোঝানোর
চেষ্টা করব।
.
আজ থেকে ভালবাসা প্রকাশের ভঙ্গিমা মিশন শুরু।
দুপুরে সানি ভাই ভার্সিটি থেকে ফিরে আসার টাইম
হতেই মাকে মিথ্যে অযুহাত দিয়ে পাশের বাসার
আন্টির রুমে পাঠিয়ে দিলাম।উদ্দেশ্য সানি ভাইকে
নিজ হাতে খাওয়ানো।যাতে করে উনার পাশে কিছুট
সময় থাকা যায়।
.
সানি ভাই ভার্সিটি থেকে ফিরে হাতমুখ ধুয়ে ড্রাইনিং
টেবিলে এসে বসেছেন।আমি ধীর পায়ে
টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্লেটে ভাত
আর মাছ ভাজি দিলাম।উনি কোন কথা না বলেই
কেবল খেতে লাগলেন।কিন্তূ দু লুমকা খেয়েই
উনি একটু নড়ে উঠলেন আর পেটে হাত দিয়ে
বাথরুমের দিকে গেলেন।ভাব দেখে
মনে হচ্ছে বমি করবে।আমি দৌড়ে গিয়ে
বেল্কনিতে টবে লাগানো ছোট লেবু গাছটা
থেকে কয়েকটা লেবু পাতা নিয়ে এসে উনার
নাকের কাছে ধরলাম।উনি পাতাগুলো নিজের হাতে
নিয়ে নিলেন।ঠিক তখনি মা চলে আসলেন।তাই বাধ্য
হয়েই আমি ওখান থেকে চলে গেলাম।
.
ঐ ঘটনার পর থেকে খালি মনে হচ্ছিল যে সানি ভাই
বোধ হয় ঠিক নেই।কিছু একটা হয়েছে উনার। খুব
জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে হচ্ছে যে এখন উনি
কেমন ফিল করছেন?
কিন্তূ কিভাবে জিজ্ঞাসা করব?উনার সাথেতো
এখনো কোন কথাই হয়নি আমার।তাছাড়া মা বাসায়
থাকলেতো একেবারেই উনার রুমে যাওয়া
যাবেনা।
.
তবে মনে মনে প্ল্যান এঁটে রেখেছি যে
উনাকে যদি একা কোথাও পাই তাহলে জিজ্ঞাসা
করেই ফেলব যে এখন সুস্থ ফিল করছে কিনা।
কিন্তূ সেটা কিভাবে?উনিতো ছাদেও যায়না।সারাক্ষন
ঘরে বসে খালি পড়া আর পড়া।
.
বিকেলে ছাদে যাব ভাবলাম কথাটা সানি ভাইয়ের
কানে একবার নেই।যদি আমার প্রতি উনার বিন্দু পরিমান
ফিলিংস থাকে তাহলে অবশ্যই উনি ছাদে যাবেন।
তাই বিকেলে ছাদে যাওয়ার সময় চেঁচিয়ে
চেঁচিয়ে বলে গেলাম যে মা আমি ছাদে যাচ্ছি।
ছাদে গিয়ে দেখি সানি ভাই ছাদের রেলিং ধরে
নীচে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে।ও মাই গড!এ
যে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।আমিতো ভেবেছিলাম
সানি ভাই রুমে।যা হোক উনাকে উনার অসুস্থতার কথা
জিজ্ঞাসা করার আর সেই সাথে এক উছিলায় উনার
সাথে একটু কথা বলার সুযোগেও মিলে গেল।
আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে উনার পেছনে
গিয়ে দাড়ালাম।তারপর আস্তে আস্তে দুবার কাশি
দিলাম উনার মনযোগ আকর্ষন করার জন্য।
ভেবেছিলাম উনি আমার দিকে ঘুরে তাকাবেন।কিন্তূ
উনি না ঘুরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল
-কিছু বলবেন?
-জ্বি না মানে আপনি কি সুস্থ ফিল করছেন এখন?
-জ্বি আমি সুস্থ ফিল করছি।
-তখনতো ভাত খান নি।ক্ষুধা লেগেছে নিশ্চয়ই।
নীচে চলুন।আমি আবার খাবার দিচ্ছি।
-নো থ্যাংকস।
.
ছেলের ভাব দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে আমার।
আমাদের বাসায় থাকে আর আমার সাথেই ভাব!আমি
উনার ভাল মন্দের কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলাম
আর উনি একবার আমার দিকে তাকালেন ও না।রাগে
কিরমির করতে করতে নীচে নেমে এলাম।
.
রাতে যখন খাওয়র সময় হল,সবাই ড্রাইনিং টেবিলে
বসে আছি।হঠাৎ ই বাবা ফোন দেওয়ায়,মা ফোন
পিক করতে চলে গেলেন।উল্লেখ্য যে বাবা
তখন ব্যবসার কাজে ঢাকার বাহিরে ছিলেন।ভাবলাম
এই সুযোগ,আমার সাথে ভাব দেখাও না?নিজ
থেকে কথা বলনা আমার সাথে
আমি তরকারীর বাটিগুলো সব আমার কাছে এনে
রেখে দিলাম।যাতে ওর তরকারী লাগলে আমার
কাছে চাইতে হয়।তুমি এখন কথা না বলে যাবে
কোথায় চান্দু?
.
আমি বার বার উনার প্লেটের দিকে তাকাচ্ছি
আড়চোখে।লক্ষ রাখছি যে কখন উনার
প্লেটের ভাজি শেষ হয়।শেষ হতেই তো উনার
আমার কাছে তরকারী চাইতে হবে।
.
কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর আবিষ্কার করলাম যে,
উনার ভাজি শেষ তবু উনি তরকারী চাচ্ছেন না।হাত
দিয়ে ভাতগুলো নাড়াচাড়া করছেন।আমারতো তখন
মেজাজ ফউরটি নাইন।এর মধ্যেই মা চলে আসল।
এসে সানির প্লেটের দিকে তাকিয়েই আমাকে
গালাগাল দিতে শুরু করল।বলল
-কিরে ছেলেটার তরকারী লাগবে দেখতে
পাচ্ছিস না?রাক্ষস হয়ে গেছিস নাকি?সবগুলো
তরকারীর বাটি তোর কাছে এনে রেখে
দিয়েছিস।একজন মানুষকে ঠিকঠাক মত একবার
খাওয়াতে পারিস না,তোকে দিয়ে কি হবে
বলতো?
বিয়ে দিলে শ্বশুড় বাড়ির লোকজনকেতো ভাত
বেড়ে খাওয়াতে হবে,তাইনা?
.
এমনিতেই ঐ সাইন্যা ব্যাটার ভাব দেখে গা জ্বলে
যাচ্ছিল তার উপর মায়ের ঝারি খেয়ে আমি লাফ দিয়ে
চেয়ার থেকে উঠে রাগটা ঝারার জন্য দাঁত কিরিমিরি
করে বললাম "আমি বিয়েই করবনা কোনদিন"
বলেই আমার রুমে চলে গেলাম।
.
শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম কিভাবে ঐ বদটাকে
বুঝাব যে আমি ওকে ভালবাসি।আর ও কেনইবা আমার
সাথে
নিজ থেকে কথা বলেনা।
.
যাই হোক।যে করেই হোক ওকে আমার
ইমপ্রেস করতেই হবে।ওর সাথে আমার নিজ
থেকেই কথা বলতে হবে।উনার কাছে আমার
ফোন নাম্বার আর ফেবু আইডিটা পৌঁছাতে হবে।
তাতে যদি লাইনটা একটু ক্লিয়ার হয় আর কি......
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি চোখ কঁচলাতে
কঁচলাতে সানির রুমে গেলাম।গিয়ে দেখি বসে
পড়ছে ও।সেল ফোনটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে
বললাম
-দেখুনতো আমার গত এক সপ্তাহ যাবৎ কি যেন
আলতু ফালতু মেসেজ আসছে অফিস থেকে
আর প্রতিদিন দুই টাকা চুয়াল্লিশ পয়সা করে চার্য
হচ্ছে।অফিসে ফোন দেয়ার সিষ্টেমটা আমার
জানা নেই।আপনি একটু ফোন দিয়ে প্রবলেমটা
সলভড করে দিনতো।
.
উনি হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিলেন।ভাবলাম এবার একটু
সুযোগ দেই।আমি বললাম
-আপনি কাজটা করতে থাকুন।আমি ওয়াশরুম থেকে
আসছি।আর শুনোন...সাবধান ফেবুতে ঢুকবেন না
কিন্তূ...আমি লগ আউট দিয়ে বের হইনা।
.
কথাটা বলে মুখ চেপে হাসি দিতে দিতে বেরিয়ে
এলাম রুম থেকে।
.
আজ সাড়াটা দিন,সাড়াটা রাত অপেক্ষা করলাম উনার
ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট অথবা মেসেজের জন্য।
একটা কল ও তো করতে পারত।কি জানি নাম্বারটা
রেখেছে কিনা?
.
আর আমিইতো বোকা।যে ছেলে সামনা সামনি
কথা বলার সুযোগ থাকলেও কথা বলেনা সে
কেনই বা আমার ফোন নাম্বার নিবে?আর কেনইবা
আমাকে ফেবুতে নক দিবে?
.
মনের কথাগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে না
পারায় যেন আমার সুপ্ত যন্ত্রনাটা আরো মাথাচাড়া
দিয়ে উঠছিল।তাই ভাবলাম আমার সবচেয়ে কাছের
বান্ধবী ঝুমুর সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করি।
.
ঝুমুতো সব শুনে আনন্দে আত্নহারা হয়ে
আমাকে পঁচাতে শুরু করল।
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম
-আরে ফাজলামু বাদ দিয়ে কিভাবে ওর মন জয় করব
তার কিছু টিপস দে।
.
ঝুমু কিছুক্ষন ভেবে বলল
-শুন তুই একদিন ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে
রিক্সা নিয়ে ওর ভার্সিটির সামনে দাড়িয়ে থাকবি।ও
বেরুলে তোর রিক্সায় তুলে নিবি।হয়তো বাড়িতে
আংকেল আন্টি কেউ ওর সাথে তোকে কথা
বলতে দেখলে মাইন্ড করবে বলে কথা
বলেনা।কিন্তূ যদি রিক্সায় তোর পাশে বসে,ওর
মাঝে ঠিকই রোমান্টিকতা কাজ করবে।আর
দেখিস!ও তোর সাথে কথা বলবেই বলবে।
.
ঝুমুর কথা শুনে আমার চোখে মুখে আনন্দের
রেখা ফুটে উঠল।
.
.
ঝুমুর দেওয়া প্ল্যানমত রিক্সা নিয়ে সানির ভার্সিটির
সামনে ওর ক্লাস যখন শেষ হয় ঐ সময় দাড়িয়ে
আছি।
.
অনেক্ষন অপেক্ষা করার পর দেখলাম সানি
আসছে।ওর সাথে একটা মেয়েও বের হচ্ছে
গেট দিয়ে।ওরা কথা বলছে আর হাসছে।সানির
দাঁতগুলো অনেক সুন্দর।খুব ছোট ছোট।
হাসলে ওকে দারুন লাগে সেটা আগেই লক্ষ
করেছি।কিন্তূ ও হাসলে যে গালে টোল পরে
সেটা
খেয়াল করিনি আগে।
.
আমি সানির মায়াভরা হাসি দেখে এতটাই উদাসী হয়ে
গিয়েছিলাম যে,ও যে একটা মেয়ের সাথে
হাসছে,সেটা ভুলেই গিয়েছিলাম।
.
যখনই ঐ বিষয়টা মাথায় আসল তখনইতো রাগে
একেবারে অগ্নিমূর্তি হয়ে গেলাম আমি।কোন
কিছু না ভেবেই বিদ্যুতের গতিতে সানির দিকে
এগিয়ে গিয়ে ওর হাতটা ধরে একরকম টেনে
রিক্সার কাছে এনে বললাম
-রিক্সায় উঠুন। সানি আমার এই ব্যবহারে যতটা অবাক
হয়েছে, ততটা মনে হয় ভয়ও পেয়েছে।আর
ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক।আমি যেই মেন্টাল আর রাগী
টাইপের মেয়ে।যদি বাসায় গিয়ে বলি যে ওর
মেয়েলি অভ্যাস আছে তাহলে ওর আশ্রয় আর
আমাদের বাড়িতে হবেনা।
.
বেচাড়া কাচুমাচু হয়ে রিক্সার এক কোনায় অল্প
একটু জায়গা নিয়ে জড়সড় হয়ে বসল।আমি রিক্সায়
উঠেই ড্র্রাইভারকে চালাতে বললাম ।আমারতো
রাগে গা জ্বলেই যাচ্ছিল। চুলগুলো ঠিক করে
নিয়ে রাগী মোড নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
-মেয়েটা কি আপনার গার্লফ্রেন্ড।আই মীন
লাভার?
আমার কথাটা শুনে মনে হয় সানি আকাশ থেকে
পড়ল।অবাক হয়ে বলল
-হোয়াট?ও আমার যাষ্ট ফ্রেন্ড।
-ফ্রেন্ডেই যদি হবে তাহলে এত কাছাকাছি
হাটছিলেন কেন?আর ও এরকম কি বলছিল যা শুনে
আপনার এত আনন্দ হচ্ছিল?
-আরে ফ্রেন্ডরাতো কত কথাই বলে হাসতে
পারে।আপনি হাসেন না কখনো আপনার কোন
ছেলে
বন্ধুর দিকে তাকিয়ে?কারো সাথে হাসলেই কি
সে লাভার হয়ে যায়?
-না হাসিনা।আমি কি আপনার মত লুস ক্যারেক্টারের?আ
-আ-আমার কোন ছেলে বন্ধুই নেই।
.
এবার সানি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চুপ করে
গেল।
.
ওর নীড়বতা দেখে নিজেকে খুব অসহায় আর
অপরাধী লাগছিল।
.
ছেলেটাকে মনে হয় বেশীই ঝেড়ে
ফেলেছি।লুস ক্যারেক্টারের বলাটা মে বি ঠিক হয়
নি।
.
তবে যাই হোক ওকে ঝাড়তে পেরে নিজের
মনটা কিছুটা হালকা লাগছে।নইলেতো ভেতরে
ভেতরে জ্বলেই যাচ্ছিলাম আমি।
.
আজ ভাবছিলাম ভাল করে কথা বলব কিন্তূ রিক্সায়
উঠেই ছোট খাট তর্ক হয়ে গেল।আমি
পরিবেশটা একটি রোমাঞ্চকর করতে ওকে
বললাম
-একটু এদিকে চেপে বসুন।তাহলে বসতে
আরেকটু আরাম হবে।
ও কোন রেসপন্স করল না।একটু দুষ্টুমি করার
জন্য নিজেই ওর দিকে চেপে ওর গায়ের সাথে
গা মিশিয়ে বসলাম।
.
ভয়ে ভয়ে ছিলাম কি না কি বলে। কিন্তূ আমাকে
অবাক করে দিয়ে উনি আমার চোখের দিকে
গভীরভাবে তাকিয়ে শক্ত করে ঠোঁটে ঠোঁট
চেপে একটা দুষ্টুমিভরা হাসি দিল।আর সাথে
গালেতো টোল পড়লই।আমার তখন খুবই ভাল
লাগছিল।কিন্তূ ঠিক এই মুহুর্তে খুব লজ্জাও লাগছিল।
আমি লজ্জায় চোখ দুটো নীচে নামিয়ে মুচকি
মুচকি হাসছিলাম।
.
ভেবেছিলাম প্রেমটা বুঝি ঐদিন হয়েই গেল।কিন্তূ
এই সানির বাচ্চাতো
আগের মতই রয়ে গেছে।আমার প্রতি ওর
কোন ফিলিংস আছে বলে মনে হচ্ছেনা।কিন্তূ
ওর ভালবাসাতো আমাকে পেতেই হবে।ও যে
আমার লোহিত রক্ত কনিকা,শ্বেত রক্ত
কনিকা,রক্তরস সবকিছুতে মিশে গেছে।জোৎস্না
রাতের চাঁদটাকেও আমার এখন অসুন্দর মনে হয় ও
ভালবাসেনা বলে।শীতের সকালে ঘাসের ডগায়
জমে থাকা স্নিগ্ধ কুয়াশার ফোঁটায় আলতো করে
হাত বুলিয়ে দিলেও এখন আর ভাল লাগেনা; ও
ভালবাসেনা বলে।এখন আর ছাদে গিয়ে আকাশ আর
তার বুকের তারার মেলা দেখতেও ভাল
লাগেনা;সে ভালবাসেনা বলে।
.
আমি আর কিভাবে ওকে বুঝাব যে আমি ওকে
ভালবাসি।ও কি বুঝেনা!নাকি বুঝেও না বুঝার ভান
করে..... সে যাই হোক আমি হাল ছাড়ছি না।
প্রয়োজনে সারাসরি প্রপোজ করে তার মতামত
জেনে নেব।ভালবাসবেনা কেন?তাকে
ভালবাসতেই হবে
.
আজ পাশের বাসার আন্টির মেয়ের গায়ে হলুদ।
আমি খুব ভাল মেহেদী লাগাতে পাড়ি বিধায় দায়িত্বটা
আমার উপরই পড়ল।
কনে সহ বিয়ে বাড়ীর সব ছেলে মেয়েকে
আমি মেহেদী পড়ালাম।হঠাৎই মা বলে উঠল
-কিরে সবাইকে যখন পড়িয়ে দিলি,তাহলে সানি আর
বাদ থাকবে কেন?ওকেও মেহেদী লাগিয়ে
দে।
.
কথাটা শুনার সাথে সাথে আমার হৃদস্পন্দন যেন
বেড়ে গেল।কিন্তূ আমি কিছু বলতে পারছিলাম না
মুখে।
.
সানিও কিছুটা লজ্জা পাচ্ছিল মনে হয়।মা হাসতে
হাসতে সানিকে জোড় করেই আমার সামনে
বসিয়ে দিল।
ও লজ্জা মিশ্রিত ভঙ্গিতে আমার দিকে হাতটা বাড়িয়ে
দিল আস্তে আস্তে।
আমিতো তখন আবেগ আর আহ্লাদের ঘোরে
ডুবে যাচ্ছিলাম।আমার দিকে ওর হাত বাড়ানো
দেখে আমি হাতটা শক্ত করে ধরে ফেললাম।ওর
কাশি শুনে আমি বাস্তবে ফিরে এলাম।
আমি আস্তে আস্তে ওর হাতে মেহেদী
পড়াচ্ছিলাম।আলতো করে ওর আঙ্গুলগুলো ধরে
ওর হাতে মেহেদি লাগাচ্ছিলাম।কি যে ভাল লাগছিল
তখন আমার।মনে হচ্ছিল এই হাতের আঙ্গুলগুলো
বুঝি আমি সাড়াজীবন এমন আলতো করে ছুঁয়ে
দেবার জন্যই আল্লাহ এত সুন্দর করে
দিয়েছেন।
ইচ্ছে করেই খুব স্লোলি মেহেদী পড়ালাম।
যাতে বেশীক্ষন ওর হাতটা ধরে রাখতে পারি।
.
সানির সাথে একতরফা খুনশুঁটি করে দিন ভালই যাচ্ছিল।
যদিও ও কিছু বলত না তবুও আমি একতরফা ওকে
ভালবেসে ভালই ছিলাম।কিন্তূ হঠাৎ ই আমার চোখে
শ্রাবনের ধারা নেমে এল যখন শুনলাম সানি
আমাদের বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।ওর কি যেন
একটা জব হয়েছে।তাও ঢাকার বাহিরে।
.
এ খবর শুনে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে না
পেরে দৌড়ে গেলাম সানির রুমে।চোখে তখন
দুই সমুদ্র জল।আর বুকে এক আকাশ শূন্যতা।কলিজাটা
যেন দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছিল।
.
রুমে গিয়ে দেখি সানি বাথরুম থেকে সবে
গোসল করে বেরিয়েছে।গায়ে একটা সেন্টু
গেন্জী আর ট্রাউজার।ওর মুখের দিকে তাকিয়ে
ভাবতেই পারছিলাম না যে ও আমাকে ছেড়ে
চলে যাচ্ছে।হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে দৌড়ে
গিয়ে ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
আর পাগলের মত বলতে লাগলাম
-তুমি চলে গেলে আমি কিভাবে বাঁচব?এতবার যে
তোমাকে বুঝাতে চেয়েছি কত্ত
ভালবাসি,একবারও কি বুঝতে পারনি?
কথাগুলো কান্নার ফাঁকে ফাঁকে বলতে আমার খুব
কষ্ট হচ্ছিল।
.
সানি আমাকে ওর বাহুডোর থেকে সরিয়ে দু
হাতে আলতো করে আমার চিবুক দুটি ধরে ওর
মুখের খুব কাছে নিয়ে আসল আমার মুখটা।তারপর
আমার চোখে চোখ রেখে বলল
-বুঝতে পেরেছি বলেইতো এত তাড়াতাড়ি
জবের ব্যবস্থা করলাম।যাতে করে আমাদের
মাঝে বাঁধার দেয়ালটা কমে আসে।আমিযে আমার
বৌটার এই হাহুতাশ আর সহ্য করতে পারছিলাম না।
.
সানির কথা শুনে আমার বুকে জমে থাকা এতদিনের
শুন্যতাটা যেন মুহুর্তেই পূর্ন হয়ে গেল।হৃদয়ে
এতদিন যে ব্যাথার পাথর জমা হয়েছিল তা যেন
ভেঙে গলে গেল।মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে
আমি দুনিয়ার স্বর্গে অবস্থান করছি।জানিনা আমি
পরকালের বেহেশতের সুখ কেমন হয় তবে
সানির মুখ থেকে বৌ ডাকটা শুনার পর থেকে মনে
হচ্ছে আমি আমার ইহলোকের বেহেশত বুঝি
পেয়ে গেছি।
.
আমার আবারো জোৎস্না রাত,ভোরের ঘাসে
কুয়াশার ফোঁটা,তারা ভরা আকাশ ভাল লাগবে।তবে
এগুলো শুধু ভালই লাগবে।ওদেরকে আর
ভালবাসবনা।আমার সবটুকু ভালবাসাতো সানির জন্য।
"আমি তাকে ভালবাসি"......"আমি তাকে ভালবাসতে
ভালবাসি"
.
.
Written by:Tanjina Akter Tania(হিমাদ্রির মেঘ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now